এই মাত্র পাওয়া :

কুদ্দুছ চেয়ারম্যান কে বাস্টার্ড (জারজ সন্তান) বললেন জাবেদ রেজা,জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড়


প্রকাশের সময় :৫ আগস্ট, ২০১৭ ৯:৩১ : অপরাহ্ণ 653 Views

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবান জেলা বিএনপি তে কাদা ছোড়াছুড়ির দীর্ঘ পুরনো ইতিহাস রয়েছে।এক পক্ষ আরেক পক্ষ কে ঘায়েল করতে সবসময় তৎপর থাকে এবং দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে এই জেলায় বিএনপি নেতারা তা একটু বেশী বেশী অপচর্চা করে।কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে বান্দরবানে জেলা বিএনপির একাংশের ঘোষিত নতুন পৌর বিএনপি কমিটির পরিচিতি সভায় প্রকাশ্য দিনদুপুরে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক দাবীদার জাবেদ রেজা বান্দরবান জেলা বিএনপির শীর্ষ জনপ্রিয় নেতা ও বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ কে ইংরেজী শব্দের গালি বাস্টার্ড (জারজ সন্তান) সম্ভোধন করে জেলার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে কলংকের নতুন তিলক একে দিয়েছেন বলে অভিমত ব্যাক্ত করেছেন বান্দরবানের সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক সংশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।পৌর বিএনপির কমিটি পরিচিতি সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাবেদ রেজা সরাসরি ঔদ্ধতপূর্ণ হুমকি দিয়ে কুদ্দুছ চেয়ারম্যান কে ঘর থেকে বের হতে না দেয়ার যে অরাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেছেন তা নিয়ে বান্দরবান জেলা জুড়ে ছিঃছিঃ পরে গেছে এবং তার রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভুত আচরণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য, বান্দরবানের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছোটবড় কিংবা মধ্যম অথবা উচ্চ পর্যায়ের কোনও নেতাই অতীতের কোনও সময়ে প্রকাশ্য জনসভায় এমন কুরুচীপূর্ণ অশালীন ও অশ্লীল ব্যাক্তি আক্রমন করে বক্তব্য রাখতে দেখা না গেলেও জাবেদ রেজা তাঁর বক্তব্যে সকল ধৃষ্টতাপূর্ন আচরণের সীমারেখা অতিক্রম করেছে।তাদের ভাষ্যমতে সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি কুদ্দুছ চেয়ারম্যান কে প্রকাশ্য জনসভায় জারজ সন্তান সম্ভোধন করে জাবেদ রেজা তার পারিবারিক বংশ পরিচয়ের সুন্দর একটি অবস্থান জেলাবাসীর সামনে উপস্থাপন করলেন।এতে জাবেদ রেজার পারিবারিক অতীত ইতিহাস সম্পর্কে মানুষ জানতে পারলো।একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে জনগণের ভোটে বারবার জয়ী হওয়া কুদ্দুছ চেয়ারম্যান কে ওইভাবে সন্ত্রাসীর মতো হুমকি প্রদান করে জাবেদ রেজা বান্দরবানের সম্প্রীতির রাজনীতিতে প্রতিকুল পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগাম সংকেত জারি করেছেন বলেও অনেকে বলাবলি করছেন।এতে একদিক থেকে বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ এর জীবন শংকার মধ্যে পরেছে বলেও অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন।এবিষয়ে বান্দরবান এর সচেতন নাগরিকেরা বলছেন,বান্দরবান জেলার ইতিহাসে রাজনৈতিক পদ পদবীধারী পরিচয় দিয়ে জেলার সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক চাদাবাজঁ হিসেবে পরিচিত জাবেদ রেজার এই ধরনের ন্যাক্কারজনক হুমকি বান্দরবান জেলার শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন এর রাজনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত।সচেতন নাগরিকরা বলছেন,রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু তাই বলে একজন সম্মানিত সর্বজনগ্রাহ্য পরম শ্রদ্ধেয় সফল রাজনৈতিক ব্যাক্তি এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ কে জারজ সন্তান সম্ভোধন করে জাবেদ রেজা মূলত আলোচনায় আসতে চাচ্ছেন।পরিচিতি সভায় তিনি যে ভাষায় হুংকার ছেড়ে বার্মিজ বামের কথা বলেছেন তাতে বান্দরবানবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে তাঁর পুর্ব পুরুষের জন্মস্থান সম্পর্কে।বান্দরবান জেলা একটি শান্তির শহর,এখানে কেউ কখনও কাওকে হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে পারে না।তাছাড়া জাবেদ রেজা যদি নিজেকে বগুড়ার তুফান সরকারও মনে করে থাকে তবে তা হবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এর জন্য মারাত্বক একটি ভুল সিদ্ধান্ত।অভিজ্ঞ মহলের দাবী অতীতে বান্দরবানে সন্ত্রাস করে কেউ রাজনীতিতে টিকতে পারেনি,তেমনি বান্দরবান এর আপামর জনসাধারণের নয়নের মণি ও বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ কে জারজ সন্তান সম্ভোধনকারী জাবেদ রেজার রাজনীতিও টিকবে না।বান্দরবান পৌরশহরে বসবাসরত অনেকেই তাঁর এই কুৎসিত দাম্ভিকতায় পরিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন,জাবেদ রেজা তরুণ উদীয়মান একজন বিএনপি নেতা।তাঁর মুখে এমন বক্তব্য শোভা পায়না।