আজকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০৬:৩৭ অপরাহ্ন    

Home » রাঙামাটি

রাঙামাটি

নুসরাত হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারি রানা রাঙামাটি থেকে আটক

নিউজ ডেস্কঃ- রাঙামাটি শহরের টিএন্ডটি এলাকা থেকে ফেনীর ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারি ইফতেখার উদ্দিন রানা (২১)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।রাঙামাটি পুলিশের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ১৭ই এপ্রিল পিবিআইয়ের একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা রাঙামাটি শহরের টিএন্ডটি এলাকায় এসে সেখানে অবস্থান করছে মর্মে পুলিশকে অবহিত করে এবং প্রয়োজন অনুসারে সহযোগিতা লাগতে পারে বলে জানিয়েছিলো।এরপরে পুলিশ আর কিছুই জানে না বলেও জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ঐ কর্মকর্তা।এদিকে, পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মঈনউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবার ভোর রাতে রাঙামাটি সদরের টিঅ্যান্ডটি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সোনাগাজীর চরগনেশ এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে রানা ওই হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে রাঙামাটি এসে টিএন্ডটির ওই বাসায় অবস্থান করছিলো।পিবিআই জানিয়েছে, নুসরাত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তাই ভাই যে মামলা করেছেন সেখানে ইফতেখার উদ্দিন রানার নাম নেই। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য বেরিয়ে আসে।কারাগারে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে দেখা করে আসার পর তার অনুসারীরা হোস্টেলে যে বৈঠকে বসে নুসরাতকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন, সেই বৈঠকে ছিলেন ইফতেখার রানা।রানাকে শনিবার ফেনীতে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার এই আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে। গত ২৬ মার্চ নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার মামলা করার পরদিন সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।ওই মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে মাদ্রাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় বোরকা পরা কয়েকজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, আগুন দেওয়ার সময় প্রথমে চারজনের নাম পাওয়া গেলেও তদন্তে তারা নিশ্চিত হন যে সেখানে পাঁচজন ছিল।ওই পাঁচজন হলেন- শাহাদাত হোসেন শামীম, যোবায়ের আহমেদ, জাবেদ হোসেন, অধ্যক্ষের ভায়রার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মণি। নুসরাতের সহপাঠী পপি ও মনিও এবার ওই মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।ওই পাঁচজনসহ মোট ১৭ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা পেয়েছেন তদন্তকারীরা।সেই জবানবন্দি অনুযায়ী ৪ এপ্রিল রাতে এক গোপন বৈঠকে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। রাঙামাটি থেকে গ্রেফতার হওয়া ইফতেখার উদ্দিন রানাও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।

এবার রাঙামাটিতে হচ্ছে না সাংগ্রাই জল উৎসব

ডেস্ক রিপোর্টঃ- জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ‘অনুকূলে না’ থাকায় এবার পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পালিত হচ্ছে না পাহাড়ে বসবাসরত মারমা সম্প্রদায়ের সামাজিক অনুষ্ঠান সাংগ্রাই জল উৎসব।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এ তথ্য জানিয়েছে মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) সাধারণ সম্পাদক মংউচিং মারমা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মারমাদের সামাজিক অনুষ্ঠান সাংগ্রাই জল উৎসব পালন করে আসছে। রাঙামাটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি-পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় মাসস এর উদ্যোগে ২০১৯ সালের সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন করা হবে না।’

সাত খুনের সাথে জড়িত দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার!

ডেস্ক রিপোর্টঃ- রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজলার নয় মাইল এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত হত্যাকান্ডের দুইজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে।২৮ মার্চ গভীর রাতে লংগদু সেনা জোনের দুইটি পৃথক অভিযান দল যৌথখামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ত্রিদিব চাকমা এবং বামে লংগদু এলাকা থেকে লারেচন্দ্রকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ত্রিদিব চাকমা জেএসএস (মূল) দলের এবং লারেচন্দ্র ইউপিডিএফ (মূল) এর সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদ্বয়ের মধ্যে লারেচন্দ্র উক্ত এলাকায় অবৈধ চাদা সংগ্রহের সাথেও জড়িত।উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মার্চ ২০১৯ তারিখ বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নয় মাইল নামক এলাকায় দুটি চান্দের গাড়ীর উপর সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি বর্ষন করলে ঘটনাস্থলেই ০৭ জন নিহত হন এবং ১৮ জন আহত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনী দৃষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুইজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার প্রেক্ষিতে অন্যান্য সন্ত্রাসীদেরও গ্রেফতারে চলমান সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে মর্মে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে

রাঙামাটিঃ- মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের উদ্বোধনী বক্তব্যের প্রারম্ভে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেছেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরও পাহাড়ে অনেক মানুষকে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের বহু উন্নয়ন কার্যক্রম সন্ত্রাসীরা বাঁধা গ্রস্থ করছে। তার পরও সরকারের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখতে পারেনি সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা মাত্র কয়েকশ জন আর জনগণ হলো কয়েক লক্ষ। এই কয়েক লক্ষ জনগণের কাছে সন্ত্রাসীরা কিছুই না।মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন অনুষ্ঠানে আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যেখানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হবে সেখানে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সন্ত্রাসীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন,এখানে পাহাড়ি বাঙালি সকল সম্প্রদায় মিলে মিশে বসবাস করছে। গুটি কয়েকটি মহল অশান্তি চালাচ্ছে,এই সম্প্রীতির বন্ধন বার বার ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে।এখানে পাহাড়ি বাঙালিসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রি হয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজে সহায়তা করছে।বর্তমান সরকার রাঙামাটিতে প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন। এসব কি উন্নয়ন নয়? পাহাড়ে আগামীতে আরো উন্নয়ন হবে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে আরো উন্নয়ন কর্মকান্ড হাতে নিয়েছে। দেশ দিন দিন উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। পাহাড়ের মানুষ উন্নয়ন চায়। তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চায় না।

পরে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবির আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহনে সমাবেশ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী হামলা : আহতদের পাশে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

নিউজ ডেস্কঃ-রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের দেখতে গেলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা সিএমএইচে যান এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।
এসময় বীর বাহাদুর বিদ্যমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আহতদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান। এসময় পার্বত্য সচিব মেজবাহুল ইসলাম, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তের ব্রাশ ফায়ারে নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় ১১জন আহত হলে তাদের দ্রুত চমেক হাসপাতাল ও হেলিকপ্টার যোগে সিএমএইচে পাঠানো হয়।

রাঙামাটিতে পর্যটন উন্নয়ন নিয়ে সেমিনার

নিউজ ডেস্কঃ-পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মেসবাহুর ইসলাম, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসার য. প্রদানেন্দু বিখাম চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতৃ চাকমা ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তিন পার্বত্য এলাকা নিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে উন্নয়ন রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে হলে অবশ্যই পর্যটন খাতে উন্নয়ন করতে হবে।

সেমিনারে স্থানীয়দের কৃষ্টি-কালচার অক্ষুণ্ন রেখে পার্বত্য চুক্তির আলোকে পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

কাপ্তাইয়ে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে দীপংকর তালুকদারের নগদ অর্থ প্রদান

রাঙামাটি সংবাদদাতাঃ-কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনাস্থ কর্ণফুলী পেপার মিলস লিঃ এর (কেপিএম) আবাসিক এলাকার বারঘোনিয়া মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৮জন দোকানীর মাঝে শুক্রবার সকালে নগদ অর্থ সাহায্য প্রদান করেন রাঙামাটির নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।

গত ৬ ডিসেম্বর রাত প্রায় ২টার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে বারঘোনা কেপিএম মার্কেটের ১৮ টি মুদি, কুলিং কর্ণার, চা-দোকান, ফার্ণিচার, লন্ড্রী ও কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ ভষ্মিভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দোকানীরা জানায়। বারোঘোনিয়া কেপিএম মার্কেটে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ দোকানীদের মাঝে নগদ অর্থ সাহায্য প্রদান করেন।

এসময়, ওয়াগ্গা বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শহিদুল ইসলাম পিএসসি, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য থোয়াইচিং মং মারমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল, কেপিএমের জিএম (উৎপাদন) মো. গোলাম সরওয়ার, রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মফিজুল হক, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত বিকাশ তনচংগ্যা, চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য রুবায়েত আক্তার আহমেদ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন, ক্ষতিগ্রস্থ দোকানী-সহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান,পূর্ণ মন্ত্রী হলেন বীর বাহাদুর

নিউজ ডেস্কঃ-সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হলেন ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং।তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষেদে শপথ নিবেন বীর বাহাদুর। এর আগে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।দীর্ঘদিন পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হলো এলাকার একজনকে। ১৯৯৮ সালে মন্ত্রণালয়টি গঠনের সময়ে খাগড়াছড়ির প্রয়াত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।পরে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।রোববার সকালে গণভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ নিতে বীর বাহাদুরকে ফোন করা হয়।এর পর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বীর বাহাদুরের নিজ এলাকা বান্দরবানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সর্বত্রই এখন উৎসবের অমেজ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা এখন আনন্দের বন্যায় ভাসছেন। মিষ্টি বিতরণ হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে যারা নির্বাচনে বীর বাহাদুরের জয়লাভের জন্য বেশি খেটেছেন তাদের আনন্দের সীমা নেই।খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতেও উৎসবের বন্যা বইছে। নেতা-কর্মীরা বীর বাহাদুরকে শুভেচ্ছা জানাতে দলে দলে ছুটছেন ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায়। সেখানে জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে।এদিকে ক্ষুদ্ধ অপর পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটির নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সমতা আনতে এবার দিপংকর তালুকদারকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় হতাশ জেলার বাসিন্দারা।জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ জানান,প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এটি পাহাড়ি জনপদের লোকজনদের জন্য সৌভাগ্যের।প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে সফল ছয় ছয় বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রী করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবিও ছিল একটাই। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশা সফল হয়েছে। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।তিনি বলেন, মন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ধারা বয়ে যাবে বলে আশা আমাদের।১৯৯১ সালে বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের ফুটবল খেলোয়াড় বীর বাহাদুর উশৈসিং। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পর পর ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচানে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বীর বাহাদুর।তবে একইসঙ্গে রাঙ্গামাটিতে সিনিয়র নেতা দিপংকর তালুকদার ও খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল জয়ী হওয়ায় এবার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে দেয়া হয় তা নিয়ে পাহাড়ের নেতাদের মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ।শেষ পর্যন্ত মুকুট পরলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং।

