আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৬ অপরাহ্ন    

Home » তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি

ডিজিটাল বাংলাদেশ এর অগ্রগতি কতদূর?

নিউজ ডেস্কঃ- এক দশক আগেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিল বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাম। সেসময়ের এমন বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে এদেশের মানুষকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশের মানুষ যেখানে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত সেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিলো অনেকের কাছে বিলাসবহুল কল্পনা, অনেকেই উপহাস করেছিলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নিয়ে।
এরপরের গল্পটা সবার জানা, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দিন বদলের সনদ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। শুরু হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা। গ্রামের ছেলেমেয়েরা এখন স্কুল-কলেজে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমে পড়াশোনা করে। তাদের হাতে হাতে এখন দেখা মেলে স্মার্ট ফোনের। বিদ্যুতের কল্যাণে গ্রামে গ্রামে চলছে লাইট, ফ্যান, টেলিভিশন ও কম্পিউটার। হাত বাড়ালেই মিলছে নগদ, বিকাশ রকেটের মতো মোবাইল ব্যাঙ্কিং সেবা, আছে মোবাইল ফোন রিচার্জের সুবিধা।
দেশে গড়ে তোলা হয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল ইউনিয়ন সেন্টার। এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রতি মাসে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রায় ২০০ রকম সেবা গ্রহণ করে। যেকোনো ধরণের আবেদন, জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবসায়িক লাইসেন্স সবই পাওয়া যাচ্ছে ডিজিটাল ইউনিয়ন সেন্টারের মাধ্যমে।
দেশে গত ১০ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে একশ গুণেরও বেশি। মোবাইল ফোনের গ্রাহকও বেড়েছে চার গুণ। ২০০৮ সালে দেশ থেকে ২৬ মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানি হয়। ২০১৮ সালে তা এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
গত ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। ওই সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এটা শুধু শহরভিত্তিক নয়, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষও যাতে সমান সুযোগ, সমান সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। এই স্বপ্ন এখন অনেকটা পূরণ হওয়ার পথে। রূপকল্প-২১ সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে বিনির্মাণের স্বপ্ন শতভাগ পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২১ সালের মধ্যে আইটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ই-গভর্নেন্স এবং ই-বাণিজ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এই দুই খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার। আইসিটি খাতকে প্রথম সারির রপ্তানিমুখী শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি আইটি আউটসোর্সিং হাবে পরিণত করা। এজন্য সাতটি বিভাগে আইসিটি পার্ক স্থাপন করার কাজ শেষের পথে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে চারটি স্তম্ভ ই-গভর্নেন্স, ই-শিক্ষা, ই-সেবা এবং ই-বাণিজ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
এসবই সম্ভব হচ্ছে আইসিটি খাতে সরকারের বিশেষ সাফল্যের কারণে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন নিছক কল্পনা নয় বাস্তবতা।

