এই মাত্র পাওয়া :

আওয়ামীলীগের নৌকা ডুবে গেছে,টেনে তোলা সম্ভব নাঃ-(খালেদা জিয়া)


প্রকাশের সময় :১৭ জুন, ২০১৭ ৯:০৭ : অপরাহ্ণ 409 Views

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-‘নৌকা যে ডুবে গেছে-এটা বুঝতে পারছেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।শনিবার ২০ দলীয় জোটের এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন এই মন্তব্য করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইংগিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন,কিছু উদ্বোধন করছেন।আর সেখানে ওরা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নামে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।নৌকা যে ডুবে গেছে-এটা বুঝতে পারছেন না।এই নৌকা ডুবে গেছে,এই নৌকাকে আর আপনার হাজার লোক দিয়ে টেনেও তুলতে পারবে না।” ‘‘নৌকার সঙ্গে যাদের রেখেছেন,আশ-পাশে যারা আছে,আপনার ডানে-বায়ে যারা আছে,যারা অন্য দল করে আপনার দলে এসেছেতারা কী জিনিস।আপনি কিন্তু নিজেই বলে দিয়েছেন তারা কী খায়,কী রকম তাদের লাইফ স্টাইল।এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না,এরা দেশের কিছু করতে পারে না।আপনিও পারবেন না।” নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবি পূনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘আমি বলব একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন।সেই নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে,হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না,হতে দেয়া হবে না।কোনো দল অংশ গ্রহন করবে না।হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে,ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে।” খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।সেই নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার ভোট দিতে যাবে।সকলে এটা চায়,সারা পৃথিবীর মানুষ এটা চায়।ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে এই নির্বাচন হবে।”‘‘ সেই নির্বাচনের ফলাফল আপনারা বুঝতে পারবেন,ইনশাল্লাহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট জিতে এসে এদেশের মানুষকে যা যা ওয়াদা করেছি আমরা আমাদের ভিশন ২০৩০ এ।সব কিছু করবো,আরো কিছু করার আছে, সেটাও করব।” তিনি বলেন, ‘‘সামনে ঈদ।এই ঈদের মানুষ দেশে যায়।দেখেছেন রাস্তাঘাটের যে দুরাবস্থা।গতকাল পত্রিকায় ছবি দিয়েছে পাঁচ ঘন্টার রাস্তা দিয়ে ১০ ঘন্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে।আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘন্টা লেগে যায়। গাড়ীতে যাত্রীরা কী দুরাবস্থার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।” মহাসড়ক পাবলিক টয়লেট করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।পাবর্ত্য জেলায় পাহাড়ী ধসে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে ভুমিধসে মানুষগুলো মারা গেলো,তাদের উদ্ধার করা,তাদের পূর্ণবাসনে বর্তমান সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা আমরা দেখছি না,কোনো দায়িত্ববোধও দেখছি না।” জনগনের নয়,আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমনে ব্যস্ত।যেখানে চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে ঘটনা ঘটলো ১০টা কত মিনিটে ঘটলো, সেটা জানার পরও বেলা ১২টায় কত মিনিটে হাসিনা দেশ ত্যাগ করলেন।কেনো?দেশে এতো বড় ঘটনা,এখন পর্যন্ত ১৫২ জন মারা গেছে,আরো হয়ত মারা যাবে কিংবা অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেন।এতো বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদেশে যান।এটা কী জনগনের প্রতি তার(শেখ হাসিনা) দায়িত্ববোধ?আজকে(শনিবার) তিনি দেশে ফিরেছেন।এসে মায়াকান্না দেখাবেন হয়ত।” চালের মূ্ল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘‘চালের দাম যে এতো বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার,কেনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।দেশের মানুষ সবচেয়ে নিম্নমানে মোটা চালের দাম হলো ৫০ টাকা কেজি।” এছাড়া সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বেড়েছে।” বাজেটের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাজেটে কত কর বাড়িয়েছে,ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়েছে।যে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করেছেন,সেটার কোনো প্রয়োজন নাই।ব্যাংকের এক লাখ টাকা জমা রাখলে সেখানে ৮ ‘শ টাকা কেটে নিয়ে যাবে।কোনো মানুষের অর্থ থেকে একটা কাটছে? ‘‘ ব্যাংকের টাকা চুরি করেছে,দুর্নীতি হয়েছে।ব্যাসিক ব্যাংকে টাকা লুট হয়েছে, এখন মানুষের পকেট কেটে টাকা তা ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ করুন।” একাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সামনে নির্বাচন।আমি জনগনের উদ্দেশ্যে বলতে চাই. আওয়ামী লীগের চেহারা আপনারা ভালোভাবে দেখে নিয়েছেন।তাদের হাত থেকে বাঁচতে চান,সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে,গরীব-সাধারণ মানুষের পক্ষে,সমস্যা-সমাধানের পক্ষে,দেশের শান্তি-উন্নয়নের পক্ষে,স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে পক্ষে,তাদের পক্ষে থাকুন।সেই রকম দলই হলো বিএনপি ও ২০ দল।যাদের দেশপ্রেম আছে,প্রতিটি মানুষের সাথে সম্পর্ক আছে।”গুলশানের ইমানুয়েল সেন্টারে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা‘র প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়।গত ২১ মে প্রধান মারা যান।মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা খালেদা জিয়াসহ জোট নেতারা মোনাজাতে অংশ নেন।জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জোট নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম,এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ,কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম,এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,ন্যাপের জেবেল রহমান গানি,খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপি‘র খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তাজা,পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ,লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।অালোচনা সভার ২০ দলীয় জোটের শরিক মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল,সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভার পর মূলমঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,জাগপা‘র সদ্য প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের সহধর্মিনী অধ্যাপক রেহানা প্রধান,তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান,সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান,বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।ইফতারে জাগপার জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদুর রহমান খান,আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাছ, রাকিব উদ্দিন চৌধুরী মুন্না,খন্দকার আবিদুর রহমান,নিজাম উদ্দিন অমিত,শেখ জামাল উদ্দিন,কেন্দ্রীয় নেতা বেলায়েত হোসেন মোড়ল,শেখ ফরিদ উদ্দিন,নজরুল ইসলাম বাবলুসহ নেতৃবৃন্দ ইফতারে ছিলেন।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
December 2022
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!