আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৮ অপরাহ্ন    

Home » মুক্তিযুদ্ধ

মুক্তিযুদ্ধ

অগ্নিঝরা ৩০শে মার্চ

নিউজ ডেস্কঃ- স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পর স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালিরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের শোষণ, অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম ও আন্দোলন চালিয়ে এসেছিল। ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। বাঙালি জাতি গড়ে তুলে সশস্ত্র প্রতিরোধ।
১৯৭১ সনের ৩০শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল থেকে ভারপ্রাপ্ত পাক সেনাদের মেজর পৌরসভায় টেলিফোনে সংবাদ দেন রোকেয়া হলের চারিদিকে মানুষের লাশের পচা গন্ধে বসা যাচ্ছে না, অবিলম্বে ডোম পাঠিয়ে লাশ তুলে ফেলা হোক। ছয়জন ডোম নিয়ে রোকেয়া হলে প্রবেশ করে রোকেয়া হলের সমস্ত কক্ষে তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোন লাশ না পেয়ে চারতলা ছাদের উপর গিয়ে আঠার বছরের জনৈক রুপসী ছাত্রীর উলঙ্গ লাশ দেখতে পায় তৎকালীন সুইপার ইন্সপেক্টর ছাহেব আলী। রোকেয়া হলের চার তলার ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয় বিবস্ত্র যুবতীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ। সেখানে দায়িত্বরত জনৈক পাকী সেনাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে পাকী সেনাটি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে বললো, আমরা সকলে মিলে ওকে ধর্ষণ করতে করতে মেরেছি। এদিন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে কয়েকটি ট্রাকে করে লাশ তুলে স্বামীবাগে আনা হয়।
পাকিস্তানিরা বিভিন্ন কলাকৌশল গ্রহণ করে তখনও পূর্ব-পাকিস্তানের ব্যবসায়ী এবং পুঁজিপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলো। এদিন রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রকাশিত পাকিস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, মার্চের প্রথম দিকে রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে স্টক এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে যে অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছিল তা দ্রুত কেটে যাচ্ছে এবং শেয়ার বাজারের অবস্থাও স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
সামরিক কর্তৃপক্ষের এক ঘোষণায় এদিন হাসপাতালের কর্মচারীদের অবিলম্বে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। আর এক সামরিক ঘোষণায় ৫ জনের অধিক ব্যক্তিকে একত্রে জমায়েতের উপর বিধি নিষেধ জারি করা হয়। পশ্চিম-পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকায় ভুট্টোর অভিমত প্রকাশিত হয়। ভুট্টো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফ্যাসিস্ট ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে। ভুট্টো আরো বলে যে, পূর্ব-পাকিস্তানের পরিস্থতি সম্পূর্ণভাবে শেখ মুজিবের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিলো। তিনি জনসাধারণকে ভুল পথে পরিচালিত করলেন এবং প্রকৃতই তিনি দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিলেন। ভুট্টো জানায়, পূর্ব-পাকিস্তানের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা পাকিস্তানের নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
তখনও পূর্ব-পাকিস্তান রাইফেলস সেক্টর হেড কোয়ার্টার এবং রিজার্ভ পুলিশ লাইনে বাঙালি সৈনিকরা পাকী সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দুর্গ তৈরি করে রেখেছে। কমান্ডো হামলার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি স্বীকার করে পাকী সেনারা বেতার কেন্দ্র দখল করে। বেতার কেন্দ্র দখল করতে ঢাকা থেকে দুটো জেট বিমান নিয়ে গিয়ে আক্রমণ চালায়। কুষ্টিয়া শহরেও এদিন পাকী সেনারা বেপরোয়া গুলি বর্ষণ করে।
এদিন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে রংপুর শহর ও সংলগ্ন গ্রামগঞ্জের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে বহু লোক প্রাণ হারায়। পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনী আগুন জ্বালিয়ে বাড়িঘর-মহল্লা-গ্রাম ধ্বংস করে এবং পাশবিক অত্যাচার চালায়।
সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সাহায্য দানের জন্য বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক সরকার ও জনগণের প্রতি পুনরায় আবেদন জানায়।
১৯৭১ সালের এইদিনে সকাল ৮টায় ১০৭তম ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এস এ আর দুররানী যশোর সেনানিবাসের অস্ত্রাগারের চাবি নিজের কাছে নিয়ে নেয়। বিকেল ৫টার দিকে মতিন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস দখল করেন। অন্যদিকে গোদাবাড়ীতে অবস্থানরত ইপিআর বাহিনীর ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সর্বাত্মক আক্রমণে সিপাহি আবদুল মালেক শহীদ হন।
এভাবে যত দিন যেতে থাকে বাঙালির প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরালো হতে থাকে।

