আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:১৪ অপরাহ্ন    

Home » আলীকদম

আলীকদম

বনবিভাগের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনসম্মুখে নির্বিচারে গাছ কাটছে

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বনবিভাগের মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনসম্মুখে নির্বিচারে কাঠ কাটছে পাচারকারী চক্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি আলীকদম উপজেলার মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বালু ঝিরি ও ঠান্ডা ঝিরি নামক স্থানে জনসম্মুখে কাঠ পাচাররকারী বড় সেগুন গাছ কেটে টুকরা টুকরা করে পাচার করার উদ্দেশ্যে স্তুপ করছে। উক্ত স্থানে বনবিভাগের কোন টহল দল বা বনাঞ্চল পাহাড়ায় নিয়োজিত কোন কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাছ পাচারকারীরা গাছ কাটলেও বন বিভাগের কোন কর্মচারীকে টহল বা পাহারা দিতে দেখা যায়নি। ফলে প্রতিবছর কোটি টাকার গাছ কর্তন করে নিয়ে যাচ্ছে কাঠ পাচারকারীরা এবং সে গাছ স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও জোত মালিকদের নিকট বিক্রয় করছে। তারা আরও বলেন বিশেষ উৎকোচ দিয়েও মাঝে মাঝে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টি করে উক্ত গাছ কর্তন ও পাচার করতে হয়। কাগজে কলমে গাছ কাটা ও পাচার বন্ধ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে গোপনে গাছ কর্তন করে পাচার করছে প্রতিনিয়ত। মাঝে মাঝে লোক দেখানো কিছু অভিযান পরিচালনা করে কিছু কাঠ জব্দ করে হতদরিদ্র লাকড়ি সংগ্রহকারী ও ছোট খাট (টাকায় নিয়োজিত) কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কাঠ চুরি কিংবা গাছ কর্তনের অপরাধে গুটিকয়েক মামলা দেওয়া হলেও মুল কাঠ পাচারকারী চক্রটি থেকে যায় ধরা ছুয়ার বাইরে। ফলে কাঠ পাচারকারী চক্রটি আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠছে।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উপকারভোগী মোঃ আলমগীর বলেন, আমরা উপকারভোগীরা বনাঞ্চল হইতে গাছ কর্তনে বাধা দিলে, তারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে মারধর করে এবং তাদের সঙ্গীয় মহিলা দিয়ে সম্মান হানি করার হুমকি দেয়। তাই সম্মান খোয়ানোর ভয়ে আমরা নীরব থাকি।
এ বিষয়ে আলীকদম মাতামুহুরী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জমির উদ্দিন মিয়া চৌধুরী গাছ কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাঝে মাঝে তারা চুরি করে গাছ কর্তন করে নিয়ে যায়! সেটা যেমন সত্য তেমনি চুরি করা গাছ অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় সেটিও যথাযথ সত্য। তিনি আরও বলেন, মাতামুহুরী সংরক্ষিত ১২ হাজার ৮ শত ৫২ একর বনাঞ্চল। কিন্তু আমাদের লোকবল মাত্র ০৪ জন। তবুও আমরা দিনরাত বনাঞ্চল পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। গত কিছুদিন পূর্বেও আমার এক সহকর্মী কাঠ পাচার ও গাছ কর্তনে বাধা দেওয়ায় পাচারকারীরা তাকে আটকে রেখে মারধর করে। পরে আমি খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করি। সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ১৩ জানুয়ারী ২০১৯ইং তারিখ ভোররাত ৪ টার সময় একজন মহিলাকে আটক করা হয়েছে। পাচারকারী চক্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীও রয়েছে। নারীরা কাঠ পাচারে সহায়তা করে। অল্প লোকবল হওয়া স্বত্তে¡ও সংরক্ষিণ বনাঞ্চল হতে গত ০১ মাসে ৫০০ ঘনফুট রদ্দা জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
লামা বনবিভাগের বন কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, কাঠ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনাঞ্চলটি দূর্গম এবং পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় লোকবল স্বল্পতার কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাতামুহুরী বনাঞ্চল তদারকির জন্য আরও জনবল প্রয়োজন, উপর মহলে জনবল বাড়ানোর বিষয়টি বারবার জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র,ক্রীড়া সামগ্রী,ঔষধ বিতরণ ও ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প

