আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৩ অপরাহ্ন    

Home » মিডিয়া

মিডিয়া

বিদেশী কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি সরকার : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্টঃ-  তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, টেলিভিশন শিল্পকে বাঁচাতে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার আইন প্রয়োগ শুরু করেছে। সরকার প্রচলিত আইন প্রয়োগ করেছে মাত্র। তবে বিদেশী কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি।

মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শন সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে তথ্যসচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শন সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, সংগঠনের উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, সহসভাপতি আমির হামজা, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাত্র। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর উপধারা-১৯(১৩)-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের আইন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ১ এপ্রিল যে দুটি চ্যানেলকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এই দুটি চ্যানেল বিদেশি বিজ্ঞাপন নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রচার করছিলেন। সরকার যা করেছে, তা টেলিভিশনের মালিক, সাংবাদিক, কলাকুশলীদের স্বার্থের জন্যই করেছে। কারণ, বিদেশে বিজ্ঞাপন প্রচার করার কারণে বছরে ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে, অনেক সাংবাদিক, কলাকুশলী বেতন পাচ্ছেন না, যা করা হচ্ছে তাদের স্বার্থের জন্যই। তিনি বলেন, একই ধরনের আইন ভারতে আছে, যুক্তরাজ্যে আছে, কন্টিনেন্টাল ইউরোপে আছে, অন্য দেশে আছে। সেসব দেশে এই আইন মানা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে আইনটি মানা হচ্ছিল না। আইনটি প্রয়োগ করা হয়নি। এটি না করার কারণে যেটি হয়েছে—বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো যে বিজ্ঞাপন পেত, সেই বিজ্ঞাপনের বড় একটা অংশ চলে গেছে ভারতে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নোটিশ দিয়ে সাত দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলেছি। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিক, এরপর জবাব অনুযায়ী ব্যবস্থা।’

চলচ্চিত্র সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চলচ্চিত্র হচ্ছে শিল্প। বহু বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্র চলে আসছে। চলচ্চিত্র মানুষকে বিনোদন দেয়। সংস্কৃতির আগ্রাসীয় থাবায় এবং আমাদের দেশে আগের মতো সিনেমা নির্মিত না হওয়ায় দেশের সিনেমা হল গুলো বন্ধ হওয়ার পথে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে চলচ্চিত্রশিল্পকে বাঁচাতে হবে। আর চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে সিনেমা হলগুলোও রাখতে হবে। তা না হলে সিনেমা নির্মিত হলে তা চলবে কোথায়। আর চলচ্চিত্র নির্মিত না হলে নতুন নতুন শিল্পীও তৈরি হবে না। তাই আমাদের সিনেমা হলগুলোকে বাঁচাতে হবে।’

সরকার নয় অবৈধ উপার্জন বন্ধের ভয়ে জি বাংলা বন্ধ করেছে বেঙ্গল ও জাদু মিডিয়া!

ডেস্ক রিপোর্টঃ-  জি-বাংলাসহ বিদেশি কোন চ্যানেল বন্ধ করেনি সরকার। বরং বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেশীয় চ্যানেলগুলোকে সমৃদ্ধ করার চিন্তা ভাবনা করছিল সরকার। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং দেশব্যাপী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এমন মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

মূলত বিদেশি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশি এজেন্ট খ্যাত বেঙ্গল ডিজিটাল কেবল সার্ভিস এবং জাদু ভিশন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যেতেই এমন গুজব ও চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। দেশের একাধিক চ্যানেলের মালিক পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের জনপ্রিয় একটি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে দাবিয়ে রাখতে এবং এর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু মহল সব সময় সক্রিয় ছিল। তাদের কারণে বিদেশী চ্যানেলগুলোতে দেশীয় বিজ্ঞাপন বন্ধের দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। কারণ দেশের চ্যানেলগুলো দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও ব্যবসা প্রচারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছিল। কিন্তু মাঝ খানে হঠাৎ করে বেঙ্গল ডিজিটাল কেবল সার্ভিস এবং জাদু ভিশন লিমিটেড নামের দুটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে বছরে ৫’শ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

