অক্টোবরে মন্ত্রিসভায় উঠছে ‘সবার জন্য পেনশন’


সিএইচটি টাইমস অনলাইন প্রকাশের সময় :৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৩:০৮ : অপরাহ্ণ 693 Views

দেশের জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী হিসেবে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এবার সরকার চালু করতে যাচ্ছে সবার জন্য পেনশন। এটি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকারও ছিল বৈকি। প্রস্তাবিত সর্বজনীন পেনশন নীতিমালার খসড়াও প্রণীত হয়েছে ইতোমধ্যে। দেশের প্রায় প্রত্যেক বয়োবৃদ্ধ নাগরিককে কিভাবে ও কী পদ্ধতিতে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনা যায় সেই উপায়ও থাকছে নীতিমালায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এটি তোলা হবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য। উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশন পান। সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর সুখবর রয়েছে এবারের চলতি বাজেটে। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এখন দেশের সাধারণ মানুষদের জন্যও পেনশন চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
বেসরকারী কর্মজীবীরা এর আওতায় পড়েন না। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তো নয়ই। অথচ ইতোমধ্যে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, প্রায় ৭২ বছর। ফলে দেশে প্রবীণ তথা নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়ছে। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তথা বাবা-মাই সন্তানের ওপর নির্ভরশীল, যাদের আয়-উপার্জন কম। সে অবস্থায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হলে প্রভূত সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক দেশে নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৫৪ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি এক শ’ কর্মে নিয়োজিত মানুষের ওপর নির্ভরশীল ৫৪ জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১০ লাখ এবং নারী ৮ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার। সেক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর অনুপাতে ভারসাম্য বিরাজ করছে। তবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ বললেও বাস্তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। তবে মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
সরকার ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সর্বাগ্রে মনোনিবেশ করে খাদ্য উৎপাদনে। পরিকল্পিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের সুবাদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিদ্যুত উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বাংলাদেশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্পে দেশের সুখ্যাতি বিশ্বজোড়া। আয়ও অসামান্য। এ খাতে কয়েক লাখ নারীর কর্মসৃজন হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বে।
প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কর্মসূচীসহ মা ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধেও বাংলাদেশের সাফল্য প্রশংসনীয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে ৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ধাবমান বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই সুফল সরকার সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী নানাভাবে সম্প্রসার করেছে ও করছে। চালু করা হয়েছে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী স্কিম, মা ও শিশু কল্যাণ কর্মসূচী, পেনশন স্কিম, উপবৃত্তি, কাবিখা ইত্যাদি। সে অবস্থায় সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচী চালু করা হলে দেশের আপামর জনগণ এর সুফল ভোগ করবে। কমবে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও। এর পাশাপাশি সরকার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালু করতে পারে বৃদ্ধ নিবাস, যেখানে অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা শেষ জীবনে থাকতে পারেন নিরাপদে-নিরুপদ্রবে।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
January 2025
MTWTFSS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031 
আলোচিত খবর