আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৩ অপরাহ্ন    

Home » শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষাঙ্গন

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বিসিএস পরীক্ষায় থাকছে নতুন তৎপরতা,অব্যাহত আছে নজরদারি

নিউজ ডেস্কঃ-  দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় মেধা নির্ভর জাতি গঠনে আগামী ৩ মে অনুষ্ঠিতব্য বিসিএস পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নতুন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে সরকার।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এরই মধ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থায় সুফল পাচ্ছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। এবার বিসিএসকে নির্বিঘ্ন-নির্ঝঞ্ঝাট করতে সরকারের এমন পদক্ষেপ সত্যিই যুগান্তকারী।

সরকারের নির্দেশ মোতাবেক ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের সদিচ্ছা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে এরই মধ্যে সারা দেশ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের একাধিক সদস্যদের আটক করা হয়েছে। এর ফলে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকার। চলমান এইচএসসি পরীক্ষাতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন করতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ পিএসসির কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত আরও ১০ জন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এখন থেকেই বিসিএসেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপতৎপরতা রোধে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্যে তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

বিসিএস পরীক্ষায় সার্বিক পদক্ষেপ সম্পর্কে পিএসসির একজন কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নই আগামী জাতি গঠনে সহায়ক হবে তাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁস মুক্ত এবং নকল মুক্ত পরিবেশে বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করার। কেননা, বিসিএসে প্রতিযোগীরাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্যে যদি কেউ অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পায় তবে দেশ ও জাতি তার কাছ থেকে খুব বেশি উপকৃত হবে না। সুতরাং এ জায়গায় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।

প্রশাসনের বাড়তি সতর্কতায় ধরা পড়ছে ভুয়া প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যরা

নিউজ ডেস্কঃ-  সারাদেশের বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফাঁসের গুঞ্জন রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। বিগত সময়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি এবারও নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। এতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষাতেও গ্রেফতার হচ্ছে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেফতারকৃতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল প্রশাসন নয়; পরীক্ষায় নকল কিংবা প্রশ্ন ফাঁস রোধে প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষার প্রসার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ সবার মানসিকতা পরিবর্তনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন তারা। পাশাপাশি সৎ ও নিষ্ঠাবান লোকদেরকে এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করার ব্যাপারেও মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএসসি, এইচএসসি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনলাইনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা পরীক্ষার কিছু আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের এসব ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি শিক্ষকরাও। সরকারের জোর প্রচেষ্টায় তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, অর্থের লোভে এক শ্রেণির প্রতারক ও দালাল চক্র ভুয়া প্রশ্ন বানিয়েও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করে। এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিগত সময় এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলো, এখনও আছে। মাঠ-পর্যায়ে নজরদারি রাখায় চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, নকল কিংবা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কখনো কখনো পরীক্ষায় সন্তানকে বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার আশায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অভিভাবকরাও এই ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

প্রসঙ্গত, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যদের তৎপরতা কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেলেও এ পর্যন্ত অন্তত এই চক্রের ৭ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বান্দরবান সেনা রিজিয়ন এর বই বিতরণ

বান্দরবান অফিসঃ- বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ প্রতিষ্ঠিত ভাগ্যকুল-কদুখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন এর পক্ষ থেকে বই বিতরণ করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুর বারোটায় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে এই বই বিতরণ করা হয়।বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন বান্দরবান সেনা রিজিয়ন এর জি-টু মেজর ইফতেখার হোসেন।এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঙালী ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান,৩নং কদুখোলা ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য মালেক মেম্বার,বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের জেলা নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন।বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক মোঃহারুনের সঞ্চালনায় আয়োজিত বই বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করে বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক সুমল দাশ।এসময় বিদ্যালয় এর ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর ৩৬জন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়।এসময় বই বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বান্দরবান সেনা রিজিওন এর জি-টু ইফতেখার হোসেন বলেন,এটি একটি মহৎ আয়োজন,এটা এক ধরনের মানব সেবাও বলা যায়,অনেক দরিদ্র পরিবার আছে যারা তাদের আদরের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে বই কিনে দেওয়ার স্বাদ থাকলেও সামর্থের অভাবে সেটা তারা কিনে দিতে পারে না।সেই অভাবটাকে আজ বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কিছুটা হলেও পুরুণ করলো।ছাত্র-ছাত্রীরা এই বই নিয়ে আরো বেশী উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করবে এটাই আমি আশা করি।এই ধরনের উদ্যোগ আগামীতে আরও বৃদ্ধি করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বান্দরবান সেনা রিজিয়নের এই উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা।এমন প্রতিশ্রুতি শোনে স্থানীয় অভিবাবকরা বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শোনা যায়।

