আজকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০৬:৪৪ অপরাহ্ন    

Home » ২০১৮ » জুন

Monthly Archives: জুন ২০১৮

সরকারী চাকরিতে প্রবেশে ৩৫ বছর করার সুপারিশ

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সুপারিশ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

গত বুধবার (২৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন ছিল। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে এ সুপারিশ গ্রহণের পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কমিটি সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে বেশকিছু যুক্তিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো তাদের জনগণকে মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমারেখা নির্দিষ্ট করেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪০, শ্রীলংকায় ৪৫, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫, ইতালিতে ৩৫, ফ্রান্সে ৪০ এবং অনেক দেশে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত। আর বাংলাদেশে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আরও দুই বছর বেশি। কিন্তু প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর হয়নি।

প্রসঙ্গত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে সাধারণ ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনেও বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। আর সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরাও ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরাবরই এর বিপক্ষে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে সংসদেও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দশটি প্রকল্পের বিপরীতে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১৬৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত ১৮ জুন পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৩ ভাগ।

আরও জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের বিশেষ অনুরোধে চারজন সচিব, ৩৬ অতিরিক্ত সচিব, ১১১ যুগ্ম সচিব এবং ২০০ উপ-সচিব তিন বছরের অধিককাল ধরে রয়েছেন।

সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পরিকল্পনা নিয়েছিঃ-(সংসদে প্রধানমন্ত্রী)

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভসহ ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। সরকার বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

গত বুধবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের নূরুন্নবী চৌধুরী শওনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের কার্যক্রম চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে স্থাপিত ক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে (ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৭৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৯৬টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা শতকরা ৪৭ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ ভাগে উন্নীত হয়েছে (নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩৩ কিলোওয়াট ঘণ্টা দাঁড়িয়েছে (ক্যাপটিভসহ)। সঞ্চালন লাইন সাত হাজার ৯৯১ সার্কিট কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৬০ সার্কিট কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, নতুন এক লাখ ৮৯ হাজার ৬৩১ কিলোমিটার লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বিতরণ লাইনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার। নতুন এক কোটি ৮৫ লাখ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা দুই কোটি ৯৩ লাখে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লসের পরিমাণ শতকরা ১৬ দশমিক ৮৫ ভাগ থেকে হ্রাস পেয়ে ১২ দশমিক ১৯ ভাগে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ক্ষমতা যথাক্রমে ২১ হাজার সার্কিট কিলোমিটার এবং চার লাখ ৭৮ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ দুই কোটি দুই লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে স্মার্ট গ্রিড এবং আন্ডার গ্রাউন্ড বিতরণ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাহক সেবা নিশ্চিতকরণে আইসিটিভিত্তিক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে এলএনজি টার্মিনাল, কোল টার্মিনালসহ ‘ফ্লুটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারত থেকে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মোট দুই হাজার ৩৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। এ বছরই ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

ভোটারদের ভালোবাসার প্রতিদান দিবঃ-(এ্যাডঃ জাহাঙ্গীর)

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বুধবার দুপুরে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের রির্টানিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে নির্বাচনী কার্যালয়ে নির্বাচনের এ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের হার শতকরা ৫৭ দশমিক ২ ভাগ।

রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল নবনির্বাচিত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফলের কাগজ তুলে দেন।

এ সময় এক প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিজয় সমগ্র গাজীপুরবাসীর। আমি আমার এ বিজয় নগরবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম। সাধারণ ভোটাররা আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে বিজয়ী করেছেন। এ বিজয়ে আমি গবির্ত, সম্মানিত ও অভিতূত। আমি ভোটারদের ভালোবাসার প্রতিদান দিব। নগরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো সমাধানে আত্মনিয়োগ করব। আমি সকলের সহযোগিতা নিয়ে গাজীপুরকে গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটিতে পরিণত করব।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকরা তাকে বিপুলভাবে মাল্যভূষিত করেন। এরপর তিনি নগরীর ছয়দানার বাসভবনে গিয়ে সমস্ত দিন দলীয় নেতাকর্মী ও শুভার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্যান্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন ২৬ হাজার ৩৮১ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন ১ হাজার ৮৬০ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থী ফজলুল রহমান ১ হাজার ৬৫৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ ১ হাজার ৬১৭ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী কাজী মো. রুহুল আমিন ৯৭৩ ভোট। নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৯টি। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ১১১টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৩৮। প্রদত্ত ভোটের হার ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।