অগ্নিঝরা ২৯শে মার্চ

নিউজ ডেস্কঃ- ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ডাক এসেছিল বাঙালির স্বাধীনতার। শুরু করেছিল পরাধীনতার গ্লানি থেকে নিজেকে মুক্ত করার সশস্ত্র সংগ্রাম। প্রায় দুই যুগের ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ ধরে এ মার্চেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম।
যুদ্ধের বাকি দিনগুলোর মতো এইদিনও পাক বাহিনীর তাণ্ডবলীলা চলছিলো। অন্যদিকে বাঙালীরাও তাদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাক বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এইদিন সকালে ময়মনসিংহের রাবেয়া মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের ইপিআর বাহিনী ও হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বিকেল নাগাদ ময়মনসিংহের ইস্টবেঙ্গল ব্যাটালিয়নের সমাবেশের কাজ সম্পন্ন হয়। ব্যাটালিয়নের অফিসার ও সৈনিকদের একত্রিত করে বাংলাদেশের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ।
একাত্তরের আজকের দিনে পাক বাহিনী চট্টগ্রাম সেনানিবাসের বাইরে এসে মেডিকেল কলেজ ও নিকটবর্তী পাহাড়ের উপর সমাবেত হয়। সন্ধ্যার দিকে তারা প্রথম আক্রমণের সূচনা করে। পরে মুক্তিবাহিনী এই আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়।
এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুকে সেনানিবাস থেকে হেলিকপ্টারে করে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানযোগে করাচী নিয়ে যাওয়া হয়।
’৭১ এর আজকের দিনে ক্যাপ্টেন রশীদের সফল অভিযানে ২৫ পাঞ্জাবের মেজর আসলাম ও ক্যাপ্টেন ইশফাকসহ ৪০ জন পাকিস্তানি সৈন্য পাবনা থেকে গোপালপুরের পথে নিহত হয়। জীবিতদের অনেকে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার পথে প্রাণ হারায়। এইদিন রাতে ১০০ জনের মতো বাঙালী ইপিআর সদস্যকে পাকিস্তানি সৈন্যরা প্রেসিডেন্ট হাউজ থেকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে রমনা কালী মন্দিরের কাছে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

বান্দরবানে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

বান্দরবানঃ- যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বান্দরবানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হচ্ছে। সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এপর সকাল ৮টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনছার, স্কাউটসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ¯কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে শরীর চর্চা প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় মহান স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম , এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নোমান হোসেনসহ সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তাবৃন্ধ।

এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা কুচকাওয়াজে অংশ নেয় এবং মনোরম ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।

এ ছাড়াও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে প্রশাসন ।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ৭১ এর গণহত্যা?