অশ্লীল ছবির বিস্তার বন্ধে প্রয়োজন অশ্লীল ছবি নিয়ন্ত্রণ আইন

নিউজ ডেস্কঃ- তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের কল্যাণে হাতের মুঠোয় এখন গোটা বিশ্ব। স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটারে স্ক্রিনে ক্রমাগতই উকি দেয় বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও সাইটের লিংক। আর মুহূর্তের মধ্যেই ক্লিক করে এসব সাইটে অশ্লীল ছবি দেখতে প্রবেশ করছে কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের নর-নারী। অশ্লীল ছবির আগ্রাসন থেকে সমাজ ও দেশকে রক্ষা করতে ইতোমধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি অশ্লীল ছবির সাইট বন্ধ করেছে বর্তমান সরকার। তবে অশ্লীল ছবির বিষাক্ত ছোবল থেকে সবাইকে রক্ষা করতে এসব সাইট বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজন অশ্লীল ছবি নিয়ন্ত্রণ করতে যেসব সরকারি আইন অথবা বিধিমালা রয়েছে তার যথাযথ প্রয়োগ।
অশ্লীল ছবি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রথমবারের মতো ২০১২ সালে অশ্লীল ছবি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে বর্তমান সরকার। আইন অনুযায়ী অশ্লীল ছবি বহন, বিনিময়, মুঠোফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা, বিক্রি প্রভৃতি নিষিদ্ধ। এই আইন অনুযায়ী যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য-চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, অঙ্কিত চিত্রাবলী, বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য বিষয়— যার কোনো শৈল্পিক মূল্য নেই– তা অশ্লীল ছবি হিসেবে বিবেচিত হবে। অধিকন্তু, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, পত্র-পত্রিকা, ভাস্কর্য, কল্প-মূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা প্রচারপত্রও অশ্লীল কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এসবের সফট ভার্সনও অশ্লীল কন্টেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখিত আইন অনুযায়ী অশ্লীল ছবি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শন বেআইনি ও নিষিদ্ধ এই নিষিদ্ধ কর্ম সম্পাদনের জন্য শাস্তির বিবিধ বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য এবং জামিনের অযোগ্য।
অশ্লীল ছবি নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা হয়েছে, যে কোনো ব্যক্তি অশ্লীল এবং নোংরা ছবি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কোনো নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থির, ভিডিও বা চলচ্চিত্র ধারণ করলে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাবে। আরও বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি অশ্লীল ছবির মাধ্যমে কারও সম্মানহানি করে বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে বা করার চেষ্টা চালায় তবে বিচারক ২ থেকে ৫ বছর মেয়াদী কারাদণ্ড আরোপ করতে পারবেন এবং তদুপরি, ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন। শিশুদের ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অধিকন্তু ৫ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া উক্ত আইন অনুসারে অশ্লীল ছবির সিডি বা ডিভিডি তৈরির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার ও তার আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে আলামত আটক করা যাবে। তল্লাশিকালে আটককৃত সফট কপি, রূপান্তরিত হার্ড কপি, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রিকাল ডিভাইস, এক্সেসরিজ, মোবাইল ফোনে সিম, যন্ত্রাংশ, অপরাধ কাজে ব্যবহৃত অন্য কোনো যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম বা বস্তা আদালতে প্রমাণ বা প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। এই আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে যে অশ্লীল ছবি তৈরি কিংবা বহনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক বা তার সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আরও ১৫ দিন এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেলে আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।
এছাড়া এ আইনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলে আদালত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিতে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ না-করলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য সমাধান হবে। কেউ এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে আপিল করতে পারবেন। এ ছাড়া বিলে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীর জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য এবং জামিনের অযোগ্য অপরাধ হিসাবে অভিযোগ ছাড়াই রাষ্ট্র তথা আদালত আমলে নিতে পারবে।
অশ্লীল ছবি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত এসব আইন যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অনেকটাই রোধ করা সম্ভব অশ্লীল ছবির ভয়াবহতা।

‘নিরাপদ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইন’ সমর্থনে অশ্লীল কনটেন্ট মুছলেন সালমান

নিউজ ডেস্কঃ-দিন দিন প্রশংসিত হচ্ছে নিরাপদ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীলতা না ছড়ানোর প্রতিজ্ঞা করে নিরাপদ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিতর্কিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির।

এর আগে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তাকে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে সালমান অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি বন্ধ করা এবং না ছড়ানোর প্রতিজ্ঞা করেন।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের পর ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ভিডিও গান সরিয়ে নেওয়া ও নিরাপদ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইনে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। পাশাপাশি সালমান মুক্তাদির অশ্লীল ভিডিও কনটেন্ট তৈরি এবং প্রচার না করার অঙ্গিকার করেছেন।

এদিকে ফেসবুক লাইভে এসে সালমান বলেন, ‘আমার একটা গান প্রকাশ হয়েছিল ‘অভদ্র প্রেম’ শিরোনামে। যেই গানটি বাংলাদেশে পরিপ্রেক্ষিতে খুব বেশি তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি করে। গানটির জন্য সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আমাকে বলে এটা আমাদের দেশের কনটেক্সের বিপরীতে যায়। গানটি আমাকে নামিয়ে ফেলতে বলা হয়। আমি গানটি নামিয়ে দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছি এবং নামিয়ে দিয়েছি’।

তিনি আরও বলেন, ‘ভিডিওটি কোনোভাবেই আমাদের দেশের জন্য এক্সেপটেবল না। আমি চেষ্টা করবো গানটির ভিডিও আমাদের দেশের উপযোগী করে নির্মাণ করার জন্য। এছাড়া আমাদের নিরাপদ ইন্টারনেটের যে ক্যাম্পেইন হচ্ছে সেটার সমর্থন করছি। আমি আশাবাদী এই ক্যাম্পেইনের একজন অ্যাম্বাসেডর হতে পারব। আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং এটাকে সাধুবাদ জানানোর জন্য’।

উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘অভদ্র প্রেম’ শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিওটি ইউটিউবে ‘সালমান দ্য ব্রাউন ফিশ’ চ্যানেলে প্রকাশ করেন সালমান। মিউজিক ভিডিওটি তার প্রকাশের পর থেকেই তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। এতে তার চ্যানেলটি থেকে কমে যায় প্রায় ২ লাখের মতো সাবস্ক্রাইবার।

অশ্লীলতার আরেক নাম বিগো লাইভ,বন্ধে সোচ্চার সরকার

নিউজ ডেস্কঃ- অনলাইন দুনিয়ায় মানুষ একের পর এক জড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর নেশায়। যা মানুষকে সামাজিক মূল্যবোধের চেতনা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে বহুদূরে। তাই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির হাত থেকে সামাজিক মূল্যবোধকে বাঁচাতে অনলাইন দুনিয়ায় নজর রাখছে সরকার। বন্ধ করা হচ্ছে পর্ন সাইট, টিকটকসহ বিভিন্ন অশ্লীলতা ছড়ানোর মাধ্যমগুলো। এবার বন্ধ করা হচ্ছে অশ্লীলতার আরেকটি মাধ্যম বিগো লাইভ।

বিগো লাইভের মতো অশ্লীল মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে বিগো’র মতো এখন ইমো লাইভেও এসব নোংরামি শুরু করেছে একটি সিন্ডিকেট। যা তরুণ-তরুণীদের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চেতনাকে হুমকির মখোমুখি করছে।

বিগো লাইভ একটি ভয়ঙ্কর নেশা। এতে আসক্ত হচ্ছে প্রতিদিন অসংখ্য নারী-পুরুষ। রাত যত বাড়ে, এই নেশায় ততই মগ্ন হতে থাকে তরুণ প্রজন্ম। শুধু তারুণরাই নয়, সব বয়সী মানুষ ভার্চুয়াল জগতের এই নেশায় পা বাড়াতে শুরু করেছে।

বিগো লাইভে চলে নগ্নতার মহোৎসব। বিকাশে টাকা পাঠাও। আমাকে কে কে চাও? আবার কেউ কেউ বলছে, আমাকে পেতে খুব বেশি টাকা লাগবে না, এক হাজার টাকা দিলেই হবে- রাত বাড়ার সাথে সাথে এমন অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে বিগো লাইভে। কখনো এই অ্যাপসের মাধ্যমে গানের তালে তালে শরীর প্রদর্শন করছে নারীরা। অনেকের শরীরে নেই কোনো কাপড়। টাকার বিনিময়ে দিচ্ছে সাময়িক উত্তেজনা। আবার কারো কারো মুখে দুর্দান্ত মেকআপ। কণ্ঠে ভয়াবহ সব অশ্লীল কথা।

বিগো লাইভের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। বিগো লাইভ অ্যাপ ব্যবহার করে একশ্রেণির মেয়েরা প্রতিদিন রাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রবাসী তরুণদের কাছ থেকে। তরুণদের যৌনতার ফাঁদে ফেলে তারা কৌশলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছে।

জানা যায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইন্টারনেট কোম্পানি বিগো টেকনোলজি ২০১৬ সালে বিগো লাইভ চালু করে থাইল্যান্ডে। থাইল্যান্ডে বর্তমানে ‘অ্যাপল স্টোর’ও ‘গুগল প্লে স্টোরে’এই অ্যাপসটি র‌্যাংকিং প্রথম স্থানে রয়েছে। থাইল্যান্ডে ভার্চুয়ালি যৌনতার বিস্তারে এই অ্যাপটি ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে। থাইল্যান্ডের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিগো লাইভ।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী এই অ্যাপে সময় কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত বিগো লাইভের বেশিরভাগ আইডি ফলো করে দেখা গেছে, রাত বাড়লেই অশ্লীল কার্যকলাপে মেতে উঠছেন এসব ব্যবহারকারী। তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শত শত তরুণ-তরুণী। বাসা বাড়িও এখন ডিজিটাল যৌনপল্লী পরিণত হয়েছে এই অ্যাপটির মাধ্যমে। ১ ঘণ্টা কথা বলতে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করছে অনেকে।