এদিকে জাহাঙ্গীর আলম তার নিজের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রেও বিপুল ভোট পেয়েছেন। এ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৮। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১৭৭ ভোট। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ১১৮।

অপরদিকে হাসান উদ্দিন সরকারের নিজের টঙ্গীর বছির উদ্দিন একাডেমী ভোট কেন্দ্রে পেয়েছেন ৭৫৫ ভোট। আর জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪৮৯ ভোট। এ কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯১।

টাকার জন্য পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো জয়েরঃ-(সংসদে প্রধানমন্ত্রী)

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর সবচেয়ে কম খরচে পড়ালেখা শেখে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেমিস্টারের টাকা দিতে না পারায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সজীব ওয়াজেদ জয়ের।

গত ২৭জুন,বুধবার জাতীয় সংসদে আসন্ন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। বাংলাদেশে পড়ালেখার খরচ খুবই কম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ছেলেমেয়েদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, অক্সফোর্ডে চান্স পেয়েছিল কিন্তু তার বাবার সেই সঙ্গতি ছিল না সেখানে পড়ার খরচ দেয়ার। তিনি কিন্তু ভর্তি হতে পারেননি। এটা হলো বাস্তবতা।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করেছে চাকরি করেছে। আবার একটা গ্যাপ দিয়েছে তারপর পড়েছে। ছাত্রলোন নিয়েছে, সেটা শোধ দিয়েছে আবার ভর্তি হয়েছে মাস্টার ডিগ্রি করেছে। আবার সেই লোন শোধ দিয়েছে এভাবেই তারা পড়ালেখা করেছে। পড়াশোনা করার অবস্থায় কিন্তু ঘণ্টা হিসেবে তারা কাজ করত। সেটা দিয়ে তাদের চলত।

তিনি বলেন, যখন এমআইটিতে দিতে পারলাম না, তখন আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি কাকে বলব টাকা দিতে? বা আমিই কীভাবে টাকা পাঠাব? আমার নিজের কারণেই তারা পড়া হলো না। দুটি সেমিস্টার পড়েই তাকে বিদায় নিতে হলো। তবে সে চাকরিতে ঢুকল। ২০০৭ সালে আমি যখন আমার বউমা অসুস্থ আমি গেলাম তখন আমি তাকে অনুরোধ করলাম। কারণ আমার ভেতরে এই বিষয়টা সব সময় কষ্ট লাগত। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েও তার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে পারিনি। কার কাছে চেয়ে, কার কাছে আমি দেনা থাকব! সেটা আমার পক্ষে সম্ভব না। এরপর সে চাকরি করে, বউমা চাকরি করে তখন আমি বললাম আবার তুমি অ্যাপ্লাই কর। সে বলল, মা অনেক কষ্ট, অনেক সময় লাগে। আমি অনেক অনুরোধ করার পর সত্যিই সে আবেদন করল। সে চান্স পেয়ে গেল। আমি কথা দিয়েছিলাম প্রথম সেমিস্টারের টাকা আমি দেব কিন্তু দুর্ভাগ্য আমি অ্যারেস্ট হয়ে গেলাম। তবে আমি বলে গিয়েছিলাম যেভাবেই হোক পড়ালেখা যেন চালায়। পরে সে কলেজ থেকে দূরে বাসা ভাড়া নিল সস্তায় বাসা পাবে বলে। সেখান থেকে বাইকে করে কলেজে যেত।

শেখ হাসিনা বলেন, বাইরের পড়ালেখাটা কত খরচের। রেহানার মেয়ে অক্সফোর্ডে চান্স পাইছে সে স্টুডেন্ড লোন নিয়ে পড়ালেখা করেছে। তারপর চাকরি করে সেই লোন শোধ দেয়। একুশ বছর বয়স থেকে চাকরি করছে সে। তারপর মাস্টার ডিগ্রি করল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে প্রায় বিনাপয়সায় আমরা ছাত্রদের পড়াই। তারপরও যদি তারা রাস্তায় নামে, ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট করে- এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নাই। সেজন্য আমরা কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়েছি। এরপর মফস্বলের কেউ চাকরি না পায়, তার জন্য অত্যন্ত আমাদের দায়ী করতে পারবে না।

 

