আস্থা রাখুন বাংলাদেশ হার মানবে না : প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৭ জুন, ২০২০ ৭:২৩ : পূর্বাহ্ণ 319 Views

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতি জনগণকে আস্থা ও বিশ্বাসে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো কিছুর কাছেই হার মানবে না। এমনকি করোনাভাইরাসের কাছেও নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা হার মানব না, মৃত্যু তো হবেই। মৃত্যু যে কোনো সময় যে কোনো কারণে হতে পারে।

কিন্তু তার জন্য ভীত হয়ে হার মানতে হবে? এ ধরনের একটা অদৃশ্য শক্তির কাছে, এটা তো হতে পারে না।
সে জন্য আমাদেরও সেভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ’ গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস। এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, অনুষ্ঠানে এসএসএফের মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ এবং কল্যাণ তহবিলের জন্য সব এসএসএফ সদস্যের পক্ষ থেকে তাদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এবং ১ কোটি টাকার একটি চেক প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যা যা নির্দেশনা আছে, সেগুলো মেনে চলে নিজের জীবনকে চালাতে হবে। কারণ, নিজেকে সুরক্ষিত রাখা মানেই অপরকেও সুরক্ষিত রাখা। তাও মাথায় রাখতে হবে, সেটা যেন সবাই করেন। ’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং সর্বশেষ সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘একদিকে যেমন আমরা মৃত্যুর খবর পাই, অন্যদিকে অন্য কাজও করতে হয়। এটাই আমাদের জীবন। ’ অতীতে দুবার গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন কামরান- সে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই মুহূর্তের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় আমি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি এবং ব্যক্তিগতভাবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন তদারকি করছি। ইতিমধ্যে সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে, যার মধ্যে মানবিক সহায়তা প্রদান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখাসহ নানাবিধ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অন্যতম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের পরিকল্পিত আর্থিক প্রণোদনা এবং মানবিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা
যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে মানুষকে বাঁচানো, আবার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবস্থা সেগুলো যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছি। ’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এসএসএফ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাহিনী আমাদের সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনী এবং আনসার ও ভিডিপি সবার মিলিত একটি সংগঠন। যেহেতু সবার মিলিত একটি সংগঠন, তাই এখানে একে অপরকে জানার ও বোঝার সুযোগ রয়েছে, কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি, এটা একটা চমৎকার কম্বিনেশন। ’ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এই বাহিনীর সদস্যদের সন্তানতুল্য আখ্যায়িত করে স্নেহমাখা কণ্ঠে সরকারপ্রধান তাদের ‘তুমি’ সম্বোধন করেন এবং বলেন, ‘তোমরা যেমন আমার নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করো, আমিও ঠিক তোমাদের নিরাপত্তার জন্য সব সময় চিন্তা করি। ’ তিনি বলেন, ‘তোমরা সুরক্ষিত থাকো, সেটাই আমি চাই। কারণ, তোমাদের জীবনের মূল্যটা অনেক বেশি, তোমাদের তো ভবিষ্যৎ সামনে পড়ে রয়েছে। ’ প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রশিক্ষণটা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ নিজেকে সুরক্ষিত করতে হলে অথবা ভিআইপিদের সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখাটা সব সময় জরুরি। সে জন্য যা যা করার আমি করে দিয়েছি। ’ এসএসএফ সদস্যদের পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, ক্রাইমের ধরনটাও বদলে যাচ্ছে। আগে এক ধরনের হতো (অপরাধ সংঘটন), এখন অন্যভাবে হয়। প্রতিনিয়ত আমরা এটাও দেখতে পাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন ভালো কাজে ব্যবহার হয়, আবার মন্দ কাজেও ব্যবহার হয়। ’ তিনি বলেন, ‘কী ধরনের ক্রাইম হচ্ছে সেটা জেনে নিয়ে সেই ক্রাইম কীভাবে প্রতিরোধ করতে হবে, তার জন্য যেমন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তেমনি ইক্যুইপমেন্টসও দরকার। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর পেরেছি এসএসএফের জন্য সবকিছু করেছি। সব ধরনের ব্যবস্থা, যখন যেটা আধুনিক আসে আমরা সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। ’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘খুনিরা দল করছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, দূতাবাসে চাকরি করছে, তারা তখন অত্যন্ত শক্তিশালী। একদিকে যেমন ক্ষমতায় যুদ্ধাপরাধীরা আরেকদিকে তেমনি খুনিরা। সেই পরিবেশে বাংলাদেশে যখন এসেছি তখন তো আমার কিছুই ছিল না। আলাদা গাড়িও ছিল না। আমি সেটা চিন্তাও করিনি। বাস ভাড়া করে চলেছি, রিকশা-ভ্যানে চলেছি, নৌকায় চলেছি, সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। ’ ‘কী কারণে করেছি- একটাই কারণ এদেশের জন্য কিছু করতে হবে। আমার বাবা যে কাজটা সম্পন্ন করতে পারেননি, সেটা আমাকে সম্পন্ন করতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা আমাকে ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, সুযোগ দিয়েছে তাদের সেবা করার। ’

