আজকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০৬:৩১ অপরাহ্ন    

Home » অর্থনীতি

অর্থনীতি

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আসছে রফতানি আয়

নিউজ ডেস্কঃ- বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিস্থিতি উন্নতি হতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ২৮ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। ইতিবাচক সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিক উল্লম্ফনের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। যার কারণে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক। এ খাতের রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতের আয়ও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। যার কারণে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে। এধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৫৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে এ সময়ে আয় হয়েছে দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সমেয়ের তুলনায় এ বছর রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ৪৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৮ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটি গত ফেব্রুয়ারিতে তুলনায় ১০ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পণ্য খাতে রফতানি আয় ছিল ৩০৭ কোটি ২১ লাখ ডলার।
দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আলোচিত সময়ে এ খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে দুই হাজার ৩১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ৫৮ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে সাত কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।
এদিকে আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৫৬ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে পাঁচ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ১১ দশমিক পাঁচ শতাংশ কম হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

রমজানে বাড়ছে না নিত্য পণ্যের দাম

নিউজ ডেস্কঃ- প্রায় প্রতিবছরই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর এতে করে রমজান মাসে শুধু রোজাদাররাই নয় এর কারণে নাজেহালে পড়তে হয় দেশের প্রতিটি নাগরিকের। সিয়াম সাধনার এই মাসে শুধুমাত্র বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও তা জনগণের হাতের নাগালেই থাকছে। এতে করে জনগণের অতিরিক্ত কষ্ট পোহাতে হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নজরদারির কারণে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে পারছে না। আর এতে করে জনমনে নেমে এসেছে স্বস্তি।
আর এর ধারাবাহিকতায় রমজানের এক মাস আগেই ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনায় বসেছেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দেশে তেল, চিনি আমদানিকারকরা। যাদের হাতে তেল, চিনিসহ অন্যান্য আমদানি দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “সামনে রোজা। এই সময় তেল, ছোলা, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে, সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত সরবরাহ যেন থাকে, সে বিষয়টি ও আপনাদের দেখতে হবে।”
ভিডিও কনফারেন্সে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করব যাতে আসন্ন রমজানে চিনি, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট না হয়। আপনাদের সবার প্রতি এটা আমার অনুরোধ।
মোস্তফা কামাল মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের কর্ণধার, মুন্সিগঞ্জে আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনের কর্ণধারের সঙ্গে মতবিনিময়কালেও প্রধানমন্ত্রী একই অনুরোধ জানান।
এদিকে রমজানকে কেন্দ্র করে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দিকে আলাদা নজরদারির কারণে সহসাই দাম বাড়াতে পাড়ছে না ব্যবসায়ীরা। আর এতে করেই ধীরে ধীরে জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে।

বেড়েই চলছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স

নিউজ ডেস্কঃ-দেশে বেড়েই চলছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শেষের দিকে রেমিটেন্সের পরিমাণ কমলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আবারো পুরোদমে বেড়ে চলছে রেমিটেন্স। এদিকে চলতি মার্চ মাসের ২২ দিনেই ১১০ কোটি (১.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রেমিটেন্সে সুখবর দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৮ সাল। গত বছরে এক হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ (১৫.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। যা ছিল ২০১৭ সালের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।
দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি ছিল ২৮ দিনে; তারপরও ১৩২ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। তৃতীয় মাস মার্চের ২২ দিনে (১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত) ১০৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। মাস শেষে আরও নয় দিনের রেমিটেন্স যোগ হলে এই মাসে মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে জানুয়ারি মাসের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।
রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত ৭ মার্চ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ১০০ কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও বিডিবিএল—এই ৬টি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ২৮০ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। আর একমাত্র রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১৫ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ১১৩ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জনতা ব্যাংক ৭০ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রূপালী ব্যাংক ১৪ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সোনালী ব্যাংক ৮১ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও বেসিক ব্যাংক শূন্য দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা ১,০১১ দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রেরণ করে। এসব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) সবচেয়ে বেশি অর্থ ২০৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল) ১৪০ দশমিক ৯০ মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। অপর দিকে প্রবাসীরা ১০ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পাঠান।