লামায় ১ লক্ষ ৫ হাজার লিটার চোলাই মদ জব্দ

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানের লামার আজিজনগর ইউনিয়নে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার দেশীয় চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করে ধ্বংস করেছে র‌্যাব-৭।বান্দরবান জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার এর এসআই মো. মোনাফ আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এই অভিযান চালায়। ইউনিয়ন সদরের হেডম্যান মার্মা পাড়াস্থ ২৮ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা সাড়ে ৫ ঘন্টা এই অভিযান চলে।কক্সবাজার র‌্যাব-৭ এর এসআই মো.মোনাফ আলী জানায়,সকাল সাড়ে ৮টায় আজিজনগর হেডম্যান পাড়ায় মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়।এসময় ৫০টি বাড়ি হতে মালিক বিহীন ১ লক্ষ ৫ হাজার লিটার দেশীয় চোলাই মদ ও ৩৫ হাজার কেজি মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। যার মূল্য ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা।পরে মাটিতে ঢেলে মদ গুলো নষ্ট করা হয় এবং উপকরণ গুলো ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।পরে চোলাই মদ তৈরির অপরাধে একজনকে গ্রেফতার ও ১ জনকে জরিমানা করা হয়।আটক মং মার্মা (৩০) হেডম্যান পাড়ার মৃত মং মং মার্মার ছেলে।এছাড়া থুইহ্লাচিং মার্মার ছেলে বাবু মার্মাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান শেষে বান্দরবানের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো.আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানায়,সাম্প্রতিক সময়ে লামার আজিজনগর নেশার একটি বিশাল জোনে পরিণত হয়েছে।প্রশাসন প্রায়ই অভিযান চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে।এই রকম অভিযান আগামীতেও পরিচালনা করা হবে।

বান্দরবান ৪নং সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের টুলপন্টের উন্মুক্ত ইজারা

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবান সদর উপজেলার ৪নং সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ড এর ২০১৮-২০১৯ সালের টুলপয়েন্টর উন্মুক্ত ইজারা ডাক সভা অনুষ্ঠিত হয়।ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সভা কক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ।৪নং সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ক্যমংহ্লা র্মামা এর সঞ্চালনায় অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুয়ালক ই¦উনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃনাছির উদ্দীন,সুয়ালক সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আলম মেম্বার,সুয়ালক আমতলী র্মামা পাড়া ৫নং ওয়ার্ড সদস্য শৈক্য হ্লা র্মামা (সুমন),২নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস ছবুর,সুয়ালক প্রান্তিলেক ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃআব্বাস উদ্দীন (মেম্বার),সুয়ালক গয়াল মারা ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃজামাল উদ্দীন (মেম্বার),সুয়ালক ভাগ্যকুল ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আব্দুল মালেক মেম্বার,ফারুকপাড়া ৬নং ওয়ার্ড সদস্য লাল হাই বম মেম্বার,সুয়ালক ১,২,৩নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত সদস্যা রিনা আক্তার,সুয়ালক ৪,৫,৬নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত সদস্যা মাসাথূই মারমা, সুয়ালক ৭,৮,৯নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত সদস্যা আয়শা বেগম,উপজেলা যুবলীগ নেতা মোঃইদ্রিছ,উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃআরিফ, তুলাতলী বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ আলমগীর,পিআরডিবি-৩ এর কাইচতলী গ্রাম উন্নয়ন কমিটির প্রতিনিধি মোঃনজির হোসেন,কাইচতলীর আহাম্মদ উল্লাহসহ ইজারা ডাকে অংশ গ্রহণকারী বিভিন্ন ওয়ার্ড হতে আগত জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।এতে প্রধান অতিথি বলেন,সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা ডাক সরকারী বিধি মোতাবেক পরিচালনা করা হচ্ছে এই ইজারা প্রদান সম্পর্কে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মহোয়কে অবিহিত করা হয়েছে,উনার সম্মতিক্রমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।সভাপতির বক্তব্যে বলেন আমরা সরকারী বিধি অনুসারে আজ উনমুক্ত ইজারা প্রদান ডাকের আয়োজন করা হয়।সচ্চতা ও জবাব দিহিতামূলক কাজের অংশ হিসেবে আজকের এই উনমুক্ত ইজারা ডাক।আপনারা সরকারকে কর/টেক্স দিয়ে সহযোগিতা করবেন,সরকার তা পূণরাই জনগনের উন্নয়নের কাজে ব্যায় করবে।পরে সভাপতি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

বান্দরবানে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-“শিশু ও যুবাদের প্রতি মনোযোগ দেয়াই তাদের নিরাপদ বেড়ে উঠার প্রথম পদক্ষেপ ” এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে বান্দরবানে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার দিবসটি উপলক্ষে সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে সমবেত হয়। এসময় শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।