আলীকদম,বান্দরবানঃ- আলীকদম জোনের উদ্যোগে মুরুং কমপ্লেক্স আবাসিক ছাত্রদের মাঝে শীতবস্ত্র, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বাস স্টেশন সংলগ্ন মুরুং কমপ্লেক্সে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একই দিন আলীকদম জোন সদরে লামা-আলীকদমের বিভিন্ন সামাজিক-ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে বিনোদন সামগ্রী হিসেবে ৫টি টেলিভিশনও বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল সাইফ শামীম পিএসসি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, মেধাবীদের পাশে আলীকদম জোন সর্বদা আছে এবং থাকবে। এসময় জোন কমান্ডার মুরুং আবাসিকের ছাত্রদের নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত জোনাল স্ট্যাফ অফিসার মেজর মোয়াজ্জম হোসেন, ডাক্তার মেজর হাবিবা, ডাক্তার ক্যাপ্টেন মো: আসিফ, জোন জেসিও ইহসান উল্লাহ, সাংবাদিক মো.কামরুজ্জামান, আবাসিক পরিচালক ইয়ংলক মুরুং, বাসস্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াবুল সহ প্রমূখ।

আলীকদমে ৪টি অস্ত্র সহ গ্রেফতার ৪

সিএইচটি টাইমস নিউজ,বান্দরবানঃ- বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় একটি খামার বাড়িতে ডাকাতির সময় পুলিশ দেশীয় তৈরি ৪টি একনলা বন্দুক, ২টি বন্দুকের কাঠের বড়ি, কাতুর্জ ও বন্দুক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৪ জনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারী) ভোর রাতে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, ১নং আলীকদম ইউনিয়নের বাঘের ঝিরি এলাকার আমিনুল ইসলামের খামার বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার সময় ডাকাতিকালে গৃহকর্তা থানায় বিষয়টি মুঠোফোনে জানায়। এর পরপরই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ্র নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কানন চৌধুরী, এসআই মো. আজমগীর, এএসআই শামীম হোসেনসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুই ব্যক্তি আরো দুইজনের নাম বলে দেয় এবং অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ পার্শ্ববর্তী চাকনায় পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মোট ৪টি অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে। আটককৃত হলেন- চেনতুই মুরুং (২২), চংঅং মুরুং (২৮), চেখইং মুরুং (৫৬) ও দেওয়াই মুরুং (১৮)।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিক উল্লাহ্ জানান, বাঘেরর ঝিরিস্থ একটি খামার বাড়িতে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে গৃহকর্তাকে মারধরসহ টাকা ও মোবাইল চিনিয়ে নিয়ে এক রাউ- গুলি বর্ষণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক অস্ত্র, কার্তুজ ও বন্দুক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। আটককৃতের বিরুদ্ধে মামলার রুজু প্রক্রিয়াধীন।

আলীকদমে সেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকে মারধর, বিএনপির ৬০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানের আলীকদমে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকে মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগ এনে বিএনপির ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সজীব কামালকে মারধরের ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুচ বাদী হয়ে শনিবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে এই মামলা করে। আহত সজীব কামাল (৩২) ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের চিনারী দোকান এলাকার মৃত মোস্তফা কামালের ছেলে।

মামলার বাদী মো. ইউনুচ বলেন, শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের চিনারী দোকান এলাকায় গণসংযোগ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগের নামে বাজে বাজে মন্তব্য সহ বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর নামে কুটুক্তি করে। এসময় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সজীব কামাল প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সজীব কামাল বাড়ি থেকে বের হলে চিনারী দোকান এলাকার বিশ মাইল নামক স্থানে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা বিএনপির লোকজন তাকে মারধর করে ও ভাংচুর চালায়।

পরে সজীব কামালকে উদ্ধার করে আলীকদম হাসপাতালে আনা হলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। সজীব কামাল বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিকে মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগে দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুচ বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপির ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১৪৩, ৪৪৮, ২৯০, ৩২৩, ৩২৬, ৩৪১, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় এজাহার ভুক্ত করা হয়েছে।

 