তিনি আরো বলেন, দেশীয় গণমাধ্যমের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে এসব করছিল সংস্থা দুটি। এর মধ্যে আবার সরকারকে দেশব্যাপী বিব্রত করতে এখন বিদেশি চ্যানেল বন্ধের নামে মিথ্যাচার করছে এই চক্রটি। সরকার দেশের গণমাধ্যমের বিকাশের পক্ষে। সেক্ষেত্রে দেশের স্বার্থও দেখতে হয়। সরকার যা চিন্তা করছে সেটির বিপরীতে একটি চক্র ঝামেলা সৃষ্টি করতে কৌশলে দেশে বিদেশী চ্যানেল প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারকে বিব্রত করে বিদেশি স্বার্থ উদ্ধারে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।

অন্য দিকে গোপনীয়তা রক্ষার শর্তে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো’র সদস্য ও একটি বেসরকারি চ্যানেলের সিইও বলেন, বাংলাদেশের ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ এর উপধারা-১৯(১৩) এর বিধান মতে বাংলাদেশে বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে কোনো ধরণের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরণের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না। একই ধরণের আইন ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে এখনও বলবৎ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে জি-বাংলা, জি-সিনেমা দেখা যাচ্ছে না একটি সিন্ডিকেটের কারণে। বেঙ্গল ও জাদু নামের দুটি প্রতিষ্ঠান আজকে দেশের দর্শকদের জিম্মি করে সরকারের উপর দোষ চাপাচ্ছে। সরকারকে বিব্রত করে কোন লাভ হবে না। দেশবাসীর জানা উচিত সরকার কখনই জনগণের বিনোদন বা ভালোলাগার অন্তরায় না। অবৈধ ও অনৈতিক উপায়ে পয়সা ইনকামের রাস্তা বন্ধ হওয়ার ভয়ে এখন মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে দুটি এজেন্সি। সকলকে এই বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।

 

বান্দরবানে ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

সিএইচটি টাইমস ডেস্কঃ-  বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকার ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইমলাম বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বেতার কেন্দ্রের বার্তা নিয়ন্ত্রক মো. মোকছেদ হোসেন । এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক অজিত কান্তি নাথ, দৈনিক কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনু, প্রথম আলোর প্রতিনিধি বুদ্ধ জ্যোতি চাকমা, দৈনিক ইত্তেফাক এর প্রতিনিধি মিলন চক্রবর্তী, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মিনারুল হক, যুগান্তরের প্রতিনিধি আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, আরটিভির প্রতিনিধি শাফায়েত হোসেনসহ বান্দরবানের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।পরে উপস্থিত অতিথিরা দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত করেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম

নিউজ ডেস্কঃ- জাতিগতভাবে বাংলাদেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে স্বাধীনতা লাভ। দীর্ঘ দিনের শোষণ বঞ্চনা আর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় বাংলাদেশ। এরপর ৯ মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়। ১৯৭১ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও নয় মাসব্যাপী চলা স্বাধীনতা সংগ্রামের খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দ্বারা রচিত ৭১ এর গণহত্যা নাড়া দিয়েছিলো বিশ্ব বিবেককে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বিদেশি গণমাধ্যম। বিশেষ করে বিদেশি প্রিন্ট মিডিয়া তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পাশে ছিল। এ ছাড়া বিদেশী সাংবাদিকরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, নির্মমতা এবং বর্বরতার কাহিনী ছড়িয়ে দেন। এতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপপ্রচারে বিশ্ববাসী বিশ্বাস করেনি। একাত্তরের ২৫ মার্চের গণহত্যার চিত্র যাতে বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সে জন্য পাক হানাদার বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিংয়ের জন্য তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। সাইমন ড্রিং–ই সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীকে জানান, পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা হয়েছে। তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে লিখেন, ‘ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ট ইন ইস্ট পাকিস্তান’।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় পত্রিকা দ্য নিউ নেশন বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের হত্যাকাণ্ডের খবর তুলে ধরে বলেছিলো, ‘পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংস হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতেই হবে–অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যাখ্যা শুনিয়ে বিশ্ব বিবেকের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না।’ ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদকরা সবার আগে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য প্রকাশ করে। এরপর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত গণমাধ্যমের প্রতিবেদকরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম বিবিসি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ প্রচার করে, ‘পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের হুলিয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সমর্থকরা এখনো যশোর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা নিয়ন্ত্রণ করছে।’ এ ছাড়া অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এর সিডনি শ্যানবাগ, ইতালির সাংবাদিক ওরিয়ানা ফেলাচি, ফরাসি সাংবাদিক বার্নার্ড হেনরি লেভিসহ আরও অনেক বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সরাসরি প্রত্যক্ষ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিখ্যাত ব্রিটিশ পত্রিকা লন্ডন টাইমস বলেছিলো, If blood is the price of independence then Bangladesh has paid the highest price in history” -London Times (1971). লন্ডন টাইমসের এই উক্তির মাধ্যমেই আসলে সহজেই অনুমেয় কি পরিমাণ আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গণমাধ্যমের কারণে বিশ্ববাসী মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরেছে। এতে এক দিকে পাকিস্তানি বর্বরতা-নৃশংসতার প্রতি ঘৃণার উদ্রেক হয়েছে, অন্য দিকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতি-সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকন্তু আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস-মনোবল-শক্তি সঞ্চার করেছে; ফলশ্রুতিতে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়েছে।

সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ,ইটিভির সাংবাদিক গ্রেপ্তার

বান্দরবান অফিসঃ-এক নারী সহকর্মীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগে বেসরকারি একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) প্রধান প্রতিবেদক এমএম সেকান্দারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার গভীর রাতে সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, সেকেন্দারের এক নারী সহকর্মীর কাছ থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তারা পান। এরপর ভোরে তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিক সেকেন্দারকে সোমবার হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করার পর দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী।

হাতিরঝিল থানার ওসি আবু মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি হাতিরঝিল এলাকায় গাড়ির মধ্যে যৌন হয়রানির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে সেকন্দারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার এক সহকর্মী।

তিনি জানান, ওই নারী টেলিভিশনের শিক্ষানবীশ কর্মী। শারীরিক সম্পর্ক না করলে চাকরি স্থায়ী হবে না বলে সেকেন্দার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

পরে সাংবাদিক সেকেন্দারকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। অন্যদিকে তার জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা। শুনানি নিয়ে বিচারক হাকিম সত্যব্রত শিকদার তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইটিভির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক বুলবুল চৌধুরী বলেন, আমাদের এক নারী সহকর্মী যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য বলে জেনেছি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বলেই এই নারী সহকর্মী অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অফিসের সিদ্ধান্তে এই মামলা করেন ছয় মাস আগে যোগ দেওয়া এই নারী সহকর্মী।

তবে সেকেন্দারের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের এটাই প্রথম বলে জানান বুলবুল চৌধুরী।

ইটিভির সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, মামলা হয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ ব্যাপার কিছু বলার নেই।

এদিকে সেকেন্দারের স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন পুরো ঘটনাটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলছেন। তিনি বলেন, রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়।

পুরো ঘটনাটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে ইয়াসমিন জানান, চাকরি ছাড়তে আমার স্বামীকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফাঁসাতে বিভিন্ন মেয়েকে দিয়ে চাকরি চাওয়ার কথা বলে ফোন করা হচ্ছিল। কয়েকদিন তার ফেসবুক হ্যাক করা হয় এবং বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়, যা ষড়যন্ত্রের অংশ। তার বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছে তা আমাকে বলত।

নিলুফার বলন, এ ব্যাপারে আমি তাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি একটি জিডি করেন, যার কপি র‌্যাব নিয়ে গেছে।

তবে কারা ‘ষড়যন্ত্র’ করছে সে ব্যাপারে কিছু বলেননি নিলুফার।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেয়েটির অভিযোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই: পাইলট

