আজকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০৬:৪১ অপরাহ্ন    

Home » রাজনীতি

রাজনীতি

বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের শপথে খালেদা জিয়ার সম্মতি

নিউজ ডেস্কঃ-  একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির নির্বাচিতদের এমপি হিসেবে শপথের বিপক্ষে থেকেও শেষ দিকে আলোচনায় নতুন মাত্রা দিয়েছে দলটি। জানা গেছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা প্রত্যেকেই শপথ নিতে চান। যদিও দলের একটি অংশ এখনও চায় নির্বাচিতরা শপথ না নিক। এমনকি নির্বাচিত এমপিদের শপথে স্বয়ং খালেদা জিয়া সম্মতি দিয়েছেন বলে বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন নেতা বলেন, দলের নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত সব সময় নিতে পারছেন না। বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারছেন না। যারা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের মধ্যেও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে। ফলে করণীয় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নির্বাচিতদের শপথের বিষয়ে তিনি সম্মতি দিয়েছেন।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদে যোগ দিতে শপথ নেওয়ার জন্য হাতে সময় আছে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয়জন এবার নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি পাঁচ প্রার্থী সম্প্রতি গুলশানে বিএনপির অফিসে মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করে শপথ, দল ও নেত্রীর মুক্তির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। মহাসচিব তাদেরকে শপথ নিতে খালেদা জিয়ার সম্মতি বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল দু’জন নেতা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বা দলে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা এইসব ইস্যুতে কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। তাই বিষয়টি বেগম জিয়ার পরামর্শ নেয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। কারাগারে থাকলেও শপথ কিংবা প্যারোলসহ নানা ইস্যুতে পর্দার অন্তরালে সমঝোতার চেষ্টা হলে সে ব্যাপারে মূল সংকেত খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই আসে বলেও জানান তারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, খালেদা জিয়াকে এখন রাজনীতি, দল, সংগঠনের স্বার্থে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সংসদ অনেক বড় একটি বিষয়। সেখানে দলের পক্ষ থেকে কথা বলার লোক থাকা দরকার। সেখানে গিয়েই কথা বলতে হবে। শপথ নেওয়ার সময় প্রায় শেষ দিকে। নেত্রীও সম্মতি দিয়েছেন।

তারেক রহমানের অর্থ পাচারের সাক্ষ্য দিলেন রিজভী আহমেদ!

নিউজ ডেস্কঃ-  লন্ডনে তারেক রহমানের অবৈধ বিনিয়োগ ও সম্পদ অর্জনের সাক্ষ্য দিয়ে রোষানলে পড়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অবৈধ লেনদেনের কারণে তারেক দম্পতির তিনটি অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টায় কথাচ্ছলে তিনি তারেকের লন্ডনে বিনিয়োগের বিষয়গুলোর বর্ণনা দিলে বিএনপির রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়।

বিএনপির তরফ থেকে তারেক রহমানকে নির্দোষ প্রমাণ করার শত চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে জনগণের সামনে তাকে লুটতরাজে জড়িয়ে ফেলায় দলীয় চাপের মুখে পড়েছেন রিজভী আহমেদ। এছাড়া আগামী জাতীয় কাউন্সিলে পদ হারানোরও শঙ্কায় পড়েছেন তিনি। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে অভিযোগ ও শঙ্কার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিসের একটি সূত্র বলছে, তারেক-জোবায়দা দম্পতির দুটি অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছেন তারেক রহমান। অবৈধ সম্পদ অর্জন করে বিদেশে পাচারের যেসব অভিযোগ তারেকের বিরুদ্ধে ছিল, রিজভীর কারণে সেই অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলো। তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার পর চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এতে যদি অপরাধ ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত হয় তবে লন্ডনেও চাপে পড়বেন তারা। পাশাপাশি দণ্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতাদের মুখ বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল লন্ডন থেকে। কিন্তু রিজভী আহমেদ হঠাৎ এমন প্রেস কনফারেন্স করে হিতে বিপরীত করে ফেলেছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের যে অর্থ আছে তা ইনল্যান্ড রেভিনিউতে ট্যাক্সপেইড বলে দাবি করেছেন রিজভী। সেখানে তার যা অর্থ আছে তা ইনল্যান্ড রেভিনিউতে ট্যাক্সপেইড অর্থ। এসব করে তিনি পরিস্থিতি বিগড়ে দিয়েছেন। রিজভীর বক্তব্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর সত্যতা অনেকাংশে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লন্ডনে তারেক যে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন সেটির গ্যারান্টি দিলেন রিজভী। দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও স্পষ্ট হয়ে যায়। রিজভীর ভুলের কারণে নতুন করে তারেক রহমানের গায়ে কালিমা লেপন করা হলো। অতিরিক্ত জ্ঞানীভাব দেখাতে দিয়ে দলের কাছে এখন সমালোচিত রিজভী। এমন বোকামির জন্য রিজভীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