প্রশ্ন ফাঁস ছাড়াই শেষ হলো এইচএসসির ৪ বিষয়ের পরীক্ষা

নিউজ ডেস্কঃ-  পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা- ২০১৯। এ পর্যন্ত ৪টি বিষয়ে পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পরীক্ষাগুলো নির্বিঘ্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কঠোর অবস্থান, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতার কারণেই প্রশ্ন ফাঁস ও নকল মুক্ত পরীক্ষা সম্ভব হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এও বলছেন, এ পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজির দুইটি করে ৪টি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর দিন থেকে সারা দেশের সকল পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে কোনো ধরণের অনিয়ম ছাড়াই পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ মুখে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করে পরীক্ষার কক্ষে ঢুকতে দেয়ার কারণে পরীক্ষা সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চলমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো পরীক্ষার্থী যেন কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে না আসে সে সম্পর্কিত ব্যানার প্রতি কেন্দ্রের মূল ফটকে প্রদর্শন করার পাশাপাশি কক্ষ পরিদর্শকদেরকেও মোবাইল নিয়ে কক্ষে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে সূক্ষ্ম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক একরামুল হক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চার বিষয়ের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস মুক্ত পরিবেশে শেষ হয়েছে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সরকারের এই সফলতা ধরে রাখতে আমাদের সবার সজাগ থাকা উচিৎ। এমন পরিবেশে আমরা সন্তুষ্ট।

শিক্ষার্থীদের জন্য নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস মুক্ত পরিবেশ বজায় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অভিভাবক মহল। আগামীতেও সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

গ্রেফতার হচ্ছে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্র, গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা

নিউজ ডেস্কঃ- পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে চলমান রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ অভিযান। এতে একের পর এক গ্রেফতার হচ্ছে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্যরা। জানা গেছে, এবার পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুঞ্জন রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এরইমধ্যে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের বেশকিছু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে আইনি ব্যবস্থাও।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের বিভিন্ন সদস্যদের ওপর কড়া নজর রাখছে। এতে তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। এখন গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে মাঠে তৎপর রয়েছে বাহিনীর সদস্যরা।

পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বরাবরের মতো এবারও বিভিন্ন স্তরে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সচেতন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র পোস্ট ও গুজব রটনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দিয়ে নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ম্যাগনেট, অপটিক ও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর। ফলে কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সুযোগ নেই।

ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে চক্রটি বিভিন্ন ভুয়া পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ টিম অভিযান চলমান রেখেছে। তাদেরকে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