‘আমরা বৃক্ষ রোপণ করলেও বিএনপি বৃক্ষ নিধন করত’ : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৮৪ সাল থেকে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করি। আর আমরা বৃক্ষরোপণ করলেও বিএনপি বৃক্ষ নিধন করত।

গতকাল বিকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষকলীগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয় থেকে সংযুক্ত হন কৃষক লীগের নেতারা। কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ। এই ব-দ্বীপে টিকে থাকা এবং তার উন্নয়ন করা কঠিন একটি কাজ। প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই এদেশের মানুষ বেঁচে থাকে। তিনি বলেন, ঢাকা সুন্দর বৃক্ষের শহর ছিল। তেজগাঁও এয়ারপোর্ট থেকে বাংলা একাডেমি পর্যন্ত পুরো আইল্যান্ডে বৃক্ষ ছিল। কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটলে তখন অর্পূব লাগত। কিন্তু জিয়াউর রহমান যখনই রাষ্ট্রপতি হলেন তখনই তেজগাঁও এয়ারপোর্ট থেকে বাংলা একাডেমি পর্যন্ত যত গাছ ছিল তা কেটে ফেলেন। এভাবে সারা দেশে বৃক্ষ নিধন তারা করেছিলেন। আমরা বৃক্ষ রোপণ করলেও তারা বৃক্ষ নিধন করত।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য লকডাউনের কারণে প্রকৃতি হেসেখেলে উঠেছে। সবুজে সবুজে ভরে যাচ্ছে। ফুলে ফলে ভরে যাচ্ছে। এটাও একটা প্রকৃতির অ™ভুত খেলা। সব খারাপ খবরের মধ্যেও একটা ভালো সিগন্যাল আমরা পাচ্ছি। তার পরও আমরা চাই না, এই ভাইরাসে মানুষ মারা যাক বা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। আমরা চাই এর হাত থেকে আমরা রক্ষা পাই।

বৃক্ষরোপণ করার জন্য যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগকে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সঙ্গে সব সহযোগী সংগঠন, প্রত্যেক সংগঠনের প্রতিটি সদস্য তিনটি করে গাছ লাগাবে। মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগের সবাইকে ৩টি করে গাছ লাগাতে হবে। সেটা নিজের জায়গায় হোক বা নিজের জায়গা না পেলে যেখানেই হোক, রাস্তার পাশে হলেও তিনটি করে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিচর্যা করতে হবে। নিজেদের সন্তানদের মতো যত্ন করে তুলতে হবে। দেখব কার গাছ কত বড় হয়?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সেদিকেও আমাদের খেয়াল আছে। বৃক্ষরোপণে জোর দিতে হবে। সবাইকে আহ্বান জানাই বেশি করে গাছ লাগতে হবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব স্তব্ধ। প্রবাসে প্রায় ১ হাজারের মতো মানুষ মারা গেছেন। যারা করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছে আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এর হাত থেকে পৃথিবী মুক্তি পাক সেই কামনা করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছি। কারণ পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই একটা আধুনিক ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকার যথেষ্ট বরাদ্দও দিচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখেছিলাম, গবেষণা ছিল না। তখনই কৃষি গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলাম। এবারও আমরা বিশেষ বরাদ্দ রেখেছি। কৃষির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা আলাদা ঘোষণা করেছি। পেটে খেলে পিঠে সয়, তাই আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হিসেবে এ দেশকে গড়ে তুলব। খাদ্য যাতে বাইরে থেকে আমদানি না করতে হয়, কারও যাতে সহায়তা না লাগে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
April 2024
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!