এই মাত্র পাওয়া :

বিল খেলাপিদের বিরুদ্ধে অভিযানঃ প্রথম দিনই বিতর্কের মুখে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগ


নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশের সময় :১৬ জুন, ২০২২ ৯:৪৩ : অপরাহ্ণ 1064 Views

বান্দরবানে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ বহু পুরনো।এ নিয়ে প্রায় সময়ই খবরের পাতায় শিরোনাম হয় বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অব্যাবস্থাপনা সম্পর্কিত নানা বিষয়।এর সাথে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং,বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মেরামতের নামে বিদ্যুৎ বন্ধের হুজুগে নোটিশ,মিটার না দেখেই বিল করা,ইজিবাইক মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহসহ নানা ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত রাষ্ট্রীয় সেবাখাত এর অন্যতম প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ।আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার বিষয়টিও টপ সিক্রেট বলা যায়।

যখন বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে তখন বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ যেনো ভিন্ন কোনও দেশের দুর্ভাগা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কোনও দ্বীপ কিংবা একটি জেলা।এখানে অনিয়মকেই যেনো নিয়মে পরিণত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।সর্বশেষ জেলা আইনশৃঙ্খলা সভাতেও বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে অনেক আলোচনা হয়।আইনশৃঙ্খলা সভায় বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়।একই সভায় বিদ্যুৎ বিল খেলাপিদের বিরুদ্ধে ২৫ই জুনের ডেডলাইন দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি বৈঠকে উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।এসময় তিনি সহযোগিতা কামনা করেন।

এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার (১৫ জুন) বিল খেলাপিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু হয়।জানা যায় বিল পরিশোধ এর নির্ধারিত তারিখ পার হওয়ার আগেই অনেকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।গত বুধবার (১৫ জুন) সকালে এমনই একটি ঘটনায় শুরু হয় বিতর্ক।জানা যায় গোরস্থান জামে মসজিদ মার্কেটের হোসামস রেস্তোরাঁ এর মালিক মুশফিকুর রহমানের বকেয়া বিল আদায় নিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠান কিংবা তাঁর বাসা বাড়িতে না গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁর বাবা মা বসবাসরত শেরেবাংলা নগর এলাকাস্থ সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ চেয়ারম্যান এর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় মুশফিকুর রহমান আদৌ ওই বাড়িতে বসবাসও করেনা এবং এই বিদ্যুৎ বিলটি ১৬ই জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিশোধের সময় ছিলো।আর বিলটি বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ মুশফিকুর রহমান এর বাবা ও মা বসবাসরত বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরই সেই খেলাপি বিলের কপিটি তাঁর কাছে পৌছায় বিদ্যুৎ বিভাগ এমনই অভিযোগ করেন মুশফিকুর রহমান নিজেই।এমনকি মুশফিকুর রহমান দাবি করেন,আমার খেলাপি বিদ্যুৎ সংযোগ টি আরও ৮ মাস আগেই বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।আমার বাবা-মা এর মিটার আর আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এর খেলাপি বিলের মিটার সম্পূর্ণ পৃথক পৃথক দুটি আলাদা মিটার।আমার বানিজ্যিক মিটার নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আবাসিক মিটার ব্যবহারকারী আমার বয়স্ক বাবা-মা কে যারা হয়রানি করলো তাদের কর্মকান্ড নিয়ে আদালতে যাবো।

এদিকে অভিযান চলাকালে জোর করে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল কুদ্দুছ চেয়ারম্যান এর সহধর্মিণী কাজী নিরুতাজ বেগম।সাংবাদিকদের তিনি জানান,আমার বাসার তো কোনও বিলই বকেয়া নাই।তাহলে গোরস্থান জামে মসজিদ মার্কেটে অবস্থিত রেস্তোরাঁ এর বকেয়া বিলের জন্য আমার বাসার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার যুক্তি কি আছে।মুশফিকুর রহমান আমার সন্তান হলেও সে তো আমার এই বাসাতেই থাকেনা।এবিষয়ে আমি আইনজীবীদের সাথে কথা বলে আইনের আশ্রয় নিবো।

এদিকে বান্দরবান জেলায় কর্মরত বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ আইনজীবীরা বলছেন বিষয়টি শুনে যা মনে হলো তাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এর বিচার কার্যটি প্রশ্ন তৈরি করেছে।কারণ বিচার প্রার্থীরা প্রথমেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার পেতে বিজ্ঞ বিচারকদের দরবারে ছুটে যায়।এখানে একজন বিজ্ঞ যুগ্ম জজ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং বিচারক এর উপস্থিতিতে যেভাবে পুলিশ দিয়ে বল প্রয়োগ এবং জোরজবরদস্তি করে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করার বিষয়টি শোনা যাচ্ছে তাতে নাগরিক এর সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে।