অ্যাপস ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সামাজিক অবক্ষয় থেকে দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এই সফটওয়্যারটিও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে একজন সমাজ বিজ্ঞানী ড. জিনাত হুদা বলেন, সরকার বর্তমানে সমাজ ও মানুষের মূল্যবোধ জাগ্রত করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে অনলাইন দুনিয়া কেন্দ্রিক যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তা সত্যিই প্রশংসা দাবি রাখে। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার পাশাপাশি এসব নৈতিক অবক্ষয় বন্ধ করতে নানা ধরণের সচেতনমূলক প্রচারণারও তাগিদ দেন এই সমাজ বিজ্ঞানী।

হার্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ-সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি খাতের তথ্য সংরক্ষণের জন্য বড় পরিসরে ডেটা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ‘ফোর টিয়ার ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার’ স্থাপনের এ প্রকল্প হাতে নেয়। এ ডেটা সেন্টারকে ‘হার্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে প্রায় ৭ একর জায়গার ওপর প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার বা জাতীয় ডেটা সেন্টার। এ ডেটা সেন্টারে আগামী জুন মাস নাগাদ পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে। তখন চাইলে বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ডেটা সেন্টারের ভবন নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। এর মাঝেই কয়েকটি তলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি।
এটি ডেটা সেন্টারগুলোর মধ্যে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম ডেটা সেন্টার হতে চলেছে। সরকারের অঙ্গীকার ‘রূপকল্প-২০২১ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অংশ হিসেবে দেশের তথ্য–উপাত্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও নিরবচ্ছিন্ন গুণগত মানসম্পন্ন ই-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এখন সরকারি-বেসরকারি খাতে তথ্য সংরক্ষণের জন্য বড় পরিসরে ডেটা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্য সব প্রকল্পের বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ক্লাউড কম্পিউটিং ও জি-ক্লাউড প্রযুক্তিতে ডেটা সেন্টারগুলোর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা এটি যার ডাউন টাইম শূন্যের কোঠায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আপটাইম ইনস্টিটিউট থেকে টিয়ার-৪ (TIER-IV) সার্টিফিকেশন অব অপারেশনাল সাসটেইনেবিলিটির সনদ পাবে এই ডেটা সেন্টার। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নির্বাচন কমিশন, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, এটুআই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত এ ডেটা সেন্টারে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ডেটাগুলোর নিরাপত্তায় একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ, যা ভবিষ্যতে আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই তথ্যের সুরক্ষার জন্য এই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ডিজিটাল কনটেন্ট সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ডিজিটাল কনটেন্টগুলোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এদিকে নব নির্বাচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, চীনের সহযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ডেটা সেন্টারের ৯৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পরে দ্রুতই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জনপ্রশাসনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, তথ্য সংরক্ষণ ও জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গাজীপুরে তৈরি এ ডেটা সেন্টার প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এক রেটে ইন্টারনেট সারাদেশে: জব্বার

সিএইচটি টাইমস, বান্দরবানঃ-সারাদেশে একই দামে ইন্টারনেট দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনগুলোর দেয়া এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল। মন্ত্রীর সঙ্গে সম্বর্ধনায় ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও। বেসিস, বিসিএস, আইএসপিএবি, বাক্য এবং ই-ক্যাব দুই মন্ত্রীকে এই সম্বর্ধনা দেয়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, চট্টগ্রামে যে রেটে ইন্টারনেট পাবো, ঢাকা শহরে যে রেটে ইন্টারনেট পাবো, ময়মনসিংহে বা পঞ্চগড়ে বসবাস করে সে রেটে ইন্টারনেট পাওয়া যাবে না, এর জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হবে- এটা কোনো যুক্তির মধ্যে পড়ে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বসবাস করাটা তো অপরাধ না! গ্রামাঞ্চলে বসবাস করার জন্য বাড়তি পয়সা নেবেন, এটি কোনোভাবে অন্তত সমতা সেবা দেওয়ার পর্যায়ে পড়ে না। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে এই রেট এক করা যায় তা দেখা হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন একসাথে মিলে কাজ করছে বলেই তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজেদের চ্যালেঞ্জের কথা জানাতে পারছেন এবং সরকারের তরফ থেকে বরাদ্দকৃত প্রণোদনা সঠিকভাবে পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। উপস্থিত ছিলেন বিসিএস সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার, আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম, বাক্যের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ এবং ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার।