পরে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুফিদুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো:আসলাম হোসেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো:গোলাম ছরোয়ার, জেলা মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো.বেলাল হোসেন,উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবহারে দেশ ও জাতি অনেকটা বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ে। মাদক শুধু নিজেকে নয় পুরো পরিবার ও পরে সামগ্রিক দেশের উপর একটি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। এসময় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে মুক্তি পেতে প্রতিটি শিশু থেকে যুবকদের সচেতন করতে সকলের প্রতি আহবান জানান এবং শিশু ও যুবাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ রাখার অনুরোধ করেন।

সেনাবাহিনী প্রধানকে জেনারেল ব্যাজ প্রদান

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান আজিজ আহমেদকে জেনারেলের র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (২৬ জুন) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানকে এই র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হয়।নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এই র‌্যাংক ব্যাজ পরান।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন,জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরানোর পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনিযুক্ত সেনা প্রধানকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান।সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদও এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে তখনই তাঁর দল সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।তিনি বলেন,আমাদের সরকার সেনাবাহিনীকে উন্নত এবং আধুনিক একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সুইপার,ক্লিনার ও বারবার-এর মতো নি¤œতম পদগুলো যুগোপযোগী করতে এসব পদের পদবী পরিবর্তন করেছে।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম,নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক,মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাহফুজুর রহমান,প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মাদ জয়নুল আবেদীন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।এরআগে ১৮ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।ওই দিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক গেজেট নোটিফিকেশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদকে ২৫ জুন বিকেল থেকে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো.আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত ওই গেজেট নোটিফিকেশনে ২৫ জুন বিকেল থেকেই নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানকে জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।আইএসপিআর’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদায়ী সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের কাছ থেকে গত সোমবার নবনিযুক্ত সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।আজিজ আহমেদ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক হিসেবে ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।(((বাসস)))

