এই মাত্র পাওয়া :

শিরোনাম: আবাদ যোগ্য এক ইঞ্চি জমিও খালি না রাখতে আহবান জানালেন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে পন্ড নাইক্ষ্যংছড়ি তে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ ম্রো আবাসিক উচ্চবিদ্যালয় ৪২ তম বর্ষপূর্তিতে ১ম পুনর্মিলনী ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত ব্লাইন্ড ক্রিকেট টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে খেলবে বান্দরবানের সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহিম লামার ফাইতং এ ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত দেশের সর্বোচ্চ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ কোনটিঃ নির্ণয় করবে জরিপ অধিদপ্তর

ইউএনও মেহরুবা’র বদলিঃ আলীকদম-মিয়ানমার সীমান্তের পশু চোরাচালানিরা উৎফুল্ল!


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৯:০৬ : অপরাহ্ণ 290 Views

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরুবা ইসলামকে ঢাকা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাঁকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।তবে বদলীকে স্বাভাবিক বদলী বলছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।প্রকাশের ঘন্টা দুয়েক পরই এই প্রজ্ঞাপন পত্রটি ফেসবুকে ভাইরাল হয় এবং নামি-বেনামি ফেসবুক আইডি থেকে তা আপলোড করে আন্দোলন ফসল বলে ঘোষণা দিয়ে বসে।

জানা যায় আলীকদমে বসবাসরত স্থানীয়রা মনে করেন ইউএনও’র সততা,কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।তিনি আপাদমস্তক একজন সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তা।কিন্তু জনসম্মুখে ট্রফি ভাঙ্গার দীর্ঘ ভিডিও টি থেকে ১ মিনিট ১১ সেকেন্ড এর ক্লিপ টি ফেসবুকে দিয়ে পুরো ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে কলকাঠি নাড়ানো হয়েছে।একটি মহল ওই ভিডিও কে পুঁজি করে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নিয়ে সারা দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আলীকদম কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং আন্দোলনে নেমেছে।স্থানীয় জনসাধারণ বলছে এটি একটি পরীক্ষায় সাময়িকভাবে হয়তো তিনি হেরে গেছেন।যেকারনে জনপ্রশাসন জনমতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন কিন্তু এই জনসাধারণেরই প্রশ্ন,বদলির পর প্রশাসন এবার কি মিয়ানমারের গরু চোরাচালান বন্ধ করতে পারবে তো।এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

