দল দেখে ত্রাণ দেওয়া যাবে না


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৭ এপ্রিল, ২০২০ ৪:৫৬ : অপরাহ্ণ 416 Views

কে কোন দল করে এই সংকটকালে তা না দেখে ত্রাণ বিতরণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। লকডাউনের মধ্যে দুর্দশায় পড়া শ্রমজীবী মানুষকে ১০ টাকা কেজি দরের চাল দিতে রেশন কার্ডের সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

দেশে কভিড-১৯ রোগের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। তা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে সুনির্দিষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে জনগণের জন্য। কে কোন দল করল, কে কার পক্ষে, কে আমার পক্ষে না, কে আমার ভোটার, কে আমার ভোটার না- সেটা দেখার দরকার নাই। যার অবস্থা খারাপ, যিনি দুস্থ, যার ঘরে খাবার নেই, তার ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্দেশ চলে গেছে যাতে করে সঠিক নামটা আসে। নইলে অনেক সময় দেখা গেল যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের কয়েকজন বাছা লোক দিল, কমিশনার তাদের ভোটারদের দিল, কেউ বাদ পড়ল। এই বাদটা যেন না পড়ে।’ এই সংকটে একটি মানুষও যেন খাবারের কষ্ট না পায় সে দিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত অসহায় মানুষকে খুঁজে পেতে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করতেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সাহায্য দিচ্ছি। এই সাহায্যে কেউ থাবা দিক আমরা চাই না। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে সেটা আমরা কখনও বরদাশত করব না।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে যেহেতু সবকিছু এখন বন্ধ, অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে যারা দিনমজুর, যারা কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, যারা খেটে খাওয়া মানুষ, ছোটখাটো ব্যবসায়ী, এমনকি নিম্নবিত্ত তাদেরও কষ্ট হচ্ছে। সেটা মাথায় রেখে আপনারা জানেন যে আমরা ইতোমধ্যে একটা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছি, যেখান থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা সহযোগিতা করব এবং সেটা আমরা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা শুরু করেছি।’

যারা হাত পেতে খেতে পারবে না তাদের জন্যও ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের ৫০ লাখ মানুষের জন্য রেশন কার্ড করা আছে, তারা ১০ টাকায় চাল পান, আমরা আরও ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ড করে দেব।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সুরক্ষিত থাকতে গিয়ে কারও প্রতি যেন অমানবিক আচরণ করা না হয়, দেশবাসীর প্রতি সেই আহ্বানও রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। টাঙ্গাইলের সখীপুরে গত সোমবার রাতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ৫০ বছরের এক নারীকে তার স্বামী-সন্তানদের জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে এই আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। সাবধানে থাকতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, অমানবিক আচরণ করতে হবে। সেটা আপনারা করবেন না।’ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অনেক সময় অমানুষে পরিণত হয় মন্তব্য করে তার দৃষ্টান্ত হিসেবে সখীপুরের ওই ঘটনা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা দেখি মায়ের একটু সর্দি-কাশি জ্বর হলো দেখে ছেলে, ছেলের বউ বা ছেলেমেয়ে মিলে এমনকি তার স্বামী পর্যন্ত তাকে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে আসে। এর থেকে অমানবিক কাজ আর হতে পারে না।’

বাংলাদেশে কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটবে সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অমানবিক হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারও যদি সন্দেহ হয় তাহলে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তার পরীক্ষা করান। নিজেরাও সুরক্ষিত হোন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। যে কোনো মানুষ যে কোনো দিন মরতে পারে। আজকে আমি কথা বলছি এখানে বসেও মরতে পারি। বা যে কেউ মরতে পারে। এটা কেউ বলতে পারে না যে আমি বেঁচেই থাকব। কেউ বলতে পারবে না। একমাত্র আল্লাহ বলতে পারেন।’

সুরক্ষিত থেকে, শান্তভাবে ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংকট মোকাবিলার পরামর্শ ?দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে যে একটা ভাইরাস এসে সারাবিশ্বকে এ রকম ঘরবন্দি করে ফেলবে, এটা কি কেউ ভেবেছে? সারাবিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ, তাদের শক্তির দাপটে পৃথিবী অস্থির। আবার শক্তিশালী এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের লড়াই যুদ্ধ বা তাদের সংঘাত দেখেছি। অস্ত্রের মহড়া আমরা দেখেছি। সেই অস্ত্র, অর্থ, সেই সম্পদ কোনো কাজে লাগেনি, কোনো কাজে লাগবে না, লাগে না। সেটাই প্রমাণ করে দিল এই করোনাভাইরাস।’

করোনাভাইরাসের মধ্যে সবার সুরক্ষার স্বার্থে আসন্ন রোজায় মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসেই তারাবি নামাজ পড়তে দেশের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মসজিদে আপাতত জামাতে নামাজ না পড়ার বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলোও মেনে চলতে বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেওয়া ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে, সৌদি আরবে পর্যন্ত মসজিদে নামাজ বা জমায়েত হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারাবি নামাজ পর্যন্ত সেখানে জামাতে হবে না। সবাই ঘরে বসে পড়বে। ঠিক এভাবে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, এমকি ভ্যাটিকান সিটি থেকে শুরু করে সব জায়গায় কিন্তু এভাবে তারা সুরক্ষা করার ব্যবস্থা নিয়েছে।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
July 2024
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!