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা এবং সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি সব সেবা হবে স্মার্টফোনকেন্দ্রিক

সরকারের সব ধরনের সেবাকে স্মার্টফোন কেন্দ্রিক করা হবে বলেছেন ডাক, টেলিযোগাোযাগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশে স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম বলা হয়। এখন অন্তত ২৫ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে বলে জানানো হয়। কিন্তু এর প্রকৃত প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। কারণ, আমাদের দেশে এখনো গ্রে মার্কেটে অনেক হ্যান্ডসেট আসে। সেটা হিসাবে আসে না। গ্রে মার্কেটের এই দৌরাত্ম রুখতে হবে বলে বলেন তিনি।

সেজন্য মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর ডেটাবেজেরে কাজ শুরু হচ্ছে জানিয়ে বলেন, চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বরের ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা করছে। খুব তাড়াতাড়ি এর জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করা হবে।এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ডাকঘরগুলোকে ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তর করা হবে। আর শিক্ষাকে ডিজিটাল শিক্ষায় রূপান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

আবারও প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হলেন জয়

বান্দরবান অফিসঃ-সজীব ওয়াজেদ জয়কে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালনে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। তবে জয়ের এই নিয়োগ খণ্ডকালীন ও অবৈতনিক।

এর আগে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদের সরকারে ২০১৪ সালেও প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান শেখ হাসিনার ছেলে বঙ্গবন্ধুর এই দৌহিত্র।

এছাড়া গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচজন উপদেষ্টাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তারা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে। এরপর ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ জনের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। যাদের সবাই আওয়ামী লীগের।

নির্বাচনী গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বিএনপির ৮ কর্মী আটক

নিউজ ডেস্কঃ- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানোর দায়ে আটজন বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা রাজধানীর মগবাজার ও মৌচাক এলাকার বিএনপির কর্মী।

২৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মগবাজার ও মৌচাক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, নজরদারির ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। তারা নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতৎপরতা চালাত।

প্রসঙ্গত, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এবং অপপ্রচার রোধে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এর সঙ্গে একযোগে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় যেকোন ধরণের গুজব ছড়ালেই তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনকি অপপ্রচারকে ছড়িয়ে দিতে যারা ওই খবরে লাইক, শেয়ার করবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে এবং তার ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মারফত জানা গেছে, এরইমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব, পুলিশের স্পেশাল ইউনিট মাঠে নেমেছে। তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় নজরদারি চালাচ্ছে। অপপ্রচার রোধে যোগাযোগ মাধ্যমের সকল শাখায় ২৪ ঘণ্টাই মনিটরিং অব্যাহত রাখছে।

এদিকে এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ প্রচার এবং অপপ্রচার হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়েরসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইসি নিজস্ব টিম দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করছে।

যে ৫৮টি ওয়েবসাইট বন্ধ হলো

নিউজ ডেস্কঃ-বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি) সকল ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়েকে (আইআইজি) ৫৮টি সাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই অনলাইন নিউজ সাইট।

বিটিআরসি আইআইজিকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় তারা এই নির্দেশনা পেয়েছেন এবং সেসব বাস্তবায়ন করতে পদক্ষেপ নেওয়াও শুরু হয়ে গেছে।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে যেসব সাইট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো:

