

বান্দরবান সদর এলাকায় সাম্প্রতিক এক বিশেষ সেনা অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে এবং বান্দরবান জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিকেল ০৪টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে সমাপ্ত হয়।অভিযানের নেতৃত্ব দেন বান্দরবান জোন উপ-অধিনায়ক মেজর নাফিউ সিদ্দিকী রোমান,পিএসসি।গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযান চলে বালাঘাটা, উজানি পাড়া ও নিউ গুলশান এলাকায় যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কাঠ চোরাচালান চক্রের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়।দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অবৈধ কাঠ ব্যবসা ও কাঠ মজুদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এই অভিযান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেললেও অবৈধ কাঠ চোরাচালানিদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনী ৬টি কাঠ ডিপো এবং ২টি স-মিলে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ১০,০০০ (দশ হাজার) সিএফটি পরিমাণের অবৈধ কাঠ জব্দ করে যা সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানে জব্দ হওয়া সবচেয়ে বড় চালানগুলোর একটি।সেনা সুত্রে জানা যায়,জব্দকৃত কাঠের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অনুমোদন প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন,যা তাদের অবৈধ কাঠ সংগ্রহ ও পরিবহনে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ।অভিযান শেষে তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে ঘটনাস্থলে এনে কাঠের প্রকারভেদ,মোট পরিমাণ, আইনগত বৈধতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে।বর্তমানে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ ও আনুষ্ঠানিক জব্দ তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করে সেনা জোন।জব্দ তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।স্থানীয় সূত্র মতে,দীর্ঘদিন ধরেই একদল প্রভাবশালী চক্র বনাঞ্চল থেকে পরিকল্পিতভাবে কাঠ কাটার পর বিভিন্ন গোপন রুট দিয়ে পাচার করে আসছিল।অথচ এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের উল্লেখযোগ্য তৎপরতা চোখে পড়েনি।বন বিভাগের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে অবৈধ কাঠ ব্যবসা দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।যদিও পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।কাঠ চোরাচালান ও বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়।এছাড়াও প্রশাসন,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।এদিকে,প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং সমন্বিত অভিযানের অভাবেও এই অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।স্থানীয়দের দাবি,প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম কমে আসবে।সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও,পর্যাপ্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় নাগরিকদের মত বন বিভাগ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই পারে অবৈধ কাঠ ব্যবসার মতো অপরাধ বন্ধ করতে।