বঙ্গবন্ধু টানেলকে ঘিরে শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন

নিউজ ডেস্কঃ-কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম সড়ক সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। কর্ণফুলীর তলদেশে ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ চট্টগ্রাম শহরের বন্দর এলাকার সঙ্গে নদীর অন্য তীরের আনোয়ারা উপজেলাকে সড়কপথে যুক্ত হবে। এ টানেল চালু হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি কর্ণফুলীর দুই সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে।
এরইমধ্যে এই প্রকল্পের ৩২ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীর তলদেশে টানেল খননের জন্য চীন থেকে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। চীনের বাণিজ্য নগরী সাংহাইয়ের ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’র আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে। এ ধরণের উন্নয়ন কাজ বাংলাদেশে এবারই প্রথম। ‘কন্সট্রাকশন অব মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার দ্য রিভার কর্ণফুলী’ প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মিত হচ্ছে।
টানেলের প্রকৌশলীরা বলছেন, নদীর এই প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের খননে সময় লাগবে দুই বছর। খননের পর মাটি সরিয়ে বসানো হবে সিমেন্টের তৈরি সেগমেন্ট; সেগুলো চীন থেকে এরই মধ্যে পতেঙ্গা সী বিচ এলাকায় পৌঁছেছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতি মাসে কাজের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০ শতাংশ, আমরা করছি ৩০ শতাংশ। যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগামী ২০২২ সালেই এই টানেল দিয়ে গাড়ি চলবে।
টানেল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর ওপারে বিনিয়োগ সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আংশিক চালু রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। এর পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে কিছু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। টানেল নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার আনোয়ারার একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করছে। এর পাশাপাশি চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ‘চায়না ইকোনমিক জোন’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। শুধু তাই নয়; বঙ্গোপসাগর উপকূল ঘিরে পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হবে ও ব্যাপক রাজস্ব আয় বাড়বে এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের মাধ্যমে মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এসব এলাকা ঘিরে পর্যটন, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। নদীর ওপারে ভারী শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ে ও নতুন সিল্ক রুটে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক করিডোর।

রফতানি বাণিজ্যে বইছে সুবাতাস; প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ

নিউজ ডেস্কঃ-দেশের রফতানি বাণিজ্যে বইছে সুবাতাস। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। ইতিবাচক সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিক উল্লম্ফনের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। যার কারণে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ২৮ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক। এ খাতের রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতের আয়ও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। যার কারণে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে। এধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৫৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে এ সময়ে আয় হয়েছে দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সমেয়ের তুলনায় এ বছর রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ৪৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে ৩৩৮ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটি গত ফেব্রুয়ারীতে তুলনায় ১০ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে পণ্য খাতে রফতানি আয় ছিল ৩০৭ কোটি ২১ লাখ ডলার।
দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আলোচিত সময়ে এ খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে দুই হাজার ৩১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ৫৮ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে সাত কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।
এদিকে আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৫৬ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে পাঁচ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ১১ দশমিক পাঁচ শতাংশ কম হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

সাফল্যের অগ্রযাত্রা: চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০

নিউজ ডেস্কঃ-উন্নয়নের পথে দূর্বার এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এটা এখন আর স্বপ্ন কিংবা কল্পনা নয়, বাস্তবতা। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় অর্থনীতিকে সর্বাধিক সহায়তা করছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি প্রবাসী বিশ্বের প্রায় ১৬০ টিরও অধিক দেশে কর্মরত আছেন। আর এই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ৮ মাসে ১০ হাজার ৪১০ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪৯ দশমিক শূন্য ৬ মার্কিন ডলার বেশি। অর্থাৎ এ সময়ে রেমিট্যান্স ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে বাংলাদেশ ৯ হাজার ৪৬১ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও ডিবিবিএল—এই ৬টি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ২৮০ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। আর একমাত্র রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১৫ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ১১৩ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জনতা ব্যাংক ৭০ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রূপালী ব্যাংক ১৪ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সোনালী ব্যাংক ৮১ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও বেসিক ব্যাংক শূন্য দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা এক হাজার ১১ দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রেরণ করে। এসব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) সবচেয়ে বেশি অর্থ ২০৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল) ১৪০ দশমিক ৯০ মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। অপর দিকে প্রবাসীরা ১০ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পাঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান মুখপাত্র এম. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে রেমিট্যান্সের গতি ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনগত বৈধ উপায়ে দেশে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে।’
টাকার বিপরীতে ডলারের তেজি ভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অভিমত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ।