www.poriborton.com/

www.justnewsbd.com/

www.priyo.com/

www.bdpolitico.com/

www.dhakatimes24.com/

www.risingbd.com/

www.newsbd71.com/

www.pagenews24.com/

www.reportbd24.com/

www.rarenews24.com/

www.bnpnews24.com/

www.prothombangladesh.net/

www.dailyamardesh.xyz/

www.dnn.news/

www.razniti24.com/

www.rbn24.co.uk/

www.sangbad247.com/

www.deshbhabona.com/

www.amardesh247.com/

www.analysisbd.com/

www.awaazbd.com/

www.badrul.org/

www.bnponlinewing.com/

www.en.bnpbangladesh.com/

www.bnpbangladesh.com/

www.bnponlinewing.com/

www.banglamail71.info/

Advertisement

www.atv24bd.com/

www.banglastatus.com/

www.bbarianews24.com/

www.sheershanews24.com/

www.shibir.org.bd/

www.news21-bd.com/

www.1newsbd.net/

www.expressnewsbd.com/

www.dailybdtimes.com/

www.mymensinghnews24.com/

www.muldharabd.com/

www.cnnbd24.com/

www.dailymirror24.com/

www.deshnetricyberforum.com/

www.alapon.live/

www.diganta.net/

www.moralnews24.com/

www.potryka.com/

www.dawahilallah.com/

www.alehsar2.wordpress.com/

www.aljamaah1.wordpress.com/

www.bangladarsulquran.wordpress.com/

www.gazwah.net/

www.jongimedia.wordpress.com/

www.maktabatulislamiabd.wordpress.com/

www.millateibrahimbd.wordpress.com/

www.myquranstudyoneayahaday.com/

www.shuhadarkafela.wordpress.com/

www.defenseupdatebangladesh.wordpress.com/

www.defbd.com/

www.bangladeshdefence.blogspot.com/

সম্ভাবনাময় তথ্য প্রযুক্তি খাত জয়ের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ : আধুনিক যোগাযোগ পদ্ধতির হাতিয়ার সাবমেরিন ক্যাবল ( পর্ব – ২)

নিউজ ডেস্কঃ-অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বিপুল জনশক্তি। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির যে প্রবল বিস্তার ঘটেছে, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তরুণ প্রজন্মের কল্যাণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এখন অপার সম্ভাবনার খাত হয়ে উঠেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ এবং এ খাতের বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত খাত।

তথ্য প্রযুক্তির এই অগ্রগতির জন্য জাতিসংঘের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ) বিষয়ে বিশেষায়িত সংস্থা আইটিইউ এর ২০১৭ সালের আইসিটি উন্নয়ন সূচকে বাংলাদশের অবস্থান তালিকাভুক্ত ১৭৫টি  দেশের ভেতর ১৪৭তম। তথ্য প্রযুক্তির উপর ভর করে এই দেশের মানুষের নাগরিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন পৌঁছে গেছে ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা। পল্লী গ্রামের জনসাধারণ বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদে অর্থ বিনিময় করতে পারছেন এমনকি ভবিষ্যতের জন্য টাকাও জমা করতে পারছেন এই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাহায্যে। গ্রামের জনসাধারণকে সময়, অর্থ ব্যয় করে এখন আর সদরে গিয়ে অর্থ আদানপ্রদান করতে হয় না। হাতের মুঠোয় তাদের আছে মোবাইল ব্যাংকিং। এসব সম্ভব হয়েছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রার জন্য আর এই অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে অত্যাধুনিক সাবমেরিন ক্যাবল।

সাগরতল দিয়ে একদেশ দেশ থেকে আরেক দেশ কিংবা এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে পর্যন্ত যে বিস্তৃত অত্যন্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তা সাবমেরিন ক্যাবল নামে পরিচিত। মূলত সাগরতল বা সাবমেরিন থেকেই এই ক্যাবলটির নামকরণ হয়েছে ৷ দেশে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই –ফোর’ স্থাপন করা হয়। তখন যার ব্যান্ড উইথ ছিল মাত্র ৩০০ গিগাবাইট। তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড সরকারের উদ্যোগে দেশের সাবমেরিন ক্যাবলের উন্নত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ২০১৭ সালে ১০ সেপ্টেম্বরে ‘সি-মি-উই-ফাইভ’ স্থাপন করা হয় যার ব্যান্ডউইথ ১৫০০ গিগাবাইট। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে কোনো ‘সি-মি-উই-ফাইভ’ চালু করা হয়। প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল কোনো কারণে খারাপ হলে বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণে সমস্যা দেখা দিলে তখন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলটি বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এই সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য দেশের ইন্টারনেট সংযোগ আরো বিস্তৃত করা হয়।

বর্তমানে দেশের এক হাজারটি ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় ১১৪টি উপজেলা থেকে ১১০৪টি ইউনিয়নে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারিত হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ বহনের জন্য ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে বিটিসিএল ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যমান ৩০০ জিবিপিএস ক্ষমতার বর্তমান অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন লিংককে এক হাজার ৮০০ জিবিপিএস ক্ষমতায় রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার আগের থেকে হয়েছে আরো বেশি দ্রুত গতি সম্পন্ন।

দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এজন্যই দেশের বাজেট প্রণয়ন করা হয় জনগণের উন্নয়ন বান্ধব সম্মত এবং বাজেটের অর্থ যথাযথ ভাবে উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ এগোচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে। দেশের কর্ণধারদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে হবে অনন্য একটি দেশ, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।