আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:১২ অপরাহ্ন    

Home » রাজনীতি

রাজনীতি

গণশুনানির বিচারক ড. কামাল, অসন্তুষ্ট বিএনপি

নিউজ ডেস্কঃ-  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে গণ শুনানি কর্মসূচি পালন করবে তাতে প্রধান বিচারক হিসেবে থাকবেন জোটের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে জোটের নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এদিকে গণশুনানির প্রধান বিচারক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সব কিছুতে ড. কামালকে প্রধান করায় বিএনপির রাজনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে অসন্তোষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।

গণশুনানির প্রধান বিচারক নিয়োগ করার বিষয়ে আবদুর রবের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট করা হয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে। শুরুতেই বলা হয়েছিল যে প্রতিটি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিএনপিকে জানাতে হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে গণশুনানির বিচারক নির্ধারণী সভায় বিএনপির কাউকে নিমন্ত্রণ দেয়া হয়নি। এগুলো ভালো কোনো আলামত নয়। আ স ম রব এসব ঘোষণা দেয়ার কে? তার তো অধিকার নাই গণশুনানির বিচারক নিয়োগ দেয়ার। শুনেছি ড. কামালও জানেন না বিচারক প্রসঙ্গে। আ স ম রবের তো এত বাড়াবাড়ি করা উচিত না। বিএনপি এখনও নিঃশেষ হয়ে যায়নি যে এতটা অবজ্ঞা সহ্য করতে হবে। আর বিএনপিতে কি বিজ্ঞ কোনো আইনজীবী নেই যে ড. কামালকেই সব কিছুর প্রধান বানাতে হবে? রবের এমন দুঃসাহসে মনে হচ্ছে আমরা আইনের কিছুই জানি না। সব কিছুতে `তালগাছ আমার’ নীতি মেনে চললে তো জোটবদ্ধ রাজনীতি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রব সাহেব তো খারাপ কিছু বলেননি। বয়স ও মেধার ভিত্তিতে গণশুনানিতে ড. কামালকে প্রধান বিচারক করা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতারা ক্ষুব্ধ কেনো? বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। ড. কামালের কারণে আজকে বিএনপি প্রেস ক্লাব আর বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেও তো বিএনপি নেতাদের এমন উদ্ভট আপত্তি তোলা উচিত নয়।

কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে মান্না আরো বলেন, উপকারী গাছের যে ছাল থাকে না, এই প্রবাদ আবারও সত্য প্রমাণ করল বিএনপি। ড. কামাল গণশুনানির বিচারক হলে বরং দেশবাসী তার রায়কে মূল্যায়ন করবে। সরকারও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত নেতা এমন গুরুত্বপূর্ণ গণশুনানির বিচারক হলে এটি গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা হারাবে। এতটুকু বোধ হয়নি বিএনপি নেতাদের। জনগণ না চাইলে নেতা হওয়া যায় না। মাঠের রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পারায় এখন জোটের রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে বিএনপি। এগুলো জোটের রাজনীতির জন্য ভালো লক্ষণ নয়।

এই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাগান্বিত স্বরে বলেন, কে বিচারক হবেন আর কে আসামি হবেন, সেটি নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমার নেই। আমরা রাজনীতি করতে এসেছি, পুতুল খেলায় কে রাজা হবে আর কে মন্ত্রী হবে সেটি নির্ধারণ করতে নয়। বিচারক নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন বা যিনি বিচারক হওয়ার বাসনা পোষণ করছেন, তারা অলস মস্তিষ্কের মানুষ। রাজনীতি বাদ দিয়ে পদনীতির চর্চা করলে এমন উদ্ভট ও যুক্তিহীন বিষয় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিএনপি নেতাদের রাজনীতি করতে হলে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে।

 

গণফোরামেই যত আপত্তি বিএনপির

নিউজ ডেস্কঃ-  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিএনপি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মত্ত। ঠিক তখন ঐক্যফ্রন্টের দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহণের ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির ফাটল স্পষ্ট হয়েছে সাধারণ মানুষের সামনে।

