আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০০ অপরাহ্ন    

Home » অর্থনীতি

অর্থনীতি

চুরি যাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব,বলছেন গভর্নর

নিউজ ডেস্কঃ- কুচক্রিদের আতাতে বছর তিনেক আগে রিজার্ভ চুরির আলোচিত ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা জড়িত এবং সুবিধাভোগী বা যারা লাভবান হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মোট ৬৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৬ কোটি ৬৫ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি জানিয়েছেন, রিজার্ভ চুরির মামলা আমলে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যে মামলা হয়েছে, তাতে জড়িতদের আসামী করা হয়েছে। তাই, চুরি যাওয়া অর্থ ফিরে পেতে বেশিদিন লাগবে না।
সূত্র জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক-এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে যে, মামলার প্রথম থেকে শুরু করে প্রতিটা ডলার উদ্ধার পর্যন্ত তারা সঙ্গেই থাকবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘কতদিনের মধ্যে এ মামলার সুরাহা হতে পারে তা এখনি বলতে পারছি না, তবে অতি শীঘ্রই সম্ভব হতে পারে। নিউ ইয়র্ক-এর যেই কোর্টে এ মামলা করা হয়েছে, সেখানে সাধারণত দ্রুতই মামলা নিষ্পত্তি হয়। ফিলিপাইনে হলে অনেক বিলম্ব হতো। ওখানে অনেক দীর্ঘসূত্রতা আছে। নিউ ইয়র্ক-এ অনেক সুবিধা। আমরা আশা করছি, খুব বেশি সময় লাগবে না।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক (ফেড)-এ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এরমধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। ফিলরেম মানি রেমিট্যান্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এরমধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও হদিস চলছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিউ ইয়র্ক-এর ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা মামলায় ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) এবং ওই ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডজন খানেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
চুরির অর্থ ফিলিপাইনের কোথায় কোথায় আছে, সে ব্যাপারে তথ্য আছে জানিয়ে ফজলে কবির বলেন, ‘ফিলিপাইনের বিভিন্ন জায়গায় এ অর্থ আছে। সেখানে তাদের সবাইকে দায়ী করে এই মামলা করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের মামলাকে ভিত্তিহীন বলে আরসিবিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, ‘আরসিবিসি একথা বললেও বুঝতে হবে যে, আরসিবিসির ওখানে সমস্ত টাকা গিয়েছিল। অর্থাৎ, ৮১ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসিতেই গিয়েছিল এবং সেটি চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টেই গিয়েছিল, যে অ্যাকাউন্টগুলো বৈধ না। এ কাজের জন্য আরসিবিসিকে ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রেকর্ড সর্বোচ্চ পানিশমেন্ট দিয়েছে। তাদেরকে সাজা দিয়েছিল এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) পেসো, অর্থাৎ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা সঠিক ছিল না, এটা লন্ডার্ড মানি ছিল। এই কারণে তাদের শাস্তি দিয়েছিল। কাজেই আরসিবিসি এটা বললেই তো হবে না।’

জাজ কর্ণধার আবদুল আজিজের ৯১৯ কোটি টাকা পাচার

বান্দরবান অফিসঃ- জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল থেকে তাকে আটক করা হয়।

ক্রিসেন্ট গ্রæপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৯১৯ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া। গতকাল বিকেলে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আবদুল আজিজসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং যথাক্রমে-৫৪, ৫৫ ও ৫৬। মামলায় আবদুল আজিজ ও জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ ও ৫৬ মামলার অন্যতম আসামি ক্রিসেন্ট লেদার ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে কাকরাইল থেকে আটক করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, রিমেক্স ফুটওয়্যার ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৪২২.৪৬ কোটি টাকা, ৪৮১.২৬ কোটি টাকা ও ১৫.৮৪ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ৯১৯.৫৬ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কর্তৃক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুল জাহান (মিরা) এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুলতানা বেগম (মনি) ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

