আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৭ অপরাহ্ন    

Home » মুক্তিযুদ্ধ

মুক্তিযুদ্ধ

নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর সাথে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

বান্দরবান অফিসঃ- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান এম.পি’র সাথে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে বান্দরবান সার্কিট হাউসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি,বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ দাউদুল ইসলাম,পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার,বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বান্দরবান জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চৌধুরী, শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদের যুগ্ন-আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বান্দরবান জেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ (লামা), মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদের যুগ্ন-আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বান্দরবান জেলা ডেপুটটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল আলম (লামা),মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ হাবিলদার সহ শ্রমিক কর্মচারী পেশাজিবী মুক্তিযোদ্ধা সম্বয় পরিষদ বান্দরবান জেলার অন্যন্য সদস্য ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-  মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবার অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। দেশের সব সরকারি ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া দেশের ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে মুক্তিযোদ্ধাদের। এই ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে, ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।

এসব হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরকার। এজন্য প্রতিটি হাসপাতালে অগ্রিম ১৭ লাখ টাকা করে জমা রাখা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই টাকা ছাড় করা হবে। এর ৭৫ শতাংশ খরচ হওয়া মাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবারও টাকা চেয়ে ডিও দেবে এবং ডিও পাওয়ামাত্র আবারও বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের তহবিল থেকে বিশেষ করে দেশের হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে যে চার শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করা হয়, তা এই চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে ১ লাখেরও কিছু বেশি মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামীতে তা দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হবে।

এ উপলক্ষে ২২ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরুপ চৌধুরী। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই চুক্তির আওতায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা জীবনের শেষ বয়সে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, তারা দেশের এই ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। চিকিৎসা বাবদ প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামীতে তা দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য সন্তান। সুচিকিৎসা পাওয়া তাদের অধিকার। আর এ ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত দেহে চাটাই মুড়িয়ে গার্ড অব অনার

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- পাবনার বেড়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকার দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করে ১৮ মে রাতে মৃত্যুর কাছে হার মানেন।একাত্তরের রণাঙ্গণে দাপিয়ে বেড়ানো অকুতভয় জাতির এই বীর সন্তানের মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে আসে সহযোদ্ধাসহ পাবনা জেলার বিভিন্ন অঙ্গণে।কিন্তু তাঁর শেষ শ্রদ্ধার দৃশ্য দেখে আরো বেশি ক্ষুদ্ধ জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিরা।সবার একটিই কথা হায়রে স্বাধীনতা, তুমি বড্ড বেঈমান!মূল্য দিতে জানো না তোমার প্রকৃত সন্তানদের।জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সেদিন যে বীর যোদ্ধা হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে যেই লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনলেন,বিদায় বেলায় সেই লাল সবুজ পতাকার সম্মান জোটেনি তাঁর ভাগ্যে।পতাকার বদলে চাটাই মুড়িয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারকে।এ নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ এখনো বিরাজ করছে বিভিন্ন মহলে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,১৮ মে রাতে তাহেজ উদ্দিন সরকার মারা গেলে তাঁকে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯ মে।নিয়ম অনুযায়ী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায়ে গার্ড অব অনার জানানো হয় তাঁর কফিনের উপর জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে দিয়ে, যে পতাকা মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালে অর্জন করেছে হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে। কিন্তু অত্যন্ত আক্ষেপ হলেও এটাই সত্য যে এই মুক্তিযোদ্ধাকে পতাকার বদলে চাটাই মুড়ি দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, সহযোদ্ধা,এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

মোহাম্মদ জুয়েল রানা নামের একজন ফেসবুকে আক্ষেপ করে লিখেছেন, হায়রে স্বাধীনতা, তুমি বড্ড বেঈমান! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্যেই এই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে পাবনার বেড়া থানার ওসি ও থানা নির্বাহী কর্মকর্তারা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বেড়া থানা, উপজেলা প্রশাসনের কাছে কী একটা জাতীয় পতাকাও ছিলো না? বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি করছি। এর আগে ক্ষমাহীন আচরনের জন্য বেড়ার ইউএনও, ওসির স্ট্যান্ড রিলিজ চাই। যাতে অদূর ভবিষ্যতে কেউ আর এই ধরনের সাহস করার মানুষিক শক্তিই না পায়।