বান্দরবানে সংবাদকর্মীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবানে কর্মরত ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা গতকাল (২৩ জুন) সকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শুরু হয়েছে।জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিউটটের মহাপরিচালক মোঃ রফিকুজ্জামান এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন
কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ ব্র্যান্ডিং-এর জন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জেলা প্রতিনিধিদের বিশেষ ধরনের ফিচার তৈরির কৌশল শেখানো হচ্ছে।প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুভলভোগী,বয়স্কভাতা গ্রহণকারী,একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের গ্রামবাসী ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কাজ সরেজমিনে দেখানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে ভ্রমণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।উদ্বোধনী অনু্ষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোঃনজরুল ইসলাম (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল),উপ-পরিচালক সুমনা পারভিন (টিভি অনুষ্ঠান প্রশিক্ষণ),সহকারি পরিচালক মোঃজসিম উদ্দিন (টিভি প্রশিক্ষণ প্রকৌশল),প্রোগ্রামার মোঃআবদুস সালাম,বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম সুমন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হক প্রমুখ।কর্মশালায় বান্দরবান সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ২৫জন সংবাদকর্মী অংশ নিচ্ছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ব্যাপারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,সংগঠন এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীরা দলীয় মনোনয়ন লাভে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বরং দলের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং তাদের বোঝাতে হবে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের মতই কি ভয়াবহ ব্যাপার ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, ‘যিনি আমার দলের বিরুদ্ধে বদনাম করবেন সে কি এটা বোঝেন না, এতে তার ভোটও নষ্ট হবে।’ সে তাহলে কোনমুখে ভোট চাইতে যাবে, প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।শেখ হাসিনা গতকাল (২৩জুন) দুপুরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তৃতায় একথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী আগামীর জাতীয় নির্বাচনকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং আখ্যায়িত করে বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন।সবসময় মনে রাখতে হবে, এটা আমাদের একটানা তৃতীয় নির্বাচন।আর নির্বাচন মানেই সেটা চ্যালেঞ্জিং হবে এবং এই নির্বাচনে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সময় কিন্তু আর বেশি নাই কেউ দলীয় মনোনয়ন পাবেন কি পাবেন না সেটা নির্ভর করে এলাকায় কতটুকু জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছেন আর দলের নেতা-কর্মীদের কিভাবে মূল্যায়ন করছেন তার ওপর।’ প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,আমি আপনাদের কাছে এটুকুই চাইবো আমরা যে কাজগুলো করেছি সেই কথাগুলো জনগণের কাছে আপনাদের পৌঁছে দিতে হবে।আমাদের দলের পক্ষ থেকেই এই কথাগুলো মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে যে,আমরা আপনাদের জন্য এই কাজ করেছি এবং এই কাজগুলো আগামীতে করবো।তিনি বলেন,২০০৮ এর নির্বাচনের আগে আমরা যে ঘোষণা দিয়েছিলাম তার চেয়ে অনেক দূর আমরা এগিয়ে গিয়েছি।২০১৪ এর নির্বাচনী ইশতেহার থেকেও আমরা এগিয়ে গিয়েছি।পরের বারে আমরা আরো অগ্রগতি করতে সক্ষম হব।কাজেই আওয়ামী লীগ যে কথা দেয়,সে কথা রাখে।সেকথাটাই মনে রাখতে হবে।আর জনগণকে সেকথা বলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী দলের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত প্রার্থী হয়ে বিএনপি কি সন্ত্রাস করলো, লুটপাট,দুর্নীতি করলো,জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করলো সেটা বলে না।অথচ তাদের বক্তব্য এসে যায় আওয়ামী লীগ এমপির বিরুদ্ধে,সংগঠনের বিরুদ্ধে।’ তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সকল কিছু বাদ দিয়ে কেবল দলের জন্য, দেশের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন,উন্নয়নের কাজ করেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি একটা ঘোষণা দিতে চাই-কেউ যদি আমার দলের উন্নয়নের কথাগুলো না বলে কোথায় কার কি দোষ আছে সেগুলো খুঁজে বের করে জনগণের কাছে গিয়ে বলেন তারা আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না। এটা পরিষ্কার।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন,যদি কেউ ৫ বছর,৫ বছর ১০ বছর সরকারে থাকার পর দলের বিরুদ্ধে বদনাম করে তাহলে জনগণতো তাকেও ভোট দেবে না।এটা হলো বাস্তবকথা কাজেই একথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং আজকাল সব কথাই রেকর্ড হয় এবং চাইলে মোবাইল মারফত সেগুলো তিনি শুনতেও পারেন বলেন প্রধানমন্ত্রী।এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনে দিনে তিন-চারশো ক্ষুদে বার্তা আসে এবং সময় পেলেই তিনি প্রতিটি বার্তা পড়েন এবং সংশিষ্ট সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন বলেও তিনি জানান।প্রার্থী হবার অধিকার সকলের আছে কিন্তু প্রার্থী হতে গিয়ে দলের বদনাম করা তিনি সহ্য করবেন না বলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী এ সময় দলীয় সংসদ সদস্যদের দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা সংসদ সদস্য আছেন তাদেরকেও আমি বলবো একটা কথা মনে রাখবেন-জনগণ কিন্তু খুব হিসেবি কেউ দুর্নীতি করলে জনগণ কিন্তু সেটা ঠিকই মাথায় রাখবে।সেটা কিন্তু তারা ভুলে যায় না।কাজ করতে গিয়ে টাকা নিলে পরে ভোট চাইতে গেলে তারা বলবে টাকা দিয়ে কাজ নিয়েছি ভোট দেব কেন?’
প্রধানমন্ত্রী জনগণের সচেতনতার কথা উল্লেখ করে আরো বলেন,জনগণের এখন কিন্তু চক্ষু খুলে গেছে। এখন ডিজিটাল যুগ।তারা এখন বিশ্বকে জানতে পারছে।প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু জেলে থাকাকালীন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা-কর্মীদের সেটাকে ৮ দফায় নিয়ে যাবার প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা গেছে, আমার ছোট বেলা থেকেই দেখা তিনি (বঙ্গবন্ধু) জেলের ভেতরে থাকলে আওয়ামী লীগের কি চেহারা আর বাইরে থাকলে কি চেহারা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,কাজেই দুঃসময়ে যারা মাঠে থাকে, দুঃসময়ে দলের ভার বয়ে যারা রাখে,সেই দুঃসময়ের কর্মীরা যেন অবহেলিত না হয়।সেটা মনে রাখতে হবে।দল ক্ষমতায় থাকলে সুবিধাভোগী শ্রেনী অন্য দল থেকে দলে এসে ভিড়লেও অসময়ে তাদের পাওয়া যায় না উল্লেখ করে গ্রুপিং এর দল ভারি করার জন্য এদের দলে ভেড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্যও তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী,নির্যাতনকারী, লুটপাটকারীরা মামলা থেকে বাঁচার ভয়ে অনেকেই আওয়ামী লীগে ভিড়তে চাইতে পারে উল্লেখ করে তাদের সম্পর্কেও দলের সকলকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।(বাসস)