বান্দরবান অফিসঃ- বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট বলেছেন, ঐক্যবদ্ধতাই সাংবাদিকদের মূল শক্তি। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই পেশার দাবি ও মর্যাদা আদায় করতে হবে। অনৈক্য সাংবাদিক নির্যাতনের মূল কারন। অধিকার আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই। আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএমএসএফ ঘোষিত ১৪ দফা দাবি আদায় করি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গুলশানে পিপলস নিউজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের ৪০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমএসএফ’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর ও ভারতীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল তারা টিভি নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেকুজ্জামান চৌধুরী নবাব।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএফ’র সহ-সভাপতি ও পিপলস নিউজের সম্পাদক নাজমা সুলতানা নীলা, বার্তা বাজার সম্পাদক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারি, অনলাইন সম্পাদক পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক এস কে নাঈম , বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ খায়রুল আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য আকরাম হোসেন, ঢাকা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর তালুকদার ও কবির নেওয়াজ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আবুল কালাম আজাদ একাধারে একজন সাংবাদিক ও দক্ষ সংগঠক। তিনি বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ‘অনলাইন সম্পাদক পরিষদ’র প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের ডাক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ‘তারা টিভি নিউজ’র চীফ প্রোগ্রাম চীফ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রবাসিদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্ট ফাউন্ডেশন আইএমএফ’র হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশীপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় বিএমএসএফ, তারা টিভি, পিপলস নিউজ, বার্তা বাজার ও অনলাইন সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে আবুল কালাম আজাদের কর্মময় জীবন আরো সফল হওয়ার আশাবাদ কামনায় দোয়া ও তবারক বিতরণ করা হয়।

চট্টগ্রামে সাংবাদিক আবু বকর চৌধুরী’র শোকসভা অনুষ্ঠিত

বান্দরবান অফিসঃ-দৈনিক মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু বকর চৌধুরীকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করলো চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদকর্মীবৃন্দ। দৈনিক মানবকণ্ঠের সাবেক বার্তা সম্পাদক সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক আবু বকর চৌধুরী’র শোকসভা ও দোয়া মাহফিল আজ ৩১ জানুয়ারী (২০১৯) বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম নগরীর কদম মোবরক এতিমখানা মার্কেটস্থ চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবু বকর চৌধুরী ছিলেন- পেশাদার সাংবাদিক। গণমানুষের সাথে এ দেশের সাংবাদিক সমাজের সম্পর্ক উন্নয়নে যেসব নির্ভীক সাংবাদিক ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে আবু বকর চৌধুরী উল্লেখযোগ্য।

চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের বিশেষ প্রতিনিধি কবি কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দেশ বিদেশ টুয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন সোহেল, সদস্য যথাক্রমে দৈনিক গিরিদর্পনের সি আর বিধান বড়ুৃয়া, দৈনিক নব অভিযানের চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ হাসান বিশ্বাস, মাসিক চকবাজার সম্পাদক এস ডি জীবন, একাত্তর বাংলাদেশ ডটকম সম্পাদক শেখ সেলিম, দেশবার্তা ডটকম সহ-সম্পাদক তরুণ বিশ্বাস অরুন, মাসিক অভিযাত্রী সম্পাদক সোহেল হোসাইন, সিএইচটি টাইমস ডটকমের সহ-সম্পাদক শিপক কুমার নন্দী, ভয়েস অব এশিয়া বিডি ডটকম সম্পাদক বিধান বিশ্বাস, আমার বাংলা ডটকম সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর আলম, মানবাধিকার নিউজের শাহরিয়া শচিন, মানবাধিকার নিউজের এস এম ইবরাহিম, দৈনিক নব অভিযানের কাজী আরমান রিপন, মোরা পত্র লেখক সমাজের সভাপতি সজল দাস, দৈনিক মুক্ত খবরের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ইফতেখারুল করিম চৌধুরী, সিটিজি পোষ্টের ষ্টাফ রিপোর্টার কুতুব উদ্দিন রাজু, সিএনএন টুয়েন্টিফোর ডটকমের মো: সুমন প্রমুখ।

দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন- লোহাগাড়া অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও এমএসকে নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. সোলায়মান কাশেমী।

প্রসঙ্গত: সাংবাদিক আবু বকর চৌধুরী ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তিনি দৈনিক খবর, সকালের খবর, আজকের কাগজ, আমাদের সময় ও সমকালে বার্তা বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

 