ঘটানার বিষয়ে প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে শোকেকাতর পরিবারের সদস্যরা এই মুহুর্তে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষেয় নিয়ে কথা বলতে রাজি নন।

অনেকেই চাপাক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে সবার নিরবতার মাঝে প্রতিবাদের স্পষ্টতা লক্ষনীয়। তাদের অনেকেরই দাবি, রণাঙ্গণের এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যারা পতাকার বদলে চাটাই মুড়ি দিয়ে গার্ড অব অনার দিয়েছে, তাদের এমন দৃষ্টতার জন্যে উপযুক্ত শান্তি হওয়া দরকার। তারা মনে করছেন এর সাথে সরকারের সুনাম নষ্টের একটি চক্রান্ত রয়েছে। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। তাহেজ উদ্দিন সরকারের লাশ কবর থেকে তুলে তাকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মাটি দেবার আশা ব্যক্ত অনেকেরই।

রাজাকারের সন্তানরা প্রশাসনে আসতেই কোটাবিরোধী আন্দোলন করছে বললেন কামরুল ইসলাম

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- কোটাবিরোধী আন্দোলনের নাম করে রাজাকারের সন্তানরা চাকরি ও প্রশাসনে আসতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমাদের সন্তানদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চায়।আন্দোলনটি মূলত মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারীদের অস্বীকার করার নতুন ষড়যন্ত্র।’

 

গতকাল রোববার এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী রাশেদুল হাসান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ারুল আজীমকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিতকরণ’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সেখানেই মন্ত্রী এসব কথা বলেন।জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে সভাটি আয়োজন করে প্রজন্ম ‘৭১‘।

 

সভায় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকারের সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অধিকার হরণ করতেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছে। এদের দেশের রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্র থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।’ এসময় তিনি প্রজন্ম ‘৭১-এর দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

সভায় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন কামরুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি পাগলের প্রলাপ বকছে।দেশে কখনো সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।কিন্তু তারা এই দাবি তুলেছেন।’ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রজন্ম ‘৭১-এর সভাপতি আজিজুর রহমান। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শাহে আলম মুরাদ, অধ্যাপক ড.জিয়া রহমান, ডা.দিলীপ কুমার রায়,শহীদ সন্তান ডা.আনোয়ারুল ইকবাল, আনোয়ারুল কবীর ও রুকাইয়া হাসিনাসহ আরো অনেকে।

তুরিনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড মন্ত্রণালয়ে…!!!

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ওয়াহিদুল হক’র সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বৈঠক নিয়ে তোলপাড় চলছে। ইতিমধ্যে তাকে প্রসিকিউশনের মামলা পরিচালনা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পৌনে তিন ঘণ্টার বৈঠকের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের সিডি ও তুরিনের বিষয়ে তদন্ত সংস্থার যাবতীয় প্রতিবেদন গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাহিদুর রহমান।এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনে যেটা বলা আছে সেটাই হবে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা বলছেন, এখন আইন মন্ত্রণালয় বিধি মোতাবেক তুরিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

 

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪শে এপ্রিল গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ওই দিন সকালেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে পাকিস্তান আর্মির ২৯ ক্যাভালরির সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৮শে মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্টের আশপাশ এলাকায় নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালি ও সাঁওতালদের ওপর হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ২৫শে এপ্রিল ওয়াহিদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এই মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তুরিন আফরোজ।তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গত বছরের ১৭ই নভেম্বর তিনি আসামি ওয়াহিদুল হককে নিজেই ফোন দিয়ে কথা বলেন। এরপর ১৮ই নভেম্বর দ্বিতীয়বার কথা বলেন। পরে ১৯শে নভেম্বর গুলশানের একটি রেস্তুরায় তার সহকারী ফারাবিকে নিয়ে সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে ওই আসমির সঙ্গে বৈঠক করেন। তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আসামি ওয়াহিদুল হকের কাছে মামলার তদন্তের নথিপত্র সরবরাহ করেছেন। আর ওই আসামির সঙ্গে বৈঠকের পুরো অডিও রেকর্ড তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে প্রসিকিউশন অফিসে আসলে এর ভিত্তিতে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সকল মামলার কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। এরই প্রেক্ষিতে আসামি ওয়াহিদুল হক’র মামলার দায়িত্ব থেকে তুরিন আফরোজকে গত ৭ই মে প্রত্যাহারের আদেশ দেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।

