শিরোনাম: বান্দরবানে ধর্ষনের দায়ে ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড রুমা উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১ ৪০ হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করলো ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্মার্ট বান্দরবান-স্মার্ট ক্রীড়াঙ্গনঃ পুলিশ সুপার সৈকত শাহীনের উপহার পেলো কাবাডি খেলোয়াড়রা রিজিয়ন প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২৪ এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠিত বীর বাহাদুর স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠিত পাহাড়ের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে বান্দরবানে হয়ে গেলো ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পালিত হলো অমর একুশে

কিছু লোক লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতা দখলের কথা ভাবছেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :২২ নভেম্বর, ২০২৩ ১১:১৮ : অপরাহ্ণ 58 Views

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,কিছু লোক লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতা দখলের কথা ভাবছে,যা খুবই অমানবিক।জনগণ কে হত্যা করে লাশের উপরে পা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা- এমন অমানবিকতা আমি আর কোথাও দেখি না।এটা ভাবতেও অবাক লাগে।কাজেই আমরা শান্তি চাই।মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,মানুষ যখন একটু শান্তিতে ছিল,স্বস্তিতে ছিল, একটু আশার আলো দেখছিল এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময়ে এই অগ্নিসন্ত্রাস,হরতাল,অবরোধ মানুষের জীবনকে আবার ব্যাহত করছে।একটা শঙ্কার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।এটাই হচ্ছে সব থেকে কষ্টের বিষয়।যারা এই ধ্বংসাত্মক কাজ করছে তাদের বোধোদয় হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,তারা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ না করে গণতান্ত্রিক ধারায় যোগ দিক,জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুক।

তার সরকার একের পর এক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ আমরা যেভাবে মোকাবিলা করেছি, এরপরে অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঝামেলা মাঝে মাঝে শুরু হয়-সাধারণ মানুষকে কেন পুড়িয়ে মারা হয় সেটাই আমার প্রশ্ন? তিনি বলেন, এই সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারা, বাসে আগুন দেওয়া, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা এটা কী কারণে? আমার কাছে এটা এখনো বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশকে শান্তির অন্বেষক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়,আঞ্চলিক এবং সারা বিশ্বব্যাপী আমরা শান্তি চাই।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এর উল্লেখ করে বলেন,অন্তত আমি এটুকু দাবি করতে পারি এ পর্যন্ত আমরা আমাদের এই পররাষ্ট্র নীতি নিয়েই চলেছি। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে, আঞ্চলিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে আমাদের সমুদ্রসীমা, আমাদের স্থলসীমা, পার্বত্য শান্তি চুক্তি করে আমাদের রিফিউজিদের ফিরিয়ে আনার মতো ব্যবস্থা আমরা করেছি। সুচারুভাবে আমরা এগুলো করতে পেরেছি। এমনকি ছিটমহলগুলো আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিনিময় করতে পেরেছি। কাজেই বাংলাদেশ শান্তির দেশ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে সরকারে এসেই আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও আমাদের দেশের নারী সদস্যরা অনেক সুনাম করেছে।তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের আরও নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশা করেছেন।জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন,এজন্য গর্বে তার বুকটা ভরে ওঠে।

শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে গিয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এ সময় তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।তিনি বলেন, এ দেশটা আমাদের। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যে কোনো রকমের দুর্যোগ দেখা দিলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সীমিত সম্পদের দেশ হলেও যেখানে দুর্যোগ হোক সে জায়গায় বাংলাদেশ ছুটে যায় এবং মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে ভূমিকা রাখে।

৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশের ভাগ্যহত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই তার পথচলা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাবা মা ভাই সব হারিয়েছি, আমার আর হারাবার কিছু নেই। পাওয়ারও কিছু নেই। এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার বাবা যেহেতু সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন তাই বাংলাদেশটাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব সেনানিবাস,নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো.সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে তাঁরা শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছালে তিন বাহিনী প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাঁদের স্বাগত জানান।

পরে মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ,নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে গমণ করেন।সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা,সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালকবৃন্দ।পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন।তিনি তাদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহার তুলে দেন।এ ছাড়াও পাঁচজন সেনা,তিনজন নৌ এবং তিনজন বিমান বাহিনী সদস্যদের ২০২২-২৩ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
February 2024
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!