আর তাই গণফোরামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানোর জন্য উপায় খুঁজছে বিএনপি।

এই ইস্যুতে স্কাইপের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেও কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না বিএনপি।

এদিকে, গুলশান সূত্র জানায়, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান যদি শপথ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সংসদে যোগ দেন সেক্ষেত্রে বিএনপির করণীয় কী হবে সে নিয়ে নেতারা আলোচনা করেছেন। তাছাড়া তাদের শপথ নেয়ার আগ্রহ যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে সেটা গণফোরামের দায়িত্বশীল নেতারা কীভাবে দেখছেন সেটাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তারা যাতে শপথ না নিতে পারেন সেক্ষেত্রে গণফোরামের ওপর কী ধরণের চাপ তৈরি করা যায় সে উপায় বের করার চেষ্টা করছে বিএনপি।

এনিয়ে সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায় চার ঘণ্টার একটি বৈঠক করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে রাত প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিশদভাবে কিছুই বলতে চাননি দলের দায়িত্বশীলরা। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বলার মতো কিছু নাই।’ অন্যদিকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সিদ্ধান্ত জানানো হলে তা দলের মহাসচিব জানাতেন।’

সূত্র বলছে, গণফোরামকে চাপে ফেলতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রাখতেই বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কিছু বলা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী গণফোরামের দুই সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ নেবেন না বলে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠালেও ব্যক্তিগতভাবে শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদার মুক্তির দাবির যৌক্তিকতা কতটুকু

নিউজ ডেস্কঃ- এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবাসে আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই বিএনপি ড. কামালের নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর থেকে বিপাকে রয়েছে বিএনপি।
সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদার মুক্তির জন্য আবেদন জানিয়েছেন । বিএনপি নেত্রীর কারাবাসের এক বছর পূর্তির আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে খালেদার মামলাগুলোয় জামিনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তার মুক্তির ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।
তিনি বলেন, “এই সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যে আমাদের আহ্বান, এবার একটু ক্ষান্ত দিন। ম্যাডামকে আপনি এবার মুক্তি দিন। আমি আপনার কাছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”
এছাড়া বিএনপি নেতা ডাঃ জাফরুল্লাহ সম্প্রতি খালেদার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের দাবি জানিয়েছেন।
কিন্তু, বিএনপির কেন্দ্রীয় এসব নেতারা একটি ব্যাপার বেমালুম ভুলে গেছেন যে, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দণ্ডিত কোনো আসামীকে মুক্তি কিংবা কোনো বিচারকার্যে হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার কিংবা অধিকার প্রধানমন্ত্রীর নেই। প্রকৃতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএনপি নেতাদের খালেদার মুক্তির আবেদন জানানো মূলত বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিক অপকৌশল কিংবা অদূরদর্শিতার প্রমাণ বহন করে।
খালেদা জিয়া যে মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন, উক্ত মামলাটি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন উক্ত বিচারকার্য চলেছে। বিএনপি নেত্রীর পক্ষে বিএনপি-পন্থী আইনজীবীরা কোনো যৌক্তিক প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়াতেই এই সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই উক্ত মামলায় এমন রায় দিয়েছে আদালত। আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারের নেই। আদালতের সিদ্ধান্তই হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে শেষ কথা।
বাস্তবিক অর্থে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে তা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু, বিএনপি নেতারা আইনি লড়াইয়ের জন্য কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না, তারা শুধু ঢালাওভাবে সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, আদৌ কি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা খালেদার মুক্তি চান? নাকি খালেদার কারাবাস নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটাই একমাত্র উদ্দেশ্য তাদের?