এইক্ষেত্রে বিল খেলাপির কারনে এক হাজার ফুট দুরবর্তী আরেকটি বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়াটা আইন সম্মত হয়েছে কিনা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।প্রাথমিকভাবে এই কাজটি অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ বলেই মনে হচ্ছে।

আইনজীবীরা আরও বলছেন,এই ঘটনায় উপস্থিত বান্দরবান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপসহকারী প্রকৌশলীসহ বান্দরবান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ আদালতের বিচারককে ভুল কোনও তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই ধরনের নজীরবিহীন ন্যাক্কারজনক একটি কান্ড ঘটিয়েছেন কিনা সে বিষয়টিও যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে সিএইচটি টাইমস ডটকম এর নিজস্ব অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অভিযান চলাকালীন সময়ে উপস্থিত উপসহকারী প্রকৌশলী মো.সাদেকুর রহমান কে ফোন করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।পরে এই উপসহকারী নিজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী কে ফোন কলের বিষয়টি জানালেও এই সাদেকুর রহমান কোনও বক্তব্য না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ফোনটি কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উপসহকারী প্রকৌশলী মো.সাদেকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করছে নানাভাবে।ইতিপূর্বে এই শেরেবাংলা নগর এলাকার বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে গিয়ে জনসাধারণের তোপের মুখে পরেছিলেন এই উপসহকারী প্রকৌশলী।এমনই একটি ঘটনায় কয়েক মাস আগে এই সাদেকুর রহমান কর্তব্যরত সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দিয়েছিলো এবং তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীকে উপস্থিত সাংবাদিকদের ছবি তোলতে নির্দেশ দেয়।পরে জনতার তোপের মুখে পরায় সেসময় ছবি না তোলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এবিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সুশাসন ও কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের উপসচিব এস.এম মাজহারুল ইসলাম বলেন,যেহেতু একজন যুগ্ম জজ উপস্থিত ছিলেন স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আমি এ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।তবে আপনারা সাংবাদিক হিসেবে ওই এলাকায় যেহেতু পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন সুতরাং এই ধরনের ভুল বুঝাবুঝি যাতে সৃষ্টি নাহয় তা নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে বসুন।কোথায় কিভাবে দুর্ঘটনা সৃষ্টি হচ্ছে তা তাদের কে জানান এবং সমস্যা গুলো যাতে পুনরায় না ঘটে সেটি নিশ্চিত করুণ।

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন,এই ধরনের একটি আইন আছে যদি বিল খেলাপি একই আঙ্গিনা বা একই এলাকার কেউ হয় তাহলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সহ আইনি বিধান অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিতে পারবে।কিন্তু একই আঙ্গিনা বা একই এলাকায় যদি নাহয় তাহলে অনেক সময় ভুল তথ্যের কারনে কিছু কিছু দুর্ঘটনা ঘটে যায়।বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।কারও প্রতি অবিচার করার কোনও সুযোগ নাই।তবে আমাদের গ্রাহকদেরও বিল পরিশোধে আগ্রহী হতে হবে।

এই প্রতিবেদন এর সুত্র ধরে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করছে সিএইচটি টাইমস ডটকম।ধারাবাহিক এই প্রতিবেদনে বান্দরবানের ৭ টি উপজেলার বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশে তথ্য সংগ্রহ করছে সিএইচটি টাইমস ডটকম।পরবর্তী প্রকাশনায় সেসব এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করবে সিএইচটি টাইমস ডটকম।

(অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব)

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
July 2022
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
ভিডিও নিউজ

চাকুরিচ্যুত কর্ণেল শহীদের স্ত্রী ও কন্যাদের এক বছরের জেল | Voice Of BD || NEW VIDEO

চাকুরিচ্যুত কর্ণেল শহীদ উদ্দিন খানের দলিল জালিয়াতি: অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার নানাবিধ অপকর্মের কাহিনী। সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের জমি জোর পূর্বক দখল করেছে কর্ণেল শহীদ উদ্দিন ও তার ক্যাডার বাহিনী।পূর্বের পর্বে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি এমন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার দেখুন এই প্রত্যেকের পাপের ফলাফল!!শেয়ার করতে ভুলবেন না!পূর্বের ভিডিওগুলো দেখুন আমাদের পেজের ভিডিও ট্যাবে।#BBC#কর্ণেল_শহীদ_উদ্দিন#দুর্নীতি#প্রতারক_মানি_লন্ডারিং#Voice_Of_Bangladesh

Posted by Voice of Bangladesh on Saturday, 8 June 2019

কর্নেল শহীদের স্ত্রী এবং কন্যাদের এক বছরের জেল

আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!