নিউজ ডেস্কঃ-১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে ৩০ লক্ষ বাঙালি সূর্য সন্তানের রক্তের বিনিময়ে। পৃথিবীর আর কোনো জাতিকে তার স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এতো আত্মত্যাগ করতে হয়নি। ১৯৭১ সালে লন্ডন টাইমস তাদের রিপোর্টে বলেছিলো, “If blood is the price of independence then Bangladesh has paid the highest price in history”। স্বাভাবিকভাবেই অনুমেয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কি নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিলো বাঙালি জাতির উপর।
একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা দ্বারা এই ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়টিকে সামনে এনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ২০১৭ সাল থেকে ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস পালন করছে। দেশের জাতীয় সংসদে এবং মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও পাশ হয়েছে।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য এই ইতিহাসের বর্বরোচিত এই গণহত্যার আজও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি। আর তাই আন্তর্জাতিক মহলে এত বড় হত্যাকান্ড অনুচ্চারিতই থেকে যায়। পাকিস্তানের এত বড় অপরাধ বিশ্বের অজানাই থেকে যায়। সেইসঙ্গে দেশের ভেতরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধের প্রমাণিত সত্যকে অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃত করার প্রয়াস পায় এবং এই একই দেশবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে আন্তর্জাতিক মহলকে বাংলাদেশের প্রতি বৈরি করে তোলার সুযোগ পায়।
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করেছেন ডা. এম এ হাসান। গণহত্যার আন্তর্জাতিক সংজ্ঞার আলোকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যে হত্যা, নির্যাতন হয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবেই জেনোসাইড বা গণহত্যা।
তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে ২০০৪ সালে ইউনেস্কোর কাছে ২৫শে মার্চকে গণহত্যা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। সে চিঠির জবাবেও বলা হয়েছিল জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র আবেদন করলে সেটি বিবেচনা করা যায়। তিনি জানান, পরবর্তীকালে তৎকালীন বিএনপি জামায়াত জোট সরকার কোনো এক রহস্যজনক কারণে বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে দেরিতে হলেও ক্ষমতাসীন সরকার ৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তৎপর হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েং এর সাথে একান্ত বৈঠকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কীভাবে এ দেশে গণহত্যা শুরু হয়েছিল, এদেশের সাধারণ মানুষকে কীভাবে নির্বিচারে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ও এদেশে তাদের দোসরেরা, সে বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং একই সাথে একাত্তরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দাবি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে এ বিষয়টি আলোচনায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন অ্যাডামা ডিয়েং। রোববার (২৪ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অ্যাডামা ডিয়েং এ আশ্বাস দেন।
২৫ মার্চে কালরাতে পাকিস্তানিদের ধ্বংস ও নিধনযজ্ঞ বাঙালিকে তো দমাতে পারেইনি, বরং তাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির মরণপণ সংগ্রামে অবতীর্ণ করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে অত্যাচার, অবিচার ও নৃশংসতা করেছে তা নজিরবিহীন। দেরিতে হলেও ৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

অগ্নিঝরা ২০ই মার্চ: ইতিহাসের এই দিনে

নিউজ ডেস্কঃ-অগ্নিঝরা মার্চ মাস। এই মাসেই উদিত হয়েছিলো বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। এই মার্চেই গাঢ় সবুজের মধ্যে রক্তিম সূর্য সম্বলিত বাংলাদেশের স্বর্ণালি মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের নতুন পতাকা উড়ানো হয়। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি তার আত্মপরিচয়ের সন্ধান পায় একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চ মাসে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সীমাহীন দেশপ্রেম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অসীম সাহস, দূরদর্শিতা আর দৃঢ় নেতৃত্বে এই সবুজ ভূমি একাত্তরের মার্চে এসে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ৭১ এর মার্চ মাসের প্রতিটি দিন ছিলো ঘটনাবহুল।
২০ই মার্চ। ১৯৭১। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যে চতুর্থ দফা বৈঠক হয়। ঢাকায় ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হাউজে বঙ্গবন্ধুর ওই বৈঠক সোয়া দুই ঘণ্টা ব্যাপী হয়। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু বলেন, কাল আবার বৈঠক হবে। এদিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, স্বাধীন দেশের মুক্ত নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য জনগণ যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতেই প্রস্তুত রয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একাত্তরের ২০শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, স্বাধীন দেশের মুক্ত নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে বাংলার মানুষ প্রস্তুত বয়েছে।
৭১ এর এই দিনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাক্তন নৌ-সেনাদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে তাঁরা বঙ্গবন্ধু ঘোষিত মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা করার জন্য একটি সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী কমান্ড গঠনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রাক্তন বাঙালি সৈনিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মুক্তি পাগল মানুষের দৃপ্ত পদচারণায় রাজধানী টালমাটাল হয়ে ওঠে। মিছিলের পর মিছিল এগিয়ে চলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শপথ গ্রহণের শেষে একের পর এক শোভাযাত্রা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে সমবেত হয়। বঙ্গবন্ধু সমবেত জনতার উদ্দেশে একাধিক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, মুক্তি পাগল সাড়ে সাতকোটি বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়কে পৃথিবীর কোন শক্তিই রুখতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের সার্বিক মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