বিএনপি নেতাদের ভিক্ষুক বলে কটাক্ষ করে মোনাজাত ধরার আহ্বান ডা. জাফরুল্লাহ’র

নিউজ ডেস্কঃ-  দিন দিন বিএনপির প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। এবার খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের রাস্তায় বসে মোনাজাত করার মতো কটাক্ষ করেছেন জাফরুল্লাহ।

৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে ক্ষোভের সঙ্গে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট, গুলশান কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ভিক্ষুকের মতো খালেদা জিয়ার মুক্তি চান বিএনপির নেতারা। খারাপ লাগে না আপনাদের! আপনারা নেতা না ভিক্ষুক? একেক জন নেতা বাক্যবাণে হাতি-ঘোড়া মারেন। রাজপথে নামার কথা শুনলে শরীর খারাপ, কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিএনপির নেতারা ইচ্ছা করে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রাখতে চান। কারণ তিনি মুক্ত হলে তো কমিটির মনোনয়ন দেয়ার নামে লুটপাট করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, সভা-সেমিনার ও কথার বাণ ছুঁড়ে বেগম জিয়ার মুক্তি আসবে না। এর জন্য রাস্তায় নামতে হবে। গোলটেবিল বৈঠক করে কোনো লাভ হবে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমার প্রচণ্ড হাসি পায়। মওদুদ সাহেব যদি জেলে থাকতেন তাহলে কিন্তু ঠিকই আট-দশটা ব্যারিস্টার-উকিলের মাধ্যমে বের হয়ে আসতেন। অথচ বেগম জিয়ার ব্যাপারে মওদুদ সাহেবদের গড়িমসি আমাকে ব্যথিত করেছে। আমার মনে হয়, বিএনপি নেতারা শুধু এখন মোনাজাতেই বেগম জিয়ার মুক্তি চান।

তারেক রহমানের সমালোচনা করে জাফরুল্লাহ বলেন, আপনি লন্ডনে বসে স্কাইপে কথা বলবেন ঠিক আছে, তবে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বসেন। তা না হলে ভুল-ভ্রান্তি হবে। রিজভীর মাধ্যমে মিটিং না করে সিনিয়র নেতাদের ডাকেন। আপনি আরেকজন রিজভী হয়ে যাবেন না। ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে নতুন জীবন দিয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট না হলে তারা রাস্তায় বের হতে পারতো না। সুতরাং ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপি নেতাদের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।

এদিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, দেখুন আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায় করতে চাই। সেজন্য ম্যাডাম জিয়ার মুক্তি পেতে একটু সময় লাগছে। আমি মনে করি, ম্যাডামের মুক্তি আন্দোলন করে খুব বেশি লাভ হবে না। ভিক্ষা করে মুক্তি পাওয়ার চেয়ে বেগম জিয়ার কারাগারে থাকাটা অনেক সম্মানের। ম্যাডাম না থাকলেও বিএনপি কিন্তু ঠিকই চলছে। আর জাফরুল্লাহ সাহেবের কথায় কান দিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ তিনি কখন কী বলেন তার ঠিক নেই। আর তিনি তো বিএনপির কেউ নন। সুতরাং বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তার মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। বিএনপি কোনো ব্যক্তির মতামতে চলে না। ডা. জাফরুল্লাহর এমন মন্তব্য বিএনপির জন্য অসম্মানের। তিনি প্রতিবারই এমন আজে-বাজে মন্তব্য করে বিএনপিকে বদনাম করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রাত্যহিক প্রেস ব্রিফিং ও অভিযোগে কর্মীদের মন বিষিয়ে তুলছেন রিজভী, ক্ষুব্ধ সিনিয়ররা

নিউজ ডেস্কঃ- কার্যালয়ে স্থায়ী হয়ে যাওয়ায় সমালোচকরা রিজভীকে বিএনপির ‘আবাসিক নেতা‘ বলে টিপ্পনী কাটেন! দলে গুঞ্জন উঠেছে, বিএনপির বিপর্যয়ের মধ্যেও স্বপদে বহাল থাকতে নিয়মিত কারিশমা দেখাচ্ছেন রিজভী আহমেদ। রিজভীর কর্মকাণ্ডে বিএনপি বিতর্কিত হচ্ছে বলেও নেতাকর্মীদের মাঝে গুঞ্জন চাউর হয়েছে।