আমিরাতের সঙ্গে বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন

নিউজ ডেস্কঃ-সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনরায় নিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হবার পর গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানি যান শেখ হাসিনা, জার্মান সফর শেষে ১৭ই ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে মিউনিখ থেকে আবুধাবি পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবুধাবি সফরের প্রথম দিনে দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সমঝোতা স্মারক সই ছাড়াও ব্যবসা-বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্যে দিয়ে আবুধাবি ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চারটি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে বিনিয়োগ বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন- বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট(পিডিবি) বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, দুবাই রয়েল পরিবারের সদস্য শেখ আহমেদ ডালমুক আল মাকতুম। এর আওতায় দুই ধাপে ৮০০ থেকে ১০০০ মেগাওয়াটের এলএনজি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ এবং ১০০ মেগাওয়াটের আরেকটি সৌর বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
মাতারবাড়িতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ও শেখ আহমেদ ডালমুখ আল মাখতুম। মাতারবাড়িতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সেখানে ৩০০ একর জমি বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।
বন্দর উন্নয়ন, মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রেল, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, পর্যটনসহ আরও কয়েকটি সেক্টর সহযোগিতায় বাংলাদেশের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি ও দুবাই সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে সই করেন শিপিং মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডয়ের চেয়ারম্যান সুলতান আহমদ বিন সোলাইয়েম।
এমিরেটস ন্যাশনাল ওয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (ইএনওসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ইএনওসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ আল ফালাসি। এই চুক্তির মূল এজেন্ডা হলো হলো বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ। পায়রাতে ভূমিভিত্তিক এলএনজি রিসিভিং সেন্টার করা। সেজন্য পায়রাতে ৩০০ একর জমি বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেদেশের অর্থমন্ত্রী সুলতান আল মানসুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের কথা তুলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশে তারা নতুনভাবে ব্যবসা বাড়াতে চান। বিশেষ করে বিনিয়োগ করতে চান। সেটা হলো এনার্জি, পোর্ট, আর হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এলএনজি এবং ল্যান্ড বেইজ এলএনজির বড় একটা বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ৮০০ থেকে ১০০০ এলএনজি বেইজড দু’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ১০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট করতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ ইমরান বলেন, আবুধাবি সরকার অতীতের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি আন্তরিক। এতদিন আমরা এগিয়ে গেছি। এখন মনে হচ্ছে বিনিয়োগ করার জন্য তারা এগিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আবুধাবির মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সেবা খাতের রফতানি আয় ২৮৭ কোটি ডলার

নিউজ ডেস্কঃ-সমৃদ্ধির পথে রয়েছে দেশের সেবা খাতে রফতানি আয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের সেবা খাতে রফতানি আয় এসেছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। বুধবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহকৃত পরিসংখ্যান থেকে মোট তিনটি ভাগে সেবা খাতে রফতানি আয়ের সংকলন করা হয়েছে। এ তিনটি ভাগ হলো— গুডস প্রকিউরড ইন পোর্টস বাই ক্যারিয়ারস, গুডস সোল্ড আন্ডার মার্চেন্টিং ও সার্ভিসেস।
ইপিবির তথ্য মতে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ তিনটি ভাগ থেকে মোট রফতানি আয় হয়েছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল ১৯০ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সেবায় রফতানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের বিভিন্ন ধরণের সেবা রফতানি খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০ কোটি ডলার ।
রফতানির এ আয়ের মধ্যে সরাসরি সেবা খাত থেকে এসেছে ২৮০ কোটি ৮৮ লাখ। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।
বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া সেবাপণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিকাল ইনপুটস, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কন্সট্রাকশন সার্ভিসেস, ইনস্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দ্য ইউজ অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস, আদার বিজনেস সার্ভিসেস, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সার্বিকভাবে বিশ্ববাজারে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশের আয় করেছে ২ হাজার ৪১৭ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৪২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এ হিসাবে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে পণ্য ও সেবা খাত মিলে মোট রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৮ লাখ ডলার; যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্য ও সেবা খাতে রফতানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে একই সময় রফতানি আয় হয়েছিল ২ হাজার ৩২৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
সেবা খাতগুলোর দিকে সরকারের বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার ফলে এর মান বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে রফতানি আয়ে, এমনটাই মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি রফতানি আয় হবে বলে আশা করছেন তারা।

