এই মাত্র পাওয়া :

শিরোনাম: সাদেক হোসেন চৌধুরী’কে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ২ বান্দরবানে শেখ কামাল আন্ত: স্কুল ও মাদ্রাসা এ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২৩ অনুষ্ঠিত বান্দরবান ডায়াবেটিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বান্দরবান সদর থানার আয়োজনে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত বান্দরবানে জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত সম্প্রীতি আর উন্নয়ন নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিঃ মন্ত্রী বীর বাহাদুর পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বান্দরবান গড়ার লক্ষ্যে বান্দরবানে ছাত্রলীগের আয়োজনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেখ কামাল যুব গেমসঃ চট্রগ্রাম বিভাগের বক্সিং প্রতিযোগিতায় বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার জয়জয়কার

বিএনপি’র দফতরে চলছে তুঘলকি কান্ড


প্রকাশের সময় :১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:২৭ : অপরাহ্ণ 445 Views

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-রাত ১টা ৪০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিবৃতি,দলের দ্বিতীয় কর্ণধর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব উল্লেখ করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতি,দলের গুরুত্বপূর্ন নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ্ এর মৃত্যুদিনে তার জন্য শোক প্রকাশ না করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা।এ সবই বিএনপির দফতরের কার্যক্রম।এর বাইরেও রয়েছে আর্থিক কেলেঙ্কারীসহ নানাবিধ অভিযোগ।
নেতাকর্মীরা জানান,গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ মারা যান।কিন্তু বিএনপির এই সিনিয়র নেতার মৃত্যু সংবাদ বা দলীয় চেয়ারপার্সনের শোকবার্তা প্রকাশের পরিবর্তে মহিলা দলের নতুন কমিটির খবর গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।দফতরের এমন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিএনপির নেতারা।২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যূত্থান দিবস উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপার্সনের পাঠানো বিবৃতিতে অন্তত ১০টি ভুল পাওয়া গেছে।২৬ জানুয়ারী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় গ্রেফতারী পরোয়নার প্রতিবাদে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতিতে তারেক রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।এছাড়া প্রতিদিন বিএনপির দফতর থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের মুঠোফোনে যে সকল খুদে বার্তা পাঠানো হয় তাতেও থাকে ভুলের ছড়াছড়ি। দলের একজন নেতা জানান,গত ১৪ মার্চ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা উপলক্ষে দলের সহ দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ নেতাদের নিকট “জবপঢ়বপঃবফ খরফবধৎ, ইঘচ ঈযধরৎঢ়বৎংরড়হ উবংযহবঃৎর ইবমঁসব কযধষবফধ তরধ ডরষষ মড় ঃড় উযধশধ ঔঁফমব ঈড়ধৎঃ ঞড়সড়ৎৎড়ি ( ১৪ গধৎ) ৯অগ. চষং অঃঃবহফ ঞযবৎব.জবমধৎফং-ইবষধষ অযধসবফ.” ক্ষুদে বার্ত পাঠান।আবার ৩১ মার্চ রাত ১টা ৪০ মিনিটে গণমাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিবৃতি পাঠানো হয় কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই।দলটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন,দফতর সম্পাদক ব্যতিতই চলছে বিএনপির দাফতরিক কার্যক্রম। দির্ঘ্য দশ বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ন এ পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে।ফলে স্বাভাবিক নিয়মে দলের দাফতরিক কাজে কোন গতি আসেনি বিগত দিনে।গত বছর দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শেষে ঘোষিত কমিটিতেও এ পদের বিপরীতে কাউকে রাখা হয়নি।দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকেই পূনরায় দায়িত্ব দেয়া হয়।তিনি এর আগেও যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনজনকে সহ দফতর হিসেবে নতুন কমিটিতে স্থান দেয়া হলেও এদের মধ্যে দুইজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।তাদের দাফতরিক কার্যকমে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে অপরদিকে প্রতিনিয়ত বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে নেতাকর্মীদের।আর এ কারনে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবি ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ড.জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির দফতরের কর্মকান্ডের কড়া সমালোচনা করেন।তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চান,রিজভী যে সকল বক্তৃতা-বিবৃতি দেন তা চেয়ারপার্সনের সঙ্গে আলোচনা করে দেন কিনা।জবাবে, মির্জা ফখরুল কোনো উত্তর না দিয়ে নীরব থাকেন। ড. জাফরুল্লাহ ওই সময়ে রিজভী আহমেদকে উদ্দেশ্য করে প্রতিনিয়ত সংবাদ সম্মেলনের রেওয়াজ বন্ধের আহ্বান জানান।এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সহ-দফতর সম্পাদক বলেন,দফতরে কাজের কোনো সমন্বয় নেই। রিজভী ভাই যাকে ইচ্ছা তাকেই কাজ করতে দেন।দাফতরিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে বণ্টন না হওয়ায় কেউই মনোযোগী হয়ে কাজ করতে পারছে না।বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান,দলের একটি শক্তিসালী সিন্ডিকেট দফতরকে কব্জায় রেখে নিজেদের মতো করে পুরো পল্টন কার্যালয়ে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন দির্ঘদিন ধরে।তাই আগের মতোই অন্য পদ-পদবী থেকে দত্তক নেতা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রচেষ্টায় হতাশ হয়ে পড়ছেন দলের নেতাকর্মীরা।বিএনপির েেমতা বড় একটি রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র কোন দফতর না থাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অনেক সমস্যা শুধু জিইয়ে রাখা হচ্ছে তা নয়,একধরনের স্বৈরতান্ত্রিকভাবে দলের প্রধান কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে বলেও অনেকের অভিযোগ।তারা জানান,সহ দফতর সম্পাদক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা তাইফুল ইসলাম টিপুকে রাখা হয়েছে।এর আগে তার বিরুদ্ধে পদ-বানিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার দূর্নীতর অভিযোগ ও প্রমান সহ সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।তিনি রিজভী আহমেদের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত হবার কারনে বিএনপির বিগত কমিটির সদস্য থেকে তিনি এ পদে চলে আসেন।তাইফুল ইসলাম টিপুর সিনিয়র হওয়ার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মনির হোসেন মনিরকে দ্বিতীয় সহ দফতর সম্পাদক করা হয়েছে নতুন কমিটিতে।তৃতীয় সহ দফর সম্পাদক বেলাল আহমেদ এর বিরুদ্ধেও হত্যা,আর্থিক কেলেঙ্কারীসহ শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে।সে ফেনী জেলা পৌরসভা বিএনপির জনপ্রিয় নেতা হতা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী। নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন,রিজভী আহমেদ একদিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং দলের একধরনের স্পোকস্ম্যান হিসেবে ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন করেন।অপরদিকে দফতরে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে,এদিকে রুহুল কবীর রিজভীর কর্মসূচি কভার করতে যেভাবে খুদে বার্তা পাঠানো হয় তা মির্জা ফখরুলের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হয় না।বিএনপির মহাসচিবের প্রতিদিনের কর্মসূচির খবর হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।বিএনপি সূত্র জানায়,ওয়ান ইলেভেনের জরুরী সময়ে দলের দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে তৎকালীন মহাসচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপি থেকে বহিস্কার করার পর নতুন করে কাউকে এই পদে নিয়ে আসা হয়নি।পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলের সহ দফতর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীকে যুগ্ম মহাসচিব পদে উন্নিত করার আগে থেকেই তিনিই দফতরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।এরপর একাধারে তিনি দলের মুখপাত্র এবং অনেক গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দফতরের দায়িত্বও পালন করছেন।সূত্রটি জানায়, দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত রুহুল কবির রিজভী বিগত বছর গুলোতে দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য এ শাখার দায়িত্বশীলদের নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন বৈঠক, পরিকল্পনা কিংবা দফতর টিম নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এমনকি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর সাথেও কোন বৈঠক করেননি বিগত দিনে। আবার দাফতরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য সহ দফতর সম্পাদকদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টনের কাজটিও করা হয়নি বলে জানা গেছে।এসব বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ জানান, যে কোন রাজনৈতিক দলের দফতর শাখা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এখান থেকেই দলের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি যোগসূত্র তৈরী করা হয়। আর এ শাখাটিকে মূলত দলের মহাসচিব এর অধিনে সুবিন্যস্ত করার নিয়ম থাকলেও বিএনপিতে এর ব্যত্যয় ঘটছে কয়েক বছর ধরে। তারা বলেন, দলের মহাসচিবের নিয়ন্ত্রনে দাফতরিক কাজ সম্পন্ন সহ সারাদেশের নেতাকর্মীদের সুবিধা-অসুবিধাসহ, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবিদের সাথেও সমন্বয় করে থাকে এ দফতর শাখা। কিন্তু এখন বিএনপির মহাসচিব এর নিয়ন্ত্রনে কতটুকু দফতর কাজ করছে তা আমরাও জানি না।(((আরটিএনবিডি)))

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
February 2023
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!