এদিকে রিজভী আহমেদের দৈনন্দিন অভিযোগের প্রেস ব্রিফিংকে বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সার্টিফিকেট হিসেবে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, লিখিত বক্তব্যে ভাষার জাদু দেখিয়ে আইসিইউতে থাকা বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন রিজভী আহমেদ।

রিজভী আহমেদের অতি বাক্যব্যয়কে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাস সিংহ রায় বলেন, কারণে-অকারণে যুক্তিহীন প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যম কর্মীসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের মন বিষিয়ে তুলছেন রিজভী আহমেদ। আমার কাছে তথ্য আছে, তার এই ব্রিফিংকে এখন দলের ভেতরে-বাইরের অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন। অনেক সময় এ নিয়ে সৃষ্টি হয় হাস্যরসের। প্রতিদিন বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করায় দলটির হাইকমান্ডের হাতে প্রায়ই তিরস্কৃত হন রিজভী আহমেদ।

তিনি আরো বলেন, রিজভী শুধু ব্রিফ করেই দায় সারছেন। তার এই অতিমাত্রার ব্রিফিং এখন অনেকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির প্রতি অশ্রদ্ধা ও অভক্তি সৃষ্টি করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন রিজভী। আমি অবাক হই, বিএনপিতে কি কেউ নেই যিনি রিজভীর মুখের লাগাম টেনে ধরবেন?

রিজভীর এই অতিমাত্রায় ব্রিফিংয়ের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, রিজভী কেন প্রতিদিন ব্রিফিং করেন, আমরাও জানি না। অনেকেই ফোন করে জানতে চান— এতে দলের কি লাভ হয়? জবাব দিতে পারি না। কতিপয় নেতা আছেন, যারা সংবাদ মাধ্যমে নিজের চেহারা আর নাম দেখাতে চান। রিজভী সম্ভবত সেই দলের সভাপতি। রিজভী আহমেদকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ না করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েও লাভ হয়নি। কিছু বললেই তিনি বলেন, লন্ডনের নির্দেশে সব হচ্ছে। প্রাত্যহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি যে দিনে দিনে ‘অভিযোগ পার্টি‘তে পরিণত হচ্ছে`, সেটি রিজভী আহমেদ বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরো বলেন, প্রেস ব্রিফিং এবং অহেতুক অভিযোগ করে শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ ছাড়া কোনো লাভ হচ্ছে না। বিএনপির কার্যক্রম শুধু প্রেস ব্রিফিং কেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় দিনকে দিন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়ছেন। রিজভীর অহেতুক কর্মকাণ্ডে বিএনপির প্রতি আকর্ষণ হারাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। বিএনপিকে এমন হতাশার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা দল শুধু হতাশা ও অভিযোগকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হলেন যারা