তিন পার্বত্য জেলায় প্রত্যেক কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে: নুরুল হুদা

রাঙামাটিঃ-আসন্ন আগামী ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে পার্বত্য তিনটি আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন করা হবে। ভোট যাহাতে কারচুপি না হয় সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে’ বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা।গতকাল মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময়ে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী,নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ,চট্টগ্রামের ডিআইজি গোলাম ফারুক,তিন পার্বত্য জেলার সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডারগণ,রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ,খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো.শহীদুল ইসলাম,বান্দরবান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম,বিজিবি সেক্টর কমান্ডার,পুলিশ সুপার,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী, প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তরাসহ রাঙামাটির প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান।নির্বাচনীর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে।নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু সংঘাত হয়ে থাকে।সেটা তেমন বড় কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।তিনি আরো বলেন,৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু,অবাধ,নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যে কোনো মূল্যে সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই আমরা।এ লক্ষ্যে নির্বাচনী ও আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রার্থী,রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সর্বমহলের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।তিনি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির অন্যায় প্রভাবে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেন।প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, রাঙামাটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।নির্বাচন নিরাপদের জন্য নির্বাচনী প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হবে।এখানে কোন প্রকার ঝুঁকি নেই।গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ভাল আছে, সুন্দর আছে।এবারের নির্বাচনী এলাকায় যে নির্বাচন হবে সেগুলোতে সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্ভব হবে এবং মানুষ নিরাপদে ভোট দিতে যাবে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,মোট ২৬ উপজেলা নিয়ে পৃথক তিনটি পার্বত্য সংসদীয় আসন ২৯৮-খাগড়াছড়ি,২৯৯-রাঙামাটি ও ৩০০- বান্দরবান। আয়তনের দিক দিয়ে এ তিনটি আসন প্রতিটি বৃহত্তর এলাকা।প্রত্যেক আসনে দুর্গম এলাকায় রয়েছে ভোটকেন্দ্র।এসব কেন্দ্রকে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি আমরা।তিনটি আসনে ভোটারের সংখ্যা ১১ লাখের অধিক।তারা যাতে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে,সেজন্য নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত থাকবে।তিনটি পার্বত্য আসনের প্রত্যেক কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।ভোটারদের নিরাপত্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনের দিন প্রত্যেক কেন্দ্রে সেনাবািহনীর পর্যাপ্ত সদস্যের উপস্থিতি থাকবে।পাশাপাশি প্রশাসনিক ও নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ পুলিশ,বিজিবি,আনসারবাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে।এ ছাড়া জনবল ও নির্বাচনী মালামাল আনা-নেয়ার কাজে দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে হেলিকপ্টার ব্যবহারে সেনাাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।সেনাবাহিনীর সহায়তা ছাড়া ওইসব দুর্গম কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে না।কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত জেলার নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু,অবাধ,নিরপেক্ষ, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর তিনটি পার্বত্য সংসদীয় আসনেও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার চাই।সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন,পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।এবার ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কেন্দ্রে কেউ ভোট ডাকাতির সুযোগ পাবে না।নির্বাচনের দিন মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু থাকবে।স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির ফলে পাহাড়ে অনেক অভাব, অভিযোগ, অনুযোগ, সমস্যা দূর হয়েছে।পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৭২ ধারার মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে।বর্তমানে পাহাড়ের পরিস্থিতি ভালো।পরিস্থিতি স্বাভাবিক,নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সেনাবাহিনী।চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু,অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত আমরা।

তিন পার্বত্য জেলায় ভারতীয় অনুদানে স্কুল ভবন

নিউজ ডেস্কঃ-দেশের তিন পার্বত্য জেলার প্রান্তিক এলাকায় উচ্চ ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ভবন তৈরি করে দেবে ভারত। পাঁচ কোটি ৮৫ লাখ ব্যয়ে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে এ ভবনগুলো তৈরি করা হবে।ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাঙামাটির জেলার ঠেগা খুব্বাং উচ্চ বিদ্যালয় (এটি হবে এই এলাকায় প্রথম চার তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন), বান্দরবানের মাতামুহুরি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং খাগড়াছড়ির গাছবান নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ঠেগা খুব্বাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র চাকমা, মাতামুহুরি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উ উই চারা ভিক্ষু, গাছবান নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূপতি চাকমা।