১০০ শতাংশ হালাল চামড়ায় জুতা উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ- দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে কীভাবে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুতবেগে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় সে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাজ। ঠিক এমন সময়ই দেশের জুতার উৎপাদন খাতে এসেছে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রেরণাদায়ক এক সংবাদ। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুতা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। যেখানে ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুকের সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে প্রায় ৩৫ কোটি জোড়ারও বেশি জুতা উৎপাদন করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রার শুরু থেকেই বাংলাদেশে জুতার বিশাল সংগ্রহশালার মধ্যে ভাইব্রেন্টের জুতা সামগ্রী কিংবা লেদার সামগ্রী শতভাগ হালাল প্রাণী তথা গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি। আর এই শতভাগ হালাল পণ্যের সকল গুণাবলীর কারণেই জুতা উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে এসেছে বাংলাদেশ।

সাধারণত শুকরের চামড়া দিয়ে জুতা তৈরিতে খরচ কম হওয়ার কারণে ও উৎপাদন খরচ কমানোর চেষ্টায় বিদেশের অনেক কোম্পনীই জুতায় শুকরের চামড়ার ব্যবহার করে। কিন্তু ভাইব্রেন্টের উৎপাদিত জুতা ও অন্যান্য লেদার সামগ্রী উৎপাদনের কোনো ধাপেই শুকরের চামড়ার ব্যবহার একদমই করে না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জুতার বিশেষত্ব সম্পর্কে ইউএস-বাংলা ফুটওয়্যারের ব্র্যান্ড ভাইব্রেন্ট জানিয়েছে, এই উৎপাদিত বিশাল জুতার মধ্যে সব জুতা হালাল নয়। অর্থাৎ, এখানে সকল চামড়া হালাল প্রাণীর নয়। ভালো মানের জুতা কিংবা হালাল জুতা সামগ্রী পরিধান করলে যেকোনো স্কিনের অসুখ থেকে নিরাপদ থাকা যায় বলে দাবী করা হচ্ছে প্রতিবেদনে। তবে এ ক্ষেত্রে শতভাগ হালাল পণ্যের যাবতীয় গুণাবলীই রয়েছে বাংলাদেশের জুতার উৎপাদনে।

দেশব্যাপী ভাইব্রেন্টের প্রোডাক্ট নিজস্ব ফ্যাক্টরীতে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি। এখানে কোনো প্রকার পিগ-স্কিন বা শুকরের চামড়া ব্যবহার করা হয় না। মাত্র সাত মাসের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রে ভাইব্রেন্ট এর শো-রুম স্থাপন করেছে। স্বল্পতম সময়ে গ্রাহকদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ভাইব্রেন্টসামগ্রী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২২৫ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জুতার বাজারে বছরে দেড় হাজার কোটি জোড়া জুতা উৎপাদন করে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন। বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতের অবস্থান রয়েছে দ্বিতীয়তে। তৃতীয় থেকে সপ্তম অবস্থানে থাকা দেশগুলো হলো যথাক্রমে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, পাকিস্তান ও তুরস্ক। বাংলাদেশের নিচে নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মেক্সিকো ও থাইল্যান্ড।

শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যে প্ররোচনা দিচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল

নিউজ ডেস্কঃ- নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিগত রবিবার থেকে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলনে নেমেছে পোশাক শ্রমিকরা। আর এ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পেছনে প্ররোচনা দিয়ে যাচ্ছে দেশের স্বার্থান্বেষী একটি মহল। তারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পায়তারা করে যাচ্ছে।

সরকার ঘোষিত কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত রোববার থেকে প্রতিদিনই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার তাদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। বরং তাদের নানাভাবে ‘অন্যায়-অবিচারের’ শিকার হতে হচ্ছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে। তাতে পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরি আগের চেয়ে গড়ে ৫১ শতাংশ বাড়লেও ‘বিভিন্ন রকম’ ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছিলো।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার পর দায়িত্বের প্রথম দিনই পোশাক খাতের সমস্যা মেটাতে গার্মেন্টস মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শিদীসহ গার্মেন্টস মালিক, শ্রমিক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানোও হয়েছে, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, সরকারের পক্ষ থেকে বেতন বৃদ্ধির হিসাব সংক্রান্ত কাগজপত্র বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-এর মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের কাছে পুনরায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো রকমের বিভ্রান্তি না হয়।

কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না। সমসাময়িক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের সবেচেয়ে বড় গার্মেন্টস সেক্টরে অসন্তোষ সৃষ্টি করার জন্য কিছু কিছু মহল চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও বিক্ষুব্ধদের রাস্তা থেকে সরাতে গিয়ে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হচ্ছে পুলিশকে। দেশের অর্থনীতিতে বরাবরই বিশাল অবদান রেখে আসা পোশাক শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে তাদের ধ্বংসাত্মক করে তুলছে একটি স্বার্থন্বেষী মহল। এর আগে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক বিক্ষোভ হলেও প্রত্যেকবারই সরকার আশ্বাস দেওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকরা কারখানায় ফিরে গিয়েছে। এবার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। তারা কোন একটি স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্যে যারাই শ্রমিকদের উস্কানি দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী। না হলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ব্যাপক।

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ-সমসাময়িক সময়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। বর্তমান সরকারের অর্থনীতিবান্ধব পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের ফলে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে ৪১তম অবস্থানে রেখেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইবিআর। ২০১৮ সালে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪৩তম। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। শীর্ষ পাঁচে থাকা বাকি দেশগুলো যথাক্রমে জাপান, জার্মানি ও ভারত।

এশিয়ার অনেক দেশের মতোই আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে এবং জিডিপি-জিএনপি উল্লেখ্যযোগ্য হারে বাড়বে। সিইবিআর প্রতিবেদনের ১০ম সংস্করণে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করছি ২০১৮ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বার্ষিক গড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। এতে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের ১৯ ধাপ উন্নতি হবে এবং ২০৩৩ সালে দেশটি ২৪তম অবস্থানে উঠে আসবে। বাংলাদেশ তার পোশাক রফতানি, ক্রমবর্ধমান প্রবাসী আয়, ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য রফতানি সুবিধা, অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় ও সরকারি ব্যয় থেকে উপকৃত হচ্ছে। প্রায় ৪৩ শতাংশ বাংলাদেশি কৃষিখাতে কাজ করে, যাদের বেশিরভাগই ধান ও পাট উৎপাদন করে। তবে ভুট্টা, সবজি ও গম উৎপাদনও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি চাহিদার কারণে দেশটির রফতানি সাফল্য ম্লান হতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্কও করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থ যোগাতে সরকারের আয় বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজন পড়বে’। এছাড়াও উল্লেখিত সময়ে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় লড়তে হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চোখে পড়ার মত। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৬০ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উন্নয়নের ফলে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাজার সৃষ্টি করতে সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। প্রবাসীদের মাধ্যমে অর্জিত রেমিট্যান্সও গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে ২০৩৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে তিনটি দেশই হবে এশিয়ার। আর এই তিন দেশের মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। এছাড়া শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে ভারত তিনে ও জাপান চারে অবস্থান করবে বলে প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে।

রপ্তানিতে অর্ধেকেরও বেশি কর-সুবিধা দিবে নতুন সরকার

নিউজ ডেস্কঃ-শিল্পখাতের উন্নয়ন ও বিস্তৃতির লক্ষ্যে রপ্তানিতে গত সেপ্টেম্বরেই উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৬০ শতাংশ করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে পুনরায় নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে জোটটি। যেখানে নতুন সরকারের অধীনে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেই কর প্রায় অর্ধেকেরও বেশী কমিয়ে আনা হয়েছে।

এক তথ্যে বলা হয়েছে, এখন থেকে পাট ছাড়া যেকোনো পণ্য রপ্তানি করলে উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ দিলেই চলবে।

রপ্তানি খাতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে বলে মানছেন খোদ শিল্পমালিকেরা। সূত্রে জানাগেছে, চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

গত সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন এই কর-সুবিধা পাবে শিল্প মালিকরা। তবে নির্দিষ্ট সময় শেষে আগের অবস্থায়, অর্থাৎ ১ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে।

নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া এই কর-সুবিধার ফলে পোশাকসহ রপ্তানি খাতের শিল্প মালিকদের মুনাফার হার বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। এভাবে বাড়তি সুবিধা দেওয়ায় অর্থবছরের মাঝখানে সরকারের রাজস্ব আদায় কিছুটা কমবে বলেও মনে করছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের সকল পণ্যের রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ৮৩ শতাংশেরও বেশি। এতে পোশাক মালিকরা সবচেয়ে বেশি নতুন কর-সুবিধা পাবে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উৎসে কর হিসেবে ২ হাজার কোটি টাকা কর আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। উৎসে কর কমানোর ফলে ৪০০-৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব কমতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উৎসে কর ছাড়া পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের বার্ষিক আয়ের ওপর ১২ শতাংশ হারে কর্পোরেট কর দিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সবুজ কারখানা হলে ওই মালিককে ১০ শতাংশ হারে কর দিলেই হবে। এ দুটি সুবিধাই আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত থাকবে।

বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি খাতে বর্তমান সরকারের দেয়া নানান সুযোগ-সুবিধার ফলে গত দশ বছরে পোশাক খাতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে পোশক খাতের মালিকরা স্বীকার করেছেন বহুবার। তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে উৎসে করহার ১ শতাংশ হয়ে যায়। এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী কর কমিয়ে দশমিক ৬ শতাংশ করে সরকার। তারপরও ব্যবসায়ীরা উৎসে কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানান। কিন্তু সার্বিক দিকে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাকসহ অন্য রপ্তানি পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার। যা একই সরকারের নতুন মেয়াদ থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ১ টাকা=পাকিস্তানের ২ রুপি, জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো

নিউজ ডেস্কঃ-পাকিপ্রেমীদের জন্য এ এক ভয়াবহ দুঃসংবাদই বটে। অবশ্য একের পর এক দুঃসংবাদে তারা এমনিতেই বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। কথায় আছে, অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর। এবারের সংবাদটি অবশ্য তাদেরকে পাথর থেকে ভাস্কর্যে পরিণত করতে পারে।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের ১ টাকা এখন পাকিস্তানের প্রায় ২ রুপির সমান। যা দেখে আক্কেলগুড়ুমের দশা খোদ পাকিস্তানের নাগরিকদের। তারা যারপনাই হতাশ। বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নচিত্র তাদের কাছে বিস্ময়কর হয়ে ধরা দিয়েছে। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানি এক টেলিভিশন চ্যানেলে এক বক্তার বক্তব্যে এই তথ্য ওঠে আসে।

সে পথ যে পাকিস্তানের জন্য অনতিক্রম্য, তা ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট হচ্ছে। পাকিস্তান এখন এক কাগুজে বাঘ। অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে একরাশ হতাশা উপহার দিচ্ছেন ইমরান খান। সৌদি আরব ও চীন শত শত কোটি ডলার সাহায্য দিচ্ছে, তবুও ব্যর্থতা ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। দেশের জনগণই বলছে, সরকারি কোষাগারে ছিদ্র রয়েছে, তাই সেখান থেকে সব পড়ে যাচ্ছে।

গোটা পাকিস্তান আজ কোমায়। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি অসহনীয়। জনগণের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অবিশ্বাস, উৎকণ্ঠা। আজ তাদের একটাই আকুতি ‘খোদা কে ওয়াস্তে, হামে বাংলাদেশ বানা দো’। ‘রা’ নেই বাংলাদেশের পাকিপ্রেমীদের মুখেও। সব দেখেশুনে তারা যে পেয়ারে পাকিস্তানের জন্য মন খারাপ করে আছেন, তা বলাই বাহুল্য।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রেখে যাওয়া ৪০ লাখ বিহারি ও ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়েও উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। সুপরিকল্পিত উন্নয়নে বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে দেশটি।
পাকিস্তান যেখানে বৈদেশিক সাহায্য নিয়েও আমাদের চেয়ে ঢের পিছিয়ে, আমরা সেখানে নিজেদের অর্থেই বাস্তববায়ন করছি পদ্মা সেতু। একটু একটু করে পদ্মার বুকে গর্বভরে দাঁড়িয়ে আছে সেতুর অবয়ব। বিশ্ব বাংলাদেশকে বলছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, এশিয়াতেই আজ আমরা অর্থনীতির সিংহ। সব সূচকেই আমরা পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাহিরে।