 

একই সঙ্গে ৮ই মে তাকে ট্রাইব্যুনালের সকল মামলা পরিচালনা থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, তদন্ত সংস্থা থেকে তুরিন সম্পর্কে আমাদের কাছে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছিল। এরপর প্রথমে ওই আসামির মামলা থেকে এবং পরে ট্রাইব্যুনালের সকল কার্যক্রম থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন,পৌনে তিন ঘণ্টার অডিও রেকর্ড ও তদন্ত সংস্থা থেকে পাওয়া অন্যান্য প্রতিবেদন আইনমন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, এটা যদি সত্যি হয় তবে মন্ত্রণালয় অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরো বলেন, আমিতো আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাই না, বা তাদের মামলাও পরিচালনা করি না। কাজেই এ বিষয়ে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ওই আসামির সঙ্গে তুরিনের বৈঠকের বিষয়ে আমরা বিস্মিত। বৈঠকের পৌনে তিন ঘণ্টা অডিও রেকর্ড শুনেছি। তাতে তুরিনের সহকারীকে ওই আসামিকে বলতে শোনা গেছে যে তিনি (আসামি ওয়াহিদুল হক) যেহেতু এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন তাই ২০/২৫ কোটি টাকা তার কাছে কোনো ব্যাপারই না। ট্রাইব্যুনালের একজন আইনজীবী হয়ে কি কারণে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামির সঙ্গে বৈঠক করেন এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।ইতিমধ্যে আইনমন্ত্রণালয়ে ওই অডিও রেকর্ডের সিডির কপি ও অন্যান্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তুরিনের বিরুদ্ধে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিভঙ্গ এবং পেশাগত গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। ওই প্রসিকিউটর বলেন, মোবাইল ফোনের কথোপকথনে বোঝা যায় তুরিন নিজেই ওই আসামিকে খুঁজে বের করেছেন। নিজের উদ্যোগেই কথা বলেছেন এবং সরাসরি সাক্ষাত করেছেন। তুরিনের প্রথম কলে আসামি একাধিকবার তুরিনের নাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করে তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

 

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন,তার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘদিন কাজ করেছি।এ ঘটনায় আমরা হতবাক ও মর্মাহত।এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।সেক্ষেত্রে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গসহ অন্য কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা আইন মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে।ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী।ট্রাইব্যুনাল ও বিচারাঙ্গনের মর্যাদা সমুন্নত রাখা আমাদের দায়িত্ব।এ ধরনের ঘটনায় আমরা হতাশ ও মর্মাহত।

 

তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ পান।একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত একাধিক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মামলা পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন তিনি।এরপর নিয়মিতই তিনি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ছিলেন।
এদিকে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরিন আফরোজ।তদন্তের স্বার্থে তিনি যেকোনো কৌশল গ্রহণ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।এ ছাড়া তাকে প্রসিকিউশন থেকে বরখাস্ত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।গতকাল ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘আমাকে নিয়ে একটি অতি উৎসাহী দৈনিক পত্রিকাতে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে তা ভাইরাল করে, আমাকে নিয়ে নানা কুৎসা রটনা করা হচ্ছে।এটাও বলা হচ্ছে যে, আমাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।এই বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য: আমি এখনও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে বহাল আছি।আমাকে কেউ বরখাস্ত করেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৮(২) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের একজন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এখতিয়ার রয়েছে।সুতরাং যেকোনো মামলাতে তদন্ত করার এখতিয়ার আমার আছে। আর তদন্ত করতে গেলে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হয়।সুতরাং,আমি তদন্তের স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করতে পারি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমি এ পর্যন্ত প্রসিকিউটর হিসেবে যা কিছুই করেছি,তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত ছিলেন।
সূত্রঃ-(((মানবজমিন)))