প্রশ্নফাঁস রোধে শুরু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি

নিউজ ডেস্কঃ-এটা সত্য বাংলাদেশে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো। এ প্রক্রিয়া এতটাই শৈল্পিক যে তা মানছে না শিক্ষার্থীর বয়স, শ্রেণি, পরীক্ষার ধরন, ঋতুর বৈচিত্র্য ইত্যাদি! আর এই ইতিহাস পরিবর্তনে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রশ্নফাঁসকারীদের যে বিশাল ‘সিন্ডিকেট’ তার সাথে পাল্লা দিয়ে পারেনি সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বারবার প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে এই সিন্ডিকেটটি, ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে তারা। তাই বলে বিষয়টা এমন নয় যে, একদমই ধরা যায়নি প্রশ্নফাঁসকারীদের। তবে সংখ্যাটা এতই নগণ্য যে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা সম্ভবপর হয়নি এতে।
১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যাতে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ভুয়া প্রশ্ন ছড়াতে না পারে সেজন্য সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া এই অপতৎপরতা বন্ধে আন্ডার কাভার অপারেশন চালাচ্ছে তারা। প্রশ্নফাঁস রোধে ইতোমধ্যে তারা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে। সেই সাথে চলছে সাইবার পেট্রোলিং। গতবছর প্রশ্নফাঁসবিরোধী অভিযানে সারাদেশে ১২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবারো এ ধরণের সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার করা হবে। তাই শত প্রলোভনের মধ্যেও অভিভাবক, ছাত্র ও শিক্ষকদের সযত্নে এ ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। কেউ যদি ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সে ক্ষেত্রে তাকেও ধরা হবে। এটাও জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের প্রতারণাকারী শিক্ষক-ছাত্র কিংবা দাগী অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। দু-একদিনের মধ্যেই আপনারা রেজাল্ট দেখবেন।’ এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি পরীক্ষা হলে পরিদর্শন করবেন। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে সেগুলো নিয়ে কাজ করবে বলেও জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার দেশের নয় হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আসনে বসছে। এর মধ্যে ছাত্র ছয় লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৬ জন এবং ছাত্রী ছয় লাখ ৮৭ হাজার নয়জন। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এইচএসসি পরীক্ষায় মোট অংশ নিচ্ছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন। এরমধ্যে ছাত্র পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৮১২ জন এবং ছাত্রী পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৫ জন। এই পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় এক লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন।
এবার দেশের বাইরের আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে এবং অটিজমসহ বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে, এমন শিক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়া যাবে।
এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১১ মে। এরপর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রশ্ন ফাঁস ছাড়াই সম্পন্ন হলো বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা

ডেস্ক রিপোর্টঃ- সারা দেশে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) একযোগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হলো এইচএসসির বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা। আজকের পরীক্ষায় দেশের কোথাও কোন ধরণের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা খবর পাওয়া যায়নি। বিশৃঙ্খলা মুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার ২য় দিনে দেশের সকল পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে কোন ধরণের অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে না আসে সে সম্পর্কিত ব্যানার প্রতি কেন্দ্রের মূল ফটকে প্রদর্শন করার পাশাপাশি কক্ষ পরিদর্শকদেরকেও মোবাইল নিয়ে কক্ষে ঢুকতে প্রবেশ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কেন্দ্র প্রধানরা একটি সাধারণ মোবাইল ফোন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। সূক্ষ্ম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা দ্বিতীয় দিনে শান্তিপূর্ণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সরকারের এই সফলতা ধরে রাখতে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কাছ থেকে কোন ধরণের সহায়তা না নেয়া এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দেয়ারও অঙ্গিকার করেছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস মুক্ত পরিবেশ বজায় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অভিভাবক মহল। আগামীতেও সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এইচ এস সি পরীক্ষা ২০১৯,নেই প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা

নিউজ ডেস্কঃ-আসন্ন ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। গত দুই বছর এসএসসি ও এইএইচএসসি পরীক্ষার সময় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সম্পূর্ণ প্রশ্নফাঁস মুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের চেষ্টায় জড়িতদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে আইনের আওতায়, আইন অমান্য করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টার খোলা রাখায় সারা দেশে ৩০টিরও বেশী কোচিং সেন্টার সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। ফলশ্রুতিতে দূর হয়েছে প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা।
এরই ধারাবাহিকতায় এবারও প্রশ্নফাঁসের যেকোনো ধরণের অপচেষ্টা কিংবা গুজব রুখতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সারা দেশে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত কোনো শিক্ষার্থী চিহ্নিত হলে প্রথমে বহিষ্কার করা হবে। এরপর সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে পাঠানো হবে কারাগারে।
এক্ষেত্রে জড়িত চিহ্নিত অভিভাবকও রেহাই পাবেন না। ফাঁস এবং নকলে সহায়তার দায়ে জড়িত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হবে। এমনকি প্রশ্নফাঁসে কোনো ‘মূল হোতা’ চিহ্নিত হলে ক্রসফায়ার দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মি‌নিট আগে পরীক্ষার্থী‌দের পরীক্ষার হ‌লে গি‌য়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। এবারও শুরুতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশ এবং পরে রচনামূলক অংশের পরীক্ষা হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় আড়াই ঘণ্টা। এমসিকিউ এবং সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে সেগুলোর ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৫ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। তবে প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পলসি জনিত প্রতিবন্ধী ও যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ধরণের পরীক্ষার্থী ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক ও ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত) পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় ও পরীক্ষার কক্ষে অভিভাবক বা শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
প্রশ্নফাঁসের কোনো শঙ্কা না থাকায় পরীক্ষা নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

