মির্জা সিফাত-ই-খোদাঃ সাহিত্যের শিক্ষার্থী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সেনাপতি


স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২০ : অপরাহ্ণ 11 Views

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ‘পাওয়ার হাউস’ বলা হয় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে।৪২টি ভিন্ন ভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের হাজারো খেলোয়াড় তৈরির এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে যিনি আছেন,তিনি হলেন মির্জা সিফাত-ই-খোদা।একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার উঠে আসার গল্পটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই অনুকরণীয়।ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গর্বিত সন্তান মির্জা সিফাত-ই-খোদা। ছোটবেলা থেকেই ইউনিফর্ম ও শৃঙ্খলার প্রতি ছিল তার অদম্য আকর্ষণ। তিনি ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিত্যের ছাত্রী হয়েও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন চৌকস ও কঠোর পরিশ্রমী ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা হিসেবে। তার এই রূপান্তর প্রমাণ করে—বিষয় যা-ই হোক, লক্ষ্য যদি অটুট থাকে, তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব। পৌঁছানো যায় শেকড় থেকে শিখরে।মাঠ প্রশাসনের দক্ষ কম্যান্ডার আনসার ক্যাডার হিসেবে যোগদানের পর তিনি তার কর্মজীবনে দক্ষতার ছাপ রেখেছেন প্রতিটি ধাপে। তিনি নারায়ণগঞ্জ, জয়পুরহাট এবং হবিগঞ্জ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ‘জেলা কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তায় তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে তিনি বাহিনীর সদর দপ্তরে পরিচালক (ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।বর্তমানে তিনি আনসার বাহিনীর বিশাল ক্রীড়া পরিবারের অভিভাবক। তার দক্ষ নেতৃত্বে বাহিনীর ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে। তার দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ আনসার নারী হ্যান্ডবল দল টানা অষ্টমবারের মতো জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তিনি কেবল প্রচলিত খেলা নয়, বরং বেসবল ও সফটবলের মতো নতুন ইভেন্টগুলোকেও বাংলাদেশে জনপ্রিয় করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ বেসবল-সফ্টবল টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। খেলোয়াড়দের আবাসন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং তাদের মানসিক বিকাশে তিনি সবসময় সচেষ্ট। আর এ কারণেই তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অনন্য উচ্চতায়।যদিও তিনি পেশাগতভাবে একজন কর্মকর্তা, কিন্তু তার মনন একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদের। তিনি বিশ্বাস করেন, “খেলাধুলা স্রষ্টার এক অনন্য উপহার এবং মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।” তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও সহনশীলতা গড়ে তুলতে তিনি খেলাধুলাকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।সাহিত্যের আঙিনা থেকে এসে তিনি আজ হাজারো অ্যাথলেটের স্বপ্নসারথি। মির্জা সিফাত-ই-খোদা প্রমাণ করেছেন,নারীর নেতৃত্ব কেবল অফিসকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মাঠের ধুলোবালি আর স্টেডিয়ামের গর্জনেও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
January 2025
MTWTFSS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031 
আলোচিত খবর