সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট,বালির বদলে পাহাড়ি মাটি!!!


প্রকাশের সময় :২৯ মে, ২০১৮ ৬:৫৩ : পূর্বাহ্ণ 606 Views

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবানে গুংরু আগাপাড় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে চলছে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি। সড়কে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের ইট এবং বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি। ফলে, নির্মাণাধীন এ সড়কে বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে।প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকায় দেড় কিলোমিটার ইটের সলিং রাস্তা এবং ড্রেইন নির্মাণ তৈরির কাজটি মেসার্স আজিজুর রহমানের লাইসেন্সে বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার মোহাম্মদ মোজাফ্ফর।

কার্যাদেশ অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণে এক নাম্বার ইট এবং সলিংয়ে ইটের নিচে ৩ ইঞ্চি এবং উপরে ১ ইঞ্চি বালির প্রলেপ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার নির্মাণ কাজের কার্যাদেশের কোনো শর্তই মানছেন না।

নির্মাণাধীন সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে কৌশলগতভাবে মওজুদ করে রাখা হয়েছে উন্নত মানের ইট এবং ঝংকার খালের বালি। তবে সড়ক নির্মাণে এসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। লোক দেখানোর কৌশলগত কারণেই এগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শৈমং মারমা, হ্লাগ্যচিং মারমা, থোয়াইচিং প্রু জানান, সড়ক নির্মাণে এক নাম্বার ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও ২ নাম্বার এবং ৩ নাম্বার ইটও ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তায় ইটের নিচে এবং উপরের অংশে বালি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। অথচ পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি ছড়ায়ও কালো বালি রয়েছে।

মাটি না দিয়ে ছড়ার কালো বালি দিলেও রাস্তাটি টেকসই হতো। কিন্তু নিম্নমানের ইট এবং পাহাড়ের মাটি দিয়ে সড়কটি নির্মাণের কারণে দু’দিনের বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মোহাম্মদ মোজাফ্ফর বলেন, ‘কার্যাদেশ অনুযায়ীই সড়ক নির্মাণে এক নাম্বার ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের অভিযোগটি সত্য নয়। বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ক্ষয় হয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে এসে জমেছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী সোমনাথ জানান, দেড় কিলোমিটার সড়কটির মাত্র দুইশ’ থেকে তিনশ’ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে উন্নয়ন কাজটি তদারকি করতে নিয়মিত যেতে পারেননি তারা। অনুপস্থিতির সুযোগে শ্রমিকেরা একটুক্ষণ পর পর ইট এবং মাটি ব্যবহার করে সড়কের কিছু অংশ নির্মাণ করেছে। বৃষ্টির কারণে ভেঙে গেছে সড়কের বেশ কিছু স্থান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘নির্মাণকাজে অনিয়ম চোখে পড়ায় কাজটি ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তৈরি করা কয়েকশ’ ফুট সড়কের ইটগুলো খুলে নতুনভাবে আবারও সড়কটি নির্মাণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ (((প্রিয় ডটকম)))

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
April 2024
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!