তারা যখন আমাদের ছুঁয়ে ফেলার অলীক স্বপ্নে বিভোর,আমরা তখন সাফল্যের বিস্তৃত দিগন্তের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাঙালির মনে আজ বাজছে সেই অবিনাশী, মৃত্যুঞ্জয়ী স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

২০১৫ সালের পর হরতাল-অবরোধ না হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ- অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে নিম্নমুখী করে। ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব-হরতাল-অবরোধ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যে ভয়াবহ আঘাত হেনেছিলো তা কারো অজানা নয়। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাস অবরোধে প্রাণ হারায় দুই শতাধিক সাধারণ মানুষ। পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং পরিবহন সেক্টরসহ দেশের প্রতিটি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেসময় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিলো। তৎকালীন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য শক্ত হাতে দমন করে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। ধীরে ধীরে মানুষের মনে সাহস সঞ্চারিত হয়। অনেক আত্মত্যাগের পরে ২০১৫ সালে মাঝামাঝি সময়ে হরতাল অবরোধের প্রভাব কমতে শুরু করে।

২০১৫ সালে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রধান যে চারটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিলো- সেগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রধানতম। তৎকালীন সময়ে ন্যাশনাল বাজেট রিকমেন্ডেশন ফর ফিন্যান্সিয়াল ইয়ার ২০১৫-১৬’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি’র এক জরিপে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ৮১ দিনের অবরোধ ও ৬৭ দিনের হরতালে উৎপাদন খাতে ৬০৬ কোটি টাকা, সেবা খাতে ৪৩১ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৪৪৩ কোটি টাকা, মৎস্য খাতে ১১৭ কোটি টাকা, পর্যটন খাতে ২১০ কোটি টাকা, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় খাতে ৪৭২ কোটি টাকা, হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ৩৬ কোটি টাকা, যোগাযোগ খাতে ৩৭৪ কোটি টাকা, রিয়েল এস্টেটে ২৫০ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিদিন ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়।

টানা অবরোধে অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়ার পাশাপাশি এ সময়ে ১১টি খাতে মোট জাতীয় উৎপাদনে ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ক্ষতি হয় বলে জানায় সিপিডি। এর মধ্যে যোগাযোগ খাতে ৭৪৪ কোটি টাকা, পোল্ট্রি খাতে ৬০৬ কোটি টাকা, হিমায়িত খাদ্যে ৭৪১ কোটি টাকা, পোশাক খাতে ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা, প্লাস্টিক খাতে ২৪৪ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৩৯৮ কোটি টাকা, পর্যটন খাতে ৮২৫ কোটি টাকা, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাতে ১৫৬ কোটি টাকা, খুচরা ও পাইকারি বিক্রিতে ৪৪৮ কোটি এবং রিয়েল এস্টেট খাতে ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাধারণ শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা।

২০১৫ সালের পর সর্বশেষ ২০১৬ সালে কোন হরতাল কিংবা অবরোধ হয়নি। এর ফলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে হরতাল সংস্কৃতি না থাকলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কতটা বেগবান হয় তার উদাহরণ হতে পারে ২০১৬ সাল। কোন ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না থাকায় বাংলাদেশ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ৭.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। যা জামায়াত-বিএনপির হরতাল-অবরোধের ফলে ৫ শতাংশে নেমে এসেছিল।

এফবিসিসিআই’য়ের হিসাব অনুযায়ী, এক দিনের হরতালে দেশের জিডিপির দশমিক ১২ শতাংশ ক্ষতি হয়। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) হিসাবে, এক দিনের হরতালে এক হাজার ৫৪০ কোটি টাকার (২০ কোটি ডলার) ক্ষতি হয়। ঢাকা চেম্বারও হরতালে ক্ষতির একটি হিসাব দেখিয়েছে। তারা বলছে, এক দিনের হরতালে দেশের এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। বছরে যদি গড়ে ৪০ দিন হরতাল হয় এক বছরে ক্ষতি হয় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। সিপিডি’র এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হরতালে বাংলাদেশের এক শতাংশ পুঁজি নষ্ট হলে তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের মোট জিডিপির দশমিক ৯ শতাংশ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বদলে গেছে বাংলাদেশের চিত্র। হরতাল-অবরোধের মতো ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। বেড়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বাজেটের আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়েছিল। এর ফলে পরপর তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