নতুন গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষক-কর্মকর্তারা

নিউজ ডেস্কঃ-নতুন গ্রেডে অন্তর্ভূক্ত হতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও রয়েছে। ইতোমধ্যে ‘শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রেড পরিবর্তনের নির্দেশনা জারি করা হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৈষম্য দূরীকরণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কয়েক দফায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষক পদ ১০তম গ্রেড, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ৯ম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৭ম গ্রেডে উন্নীত করা হবে।
বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও রয়েছে। এ পদ সৃষ্টির পর সারাদেশে প্রায় ৬৫ হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী ১০ম গ্রেডে বেতন পান। যে কারণে প্রধান শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন ১০ম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৈষম্য দূরীকরণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কয়েক দফায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষক পদ ১০তম গ্রেড, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ৯ম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৭ম গ্রেডে উন্নীত করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, এতদিন শিক্ষক নিয়োগের সংশোধনী নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এ কার্যক্রমের তেমন অগ্রগতি হয়নি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিধিমালার অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে এর ভাষাগত সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে বিজি প্রেসে দেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটির গেজেট প্রকাশ হবে। তাই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের গ্রেড পরিবর্তনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে আর কোনও বাধা রইল না।
এছাড়া সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ১০ম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেড ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ষষ্ঠ গ্রেড। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদ দুটি ষষ্ঠ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জেলার প্রধান পদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি কর্মকর্তাদের।
উল্লেখ, বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেডে ১২ থেকে ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর সহকারী জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান। এ ক্ষেত্রে ৭ম গ্রেডে বেতন আহরণ করলেও তাদের ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস কলঙ্ক ছাড়াই শেষ হতে যাচ্ছে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষা

নিউজ ডেস্কঃ- শেষ হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা-২০১৯। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপতৎপরতা ছাড়াই শেষ হতে যাচ্ছে পরীক্ষা। সরকারের নির্দেশ মতো যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রশ্ন ফাঁসের মত দীর্ঘদিনের সামাজিক ব্যাধি রোধ করতে সরকার বেশ কয়েকবছর আগে থেকে সোচ্চার হয়। সরকারের কঠোর পদক্ষেপে গত বছর থেকে তা কাজে আসতে শুরু করে। সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- যে যার অবস্থান থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুজব ও তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থান নেয়। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে শেষ হয় গত বছরের পরীক্ষাগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষাকে প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের অপতৎপরতা রুখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখা। মাঠ পর্যায়ের নজরদারিতে সারা দেশে চক্রের দেড় শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁস নামক সামাজিক ব্যাধি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সরকারের চলমান কার্যক্রমে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষের পথে। কঠোর পদক্ষেপের কারণে রক্ষা পেল আমাদের শিক্ষাখাত। তবে সমাজ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকলের মতো সামাজিক ব্যাধিসমূহ পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে পদক্ষেপ সেগুলো অব্যাহত রাখলে আর কেউ এমন অপতৎপরতায় জড়াতে সাহস পাবে না। আমাদের সকলের সচেতনতাই শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারে শিক্ষাব্যবস্থার বদনাম।

এসএসসি পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ডিজাইন, প্রশ্নপত্র বিতরণে ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহারসহ শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে। ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শতভাগ সফল হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকার। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে গ্রেফতার হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যরা। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে মাঠপর্যায়েও তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর ফলে জিরো টলারেন্স নীতিতে দূর হয়েছে বহু বছরের পুরনো প্রশ্নপত্র ফাঁস কলঙ্ক।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে হাতেনাতে গ্রেফতার করায় এ তৎপরতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষাতেই মাঠপর্যায়ে ছদ্মবেশে সক্রিয় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।