রাঙামাটিতে এই প্রথম জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ’র শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

বান্দরবান অফিসঃ-রাঙামাটিতে এই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।দিবসটি উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে।সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতিবৃত্তি প্রদান করেন।রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ মেহমান ছিলেন রাঙামাটি সদর সেনা জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ রেদওয়ানুল ইসলাম,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মোঃমুছা মাতব্বর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাঙামাটি সদর সেক্টর কমান্ডারের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন অরিজিৎ কুন্ডু।প্রধান আলোচক ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল। অনুষ্ঠানে বক্তারা আগামী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম জাগিয়ে মুক্তযুদ্ধের চেতনায় ও আদর্শে গড়ে তোলার আহবান জানান এবং প্রতিবছর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে দিবসটি পালনের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়।দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার আলোচনা সভা শুরুর পূর্বে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ¯িœগ্ধা চাকমা,জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মফিজুল ইসলাম,জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রনতোষ মল্লিক,সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নজির আহমদ তালুকদার।উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের ক্রেস্ট স্পন্সর ওয়ালটন প্লাজা রাঙামাটির ম্যানেজার মোঃআকতারুজ্জামান,ব্যবসায়ী মোঃশফিউল আজমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ।কামরুল হাছান রাজিব ও মেরেলিন এ্যানীর পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা পরিষদ সদস্য অর্নব বড়ুয়া।উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে চেঙ্গী খালের পাড়ে পাকিস্তানি শত্রুবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীর দর্পে লড়াই করে শহীদ হয়েছিলেন তৎকালিন ইপিআরের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভুষিত করেন।

আমার অনেক ইচ্ছে ছিল মুক্তিযুদ্ধ করার,ট্রেনিংও নিয়েছিলামঃ-(বীর বাহাদুর উশৈসিং)

বান্দরবান অফিসঃ-‘আমার অনেক ইচ্ছে ছিল মুক্তিযুদ্ধ করার।আমি ট্রেনিংও নিয়েছিলাম।কিন্তু অস্ত্র আমার চেয়ে লম্বা হওয়ার কারণে আমি যুদ্ধ করতে পারিনি।’ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এই কথা বলেছেন।আজ সোমবার (২৬ মার্চ) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বীর বাহাদুর উশৈসিং এসময় আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম। তাই বয়সে ছোট হওয়ার কারণেই আমার চেয়ে অস্ত্র বড় ছিল। বর্তমানে আমার বয়স ৬০ বছর।কিন্তু এখন আমার চেয়ে বয়সে ছোট ব্যক্তিরাও নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দেয়।আমার চেয়ে যারা বয়সে ছোট তারা কখনোই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।যারা পরিচয় দেয় তারা অবশ্যই ভুয়া।’এসময় তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত করতে সব মুক্তিযোদ্ধার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যদি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আপনারা প্রতিহত না করেন তবে আপনাদেরই সম্মান নষ্ট হবে।’ এসময় তিনি সব মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন মজুমদার,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.আবদুল ওয়াহাব,মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেমসহ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিনের মধ্যে প্রয়াত রাজাকার ত্রিদিব রায়ের নাম মুছে ফেলার আল্টিমেটাম

