বিদেশেও প্রশংসা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:২৪ : অপরাহ্ণ 211 Views

বিদায়ী বছরে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে দেশে ও দেশের বাইরেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, করোনা মহামারি মোকাবিলায় টিকা কর্মসূচি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ নানা অর্জন ও উদ্যোগের কারণে তিনি এই প্রশংসা পেয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন পার্শ্ববৈঠকে এবং জলবায়ু সম্মেলনে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা বিষয়ে কথা বলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন। বছরজুড়ে দেশের উন্নয়নের নানা অর্জনে নিজেও পেয়েছেন আন্তর্জাতিক দুটি পুরস্কার। পাশাপাশি ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেওয়া। সেটা তিনি করেছেন। করোনাকালে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মুখপাত্র হিসেবে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। টিকা কূটনীতি তিনি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারসাম্য বজায় রেখে রক্ষা করেছেন জাতীয় স্বার্থ। এটা তাঁর অনেক বড় অর্জন।

ঘর উপহার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছিল সরকার। এই মুজিববর্ষেই একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের জুন মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর আওতায় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী গৃহহীন পরিবার ছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। এ ছাড়া ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১ পরিবারের জমি থাকলেও ঘর ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারপ্রতি (স্বামী ও স্ত্রী যৌথ মালিকানা) ২ শতক সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে দুই কক্ষের সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ বিনা পয়সায়। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দেওয়া তথ্যানুসারে, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯ পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে আরও ২৩ হাজার ৪৫৯ ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জমি কিনে ৭ হাজার ৬০৯টি ঘর তৈরি করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে ঘর হয় কি না, কতটা দুর্নীতি হলো সেই আলোচনাগুলো এক পাশে থাকবে। ঘর তৈরির পেছনের চিন্তাটাই হলো আসল। একটা ঘর মানে একটা লোকের সন্তুষ্টি, ক্ষমতায়ন। এই বিষয়গুলোকে আমি বড় করে দেখি। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।’

বিনা মূল্যে করোনা টিকা
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার পরপরই পুরো বিশ্ব অচল হয়ে যায় করোনার ভয়াল থাবায়। বন্ধ হয়ে যায় দেশে দেশে যাতায়াত। এমনকি প্রায় সব দেশের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনই এক পরিস্থিতিতে গত বছরের শেষে আশার আলো জাগিয়ে আসে করোনার টিকা। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেশের মানুষ বিনা মূল্যে টিকা পাবে। এরপর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করা হয় সেরামের সঙ্গে। কিন্তু ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ায় টিকা রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। এতে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় বাংলাদেশের টিকা কর্মসূচি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি দিকনির্দেশনায় চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনে বাংলাদেশ। টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্নার পাশাপাশি সিনোফার্ম এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও আসে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জনকে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩ জন। এ ছাড়া এদিন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে ৪৪ জনকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, কূটনীতিতে বড় দুটি জিনিস ঘটেছে। তার মধ্যে করোনা টিকা আমদানির ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কিছু বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল দেশ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে তা সামাল দিয়েছেন। তাঁর হস্তক্ষেপে একাধিক দেশ থেকে টিকা আনতে পেরেছেন।

জলবায়ু আলোচনায় শেখ হাসিনা
গত নভেম্বরে স্কটল্যান্ডের রাজধানী গ্লাসগোয় ২৬তম বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে (কপ-২৬) জলবায়ু বিপর্যয় রোধে চার দফা প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের সম্মেলনে তাঁর নেতৃত্ব ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা সবার নজর কেড়েছে। কপ-২৬ জলবায়ু আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রভাব রাখছেন এমন পাঁচ প্রভাবশালী আলোচকের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এ তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, কপ-২৬ সম্মেলনের সফলতা কিংবা ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করছে প্রভাবশালী এই পাঁচ ব্যক্তির ওপর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী আজকের পত্রিকাকে বলেন, জলবায়ু কূটনীতির ক্ষেত্রে এবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর সর্বোচ্চ বিচরণ করেছেন। এটা কোনো অংশে কম নয়।

মহামারিতেও গতিশীল অর্থনীতি
করোনার কারণে ২০২০ সালে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। স্থবির হয়ে গিয়েছিল অর্থনীতির চাকা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে অর্থনীতির চাকা মহামারির চরম স্থবিরতার মধ্যেও সচল থেকেছে। যদিও গতি খানিকটা কমে গিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, পরের অর্থবছরে বাংলাদেশে আরও বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটির পূর্বাভাস, বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কেউ হয়তো বলবে আমাদের ইমিউনিটি ভালো, আমাদের আবহাওয়া সহায়তা করেছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সরকারের পদক্ষেপের কারণেই অর্থনীতি সচল থেকেছে। এ কারণে আমরা খুব তাড়াতাড়ি পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটতে পেরেছি।’

অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণভাবে মহামারি সামলে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মকে না যাওয়া নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় হলো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখা। এই দুটি প্রধানমন্ত্রীর অর্জন।’

দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের কারণে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দারিদ্র্যদূরীকরণ, বিশ্বের সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে নেতৃত্বদান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে ‘উইটসা এমিনেন্ট পারসনস অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ পদক দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ৮০টি দেশের সদস্যভুক্ত সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স’ তথ্যপ্রযুক্তির অলিম্পিক খ্যাত ‘উইটসা ২০২১’ পুরস্কার দিয়েছে।

বিদায়ী ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীর আরও অনেক অর্জন রয়েছে, যা প্রশংসিত হয়েছে দেশে-বিদেশে, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
May 2024
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!