শপথ নিতে প্রস্তুত বিএনপির সাংসদরা, তারেক রহমান-মির্জা ফখরুলের না!

নিউজ ডেস্কঃ  দলীয় সিদ্ধান্তকে মেনে এখনো শপথ নেননি একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ৩০ শে এপ্রিলের মধ্যে শপথ না নিলে শূন্য ঘোষণা করা হতে পারে তাদের আসন। যার কারণে বিএনপির দেয়া সকল শর্তকে উপেক্ষা করে শপথ নিতে চাইছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি থেকে বিজয়ী নেতা জাহিদুর রহমান বলেন, আমি সহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির সকল নেতাই মনে করেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাদের মতের গুরুত্ব দিতে হবে। তাই আর দেরি না করে বিএনপির বিজয়ী সকল নেতাই শপথ নিতে আগ্রহী। যদিও প্রথমে আমরা সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের উপর রাগ করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারাই সঠিক ছিলেন।

এদিকে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিজয়ী নেতাদের এমন সিদ্ধান্তে নারাজ তারেক রহমান, মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র এমপি হবার লোভে পড়ে সরকারকে কোনো শর্ত না দিয়ে শপথ গ্রহণ করাটা বোকামি হবে। সে ক্ষেত্রে যদি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হয়, তবেই বিএনপি নেতাদের শপথ নেয়া উত্তম হবে।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে নিজের মত পাল্টে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী জাহিদুর রহমান বলেন, যেহেতু আমার নেত্রী জামিন পাওয়ার হকদার, তাই তাকে যদি জামিন দেয়া হয় তাহলে আমরা বিজয়ী ছয় জন সংসদে যেতে পারি বা যাবো।
এছাড়া নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি নেতা হারুন-অর-রশিদ জানান, খালেদা জিয়ার অনুমতি পেলে আমরা সংসদে যেতে পারি, তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তবে বিএনপির এমন শপথকে আমলেই নিচ্ছেন না আওয়ামী নেতারা। তারা বলছেন, বিএনপি নেতাদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি একান্ত তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। শপথ গ্রহণের ব্যাপারটি নিয়ে দেন-দরবার করতে চাচ্ছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে শপথ গ্রহণের বিষয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আদালতের রায় অনুসারে খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে। যদি বিএনপি ধারণা করে থাকে শপথ গ্রহণের বিষয়কে কাজে লাগিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে, তবে সেটি হবে বিএনপির জন্য বড় বোকামি।

বেগম জিয়ার মুক্তিতে দ্বিধান্বিত বিএনপির নেতৃত্ব, লন্ডনের বার্তার অপেক্ষা

নিউজ ডেস্কঃ-  দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। জানা গেছে, খালেদার মুক্তি ও চিকিৎসার ব্যাপারে কারো ভিন্নমত না থাকলেও আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করার কথা নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় নেই। দলের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় তবে অপর একটি অংশ সমঝোতায় মুক্তি–প্রক্রিয়ায় একমত নয়।

বিএনপি নেতাদের দ্বিমতের এই রাজনীতিতে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিভক্ত বিএনপির এমন অবস্থায় লাভবান হচ্ছে বিরোধী দল বলেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তারা। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এমনটাই জানা গেছে।