কাউন্সিল মুসলিম লীগ প্রধান মিয়া মমতাজ মোহাম্মদ খান দৌলতানা ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মওলানা মুফতি মাহমুদ পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।
রাতে এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু বলেন, মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে একটি অনুপ্রেরণা দায়ী দৃষ্টান্ত।
এদিন চারুকলার শিল্পীরা স্বাধীনতা পোস্টার বুকে বেঁধে অসহযোগ আন্দোলনে রাস্তায় বের হন। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ২৩ মার্চ স্বাধীন পূর্ববাংলা দিবস হিসাবে পালনের আহ্বান জানান।

অগ্নিঝরা ১৬ই মার্চ

নিউজ ডেস্কঃ-১৯৭১ সালের পুরো মাস জুড়েই আন্দোলন সংগ্রামে ফুঁসছিল গোটা বাংলা। মুক্তিপাগল বাঙালী শুধু বঙ্গবন্ধুর মুখে চূড়ান্ত ডাকের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ তখন ‘বাংলাদেশ’ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। সব জায়গায় বাংলাদেশের পতাকা পতপত করে উড়ছিলো। পাকিস্তান রয়ে গেছে কেবল কাগজে-কলমে।
১৬ মার্চ, ১৯৭১। এদিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে ঢাকায় বৈঠকে বসেন বঙ্গবন্ধু। হাজারো বাঙালী হত্যার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে গাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বঙ্গবন্ধু। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত মাজদা গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে, আর উইন্ড স্ক্রিনে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পতাকা শোভা পাচ্ছিলো। এভাবে পাক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, গত কয়েক দিনে এ দেশে পাক সেনারা যা ঘটিয়েছে তার প্রতিবাদ এবং আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে চূড়ান্তভাবে গাঢ় সবুজের পটভূমিতে লাল সূর্যের বুকে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা পতাকা উড়বে।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে। সকাল থেকেই উৎসুক জনতা অপেক্ষা করছিল বঙ্গবন্ধু-ইয়াহিয়া খানের বৈঠকের ফল কী হয় তা জানতে। বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা হবে। তবে ইয়াহিয়ার পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে নিজ বাসভবনে ফিরে বঙ্গবন্ধু দলের শীর্ষস্থানীয় সহকর্মীদের সাথে আলোচনায় বসেন। গভীর রাত পর্যন্ত এই আলোচনা চলে।
এদিন শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আলোচনার পাশাপাশি সারাদেশে আন্দোলন বাঁধভাঙ্গা রূপ নিয়েছে। রাজপথ মিছিলে মিছিলে উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষজনও দেশের উদ্ভূত সমস্যার চূড়ান্ত সমাধানে বঙ্গবন্ধুর সর্বশেষ নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এরই মধ্যে ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে।
এভাবেই অসহযোগ আন্দোলন তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়। এদিন মওলানা ভাসানী ময়মনসিংহের এক জনসভায় দাবি করেন- “বাংলাদেশের পাওনা বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিন।” ভাসানী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানান উক্ত জনসভায়। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বুদ্ধিজীবীদের সভায় আবুল ফজল, সৈয়দ আলী আহসান, ড. আনিসুজ্জামান প্রমুখ অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
এদিকে ভারত সরকার ১৯৭১ সালের আজকের দিনে তার ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে সমস্ত বিদেশী বিমানের পূর্ব পাকিস্তানে যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিদেশী বিমানে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য পরিবহন বন্ধ করার জন্যই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
ভারতের তৎকালীন সর্বোদয় নেতা জয় প্রকাশ নারায়ণ নয়াদিল্লীতে বলেন, জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাসী বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ও সরকারের উচিত শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়া। তিনি এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে বাংলার সর্বত্র উড়ছে কালো পতাকা। মহল্লায় মহল্লায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি। সব বয়স সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষ বেরিয়ে আসতে থাকে রাজপথে। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত বঙ্গবন্ধুকে আরও উজ্জীবিত করতে রাস্তায়, মাঠে-ময়দানে তখন গণসংগীত, নাটক, পথ-নাটক ও পথ-সভা করে চলছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বেতার-টেলিভিশন শিল্পী সংসদ, মহিলা পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন। হাইকোর্টের আইনজীবী, বেসামরিক কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করতে থাকে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর সাথে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