বান্দরবানে আয়কর মেলার উদ্বোধন

বান্দরবান অফিসঃ-“আয়করে প্রবৃদ্ধি,দেশ ও দশের সমৃদ্ধি ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে বান্দরবানে শুরু হয়েছে চারদিনব্যাপী আয়কর মেলা। মেলা উপলক্ষে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২ এর আয়োজনে বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আয়োজন করা হয় এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার ।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২ এর যুগ্ন কর কমিশনার মো: কাওসার আলীর সভাপতিত্বে, এসময় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো:শফিউল আলম,পুলিশ সুপার মো:জাকির হোসেন মজুমদার,উপ-কর কমিশনার মো: দাউদ হোসেনসহ বান্দরবানের সেরা করদাতার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সকলকে নিজ নিজ আয় অনুযায়ী কর প্রদান করতে অনুরোধ জানান এবং আয়কর প্রদানের মাধ্যমে দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়নে সকলকে ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়। এদিকে দুর্গম পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রতিবছরের মত এবারে ই-টিন প্রদান,আয়কর রিটার্ন পূরণসহ নানা কর্মকান্ড ও স্বাছন্দে আয়কর প্রদান করতে পারায় খুশি আয়কর দিতে আসা সাধারণ জনসাধারণ ।

কর কর্মকর্তারা জানান,আয়কর দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব আর আয়কর প্রদানের মধ্য দিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ থেকে শুরু হওয়া চারদিনব্যাপী এই আয়কর মেলায় ই-টিন প্রদান,আয়কর রিটার্ন পূরণে সহায়তা,আয়কর রির্টান গ্রহণ ও আয়কর সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে ,আর ১৮ নভেম্বর এই আয়কর মেলার সমাপ্তি ঘটবে।

দেশের রফতানি খাতে বইছে সুবাতাস

নিউজ ডেস্কঃ-দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে দেশের রফতানি খাত। আমদানিমুখী দেশ থেকে রফতানিমুখী দেশে রূপান্তরিত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যে নজর কাড়ছে বাংলাদেশ। নির্বাচনকালীন মৌসুমে অনেকে ধারণা করেছিলেন যে অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হবে দেশ। কিন্তু এই ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও রফতানি খাত।

চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-২০১৯) চার মাসে রফতানি আয় বেড়েছে বিগত বছরের থেকে ১৯ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দেশে রফতানি খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার। সর্বশেষ, অক্টোবর মাসে রফতানি আয় প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি আয়ের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই অর্থবছরে আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২.৫৭ ও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলার রফতানি আয় হয়েছিল। প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮১ শতাংশ।

এই রফতানি খাতের ভেতর এগিয়ে আছে পোশাক খাত। বিশেষ করে পোশাক খাতের রফতানি বৃদ্ধির জন্যই ত্বরান্বিত হয়েছে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের চার মাসে পোশাক খাতে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ১৩৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ওভেন পোশাক বা প্যান্ট-শার্ট রফতানি করে আয় হয়েছে ৫৪৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। আর নিট বা গেঞ্জি জাতীয় পোশাক রফতানি করে আয় হয়েছে ৫৮৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।

পোশাক খাতের রফতানি বৃদ্ধি পেলেও দেশ বর্তমানে শুধু পোশাক খাতের উপর নির্ভরশীল নয়। রফতানিকৃত পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে অনেক পণ্য। ইতোমধ্যে ঔষধ রফতানি করে বিশ্বে অনন্য জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে কৃষি পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।

একটা সময় দেশে রফতানি খাত ছিল হুমকির সম্মুখীন। সেদিন এখন অতীত। বহির্বিশ্বে বর্তমানে ইতিবাচক মনোভাবের কারণে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্য আমদানি-রফতানির উপর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। গত কয়েক বছর ধরে দেশের রাজনীতি স্থিতিশীল, তার জন্য যথা সময়ে ক্রয়াদেশ সম্পন্ন করে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে করেছে সমৃদ্ধ।