এই বিষয়ে দলটির সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বাংলা নিউজ ব্যাংক’কে বলেন, পরিস্থিতি যেদিকে এগুচ্ছে তাতে আত্মসমর্পণ করার বিকল্প আর দেখছি না। কারণ দলের সাংগঠনিক বাস্তবতায় ক্ষমতাসীনদের ম্যাডাম জিয়ার মুক্তিতে বাধ্য করানোর ব্যাপারটি অনেকটাই কাল্পনিক। সেই হিসেবে খালেদা জিয়াকে দ্রুত কারামুক্ত করার পক্ষে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ। তবে সমঝোতার বিপক্ষেও মত রয়েছে। সেটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আশা করি বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ঐক্যমত্যের একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারব আমরা।

বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে দলটির ভেতর হতাশা বাড়বে বলে মনে করছেন দলটির আরেক সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা চাই বেগম জিয়া কারামুক্ত হয়ে দলের নেতৃত্ব দিন। কিন্তু তার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায়, আন্দোলনের মাধ্যমে নাকি সরকারের সঙ্গে কোনো ধরণের সমঝোতা করে, তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর অবস্থান শক্ত করতে যে যার মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে দলে সাময়িক প্রভাব বাড়লেও রীতিমত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিএনপি ও বেগম জিয়া।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির যে সাংগঠনিক অবস্থা, তাতে আন্দোলন করে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করার কথা দলের নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় নেই। সমঝোতা করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে করতে চাচ্ছে দলের একটি অংশ। তার বিনিময়ে বিএনপির সাংসদেরা জাতীয় সংসদে যোগদান করতেও রাজি হয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে লন্ডন থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া যায়নি।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের অনুকম্পা নিয়ে নেত্রীকে মুক্ত করা হবে অসম্মানের। এতে দল ও নেত্রীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও এ বিষয়ে এই দুই চিন্তার নেতাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। আমিও ব্যক্তিগতভাবে বেগম জিয়ার মুক্তি চাই। তবে কারো দয়ায় নয় বরং সাংগঠনিক শক্তি প্রয়োগ করে সরকারকে বাধ্য করতে হবে ম্যাডামকে মুক্তি দিতে। দল ও নেত্রীকে অসম্মান করে আমরা বিজয় চাই না।

শপথের প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন মির্জা ফখরুল, অনিশ্চয়তায় দলের নির্বাচিতরা!

নিউজ ডেস্কঃ-  চলতি মাসের শেষে শপথ গ্রহণের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতিদান জানতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন বিএনপির নির্বাচিত সাংসদরা।

দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে অটল থাকলেও দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন তারা। সঠিক নির্দেশনা না পেলে দু’একজন বিদ্রোহ করে সংসদে যোগদান করতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে বিএনপির রাজনীতিতে। মির্জা ফখরুলের সিদ্ধান্তহীনতা ও অদূরদর্শিতায় দলের সাংসদরা হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে সব মিলিয়ে বেগম জিয়া ও দলের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন দলটির নির্বাচিতরা। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে বিষয়গুলো জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কী করা হচ্ছে? দল কী করছে? নির্বাচিতরা শপথ নেবেন কি না? বিএনপির নির্বাচিত সাংসদদের এমন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল। দলের শীর্ষ নেতারা কী করছেন, তা তারা বুঝতে না পারায় একধরণের হতাশা ও সংশয় দেখা দিয়েছে বিএনপির সাংসদদের মনে।

সূত্র এও বলছে, সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিএনপির গুলশান অফিসে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হলেও শপথ নিয়ে কিছু বলেননি মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে প্রয়োজনে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে নির্বাচিতরা অভিমত দিলেও মির্জা ফখরুল এই প্রস্তাবে নীরব ছিলেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান বলেন, এটা ঠিক বৈঠক নয়, বরং যারা নির্বাচিত হয়েছি তাদের মধ্যে পরিচিতি ও সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিলো। সরকারের অবস্থান বা দলের অবস্থান কিছু বুঝতে পরছি না। তবে এলাকায় জনগণের চাপ আছে। তাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা-মতবিনিময় করেছি। আমরা তো নির্বাচন করেছি সংসদে যাওয়ার জন্যই। অর্থাৎ সংসদে ক্ষমতাসীন দল অথবা বিরোধী দল হওয়ার জন্য। সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে দু’একজন যে কমিটমেন্ট থেকে সরে আসবেন না, সেই নিশ্চয়তাও দেয়া যাচ্ছে না।