কিছু মানুষ না জেনেই শান্তিচুক্তির বিরোধীতা করছে-লে: কর্ণেল সাইফ শামীম

নিউজ ডেস্কঃ-পাহাড়ে যত উন্নয়ন হবে তত সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ কমে যাবে। শান্তি চুক্তির সম্পর্কে না জেনেই কিছু মানুষ বিরোধীতা করছে। দূর ঐ পাহাড়ের জুম চাষ করা মানুষটি ২১ বছর আগেও জুম চাষ করত এখনও করে। তাদের ভাগ্য ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে যে সব লোক পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে তাদের ঠিকই পরিবর্তন হয়েছে। তাই নিজের স্বার্থ চেয়েও জাতির স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। এই কতিপয় লোকই পাহাড়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরিতে বাধা দিয়েছিল।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পাহাড়ের মানুষের বিপদে পাশে ছিল এবং থাকবে। ভাল কাজ করেও আমাদের গায়ে কালিমা লাগানো হয়, তখন খারাপ লাগে। যতই বাধা আসুক বিপদগ্রস্থ পাহাড়ি বাঙ্গালী মানুষের পাশে থাকব আমরা। আলীকদম জোনের অধিনে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি আমি সহ্য করবনা। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীদের কোন ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নেই। তাদের পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। তাদের জন্য আমাদের বুলেট প্রস্তুত রয়েছে। আলীকদম সেনা জোনের আয়োজনে শান্তি চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় এইসব কথা বলেন, জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মো. সাইফ শামীম (পিএসসি)। ২রা ডিসেম্বর ২০১৮ইং রোববার আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্ণাঢ্য এই আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল, আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর এ জান্নাত রুমি, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দার, লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ, লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী, আলীকদম থানা অফিসার ইনচার্জ রফিক উল্লাহ, লামা থানা অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা, আলীকদম উপজেলা জেএসএস এর সভাপতি কাইনথপ মুরুং, আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন। লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ও আলীকদম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পাই নু সাং মার্মা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
সকাল ৯টায় বিশাল আনন্দ র‌্যালীর মধ্যদিয়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান শুরু হয়। এছাড়া ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ, দুপুরে প্রীতিভোজ, বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের ২৩ বীর ইউনিট।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তৎকালীন শান্তি বাহিনী নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) ও সরকারের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বন্ধে একটি চুক্তি হয়। যেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বা শান্তি চুক্তি নামে বেশী খ্যাতি পেয়েছে।

শান্তি চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলীকদম জোনের ব্যাপক প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্কঃ-পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এবার শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তিতে শান্তি র‌্যালী, আলোচনা সভা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ, প্রীতিভোজ, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের ২৩ বীর ইউনিট।

জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মো. সাইফ শামীম (পিএসসি) শান্তি চুক্তি ২১তম বার্ষিকী উদযাপনে গৃহীত সকল কার্যক্রম সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে সকলের সহায়তা কামনা করেছেন। এছাড়া আমন্ত্রিত সকল অতিথিকে ২রা ডিসেম্বর আলীকদম সেনা জোনে উপস্থিত থাকার অনুরোধও করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তৎকালীন শান্তি বাহিনী নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) ও সরকারের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বন্ধে একটি চুক্তি হয়। যেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বা শান্তি চুক্তি নামে বেশী খ্যাতি পেয়েছে। আগামী ২রা ডিসেম্বর ২০১৮ইং শান্তি চুক্তির ২১তম বার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

আলীকদমে পুলিশি অভিযানে দেশীয় গাদা বন্ধুক উদ্ধার

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবানের আলীকদমে দেশীয় তৈরী একটি গাদা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের অংছাহ্লা কারবারী পাড়া হতে অভিযান চালিয়ে গাদা বন্ধুকটি উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় ছাহ্লাচিং মার্মা (৩৫) নামে একজনকে আসামী করে ১৮৭৮ সনের অস্ত্র আইনের ১৯/এ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ। অভিযুক্ত ছাহ্লাচিং মার্মা চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের অংছাহ্লা কারবারী পাড়ার ধুমং কারবারীর এর ছেলে।

অভিযানের নেতৃত্ব প্রদানকারী আলীকদম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আজমগীর জানান, আলীকদম থানা পুলিশের মোবাইল-০১ ও বিশেষ অভিযান ডিউটিতে নিয়োজিত দুইটি টিম শনিবার দিবাগত রাতে চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের আবাসিক এলাকায় ডিউটি করছিল। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ছাহ্লাচিং মার্মা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করার পরিকল্পনা করছে। সংবাদ পেয়ে বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ কে অবগত করি এবং তার নির্দেশে অংছাহ্লা কারবারী পাড়ায় অভিযানে পৌছালে ছাহ্লাচিং অস্ত্রটি তার বাড়ির সামনে কাচাঁ রাস্তায় ফেলে ঘটনাস্থল হতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ স্থানীয় পাড়ার বাসির উপস্থিতিতে ৫৭ ইঞ্চি লম্বা গাদা বন্ধুকটি উদ্ধার করে এবং উপস্থিত লোকজনের স্বাক্ষীতে বন্ধুকটি ছাহ্লাচিং মার্মার বলে নিশ্চিত হয়ে মামলা দায়ের করি। অভিযানে সঙ্গীয় এএসআই গোলাম ইয়াছিন, শ্যামল চন্দ্র রায় সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা অংশ নেয়।