বান্দরবান অফিসঃ-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান এম.পি’র সাথে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে বান্দরবান সার্কিট হাউসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি,বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ দাউদুল ইসলাম,পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার,বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বান্দরবান জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চৌধুরী, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদের যুগ্ন-আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বান্দরবান জেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ (লামা), মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদের যুগ্ন-আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বান্দরবান জেলা ডেপুটটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল আলম (লামা),মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ হাবিলদার সহ শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলার অন্যন্য সদস্য ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ- মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবার অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। দেশের সব সরকারি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া দেশের ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে মুক্তিযোদ্ধাদের। এই ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে, ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।

এসব হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরকার। এজন্য প্রতিটি হাসপাতালে অগ্রিম ১৭ লাখ টাকা করে জমা রাখা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই টাকা ছাড় করা হবে। এর ৭৫ শতাংশ খরচ হওয়া মাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবারও টাকা চেয়ে ডিও দেবে এবং ডিও পাওয়ামাত্র আবারও বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের তহবিল থেকে বিশেষ করে দেশের হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে যে চার শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করা হয়, তা এই চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে ১ লাখেরও কিছু বেশি মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামীতে তা দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হবে।

এ উপলক্ষে ২২ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরুপ চৌধুরী। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই চুক্তির আওতায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা জীবনের শেষ বয়সে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, তারা দেশের এই ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। চিকিৎসা বাবদ প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামীতে তা দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য সন্তান। সুচিকিৎসা পাওয়া তাদের অধিকার। আর এ ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত দেহে চাটাই মুড়িয়ে গার্ড অব অনার

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-পাবনার বেড়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকার দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করে ১৮ মে রাতে মৃত্যুর কাছে হার মানেন।একাত্তরের রণাঙ্গণে দাপিয়ে বেড়ানো অকুতভয় জাতির এই বীর সন্তানের মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে আসে সহযোদ্ধাসহ পাবনা জেলার বিভিন্ন অঙ্গণে।কিন্তু তাঁর শেষ শ্রদ্ধার দৃশ্য দেখে আরো বেশি ক্ষুদ্ধ জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিরা।সবার একটিই কথা হায়রে স্বাধীনতা, তুমি বড্ড বেঈমান!মূল্য দিতে জানো না তোমার প্রকৃত সন্তানদের।জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সেদিন যে বীর যোদ্ধা হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে যেই লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনলেন,বিদায় বেলায় সেই লাল সবুজ পতাকার সম্মান জোটেনি তাঁর ভাগ্যে।পতাকার বদলে চাটাই মুড়িয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারকে।এ নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ এখনো বিরাজ করছে বিভিন্ন মহলে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,১৮ মে রাতে তাহেজ উদ্দিন সরকার মারা গেলে তাঁকে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯ মে।নিয়ম অনুযায়ী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায়ে গার্ড অব অনার জানানো হয় তাঁর কফিনের উপর জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে দিয়ে, যে পতাকা মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালে অর্জন করেছে হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে। কিন্তু অত্যন্ত আক্ষেপ হলেও এটাই সত্য যে এই মুক্তিযোদ্ধাকে পতাকার বদলে চাটাই মুড়ি দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, সহযোদ্ধা,এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