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা প্রয়াত রাজাকার ত্রিদিব রায়ের নামে রাঙামাটিসহ বিভিন্নস্থানের স্থাপনায় থাকা নাম ও এলাকার নাম পরিবর্তনে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ।গতকাল রবিবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা বলেন,আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রাজাকার ত্রিদিব রায়ের নামের সকল নাম ফলক মুছে ফেলতে হবে,অন্যথায় পিবিসিপি এবং পিএনপি পার্বত্যাঞ্চলে কঠিন কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারী দেন।বিবৃতিতে রাঙামাটিসহ বিভিন্নস্থানের স্থাপনায় থাকা নাম ও এলাকার নাম পরিবর্তন ৯০ দিনের মধ্যে মুছে ফেলার জন্য চলতি বৎসরের ২২ মে ২০১৭ ইং হাইকোর্ট যে রায়টি দিয়েছেন তা এখনও কেনও কার্যকর হচ্ছেনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রনেতারা।জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বর্গ দায়িত্ব পালনে শীথিলতা প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।বিবৃতিতে সংগঠন দু’টির নেতারা আরো বলেন, ‘যে আদিবাসী শব্দটি বাংলাদেশের সংবিধানে নাই সে বিষয়ে উপজাতীয় নেতারা আদিবাসী সনদপত্র বিতরণ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে,আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই,এটার ফলাফল শুভ হবেনা।’ বিবৃতিতে,শীঘ্রই সংবিধান অনুযায়ী সনদপত্র প্রনয়ণ ও বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে বলেন,অন্যথায় পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্রপরিষদ খুব শীঘ্রই আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।পার্বত্য নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো.খলিলুর রহমান কর্তৃক প্রেরিত এক ই-মেইল বার্তায় এ খবর নিশ্চিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ সমাধীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান এর শ্রদ্ধার্ঘ

মুক্তিযুদ্ধ ডেস্কঃ-তিনদিনের সফরে রাঙামাটি এসেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।গতকাল (৩ অক্টোবর) শুক্রবার সফরের প্রথমদিন তিনি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধীতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেছেন।সকালে রাঙামাটি পৌছে বিকেলে তিনি নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধীতে যান।হ্রদ-পাহাড়ের বুকে চিরশায়িত জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের মাজারে পুস্তস্তবক অর্পন করেন,এরপর পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।এসময় তাঁর সাথে সফর সঙ্গী ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড.প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা,উপ-রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমা,সহকারি পরিচালক (অর্থ) মোঃমাসুদুর রহমান ও সহকারি পরিচালক (পরিকল্পনা) মোঃআবদুল গফুর।

শনিবার সকালেরাঙামাটি জেলাপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এরপর তিনি ঝগড়াবিলস্থবিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পরিদর্শন করবেন। বিকেলে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মংঞোহ্লাঅং মারমার শেষকৃর্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবান পার্বত্য জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মংঞোহ্লাঅং মারমার শেষকৃর্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।গতকাল শুক্রবার বিকেলে মারমা সামাজিক রীতি নীতি নিয়ে তারঁ মৃত দেহ বান্দরবান জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মারমা বৌদ্ধ শ্মশানে উক্ত শেষকৃর্ত সম্পাদন করা হয়।তাঁর আগে বান্দরবান মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধার দলটি শেষ বারে মতো শ্রদ্ধায় জানান।পরে তাঁর কফিনের জাতীয় ও মুক্তি পতাকায় তুলে দেন।বিকালে শেষকৃর্ত সম্পাদন করার পুর্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।পরে সালাম গ্রহণের মধ্যে দিয়ে শেষকৃর্ত অনুষ্ঠান শুরু হয়।মারমাদের সামাজিক ব্যান্ড দল বা সয় দল টি তাকে বহণ করে মারমা শ্মশানের নিয়ে যায়।গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ীতে এই বীর মুক্তিযুদ্ধা পরলোকগমন করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।তিনি এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের পিতা ছিলেন।তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রয়াত ১৫ তম বোমাংগ্রী অংশৈ প্রু চেীধুরীর জামাতা।মুক্তিযোদ্ধারা জানান,তিনি ৭১ এর মুক্তি সংগ্রাম চলাকালীন সময়ে খাগড়াছড়ি জেলায় রামগড় এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তি সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী একজন ব্যাক্তি ছিলেন।বান্দরবান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সূত্রে জানা গেছে তিনি আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কতৃক প্রদত্ত মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি স্বরুপ বিশেষ সম্মাননা পদক পান।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে তাকে পদক তুলে দেন।বান্দরবানের বাঙ্গালী,মার্মা,ত্রিপুরা,চাকমা ও বম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিশিষ্ট লোকজন উক্ত শেষকৃর্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।