এ ব্যাপারে ইউএনও মেহরুবা ইসলাম আগেই বলেছিলেন,সীমান্ত চোরাচালান বন্ধে বিভিন্ন সময় ট্রাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করায় একটি মহল ক্ষিপ্ত ছিলেন।তাছাড়া বঙ্গবন্ধু চত্বর করায় একটি মহল ক্ষেপে ছিল।তারা ট্রফি কান্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে আন্দোলন করেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সমররঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘আলীকদম-মিয়ানমার সীমান্তে চোরাই পথে সরকারকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে গরু,মহিষ এবং মাদক প্রবেশ করছে এগুলোর বন্ধে অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইউএনও। হুন্ডির মাধ্যমে দেশের টাকা পাচার হচ্ছিল মিয়ানমারে।এসব রাষ্ট্রবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে অভিযানে তার উপস্থিতি এবং চোরাচালান বিরোধী অনড় সিদ্ধান্তের কারণে একটি মহল অনেক দিন ধরেই মেনে নিতে পারছিলেন না।তারই বহিঃপ্রকাশ ট্রফি ভাঙার অযুহাতে ইউএনওর বিরুদ্ধে কথিত আন্দোলন-সংগ্রাম।আসলে গত কিছু দিন তাঁরা অনেক চেষ্টা করছিলো ইউএনও কে বেকায়দায় ফেলতে কিন্তু তাঁরা সফল হয়নি।বাংলাদেশের মেয়েরা সাফ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অর্জনে উৎসব চলাকালীন সময়কালে কাকতালীয়ভাবে চৈক্ষ্যং এর ঘটনা টি ঘটে।যে কারনে ঠিক এমন সময় কাটপিস ভিডিও কে চালিয়ে আন্দোলন এর বিষবাষ্প ছড়িয়েছে মহলটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ইউএনও মেহরুবা ইসলাম যোগদানের পর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা,যানজট নিরসন,তৃণমূলে সরকারি পরিসেবা বৃদ্ধি,পরিবেশ-পরিষ্কারের উন্নয়নের ডাক গিয়ে ‘অগ্রযাত্রায় আলীকদম’ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছেন।বিশেষ করে সীমান্ত চোরাচালান বন্ধে বেশ কয়েকটি হাইভোল্টেজ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন।যে কারণে আলীকদম উপজেলায় গরু চোরাচালানিদের খবর দুই দিন পরপরই খবরের পাতায় স্থান পাচ্ছিলো।এতে গরু ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েন তিনি।ট্রফি ছুঁড়ার দুই দিন আগেও আলীকদমে চোরাচালানের অভিযোগে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রাণি সনদ জাল এর অভিযোগে মামলা হয়।মামলার দুইদিন পরই তাকে ইউএনও প্রত্যাহার এর দাবিতে করা বিক্ষোভ মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ তার ফেসবুক আইডিতে ইউএনও কে উদ্দেশ্য করে লিখেন, আপনি চোরাই পশু জব্দ ও মন্দ কাজ বন্ধে ছিলেন অকুতোভয় বীরঙ্গনা সখিনার প্রধান উত্তরসূরি।

স্থানীয় শিক্ষক মংচাথুই মার্মা বলেন,দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাদক ও গরু চোরাকারবারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন।কিন্তু যিনি সরকার ও জনগণের উপকার করেছেন তার বিরুদ্ধে কাহিনী তৈরী করা হলো।এটি কোন বিষয় না।

প্রসঙ্গত,গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মাংতাই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আবাসিক যুব স্বাধীন সমাজের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে খেলোয়াড়দের দুইপক্ষের ঝগড়াকে শান্ত করার জন্য তাদের সম্মতিতেই ট্রফি টেবিলে ছুড়ে মারেন ইউএনও।কিন্তু দীর্ঘ সময়ের ভিডিও- কে কাটপিস করে পুরো ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রকাশ করে আলীকদম এর একটি মহল ইউএনও’র বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়।

পরবর্তীতে ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন,খেলায় আবাসিক দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।মঞ্চে অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য দেওয়ার পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরুর আগে হট্টগোল বাধে দুই টিমের মধ্যে।এতে খেলোয়াড়রা ইউএনওকে ট্রফি কাউকে না দিয়ে ভেঙে ফেলার আহবান জানায়।পরে ট্রফি ছুড়ে ফেলেন ইউএনও।এ ঘটনায় আমাদের কোনো অভিযোগ ছিল না।

চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,খেলোয়াড়রা ট্রফি নিতে চাচ্ছেনা। পরে খেলোয়াড়দের অনুমতিতে ইউএনও ট্রফি ছুঁড়ে ফেলার পরও কোন সমস্যা হয়নি।তরে রাতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন একটি মহল।এমনকি তাঁরা তাদের প্রাইজমানিও সাদরে গ্রহণ করেছেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়িমং মার্মা বলেন,চোরাচালান বন্ধে এবং তামাক চাষ নিরূৎসাহিত করতে ইউএনও পদক্ষেপ নেন। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’ করে মুক্তিযোদ্ধের অগ্রনায়কের নামকে সমুন্বত করেছেন।তৃণমূলে সরকারি পরিসেবা,গরু চোরাচালান বন্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সংশ্লিষ্টরা।তারা ট্রফি ভাঙাকে ইস্যু করে আন্দোলন করেছে।

উল্লেখ্য,গত ২৪ এপ্রিল মেহরুবা ইসলাম বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
November 2022
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!