মোহাম্মদ জুয়েল রানা নামের একজন ফেসবুকে আক্ষেপ করে লিখেছেন, হায়রে স্বাধীনতা, তুমি বড্ড বেঈমান! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্যেই এই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে পাবনার বেড়া থানার ওসি ও থানা নির্বাহী কর্মকর্তারা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বেড়া থানা, উপজেলা প্রশাসনের কাছে কী একটা জাতীয় পতাকাও ছিলো না? বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি করছি। এর আগে ক্ষমাহীন আচরনের জন্য বেড়ার ইউএনও, ওসির স্ট্যান্ড রিলিজ চাই। যাতে অদূর ভবিষ্যতে কেউ আর এই ধরনের সাহস করার মানুষিক শক্তিই না পায়।

ঘটানার বিষয়ে প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে শোকেকাতর পরিবারের সদস্যরা এই মুহুর্তে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষেয় নিয়ে কথা বলতে রাজি নন।

অনেকেই চাপাক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে সবার নিরবতার মাঝে প্রতিবাদের স্পষ্টতা লক্ষনীয়। তাদের অনেকেরই দাবি, রণাঙ্গণের এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যারা পতাকার বদলে চাটাই মুড়ি দিয়ে গার্ড অব অনার দিয়েছে, তাদের এমন দৃষ্টতার জন্যে উপযুক্ত শান্তি হওয়া দরকার। তারা মনে করছেন এর সাথে সরকারের সুনাম নষ্টের একটি চক্রান্ত রয়েছে। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। তাহেজ উদ্দিন সরকারের লাশ কবর থেকে তুলে তাকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মাটি দেবার আশা ব্যক্ত অনেকেরই।

রাজাকারের সন্তানরা প্রশাসনে আসতেই কোটাবিরোধী আন্দোলন করছে বললেন কামরুল ইসলাম

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-কোটাবিরোধী আন্দোলনের নাম করে রাজাকারের সন্তানরা চাকরি ও প্রশাসনে আসতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমাদের সন্তানদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চায়।আন্দোলনটি মূলত মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারীদের অস্বীকার করার নতুন ষড়যন্ত্র।’

 

গতকাল রোববার এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী রাশেদুল হাসান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ারুল আজীমকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিতকরণ’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সেখানেই মন্ত্রী এসব কথা বলেন।জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে সভাটি আয়োজন করে প্রজন্ম ‘৭১‘।

 

সভায় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকারের সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অধিকার হরণ করতেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছে। এদের দেশের রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্র থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।’ এসময় তিনি প্রজন্ম ‘৭১-এর দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

সভায় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন কামরুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি পাগলের প্রলাপ বকছে।দেশে কখনো সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।কিন্তু তারা এই দাবি তুলেছেন।’ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রজন্ম ‘৭১-এর সভাপতি আজিজুর রহমান। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শাহে আলম মুরাদ, অধ্যাপক ড.জিয়া রহমান, ডা.দিলীপ কুমার রায়,শহীদ সন্তান ডা.আনোয়ারুল ইকবাল, আনোয়ারুল কবীর ও রুকাইয়া হাসিনাসহ আরো অনেকে।