নুসরাতের বাসায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ: মওদুদ বলছেন জাতীয় রাজনীতির অংশ

নিউজ ডেস্কঃ-  ফেনীর সোনাগাজীতে অগ্নিদগ্ধে নিহত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে সমালোচনা চলছে। জানা গেছে, নিহত নুসরাতের পরিবারকে সমবেদনার আড়ালে সরকারবিরোধী উসকানি ও দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতি গণ-অনাস্থা সৃষ্টির পাঁয়তারাও চালিয়েছে দলটির সদস্যরা।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লা, যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ, কেন্দ্রীয় নেত্রী রেহানা আক্তারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নুসরাতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেসময় সরকারবিরোধী উসকানি দেয় বলে জানা গেছে। নুসরাতের প্রতিবেশীর সঙ্গে আলাপকালে উসকানিমূলক বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নুসরাতের প্রতিবেশী আলাল উদ্দিন বলেন, নুসরাতের পরিবারকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানাতে বিএনপি নেতাদের পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষজন নুসরাতের বাড়িতে হাজির হয়। কৌতুহলবশত আমিও সেখানে উপস্থিত হই। দুঃখের বিষয় হলো, বিএনপি নেতারা, বিশেষ করে ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্য শুনে হতবাক হই। তিনি বিচার চাওয়া ও সমবেদনা জানানো বাদ দিয়ে সরকারকে দোষারোপ করেন। বরকত উল্লা তো নুসরাত হত্যাকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানান। নুসরাতকে নিয়ে রাজনীতি করায় আমরা অবাক হয়ে যাই।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত তো দলগতভাবে ২০১৪-২০১৫ সালে রাজনীতির নামে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে, দেশে মানুষ মারার রাজনীতির সূত্রপাত ঘটায়। বিএনপি সবকিছুতে রাজনীতি টেনে নিয়ে আসে। এটা ঠিক নয়। নুসরাত হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে। সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির অপচেষ্টায় নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবে সুযোগ-সন্ধানীরা। মানুষকে নতুন করে বোকা বানানোর দিন শেষ।

নুসরাতের ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। নুসরাতও এখন রাজনীতির অংশ হয়ে পড়েছে। তাই নুসরাতের ঘটনায় যা বলেছি তা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই।

নেতাকর্মীদের সদিচ্ছা ও অনাগ্রহে ভুক্তভোগী বেগম জিয়া,শঙ্কিত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ

নিউজ ডেস্কঃ-  বেগম জিয়ার মুক্তি ও সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপি নেতাকর্মীদের অনাগ্রহে ক্ষুব্ধ দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য শতবার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানালেও প্রতিবার ফলাফল শূন্য দাঁড়িয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলন বিমুখতা ও অনাগ্রহ বেগম জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে এবং দলে হতাশা বাড়ছে বলে একইসঙ্গে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে একান্ত আলাপকালে অভিযোগের বিষয়গুলো জানা গেছে। বিএনপির সামগ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনের ডাক দিলেই হয় না, সেই আহ্বানকে বাস্তবায়িত করতে যে ক্রমাগত প্রয়াস দরকার, দলে সেটির চরম অভাব দেখা দিয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সরকারবিরোধী আন্দোলন, বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে নানা কথা বললেও কাজে সেটির প্রমাণ নেই।

তিনি আরো বলেন, আন্দোলনের সাহস মুখে নয়, কাজে দেখাতে পারলেই সরকারের পতন ঘটবে। বিএনপি নেতারা মুখে খই ফোটালেও আন্দোলনে তাদের দেখা পাওয়া যায় না। বিএনপি নেতাকর্মীদের জেল-জুলুম ভীতির কারণে বেগম জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে। রাজনীতিতে জেল-জরিমানা ভীতির কোনো অবস্থান নেই। ভয় পেলে রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। পদ দখল করে রাখারও প্রয়োজন দেখি না। সাহস করলেই সব সম্ভব হয়।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি ও সরকার পতন আন্দোলন বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেলো। গত কয়েক মাস ধরে শুধু পরিকল্পনা চলছে, সেই পরিকল্পনার আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতায় নেতাকর্মীরা হতাশ। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় দলের কর্মীরা বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি কমিটি নিয়ে যেসব দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, সেটিও নিয়ে নানা গুঞ্জন ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে নেতাকর্মীরা চিন্তিত হলেও সেটি বাস্তবায়ন করা নিয়ে নির্ধারিত কোনো পরিকল্পনা নেই। মুখের কথা ও অন্তরের কথা মিল নেই দলে। যার কারণে ভুগতে হচ্ছে বেগম জিয়া ও বিএনপিকে।