সিটিজি ক্রাইম টিভি`র চেয়ারম্যান আজগর আলি মানিককে সংবর্ধনা

বান্দরবান অফিসঃ-সিটিজি ক্রাইম টিভি`র চেয়ারম্যান আজগর আলি মানিক অনলাইন সম্পাদক পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা দিয়েছে সিটিজি ক্রাইম টিভি পরিবার। আজ সোমবার দুপুরে সিটিজি ক্রাইম টিভির অক্সিজেন কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সিটিজি ক্রাইম টিভির ডাইরেক্টর নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে ও রতন বড়ুয়ার সঞ্চালণায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিটিজি ক্রাইম টিভির ভাইস চেয়ারম্যান বিবি মরিয়ম, বার্তা সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম,চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল আমিন সুমন, দিপু তালুকদার, আব্দুল মতিন চৌধুরী,আব্দুল আউয়াল মুন্না, সাঈদুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন রনি, লোকমান আনছারী, তানভীর আহমেদ, হূমায়ূন কবির হিরু, নাজিম উদ্দিন বেলাল, মিজানুর রহমান রাশেদ, মো; মাসুম, রঞ্জণ বড়ুয়া, নরুল ইসলাম রুবেল, মহিউদ্দিন সুমন, আমীর হোসেন, হূমায়ুন কবীর ময়ূরসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিটিজি ক্রাইম টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চ্যানেলটিতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের পর চ্যানেলটির ডাইরেক্টর ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সহ সম্পাদক নুরুল আবছার ক্রেস্ট দিয়ে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

এরপর সাংবাদিকবৃন্দের পক্ষ থেকে আরেকটি সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। সাংবাদিক দীপু তালুকদার সংবর্ধনাপত্রের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান আজগর আলি মানিককে। পরে সিটিজি ক্রাইম টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত যুগ্ম আহবায়ক আজগর আলি মানিক এর হাতে তুলে দেয়া হয় শুভেচ্ছা উপহার। উপহার প্রদান শেষে সিটিজি ক্রাইম টিভিতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখা হয়।

এদিকে নবগঠিত অনলাইন সম্পাদক পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হওয়ার অর্জনকে সাধুবাদ জানাতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে আসেন, নিউজ অব বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্জ্ব মো: এনামুল হক, একুশে মিডিয়ার সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ,দেশযোগ পত্রিকার সম্পাদক জুনায়েদ আহম্মেদ,প্রথম সংবাদ টুয়েন্টিফোর ডটকম এর সম্পাদক আব্দুল মাজেদ শফিক, একুশে মিডিয়ার প্রকাশক ছৈয়দুল আলম, ইসলামী সঙ্গীত শিল্পী হাফেজ ইউনুসসহ অনেকে।

জাতিসংঘের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ ছড়াচ্ছে বেনামী গণমাধ্যম

নিউজ ডেস্কঃ- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পর নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে আখ্যায়িত করে উদ্ধৃতি দিয়েছিলো জাতিসংঘ। শুধু তাই নয় ৩ জানুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সকল দলকে ধন্যবাদ। কারণ তারা একত্রিত হয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিক সরকার উপহার দিয়েছে।

অথচ জাতিসংঘের এমন প্রশংসার পরও কিছু স্বার্থান্বেষী গণমাধ্যম নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশন করছে। এদিকে বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত।

এ আরাফাত বলেন, বিভিন্ন বেনামী নিউজ মিডিয়া বলছে জাতিসংঘ নাকি বলেছে ‘বাংলাদেশের নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না। ইতিবাচক সমাধান পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহে অংশীদারদের অর্থপূর্ণ সংলাপ প্রয়োজন।’ বিভিন্ন বেনামী গণমাধ্যম জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের মুখপাত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশ করলেও উক্ত মুখপাত্রের কোন নাম প্রকাশ করেনি। এতে বোঝাই যাচ্ছে সংবাদটি একেবারে ভিত্তিহীন। অথচ যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক ইতিমধ্যে নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে আখ্যায়িত করেছেন। দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে একটি রাজনৈতিক মহলের অবৈধ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য বেনামী মিডিয়াগুলো বিশেষ মহলের পেইড এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। যার কারণেই এমন মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পর জাতিসংঘ এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে আখ্যায়িত করেছিলো। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বিষয়টি মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হয়েছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন পারফেক্ট ছিলো না, এমন কোন মন্তব্য জাতিসংঘ করেছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। আমরা আর যাই করি, অন্তত মিথ্যাচারকে সমর্থন দেব না।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, গুজব ছড়ানোর বিষয়টি নতুন কিছু নয়। আমরা এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও এমন গুজবের সম্মুখীন হয়েছিলাম। দেশের মানুষ এখন যথেষ্ট সচেতন। বাংলাদেশের মানুষ এসব গুজবে কান দেয় না। জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কোন নেতিবাচক মন্তব্য করেনি। সুতরাং মিথ্যাচার ছড়িয়ে কোন লাভ হবে না। নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হতো তাহলে আওয়ামী লীগ সরকার বিদেশিদের এত অভিনন্দন পেত না। গুজবকারীদের অসৎ উদ্দেশ্য কোন দিন সফল হবে না।