চুরি যাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব,বলছেন গভর্নর

নিউজ ডেস্কঃ-কুচক্রিদের আতাতে বছর তিনেক আগে রিজার্ভ চুরির আলোচিত ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা জড়িত এবং সুবিধাভোগী বা যারা লাভবান হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মোট ৬৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৬ কোটি ৬৫ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি জানিয়েছেন, রিজার্ভ চুরির মামলা আমলে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যে মামলা হয়েছে, তাতে জড়িতদের আসামী করা হয়েছে। তাই, চুরি যাওয়া অর্থ ফিরে পেতে বেশিদিন লাগবে না।
সূত্র জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক-এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে যে, মামলার প্রথম থেকে শুরু করে প্রতিটা ডলার উদ্ধার পর্যন্ত তারা সঙ্গেই থাকবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘কতদিনের মধ্যে এ মামলার সুরাহা হতে পারে তা এখনি বলতে পারছি না, তবে অতি শীঘ্রই সম্ভব হতে পারে। নিউ ইয়র্ক-এর যেই কোর্টে এ মামলা করা হয়েছে, সেখানে সাধারণত দ্রুতই মামলা নিষ্পত্তি হয়। ফিলিপাইনে হলে অনেক বিলম্ব হতো। ওখানে অনেক দীর্ঘসূত্রতা আছে। নিউ ইয়র্ক-এ অনেক সুবিধা। আমরা আশা করছি, খুব বেশি সময় লাগবে না।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক (ফেড)-এ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এরমধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। ফিলরেম মানি রেমিট্যান্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এরমধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও হদিস চলছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিউ ইয়র্ক-এর ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা মামলায় ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) এবং ওই ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডজন খানেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
চুরির অর্থ ফিলিপাইনের কোথায় কোথায় আছে, সে ব্যাপারে তথ্য আছে জানিয়ে ফজলে কবির বলেন, ‘ফিলিপাইনের বিভিন্ন জায়গায় এ অর্থ আছে। সেখানে তাদের সবাইকে দায়ী করে এই মামলা করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের মামলাকে ভিত্তিহীন বলে আরসিবিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, ‘আরসিবিসি একথা বললেও বুঝতে হবে যে, আরসিবিসির ওখানে সমস্ত টাকা গিয়েছিল। অর্থাৎ, ৮১ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসিতেই গিয়েছিল এবং সেটি চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টেই গিয়েছিল, যে অ্যাকাউন্টগুলো বৈধ না। এ কাজের জন্য আরসিবিসিকে ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রেকর্ড সর্বোচ্চ পানিশমেন্ট দিয়েছে। তাদেরকে সাজা দিয়েছিল এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) পেসো, অর্থাৎ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা সঠিক ছিল না, এটা লন্ডার্ড মানি ছিল। এই কারণে তাদের শাস্তি দিয়েছিল। কাজেই আরসিবিসি এটা বললেই তো হবে না।’

জাজ কর্ণধার আবদুল আজিজের ৯১৯ কোটি টাকা পাচার

বান্দরবান অফিসঃ-জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল থেকে তাকে আটক করা হয়।

ক্রিসেন্ট গ্রæপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৯১৯ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া। গতকাল বিকেলে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আবদুল আজিজসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং যথাক্রমে-৫৪, ৫৫ ও ৫৬। মামলায় আবদুল আজিজ ও জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ ও ৫৬ মামলার অন্যতম আসামি ক্রিসেন্ট লেদার ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে কাকরাইল থেকে আটক করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, রিমেক্স ফুটওয়্যার ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৪২২.৪৬ কোটি টাকা, ৪৮১.২৬ কোটি টাকা ও ১৫.৮৪ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ৯১৯.৫৬ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কর্তৃক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুল জাহান (মিরা) এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুলতানা বেগম (মনি) ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।