তাকে মনে রাখতে হবে বান্দরবানের সাধারণ জনগণ সন্ত্রাস নৈরাজ্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা।তিনি যে ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন তা রাজনৈতিক কোনও ক্যাডার এর বক্তব্য হয়ে গেছে।এতে বিএনপি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।এই বক্তব্যে বান্দরবান জেলায় বিএনপির ভাবমূর্তি অনেকাংশেই ক্ষুন্ন হয়েছে।ব্যাক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি যে ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন তা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং ন্যাক্কারজনক।এই ভাষার রাজনৈতিক বক্তব্য কোনও ভাবেই মেনে নেয়া যায়না।এদিকে জাবেদ রেজার অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত (বিএনপি জামায়াত জোট শাষনামলে) বান্দরবানের পৌর নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০০৯ ও ২০১৪ এর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে এই জাবেদ রেজা কে নিয়ে সংগঠিত একটি গ্রুপ কুদ্দুছ চেয়ারম্যান এর পরাজয় নিশ্চিত করতে অন্ধকারের চোরা পথে নানাভাবে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো।যা জেলার রাজনীতিতে ওপেন সিক্রেট একটা বিষয়।কিন্তু তাঁর সিন্ডিকেট ২০০৪ এর পৌর নির্বাচনে তৎকালীন সময়ের জোট সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ কে হারিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে সফল হলেও বিগত ২০০৯ এবং ২০১৪ এর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করেও কুদ্দুছ চেয়ারম্যান এর জয়ের ধারা রুখতে পারেনি।যা জাবেদ রেজা ও তাঁর গ্রুপে থাকা চক্রান্তকারীদের মধ্যে এক ধরনের আক্রোশ তৈরী করেছে।সর্বমহলের ধারণা চরম আক্রোশের বশবর্তী হয়ে জাবেদ রেজা তাঁর পিতৃতুল্য পিতার বয়সী একজন সিনিয়র বিএনপি নেতা ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ কে প্রকাশ্য জনসভায় জারজ সন্তান হিসেবে সম্ভোধন করে বক্তব্য প্রদান করেছে।এদিকে জাবেদ রেজার এই ঔদ্ধতপূর্ণ দাম্ভিক আচরণ কে বান্দরবান পৌরশহরে বসবাসরত অনেকে স্বাভাবিক একটি ঘটনা বলেই ধরে নিয়েছেন।তাদের ভাষ্যমতে অতীতে বান্দরবান পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাবেদ রেজার এই দাম্ভিকতার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছিলো।কিন্তু বিগত পৌর নির্বাচনে বান্দরবান পৌরবাসী তাঁর এই দাম্ভিকতার জবাব দিয়েছিলো ব্যালটের মাধ্যমে।যার ফলে তিনি ভোটের রেজাল্টশীটে ৩ নম্বর হয়েছেন এবং সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় বিগত পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রহমান বিপ্লবও জাবেদ রেজার চাইতে এক হাজার ভোট বেশী পেয়েছেন।পৌর নির্বাচনের পর তিনি কিছুটা নিরব হয়ে গেলেও হঠাৎ করে জেলা বিএনপির একাংশের আকস্মিক সাধারণ সম্পাদক হয়ে পুনরায় তিনি তাঁর দাম্ভিকতার আচরণে ফিরে আসেন।যাকে তাকে নিয়ে যখন তখন ঔদ্ধতপূর্ণ মন্তব্য করা শুরু করেন।যদিও জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি থাকাকালীন সময় একটা উন্নয়ন কাজের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এই জাবেদ রেজাই তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (২০০৪-৫ এর দিকে) মিসেস মেমাচিং এর থামি খুলে নেয়ার মতো অশ্লীল অশালীন ঔদ্ধতপূর্ণ একটি ঘোষণা দিয়ে সেসময় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন এবং সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন।এ থেকেই বুঝা যায় জাবেদ রেজা কতটা বিপদজনক একজন রাজনৈতিক নেতা।কুদ্দুছ চেয়ারম্যান কে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় ইংরেজী তে বাস্টার্ড (জারজ সন্তান) সম্বোধন করে বক্তব্য রাখার ধৃষ্টতা দেখালেও একই পরিচিতিসভায় বক্তব্য রাখার সময় সরকার দল তথা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে নিয়ে তিনি একটি শব্দও ব্যাবহার করার স্পর্ধা দেখাতে পারেন নাই।আওয়ামীলীগ নিয়ে কোনও শব্দ ব্যাবহার করতে না পারার কারন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিগত সময়ে মেয়র থাকাকালে জাবেদ রেজা সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে বিএনপির মেয়র হবার পরও আট থেকে দশবার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।আওয়ামীলীগ এরসঙ্গে আঁতাত করে পৌরশহরে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন।এসব সরকারি কাজ গুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ আয় করেছেন বলে লোকমূখে শোনা যায়।যে কারনে আওয়ামীলীগ এর রোষানল থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ কে বাস্টার্ড ডাকার ধৃষ্টতা দেখালেও আওয়ামীলীগ সরকার নিয়ে একটি শব্দের ব্যাবহারও তিনি এই পরিচিতি সভায় করতে পারেন নাই।যেকারনে বান্দরবানের জনসাধারণ তাঁর নীতি নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
December 2022
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!