স্থায়ী কমিটির কারণে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলে উপনীত হয়েছে বিএনপি!

নিউজ ডেস্কঃ-  বিএনপির রাজনৈতিক স্থবিরতা এবং আন্দোলন বিমুখতার জন্য স্থায়ী কমিটি দায়ী বলে মনে করছেন দলটির একাধিক সংস্কারপন্থী নেতা। ২০১৬ সালে বৃদ্ধ, অথর্ব, ভীতু এবং আঁতাতকারীদের দলের স্থায়ী কমিটিতে স্থান দেয়ার বিএনপির রাজনীতি ব্যর্থতার চোরাবালিতে আটকে যায় বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপিকে মুখাপেক্ষী করে ড. কামালের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও দলের সাংগঠনিক গঠনকে দুর্বল করেছে। ঐক্যফ্রন্টকে গ্রহণ ও জামায়াতকে কার্যত বর্জন করে বিএনপি রাজনীতির মারপ্যাঁচে পরাজিত হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। বিএনপির একাধিক সংস্কারপন্থী নেতার সঙ্গে একান্ত আলাপকালে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দীর্ঘ অবসাদজনিত রাজনীতি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য দলীয় হাইকমান্ডের রাজনৈতিক দূরদির্শতা দায়ী বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। মওদুদ আহমেদ জানান, ২০১৬ সালে যখন স্থায়ী কমিটিতে সদস্যপদ বিতরণ করা হয়, তখনই আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। স্থায়ী কমিটি হলো দলের হৃদপিণ্ড। হৃদপিণ্ড দুর্বল হলে তো শরীর অচল হয়ে পড়ে। সেই অবস্থাই হয়েছে দলের। আমরা বলেছিলাম-ব্যবসায়ী, আইনজীবীদের পদ না দিয়ে তুলনামূলক মধ্যবয়সী জনপ্রিয় নেতাদের পদ দেয়ার আবেদন করলেও সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। দুঃখ নিয়েই বলছি, অর্থের কাছে দলের নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অথর্ব, বৃদ্ধ, বিজনেস মাইন্ডেড মানুষদের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা দেয়ায় দলের বারোটা বেজেছে। এরা আন্দোলন বিমুখ, শান্তিপ্রিয় ও নাগরিক আন্দোলন কর্মী। কমিটির অনেক সদস্যর বিরুদ্ধে গোপনে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করারও অভিযোগ রয়েছে। আজকের বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দুর্বল চিত্তের নেতাদের সরিয়ে দেয়ার বিকল্প নেই।

এই বিষয়ে রাখঢাক ছাড়াই দলটি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংস্কারপন্থী নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছে। জরাগ্রস্ত, অবসাদগ্রস্ত ও দাদু ভাইদের নিয়ে বিএনপি আন্দোলনের কথা বললে তো সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। শিগগির জাতীয় কাউন্সিল করে তরুণদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। দলের ব্যর্থ সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশ্য বলব, ধুকে ধুকে রাজনীতি করার চেয়ে অব্যাহতি নেয়া উত্তম।

কর্মসূচিতে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, বহিষ্কৃত হলেন বিএনপি নেতা হাজী দুলাল