বান্দরবানে দুই ভুয়া সাংবা‌দিকসহ আটক ৩

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবা‌নে চাঁদাবা‌জির অ‌ভি‌যো‌গে ২জন ভুয়া সাংবা‌দিক ও ১জন ক্যা‌মেরাম্যান‌ ৩জনকে আটক ক‌রে‌ছে পু‌লিশ।
আটককৃতরা হ‌লেন, নজরুল ইসলাম (মজিব) (৪৮), মো.ফিরোজ (৪৫) ও ক্যামেরাম্যান মো. জাবেদ। এ‌দেরম‌ধ্যে নজরুল ইসলাম (ম‌জিব) বান্দরবা‌নের লামা উপ‌জেলার ফাইতং ও বাকী দুইজন কক্সবাজা‌রের চক‌রিয়ার বা‌সিন্দা। র‌বিবার রা‌তে এ ঘটনা ঘ‌টে।স্থানীয়রা জানায়, ক‌য়েকবছর ধ‌রে নজরুল ইসলাম (মজিব) একু‌শে সংবাদ, চাটগাঁর সংবাদ, অপরাধ চিত্র ও দৈ‌নিক খব‌রসহ বেশ ক‌য়েক‌টি প‌ত্রিকার প্রতি‌নি‌ধি প‌রিচয় দি‌য়ে বান্দরবানসহ চট্টগ্রা‌মের বি‌ভিন্ন জায়গায় চাঁদাবা‌জি ক‌রে আস‌ছিল।র‌বিবার বিকা‌লে বান্দরবা‌নের কুহালং ও সুয়াল‌কের বি‌ভিন্ন ব্রিক ফি‌ল্ডে ছ‌বি তু‌লে চাঁদা দা‌বি কর‌লে সেখানকার ম্যা‌নেজা‌রের স‌ন্দেহ হ‌লে স্থানীয় সাংবা‌দিক ও পুলিশকে খবর দেয়। প‌রে তা‌দের আই‌ডি কার্ড যাচাই বাছাই কর‌লে প্র‌তি‌নি‌ধির সত্যতা না পাওয়ায় তা‌দের‌কে পু‌লিশ থানায় নি‌য়ে আ‌সে। এসময় তা‌দের কাছ থে‌কে ২টি ক্যা‌মেরা, ক‌য়েক‌টি মোবাইল ফোন, বি‌ভিন্ন প‌ত্রিকার ক‌য়েক‌টি ভুয়া আই‌ডি কার্ড, চাঁদা আদা‌য়ের টাকা জব্দ করা হয়।
এ ব্যাপা‌রে বান্দরবান অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (সদর সা‌র্কেল) মোঃ ইয়া‌ছির আরাফাত ব‌লেন, এ‌ তিনজন তা‌দের সাংবা‌দিক প‌রিচয় দি‌য়ে সদ‌রের ক‌য়েক‌টি ব্রিক‌ফি‌ল্ডে গি‌য়ে ছবি তু‌লে চাঁদা দা‌বি ক‌রে‌ছে ও কিছু কিছু ফিল্ড থে‌কে চাঁদা নি‌য়ে‌ছে। এখন আমরা তা‌দের বিরু‌দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।উ‌ল্লেখ্য, গত ৭জানুয়ারী চাইথোয়াই চিং মারমা (৩২) ও চিং‌থোয়াইনু মারমা না‌মে দুইজন ভুয়া সাংবা‌দিক‌কে গাছ ব্যবসায়ী‌দের কা‌ছে থে‌কে চাঁদাবা‌জির সময় সদ‌রের বালাঘাটা থে‌কে আটক ক‌রে পু‌লি‌শে দেয় জনতা। তারা বর্তমা‌নে চাঁদাবা‌জি মামলায় বান্দরবান কারাগা‌রে র‌য়ে‌ছে।