আলীকদম থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রফিক উল্লাহ বলেন, উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্র পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। অস্ত্র মামলা নং- ০৮, তারিখ- ২৫ আগস্ট ২০১৮ইং।

বান্দরবানে বিএনপির ২ শতাধিক নেতাকর্মীর আওয়ামীলীগে যোগদান

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবানে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী আ.লীগে যোগদান করেছে।আজ শুক্রবার সকালে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আবুল কাশেম,জয়নাল আবেদীন,বদিউল আলমের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির হাতে ফুল দিয়ে আ.লীগে যোগদান করেন।এসময় উপস্থিত পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শামসুল ইসলাম,জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাউছার সোহাগ আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীন,আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মংব্রাচিং মার্মা ও সাধারন সম্পাদক দুড়িমং মামাসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।এসময় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন,বর্তমান সরকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে।আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবানও জানান তিনি।সরকার দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে আওয়ামীলীগ দেশের ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে তাই আ.লীগে যোগদান করলে হবে না মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।আ.লীগ কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী।

আলীকদমে দুই দিনের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল রাস্তার কার্পেটিং !

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যে দুই দিনের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল রাস্তার কার্পেটিং। বান্দরবানের আলীকদমে উপজেলা পরিষদের সড়ক মেরামত এই কাজটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আলীকদম।নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে কার্পেটিং করার এক সপ্তাহের মধ্যে তা উঠে গেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।এলজিইডি আলীকদম অফিস সূত্রে গেছে,২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আলীকদম উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাস্তার দুই হাজার মিটার মেরামতের কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এলজিইডি।বান্দরবানের কে-হোসাইন অ্যান্ড কোং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি করছেন আলীকদম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন ও বিএনপি নেতা আবু বক্কর।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন,আলীকদম উপজেলা পরিষদ রাস্তার কার্পেটিং কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তাকেই দেখা যায়নি।শুধু ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরাই কার্পেটিং করার কাজটি করে।তারা আরো অভিযোগ করেন, নিম্নমানের বিটুমিন ও লোকাল পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।এ ছাড়াও যেখানে কার্পেটিংয়ের ১২ মিলিমিটার প্রলেপ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার প্রলেপ দিয়েই কাজ শেষ করছে।কোনো ধরনের ‘ট্যাক কোট’ না মারার কারণে বৃষ্টির পানিতে উঠে যাচ্ছে এসব।পরিচয় গোপন রাখা সত্ত্বে স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নাছির উদ্দিন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সহযোগীতায় তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজটি করেছে। নিম্নমানের লোকাল পাথর ব্যবহারের পাশাপাশি নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে এই কাজে। এ কারণে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তার কার্পেটিং গুলো উঠে যাচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নাছির উদ্দিন সাংবাদিককে বলেন,আমি কে-হোসাইন অ্যান্ড কোং লাইন্সেস এর নামে কার্পেটিংয়ের কাজটি বাস্তবায়ন করেছি।তবে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন তিনি।এলজিইডির আলীকদম উপজেলা প্রকৌশলী শান্তু ঘোষ সাগর রাস্তা মেরামতের এক সপ্তাহের মধ্যে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

আলীকদমে আগুনে পুড়েছে ১৭টি বসতঘর,কোটি টাকার ক্ষতি

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় শুক্রবার (৮ জুন) সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৭টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার অধিক দাবি করেছেন বসতঘর মালিকরা। উপজেলা শহরের পশ্চিম বাজার পাড়ায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে আলীকদম সেনাবাহিনীর উপ-অধিনায়ক আবদুল কাদের, নির্বাহী অফিসার মো.নাজিমুল ইসলাম হায়দার, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.জামাল উদ্দিন,নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, আলীকদম উপজেলা শহরের পশ্চিম বাজার পাড়ার একটি বসতঘরে রক্ষিত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ২ ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে ১৭টি কাঁচা ও আধা পাকা বসতঘর পুড়ে যায়।স্থানীয় মো. হোসেন জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে ঘরের কোন মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।অগ্নিকান্ডে ১৭টি বসতঘর পুড়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।