নিউজ ডেস্কঃ-একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হলেন একঝাঁক নতুন মুখ। ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। ওইদিন রাত ১০টার দিকে গণভবন থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সংরক্ষিত আসনে ৪১ জনের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন-
১. আঞ্জুম সুলতানা (কুমিল্লা)
২. সুলতান নাদিরা (বরগুনা)
৩. মিসেস হোসনে আরা (জামালপুর)
৪. রুমানা আলী (গাজীপুর)
৫. উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
৬. হাবিবা রহমান খান শেফালী (নেত্রকোনা)
৭. শেখ এ্যানি রহমান (পিরোজপুর)
৮. অপারাজিতা হক (টাঙ্গাইল)
৯. শামীমা আক্তার খানম (সুনামগঞ্জ)
১০.শাসুনাহার ভূইঁয়া (গাজীপুর)
১১. ফজিলাতুন নেসা (মুন্সিগঞ্জ)
১২.রাবেয়া আলীম (নীলফামারী)
১৩. তামান্না নুসরাত বুবলি (নরসিংদী)
১৪. নার্গিস রহমান (গোপালগঞ্জ)
১৫. মনিরা সুলতানা (ময়মনসিংহ
১৬.নাহিদ ইজহার খান (ঢাকা)
১৭. মোছা খালেদা খানম (ঝিনাইদহ)
১৮. সৈয়দা রুবিনা মিরা (বরিশাল)
১৯. ওয়াসিকা আয়েশা খান (চট্টগ্রাম)
২০.কাজী কানিজ সুলতানা (পটুয়াখালী)
২১. অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার (খুলনা)
২২. সুবর্ণা মুস্তাফা (ঢাকা)
২৩. জাকিয়া তাবাস্মুম (দিনাজপুর)
২৪. ফরিদা খানম (সাকী) নোয়াখালী
২৫. বাসন্তী চাকমা (খাগড়াছড়ি)
২৬. কানিজ ফাতেমা আহমেদ (কক্সবাজার)
২৭. রুশেমা বেগম (ফরিদপুর)
২৮. সৈয়দা রাশিদা বেগম (কুষ্টিয়া)
২৯. সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন (মৌলভিবাজার)
৩০. আদিবা আনজুম মিতা (রাজশাহী)
৩১. আরমা দত্ত (কুমিল্লা)
৩২. শিরিনা নাহার (খুলনা)
৩৩. ফেরদৌসী ইসলাম জেসী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
৩৪. পারভীন হক সিকদার (শরীয়তপুর)
৩৫. খাদেজা নুসরাত (রাজবাড়ী)
৩৬. শবনম জাহান শিলা (ঢাকা)
৩৭. খাদিজাতুল আনোয়ার (চট্টগ্রাম)
৩৮. জাকিয়া পারভীন খানম (নেত্রকোনা)
৩৯. মোসা. তাহমিনা বেগম (মাদারীপুর)
৪০. শিরীন আহমেদ (ঢাকা)
৪১. জিন্নাতুল বাকিয়া (ঢাকা)

দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বে দুর্নীতি,বিএনপির ভাঙন দৃশ্যমান!

নিউজ ডেস্কঃ-নেতৃত্ব শূন্যতার মধ্যে পড়েছে বিএনপি। বিএনপিতে দ্বিতীয় সারির নেতারা নেতৃত্ব দেয়ায় দলটি রাজনৈতিকভাবে চরম সংকটের সম্মুখীন হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির রাজনৈতিক সংকটকে নিজেদের অদূরদর্শিতার ফল হিসেবে বর্ণনা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন দলটির দ্বিতীয় পর্যায়ের নেতারাই মূলত নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে অসংখ্য দুর্নীতির মামলা রয়েছে। তাদের অনেকেই দলকে মুখ্য করে না দেখে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করতে নানা দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়েন। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ দলটির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি আরো বলেন, স্পষ্ট করে বলতে গেলে বিএনপির রাজনীতিতে অবিশ্বাস ও আনুগত্যের অনীহা দৃশ্যমান। ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে ভেঙ্গে দিয়ে নেতারা বিভিন্ন-পন্থীদের ছায়াতলে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করছেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে দল প্রেম ও দলের প্রতি অভক্তি স্পষ্ট হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। খালেদা-তারেকের অশুভ ছায়া বিএনপিতে ভর করেছে।
এদিকে বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, নেতৃত্বের অভাবে বিএনপি এখন পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে রূপ নিয়েছে। বিএনপি নেতারা ঋণখেলাপি এবং দখলবাজ হিসেবে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে নেতৃত্বশূন্যতা কাটানোর জন্য ভাবমূর্তি সম্পন্ন নেতার অভাব ছিল। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল। ড. কামাল হোসেনের আকাশ-কুসুম কথায় বিএনপি কর্মীরা এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি কিছুটা চাঙ্গা হয়েছিল। সর্বোপরি বিএনপিতে এতো ব্যাপকভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে যে নির্বাচনের আগেও তাদের ভাবমূর্তি ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়েছিল। সুতরাং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় অবধারিত ছিল। দ্বিতীয় সারির নেতাদের লোভ-লালসা, বিভিন্ন কমিটির মনোনয়ন এবং সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে সীমাহীন মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে লজ্জাজনক পরাজয়ে সাংগঠনিকভাবে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে বিএনপি। সেক্ষেত্রে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলা চলে।

