মাইক্রোবাস,জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির চার তথ্য জানতে চেয়ে সমবায় কার্যালয়কে চিঠি


নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশের সময় :১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪০ : পূর্বাহ্ণ 8 Views

বান্দরবানের মাইক্রোবাস,জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির চারটি তথ্য চেয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।রবিবার (১১ জানুয়ারি) তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা,২০০৯-এর বিধি ৩ অনুসারে বান্দরবানের স্থানীয় বাসিন্দা জেলা সমবায় কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্রটি দাখিল করেন।আবেদনকারীর পক্ষে তৌহিদুল ইসলাম জানান,মাইক্রোবাস,জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতি সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান।সমিতির দায়িত্বশীলদের কাছে একাধিকবার ফোনে তথ্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো তথ্য প্রদান করেননি।ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী চারটি তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফাতেমা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সরজমিনে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে দপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান,তিনি একটি সভায় অংশ নিতে কার্যালয়ের বাইরে রয়েছেন।পরে মাইক্রোবাস,জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (সমিতি ব্যবস্থাপনা) মিজ জেবুন নাহার এর নজরে আনা হয়।রবিবার (১১ জানুয়ারি) মুঠোফোনে তিনি বলেন,জেলা সমবায় কার্যালয় বিষয়টি দেখবে তবে প্রতিকার পাওয়া না গেলে লিখিতভাবে অধিদপ্তর কে জানান,ব্যাবস্থা নেয়া হবে।প্রসঙ্গত,বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,তৎকালীন মাইক্রোবাস,জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক,বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুরকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে সমিতিটি নানা অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে, যা এখনও চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সূত্রগুলো আরও জানায়,ভয়ের কারণে দীর্ঘদিন কেউ এসব অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি।অভিযোগ রয়েছে,কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হতো এবং গাড়ির সিরিয়াল বন্ধ করে দেওয়ার মতো চাপ সৃষ্টি করা হতো।মোজাম্মেল হক বাহাদুরের প্রভাব ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি সমিতির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।এছাড়া,গত ৫ আগস্টের পর নতুন করে কয়েকজনকে সমিতির সদস্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে,যা নিয়ে অনেক মালিক প্রশ্ন তুলেছেন।তাদের দাবি,কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়নি।সমিতির বেশিরভাগ দায়িত্ব স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।উল্লেখ্য,গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) মাইক্রোবাস,জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি বান্দরবানের বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনির নজরে আনেন স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমকর্মী।সে সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির অনিয়ম সংক্রান্ত কোনো বিষয় আমার জানা ছিল না।কেউ জানায়নি।তবে বিষয়টি যেহেতু জানতে পারলাম, আমরা অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবো।”

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
January 2025
MTWTFSS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031 
আলোচিত খবর