নিউজ ডেস্কঃ- অনশন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় নেতাদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি নিয়ে বিএনপির টানাপড়েন থামছেই না। এবার দলীয় চাঁদাবাজির নিষ্ঠুর বলি হলেন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি হাজী দুলাল।
গোপন সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত পরিমাণ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর প্রেক্ষিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই জেরে উত্তরা পশ্চিম থানা কমিটি বাতিলও করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হাজী দুলালকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণটি আড়াল করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত ৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক জরুরি সভায় সম্পৃক্ত না থাকায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে হাজী দুলালকে দল থেকে বহিষ্কার করে উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির কমিটিও বাতিল করা হলো।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বেশকিছু কর্মসূচিতে একের পর এক নেতাদের কাছে অর্থ আদায় করার প্রেক্ষাপটে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয় নেতাদের মাঝে। যা সর্বশেষ ৭ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির গণ-অনশন পালন সংক্রান্ত কর্মসূচিতে এসে নেতাদের চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ একটি কর্মসূচিতে নেতাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এ নিয়ে মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফসহ বেশকিছু নেতাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। নেতারা প্রশ্ন তোলেন- এমন ছোট কর্মসূচির জন্য ৫ লাখ টাকা করে চাওয়ার মানে কী?

এদিকে হাজী দুলালের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ২৮ জন নেতার তালিকা করে জনপ্রতি ৫ লাখ ও ব্যক্তি ভেদে ২ লাখ টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে বিরোধিতা করেন হাজী দুলাল। টাকা দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এমনকি এ বিষয় নিয়ে একটি জরুরি সভা ডাকা হলেও সেখানে অনুপস্থিত থাকেন দুলাল। এমন প্রেক্ষাপটেই তাকে বহিষ্কার করা হলো। এ নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার নেতাদের মধ্যে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি। দল করতে এসে চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়লে, আগামীতে নেতা-কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ক্রান্তিকাল অতিক্রমের স্বপ্ন নিয়ে কাউন্সিলের আশায় বিএনপি,আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তি

নিউজ ডেস্কঃ- বেগম জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের কারণে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতে পারছে না বিএনপি। সেটার কারণ হিসেবে স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে বারবার।

প্রশ্ন তোলা হচ্ছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিগুলোর মনোনয়ন নিয়েও। তবে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলে স্বজনপ্রীতি দূর করে যোগ্যদের নেতৃত্ব দিলে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর হবে এবং বিএনপি স্বরূপে ফিরতে পারবে বলে মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। দলের গঠনতন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে অসন্তোষও কেটে যাবে সুষ্ঠু কাউন্সিল হলে, এমনটাই আশা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে কবে নাগাদ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে সেটি নিয়ে দ্বিধান্বিত নেতারা। জানা গেছে, ক্রান্তিকাল দূর করতে জাতীয় কাউন্সিলের বিকল্প না থাকলেও সময় নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে দলটি।

তথ্যসূত্র বলছে, দল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সময় মতো জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করতে পারেনি বিএনপি। বর্তমান স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন করতে পারেনি দলটি। এদিকে দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, দলীয় প্রধান কারাগারে থাকায় সহসাই দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বেগম জিয়াকে বাদ দিয়ে জাতীয় কাউন্সিল করা নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও সেদিকে কান দেবেন না বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি বলেও জানিয়েছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, দলীয় সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ৩ বছর। দলটির সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়েছিলো নির্ধারিত সময়ের ৬ বছর পরে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের বক্তব্যে দলের পুনর্গঠনের বিষয়টি আসার পরে নেতাকর্মীদের আশা ছিলো এবার হয়তো নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কাউন্সিল নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোনো চিন্তা নেই বলে জানা গেছে।

নির্ধারিত সময়ে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ও সমস্যায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে বেশকিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাতীয় কমিটিগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সেজন্য অবশ্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের আহ্বানে দলের নেতাকর্মীরা সাড়া দিতে চাচ্ছেন না। তবে এবারের কাউন্সিলে কোনোরকম স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকবে না। তৃণমূল যাকে চাইবে, তার হাতেই বিএনপির দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে।

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, কাউন্সিল নিয়ে দলের ভেতর নানা কানাঘুষা চলছে। নেতৃত্ব পরিবর্তন করে দলকে রাজপথমুখী করাই হবে এই কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য। বিএনপির রাজনৈতিক রূপ ফিরিয়ে দিতে অবশ্যই ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জন-নন্দিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে হবে। তবেই জাতীয় কাউন্সিলের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে। যতদ্রুত সম্ভব চলতি বছরের মধ্যেই কাউন্সিলের আয়োজন করতে হবে।