বিএনপিকে আওয়ামী লীগ থেকে শিক্ষা নিতে হবে বলে ফেঁসে গেলেন বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা

নিউজ ডেস্কঃ-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভঙ্গুর অবস্থা বিবেচনায় ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখে বিএনপিকে সে বিষয়ে শিক্ষা নিতে হবে বলে মন্তব্য করে ফেঁসে গেলেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা।বিএনপির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ এমন পরামর্শ দেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে পুরনো একটি দল বিএনপিকে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে- এমন পরামর্শ জ্ঞানগর্ভ হলেও তা মেনে নিতে পারেননি দলের সিনিয়র ও মাঠপর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিতে হবে বললে বিষয়টি স্বাভাবিক হতো। কেননা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির যে বিরোধ সম্পর্ক সেখানে এই বক্তব্য আওয়ামী লীগকে উস্কে দেয়ার নামান্তর।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির পুনর্জাগরণের চেষ্টা ও পরিকল্পনা সকল নেতার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের উদাহরণ টেনে তা থেকে শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দেয়া দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত। আমরা বিষয়টি সহজভাবে মানতে পারেনি। দলের কোনো নেতা তা মানবেও না।
বিএনপিপন্থী অন্যতম বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, বিএনপির বর্তমান যে রাজনৈতিক সংকট এবং সিদ্ধান্তহীনতা, সেই জায়গা থেকে বিএনপিকে বেরিয়ে আসতে হবে সাংগঠনিক শক্তির বলেই এবং নিজস্ব আদর্শ ও নীতির মাধ্যমেই। বিএনপি যদি তার আদর্শের সঙ্গে সমঝোতা করে বা আপস করে তাহলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ এরকম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। তারা যেভাবে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছিল সেটিকে অনুকরণ করাই উৎকৃষ্ট কাজ হবে।
বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, একটা রাজনৈতিক দলে যখন সংকট তৈরি হয়, তখন সে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটা নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হয়। নেতৃত্বের নির্দেশনায় দলকে পুনর্গঠিত করতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিএনপিতে সেরকম নেতৃত্ব নেই। আওয়ামী লীগের উত্থান ও অবস্থানের দিকে লক্ষ্য করে বিএনপি যদি তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে তা হবে সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান পথ।
বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বিএনপির রাজনীতি সস্তা তথা বস্তাপচা রাজনীতিতে পরিণত হচ্ছে। সেখান থেকে যদি বিএনপি উত্তরণ না করতে পারে তাহলে বিএনপির এই সংকট মোকাবিলা করা যাবে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে এমন সংকট আসে। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ এমন সংকটে পড়েছিল। সেই সংকট থেকে আওয়ামী লীগের যে উত্তরণ তা থেকেই বিএনপিকে শিক্ষা নিতে হবে। এই শিক্ষা নিতে সবচেয়ে আগে যা দরকার তা হলো দলের আদর্শ এবং নীতিকে সামনে রাখা।

