শিরোনাম: বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যের কোন বিকল্প নেইঃ বীর বাহাদুর উশৈসিং উপেন্দ্র লাল দাশ এবং মাতা শৈলবালা দাশ এর প্রয়াণ দিবসে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী ভজন কীর্ত্তন,ধর্মসম্মিলন ও মহানামযজ্ঞ বান্দরবান সেনা জোনের শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী উপহার পেয়ে খুশি দূর্গম ক্যাপলং পাড়া’র শিক্ষার্থীরা রোয়াংছড়িতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট উপহার “হার পাওয়ার” প্রকল্পের ল্যাপটপ বিতরণ স্মার্ট বান্দরবান-স্মার্ট ক্রীড়াঙ্গনঃ বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃ বিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর ট্রফি হস্তান্তর ও জিডিএস বিভাগের জার্সি উন্মোচন বান্দরবানে ধর্ষনের দায়ে ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড রুমা উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১ ৪০ হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করলো ২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন

বন্যার ক্ষতি কমাতে ৪৫০০ কোটি টাকার ঋণ বিশ্বব্যাংকের 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :১৮ জুলাই, ২০২২ ৮:২৯ : অপরাহ্ণ 96 Views

প্রায় প্রতি বছরই ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। সম্প্রতি সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলা এমন বন্যার কবলে পড়েছে। এ অবস্থায় বন্যা প্রবণ এলাকাগুলোতে আগাম প্রস্তুতি, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন পায়। শনিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

বিশ্ব ব্যাংকের এ ঋণে দেশের বন্যা প্রবণ ১৪টি জেলার সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঋণের অর্থ ‘রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অব অ্যাডাপ্টেশন অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি রিডাকশন (রিভার)’—প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঁচ শতাধিক বহুমুখী-বহুতল বন্যা আশ্রয়ণকেন্দ্র নির্মাণ, সংযোগ সড়ক এবং জলবায়ু সহনশীল সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। যা নদীভাঙ্গনজনিত ক্ষতি ও হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হবে। বন্যায় আপৎকালীন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সৌরশক্তি ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধা রাখা হবে। নারী ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রকল্প বন্যার আগাম প্রস্তুতিতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষজন ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সক্ষমতা বাড়াবে।

বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের গত ৫ দশকের অংশীদারত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পে উপকূলীয় এলাকার বাইরে বিভিন্ন বন্যা প্রবণ এলাকায় দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নতি করতে সাহায্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি শুধু দুর্যোগ পরবর্তী পদক্ষেপের পরিবর্তে দেশে শক্তিশালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি তৈরিতে সহায়ক হবে।’

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ নিচু এলাকায় অবস্থিত একটি ব-দ্বীপ। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবের এটি অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বন্যার মাত্রা ও তীব্রতাও বাড়ছে। প্রতি বছর বন্যা ও নদী ভাঙনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো বছর ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। আলোচ্য প্রকল্পটি তিস্তা–ব্রহ্মপুত্র–যমুনা, পদ্মা এবং সুরমা–মেঘনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত বন্যা প্রবণ জেলাগুলোর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সাহায্য করবে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ জেলার মানুষ এ প্রকল্পের উপকার পাবে।

এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের টিম লিডার ইগনাসিও উরুতিয়া বলেন, ‘এই প্রকল্প বন্যার সময় স্থানান্তর সুবিধা তৈরিতে সহায়তা করবে। এতে ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন) সুবিধা প্রদান করবে। একই সঙ্গে বন্য আক্রান্ত লোকজন ও গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত জায়গার সংস্থানও করা হবে। স্বাভাবিক সময় তারা এসব অবকাঠামো অন্য কাজেও লাগাতে পারবে।’

প্রকল্পের আওতায় দেশের বন্যা আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোর সংখ্যা ও সেগুলো কি অবস্থায় আছে ওপর একটি ডেটাবেইস তৈরি করা হবে। যা দুর্যোগ প্রস্তুতি জন্য এবং ভবিষ্যতের এ খাতে বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি বাংলাদেশের ডেলটা প্ল্যান–২১০০ এর জন্যও সহায়ক হবে।

এই নমনীয় ঋণ বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে পাওয়া যাবে। ৫ বছরের রেয়াতকাল (এ সময় কিস্তি দিতে হবে না) সহ ৩০ বছরে তা পরিশোধ করতে হবে।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
March 2024
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
26272829  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!