ডা.জাফরুল্লাহ’র অভিমত:বর্জন করে কিছুই অর্জন করতে পারবে না বিএনপি

নিউজ ডেস্কঃ-একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস পরাজয়ের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাননি ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। নির্বাচন বর্জন করে কিছুই করতে পারবে না বিএনপি। বরং এভাবে ভুল পথে চলতে থাকলে বিএনপি এক সময়ে কর্মী শূন্য হয়ে পড়বেও বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।
স্থানীয় নির্বাচনে ভেঙ্গে পড়া বিএনপির জন্য মহৌষধ দাবি করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিপর্যয়ের অর্থ এই নয় যে প্রতিবার ঠকবে বিএনপি। যে সরকারের ওপর ভরসা করে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল, সেই সরকারকে আরেকবার বিশ্বাস করার জন্য আমি বিএনপিকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় পর্যায়ে হাতে গোনা নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। মূলত রাজনীতি টিকে থাকে তৃণমূলের অবদানে। রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে তৃণমূলের চাহিদাকে বিএনপির হিসেব করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান না থাকলে উপজেলা-জেলা ভিত্তিক রাজনীতিতে ভাটা পড়বে। নেতারা বাধ্য হয়ে অন্য দলে যোগদান করবেন বা বিদ্রোহ করবেন। যা বিএনপির জন্য শুভকর হবে না। আমি খোঁজ-খবর করে জানতে পেরেছি, সারাদেশের বিএনপি নেতারা স্থানীয় নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচন করে জয়ী হয়ে মাঠ নিজের দখলে রাখতে উৎসাহী বিএনপি। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে তারা হতাশ। কারণ প্রতিনিধিত্ব করা ছাড়া মাঠের রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন নেতারা।
ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, পরাজয়ে ভীত হয়ে বিএনপির তরফ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করলে পরোক্ষভাবে সেটি তৃণমূল নেতৃত্বের ওপরই অনাস্থা প্রকাশ করা হবে। সরকার ও কমিশনের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। সেটি তারা করবে। অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে অংশ নিবে এবং বিএনপি দূরে থাকবে, এমন পরিস্থিতিতে দলটির নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বেন। কারণ যারা রাজনীতি করেন তারা তো বসে থাকবেন না। বিষয়টি তো এমন নয় যে, নির্বাচন বর্জন করলেই সবকিছু নিজেদের আয়ত্তে চলে আসবে। বরং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রতিনিধিত্ব করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বিএনপির তরফ থেকে আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সেটি দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিলে সেটি হবে আন্দোলনের একটি অংশ। অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জ্বালাও-পোড়াও করে অন্তত জনসমর্থন পাওয়া যাবে না। যা করতে হবে সেটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন নির্বাচন বাদ দেয়া যাবে না। পালিয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি নিরাপদ। লড়াই করে প্রতিনিধিত্ব করাটাই রাজনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য বলে আমি মনে করি। বিএনপির আর পালানোর কোন পথ খোলা নেই। নির্বাচন বর্জন করে কোন কিছুই অর্জন করতে পারবে না তারা।

পরাজয় জেনে ডিএনসিসি উপ-নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল বিএনপি

নিউজ ডেস্কঃ-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর রীতিমত স্নায়বিক সমস্যায় পড়েছে বিএনপি। মূলত তারা বুঝতে পেরেছেন দেশের মানুষ বিএনপির ওপর থেকে এমন ভাবে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আর এই কারণে ডিএনসিসি উপ-নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে না বিএনপি।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে অংশ নেন বলে জানা যায়।বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৭ টি আসন পেলেও ঢাকা থেকে একটি আসনও পায়নি বিএনপি। তার মাধ্যমে বোঝাই যাচ্ছে অন্তত ঢাকায় বিএনপির কোন জনপ্রিয়তা নেই। আর এই কারণেই আমরা চিন্তা করছি এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না।তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, নির্বাচনে আমরা অংশ নিতেই পারি। তবে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে বোঝা যায় আমাদের সক্ষমতা আগের অবস্থানে নেই। তাই আমাদের কিছু সময়ের প্রয়োজন। এবারের নির্বাচনে অংশ না নিলেও আগামী যেকোন নির্বাচনে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবো।এদিকে বিষয়টি উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ আরাফাত বলেন, হার-জিত বড় কোন বিষয় নয়। বিষয়টি হচ্ছে অংশগ্রহণ করা। বিএনপির উচিত হবে, হার-জিতকে প্রাধান্য না দিয়ে, নির্বাচনের মাঠ যাচাই করার জন্য হলেও অংশগ্রহণ করা।বিএনপির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে রাজনীতি করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে তারা। আশা করবো, এমন মানসিকতা থেকে বের হয়ে দেশের মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান দিয়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি।