আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:১২ অপরাহ্ন    

Home » মুক্তমত

মুক্তমত

রাজপুত্র “সাচিং প্রু জেরী” কে ধানের শীষে আপনার মুল্যবান ভোট দিনঃ-(এম.এ.খায়ের নিজামী)

এম.এ.খায়ের নিজামী:- আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, রোজ – শনিবার সমগ্র বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন” এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর সমস্ত প্রার্থীরা সমগ্র বাংলাদেশের আপমর জন সাধারণের প্রাণবন্ত ও শতস্ফুর্ত ভালবাসা এবং আন্তরিক সাপোর্টের মধ্যদিয়ে বৈধ নমিশনের মাধ্যমে গণ সংযোগ ও মিটিং মিছিল করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দেখা যায় বি.এন.পির সরকার গঠনে তথা ধানের শীষের বিজয়ের মধ্যদিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশের সর্বস্থানের আপমর জনসাধারণ মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এই বিজয়ের আগাম সু-পরিস্থিতি লক্ষ করে এবার আওয়ামীলীগ উপলব্ধি করতেছে যে, তারা ক্ষমতায় আসার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই অস্থির হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের সব জায়গায় ঐক্যফ্রন্ট ও বি.এন.পি’র নেতা কর্মীদের উপর বিভিন্ন প্রকারের হামলা ও গায়েবী মামলার মাধ্যমে নিয়মিত ভাবে অহেতুক ও অযথা হয়রানীর করে যাচ্ছে।

ঠিক এমন এক ক্রান্তিলগ্নে, আওয়ামী তিতাশ সরকারের লেলিত লোকজন ও পুলিশলীগ কর্তৃক সব ধরণের মামলা-হামলা, গুম খুন ও মারধরের সকল প্রকার অরাজকতাকে উপেক্ষা করে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সর্ব-সাধারণের অসীম প্রেম ও ভালবাসাসিক্ত হয়ে ৩০০ নং পার্বত্য বান্দরবান আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে আকুতোভয় লড়াইয়ের মাধ্যমে, বি.এন.পি চেয়ারপার্সন, তিন তিন বারের প্রথম ও সফল সাবেক মহিলা প্রধান মন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারা মুক্তির লক্ষে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন- বান্দরবান পার্বত্য জেলা বি.এন.পির রাজা, বান্দরবান বাসীর নয়নমনি, সম্প্রীতির শহর বান্দরবানের বোমাং রাজপুত্র, বাবু সাচিং প্রু জেরী।

বোমাং রাজা সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান পার্বত্য জেলা বিএনপির জন্য অন্যতম সম্পদ। দল পাগল নিঃস্বার্থ সাচিং প্রু জেরীর বয়স প্রায় ৭০ বছরে পদার্পন। এমন বয়সের একজন বীর দলের জন্য অবাদে খেটে যাচ্ছেন, তাহার লক্ষ্য একটাই, সর্বদা ধানের শীষের বিজয় চাই। তিনি এইভাবে নি:স্বার্থে দলের জন্য খেটে যাচ্ছেন বলেই আজকে বান্দরবানের যেখানেই জেরি’র সমর্থনে ধানের শীষের মিছিল মিটিং হচ্ছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে বোমাং রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী’র নেতৃত্বে ধানের শীষের মিছিলে দেশপ্রেমীকদের গণজোয়ার। যখনই ফেইসবুক চালু করি, তখনই দেখি বান্দরবান পার্বত্য জেলার আনাচে কানাচে যেখানেই রাজপুত্র যাচ্ছেন সেখানেই রাজপুত্রের সমর্থনে ধানের শীষের জোয়ার এবং রাজপুত্রের প্রতি মানুষের ভালবাসার অনন্ত প্রমান।

বর্তমান সময়ের বান্দরবান পার্বত্য জেলা বি.এন.পি’র মহাযুদ্ধা বাবু সাচিং প্রু জেরী, তিনি কোন সাধারণ বা নর্মাল পরিবারের সন্তান নয়। তিনি হচ্ছেন- বান্দরবান পার্বত্য জেলার বোমাং রাজপুত্র এবং আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশের প্রথম ও শ্রেষ্ট রাষ্ট্রপতি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, আধিপত্যবাদীর ষড়যন্ত্র প্রতিহতকারী, সিপাহী জনতার বিপ্লবের মহানায়ক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ত রক্ষাকারী এবং সকলের প্রানপ্রিয় সংগঠন “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল” বিএনপি’র সুযোগ্য প্রতিষ্ঠাতা, মরহুম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরোত্তম এর তৎকালীন সরকারের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী, জননেতা স্বর্গীয় মিঃ অংশৈ প্রু চৌধুরী’র সুযোগ্য সন্তান। যার মুল্যায়ন বান্দরবান পার্বত্য জেলার আনাচে কানাচে প্রতিটি শহরে প্রতীয়মান। আজ সেই বোমাং রাজাই ৩০০ নং পার্বত্য বান্দরবান আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

#ধানের শীষ মানে ১৯৭১ সালের ৩০ লক্ষ শহীদ এবং তিন লক্ষ মা বোনদের সম্মান রক্ষা। #ধানের শীষ মানে স্বাধীন দেশে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্তির সংগ্রাম। #ধানের শীষ মানে দেশের মানুষ হিংস্র ও হায়েনারদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া। স্বাধীনতা, গনতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়া। জালিমের হাত থেকে স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা পাওয়া। অপশক্তির দাপটে কারাবন্দী, দেশনেত্রী, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা।

তাই বান্দরবানের সর্বস্থরের আপামর জনগণের প্রতি আমার আবেদন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বি.এন.পি চেয়ারপার্সন, সাবেক সফল মহিলা প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং বি.এন.পি’র বিজয় সু-নিশ্চিত করতে, ৩০০ নং পার্বত্য বান্দরবান আসনে বি.এন.পি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, বান্দরবান জেলা বি.এন.পির নক্ষত্র, বান্দরবান বোমাং রাজপুত্র, জন-নন্দিত নেতা বাবু “সাচিং প্রু জেরী” কে ধানের শীষে আপনার মুল্যবান ভোট দিন।

এভাবে চললে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবেঃ-ব্রি.জে. (অব.) এম.সাখাওয়াত হোসেন

ব্রি. জে. (অব.) এম.সাখাওয়াত হোসেনঃ- সবাই চাচ্ছে সহিংসতা বন্ধ হোক। এভাবে সহিংসতা হলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। সহিংসতা কেন- তার কারণ খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে কোনো স্যাবোটাজ আছে কি-না, তাও বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে। কারণ বিভিন্ন জরিপে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত সরকারি দল জয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে, সেই তথ্যই আসছে। আর গত কয়েক বছরে সরকারি দল ভালো কাজ করেছে, দেশের উন্নয়ন হয়েছে। মানুষ উন্নয়ন, অগ্রগতির অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। এ কারণে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণের ভোটেই সরকারি দল বিজয়ী হবে- এমন প্রত্যাশার

সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এভাবে সংঘাত, সহিংসতা চলতে থাকলে সরকারি দল জনগণের প্রকৃত ভোটে বিজয়ী হলেও নির্বাচনের সেই ফল নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- এই প্রশ্ন তোলার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে কেন?

প্রচারের শুরু থেকেই যেভাবে সহিংসতা হচ্ছে, তাতে আরও একটা প্রশ্ন আসছে। পরিস্থিতির ওপর কি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নেই, কিংবা কমিশন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে? এ প্রশ্নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ হারালে চলবে না। নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। কমিশনকে অবশ্যই এ সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কিন্তু এটাও সত্য, যতই শক্তিশালী হোক, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশনের কাজে সক্রিয় সহযোগিতা করতে হবে। সবার সহযোগিতা পেলেই কেবল নির্বাচন কমিশন অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হবে। আবার সবার সহযোগিতা নিশ্চিত করতেও নির্বাচন কমিশনকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইসিকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সরকারি প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। এ কারণে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনও নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন যদি প্রচারের শুরু থেকেই এভাবে সহিংসতা চলতে থাকে, তাহলে নির্বাচনের দিনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কা সৃষ্টি হবে। তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ সহিংসতা বন্ধ হতেই হবে।

সহিংসতার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তাও খুঁজে বের করতে হবে। আজ থেকেই সহিংসতা বন্ধ হোক, ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকুক- এটাই প্রত্যাশা করি।

-সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্নেষক

তথ্য সুত্রঃ-(দৈনিক সমকাল)

৩০০ নং বান্দরবান আসনে কেন সাচিং প্রু জেরী?

আশরাফুর রহমান, (মুক্তমত):- একাদশ সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর।আজ থেকে শুরু হয়েছে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাতকার পর্ব।জাতীয়বাদী দল’র সকল নেতা-কর্মীদের ভাবনা কারা হচ্ছেন ৩০০ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী।বান্দরবানের তৃনমুল ভাবনাও এর ব্যাতিক্রম নয়।

বান্দরবান বিএনপির মনোনয়নের জন্য ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৩ জন।তবে তৃণমুলের ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে সাচিং প্রু জেরী।কিন্তু কেন তিনি এগিয়ে? তাই খুঁজার চেষ্টা করেছি।

১, ১/১১ পরবর্তী দল’র সবচেয়ে দু:সময়ে যখন নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ ছিলনা তখন তিনি’ই দলের হাল ধরেন এবং সে ধারাবাহীকতা আজো চলমান।

২,স্থানীয় সরকার নির্বাচন গুলোতে তাঁর চৌকস নেতৃত্ব সর্বোচ্ছ সংখ্যক প্রার্থী বিজয়ে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

৩,দল’র দূর্দিনেও মামলা হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের পাশে দাড়িয়েছেন,তাঁদের সাহস জুগিয়েছেন।সেই নেতা-কর্মীরাই আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

৪,নির্বাচনে জয়ী হতে হলে দলীয় কর্মী,সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ জনতার ভোট ও সমর্থন অন্যতম গুরুত্তপূর্ণ।সেই ক্ষেত্রে তিনি এবং তাঁর পরিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’র আমল থেকেই আমজনতার জন্য কাজ করার কারণে অন্যদের চেয়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে।

৫,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’র আমলে সাচিং প্রু জেরীর বাবা ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী।সেই ধারাবাহীকতায় তিনিও প্রথমে উপজেলা পরে নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন।তাই দল এবং দল’র বাহিরে আলাদা ইমেজ তৈরী হয়েছে।

৬,দল থেকে নির্বাচিত ৪ উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রায় সকল ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান বৃন্দ,জেলা কমিটির ৯০ ভাগ নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা,পৌরসভা ও সকল সাংগঠনিক ইউনিট’র নেতৃবৃন্দ রয়েছেন সাচিং প্রু জেরীর নেতৃত্বে।তাছাড়া সাবেক বোমাং রাজার সন্তান হওয়ায় বান্দরবানে বিএনপি জয়ী হওয়ার পথে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৭,সরকারের সকল চাপের মাঝেও দলীয় প্রোগ্রাম পালনে কখনো পিছুপা হননি।জনমানব শুন্য এলাকায় ফটো সেশন করে নিজের প্রচারনা চালানোর জন্য দলকে সাধারণ মানুষের কাছে ছোট করেননি,হাস্যকর ইস্যু করেননি বরং রাজপথে সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

৮, এমন অসংখ্য কারণ আছে যা স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবেনা।আশা করি দল’র হাইকমান্ড, তৃণমুল’র মনের কথা বুঝবেন।ত্যাগী,নিরহংকার, নির্লোভী,কর্মী বান্ধব, পার্বত্য জেলা বান্দরবান বিএনপির অতন্দ্র প্রহরী জননেতা সাচিং প্রু জেরী মনোনয়ন দিবেন এবং আমরা তৃণমুল তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে ৩০০ নং আসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

“গণতন্ত্রের মা এর ঈদ”-(জাহিদ এফ সরদার সাদী)

বান্দরবান অফিসঃ- বন্দি অবস্থায় প্রথম ঈদ ১৯৭১ এ আর আজও স্বাধীন বাংলাদেশে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ গণতন্ত্রের মা’র ঈদ!

জুলাই ২, ১৯৭১ — বেগম জিয়া পাকহানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন। তাঁর অপরাধ ছিল তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তলাল সেই বছর নভেম্বর ২০, ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। সেই সময় তিনি তাঁর দুই শিশুসন্তান পিনো ও কোকোসহ বন্দি অবস্থায় থাকেন। গৌরবময় ৭১ এ প্রথমবারের মত ঈদ বন্দি অবস্থায় পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের জন্ম সংগ্রামে এইভাবেই জড়িয়ে যান ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের জীবন্ত কিংবদন্তি (Living Legend) গণতন্ত্রের ‘মা’ বেগম খালেদা জিয়া।

ষড়যন্ত্রমূলক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোড়ের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগার তথা হানাবাড়িতে কারাবন্দি করে রেখেছে ম্যান্ডেটবিহীন সরকার। এই ধরণের মামলায় সবাই জামিন পেলেও গণতন্ত্রের পূণরূদ্ধারের আপোষহীন দেশমাতা বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে বিপরীত।

চক্রান্তমূলক ৩৪টি মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে ঈদুল ফিতরের পর এবার ঈদুল আজহাতেও তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়েছে।

এর আগে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে খালেদা জিয়াকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুইটি ঈদ কারাগারে কাটাতে হয়েছিল।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় – ১৯৭১ এর নভেম্বর ২০ তারিখে ঈদুল ফিতর আসে। সেইসময় দুইপুত্রসহ পাকহানাদার বাহিনীর হাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি থাকেন বেগম জিয়া।

আর আজও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার স্বীকারে নির্জন কারাগারে একাকী ঈদ কাঁটালেন ‘গণতন্ত্রের মা’ বেগম খালেদা জিয়া।

কিংবদন্তি, ওরা মুছতে চায় তোমার কীর্তি,
মন চাদরে গাঁথি রেখেছি তাই তোমার স্মৃতি!

গণতন্ত্রের রন্ধ্রেরন্ধ্রে ধরেছে ঘুণ;
লাশ খুঁজে শকুন, যে তোমায় করেছে খুন!

দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নে দুর্বিষহ দুর্গতি,
সম্প্রতি তাই তোমার প্রতি বেড়েছে সম্প্রীতি!

তোমার দুনয়নের একনয়ন আরাফাত রহমান,
সয়ে গেছে কত নিপীড়ন নির্যাতন অপমান!

তারেক রহমান, তোমার নম্রছেলে সৌম্যস্বভাব,
নির্বাসনে ধুকে মরে, অনুভবে মায়ের অভাব!

তোমার স্মৃতিভরা বাড়ি, গুড়িয়ে দেয় তারা,
বীরোত্তমের বউ ভাড়াটিয়া গৃহহার!

আমায় ফাঁদেফেলে মিথ্যে মামলায় বেঁধেছে জেলে,
তখনও জেলে ছিলেম, তুমি যখন যুদ্ধে গেলে!

কেয়ার করি না জেল, ইতিহাস সাক্ষী ফেরাউনের পরিণতি,
মন চাদরে গাঁথি, রেখেছি তোমার স্মৃতি, সেনাপতি।

স্বাধীন বাংলাদেশের পরাধীনতার শৃঙ্খেলে আবদ্ধ কিংবদন্তির এই ‘জীবন্ত আগুন’ আজ তার দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পরিত্যক্ত নাজিম উদ্দিন রোড়ের সেই হানাবাড়ি থেকে।

“ঈদ মোবারক”— খালেদা জিয়া।

জাহিদ এফ সরদার সাদী, বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত।

মরননেশা মাদকের নতুন সংযোজন মিক্সচার বা ফিটনি…!

মাহবুবা সুলতানা শিউলিঃ- মিতুল ও সাব্বির খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই ক্লাস ওয়ান থেকে এখন পর্যন্ত তাদের গলায় গলায় ভাব। মাত্র ক্লাস নাইনে উঠলো তারা। চোখে রঙিন চশমা। পৃথিবীর সবকিছুই রঙিন রঙিন লাগে। মিতুল বরাবরই মেধাবী ছাত্র। শ্রমিক বাবার একমাত্র আশার আলো। সংসারী মাও সংসারের কাজকর্মের ভিতরই মিতুলকে আগলে রাখেন। সংসারের এত অভাব-অনটন কিছুই বুঝতে দেয়না মিতুলকে। বন্ধু সাব্বির বড়লোক বাবার পুত্রধন। মিতুলের বন্ধু হবার সুবাদে এতদিন ধরে ঠিকমত পড়াশুনো না করলেও ঠিকই টেনেটুনে পরীক্ষায় পাশ করে এসেছে কিন্তু দিনদিন অধঃপতনে পা বাড়ানো তার রীতিতে পরিণত হয়েগেছে। ক্লাস সিক্স থেকেই সিগারেট ফুঁকছে। মাঝেমাঝে মিতুলকেও জোর করে খাওয়ায় কিন্তু এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে মিতুল। কারণ শত ব্যস্ততায়ও মা ঠিকই মিতুলের সবকিছু গুছিয়ে দেয়। বইপত্র, ব্যাগ নিয়মিত চেক করে। তাছাড়া মা-বাবাকে ভীষণ ভয় পায় কারণ মা-বাবাকে যে বড় ভালোবাসে সে। তাই এইসব থেকে একশো মাইল দূরে থাকে মিতুল। কিন্তু ক্লাস নাইনের উঠার পর নিজেকে বেশ বড় বড় মনে হচ্ছে মিতুলের। মা-বাবার এত নজরদারি তার ভাল লাগে না। সংগ দোষে লোহা ভাসে। মিতুলের ইদানীং সাব্বিরের সান্নিধ্য খুব ভালো লাগে। সাব্বির তাকে নতুন এক মাদকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যা সস্তা কিন্তু সেবনে অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করে।

এবার মূল প্রসঙ্গে চলে আসি। বিভিন্ন ঘুমের ঔষধ খেয়ে নেশা করছে কিছু সংখ্যক মানুষ যারা যে কোন বয়সের হতে পারে। বিভিন্ন এলাকার কোমলমতি শিশু কিশোরদের কাছে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট ও কাশির সিরাপ।

স্থায়ীভাবে এটি মিক্সচার বা ফিটনি নামে পরিচিত। মিতুল একজন কিশোরের ছদ্মনাম। ফিটনি সেবনকারী মিতুলের ভাষ্যমতে, এলাকায় কিছু কিশোররা ফ্যানারড্রিল, অফকফ, তুসকা, ডেক্সপোটেন, এক্সপোটেনসহ আরো অনেক কাশির সিরাপের মধ্যে ইজিয়াম, ডিজিপন-২, ওরাডেক্সন, ইজিতেন গুঁড়ো করে সিরাপের মধ্যে ঝাঁকিয়ে সেবন করে। এটি সেবনের কিছুক্ষণ পরে নেশায় চোখ লাল হয়ে যায়। তাদের কথাবার্তা এলোমেলো হয়ে যায়। মনেহয় তারা যেন এক রঙিন ভুবনে বিচরণ করছে। অসংলগ্নভাবে বিড়বিড় করে কথা বলে যা নিজেদের মধ্যেই বোধগম্য নয়।

মিতুল আরো জানায়, বিভিন্ন এলাকায় কিছু যুবক ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই এসব ঔষধ কিনে এনে উঠতি বয়সের কিশোর/সেবনকারীদের কাছে সরবরাহ করে থাকে।

এখন আমরা জানতে চেষ্টা করবো, মাদকের নতুন নাম মিক্সচার বা ফিটনি কি এবং এ কার্যক্রিয়া সম্বন্ধে।

বাজারে কাশির সিরাপের মধ্যে রয়েছে ডেক্সপোর্টেন, অফকফ, এনকফ, সুডোকফ, তুসকা, ডিক্সার, এ কফ, ফেনাড্রিল ইত্যাদি। এই সিরাপে আছে – সিউডোফিড্রিন, ডেক্সট্ররমিথোফরমিন এবং ট্রাইমিথোপ্রলিপ্রিন। এটা খাবার পর রক্তচাপ বেড়ে যায়, ঝিমুনি আসে, ইউফোরিয়া সৃষ্টি হয় এবং শেষে ঘুমিয়ে পরে আসক্ত ব্যক্তি। ফেন্সিডিল মূলত একটি কফ সিরাপ। এটি তৈরী হয় কোডিন ফসফেট, ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড, প্রমিথিজিন হাইড্রোক্লোরাইড এই তিনটি উপাদানে সমন্বয়ে। কোডিন ফসফেট হচ্ছে মরফিন এর একটি ডেরিভেটিভ এতে প্রায় ৫% মরফিন থাকে। এটি গ্রহণ করার আধাঘন্টার মধ্যে শরীরে মরফিন তৈরী হয়। আর মরফিন এর কাজ হলো আমাদের স্নায়ূ ও মাংশপেশীকে শিথিল করে দেয়া। ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড এর কাজ হলো শ্বাসনালীর শ্লেষ্মাকে শুকিয়ে দেয়া। প্রমিথিজিন হাইড্রোক্লোরাইড সিডেটিভ হিসাবে কাজ করে। ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড শ্বাসনালীর শ্লেষ্মাকে শুকিয়ে দেয়, প্রমিথিজিন হাইড্রোক্লোরাইড অনেকটা ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে আসে।
শ্বাসনালী সম্পূর্ণ শুষ্ক হয়ে আসে এবং মুখ শুকিয়ে আসে, শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে প্রাকৃতিক নিয়মে শরীর ঠান্ডা করতে গিয়ে প্রচুর ঘাম বের হতে থাকে। অবচেতন মন ভালো মন্দ সব ভাবনার শৃঙ্খলকে করে অবমুক্ত। নেশাকারী ঘুড়ে বেড়ায় এক সাময়িক মানসিক আনন্দের রাজ্যে, যার উপসংহার শুধুই ধ্বংশ।

শ্রমিক বাবার একমাত্র স্বপ্ন, আশার আলো ছেলেটি (মিতুল) অসৎ সঙ্গে থেকে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে। ফিটনি সেবনকারী বন্ধুদের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি বা মতানৈক্য দেখা দিলে নেশাগ্রস্থ কিছু যুবকের ছুড়ির আঘাতে প্রাণ হারায় মিতুলের বন্ধু সাব্বির। আর সেই অপমৃত্যুর জন্য দায়ীদের মধ্যে মিতুলের নামটিও থাকে। তখনই মিতুল নামের একটি মেধাবীর মৃত্যু ঘটলো চিরতরে।

লোকমুখে শোনা যায়, এদেশের হাজারো মেধাবী যারা বুদ্ধিতে, শিক্ষা-দীক্ষায় সবার চেয়ে সেরা তাদেরই একাংশ এজাতীয় নেশায় আসক্ত এমনকি ‘ইয়াবা’ নামক ক্লান্তিহীন মাদকটি সেবন করে, ক্লান্তিহীনভাবে পড়াশুনো করার হাতিয়ার হিসেবে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির বক্তব্য, ঢাকার বসুন্ধরার নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীরা নাকি বিকেলের পর অলিতে গলিতে বসে বসে ইয়াবা ফেন্সিডিলসহ নানান মাদক গ্রহণ করে ওপেনলি। যারা ওখানকার বাসিন্দা তারা এসব দেখতে দেখতে চোখসয়া হয়ে গেছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ব্যক্তির ভাষ্যমতে, মা-বাবা কত আশাকরে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াচ্ছেন কিন্তু এখানকার অধিকাংশ ছেলেমেয়েরায় এসব মাদকসেবনকে কমন ফ্যাশনে পরিণত করেছে। গুটিকয়েক হয়তো ব্যতিক্রম।

বর্তমানে বাংলাদেশকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করতে পারাটাই হবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জয়ী হতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নামক মানচিত্রটি মাদক নামক কলংকের খাতায় নাম লেখাতে বাধ্য। চোখের সামনে একটার পর একটা মিতুলের ধ্বংশ দেখা ছাড়া আমাদের করার আর কিছুই থাকবে না!

মাদকের নতুন আতংক এই
সহজলভ্য, স্বল্পদামী মিক্সচার বা ফিটনি’র সর্বগ্রাসী থেকে আমাদের প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি করে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
তাছাড়া ফার্মেসী মালিকদের সতর্ক করে দেয়া, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া তারা যেন এজাতীয় কোন ঔষধ বিক্রি না করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণ আরো বলেন, এসব ঔষধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে লিভার ও কিডনী নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকরা চাইলে, এসকল মাদকের ব্যবহার রোধ করতে পারে বলে আমি মনে করি। শুধু প্রয়োজন ব্যক্তিগত সতর্কতা।
____________________________________
লেখক : মাহবুবা সুলতানা শিউলি
সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ইমেইল :mahbubasheuly82@gmail.com

আমি মূর্খ,তাই বলে তুমি জ্ঞানপাপী হবে….!!!

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ- ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার কারণে কারো মৃত্যু ঘটলে, পাবলিক যখন প্রতিবাদ করে তখন এদেশের জ্ঞানী ডাক্তারেরা আমাদের মূর্খ বলে অপমান করে। আরে মেনে নিচ্ছি আমরা মুখ্যসুখ্য মানুষ। আমাদের জ্ঞানের অভাব তাই আমরা আপনাদের মতো ডাক্তারি পড়ে জ্ঞানী হতে পারিনি। এখনও বিশ্বাস করি দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের একাংশই এ বিদ্যা অর্জনের সুযোগ পায়। তাইতো আমরা পাবলিকেরা আল্লাহর পর রোগীর সংকটের মুহূর্তে এ দ্বিতীয় ঈশ্বরের দিকেই করুণভাবে তাকিয়ে থাকি পরম বিশ্বাসে। সে মুহুর্ততে তো আর করার কিছুই থাকে না। তাদের একটু সহানুভূতি, সহমর্মিতা, একটু ভালো ব্যবহার পেলে রোগী অর্ধেক সুস্থ হয়ে যায়, বাকী অর্ধেক সুস্থতা নিয়মমাফিক সঠিকভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এ জ্ঞানীরা যখন জ্ঞানপাপীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হন, দায়িত্বে অবহেলা করে ভুল চিকিৎসা করেন আর তাদের অবহেলার কারণে আমরা যখন প্রতিবাদ করি তখন আমরা মূর্খ হয়ে যাই, জ্ঞান নেই বলে ঘেউ ঘেউ করছি বলে। আর কতিপয় এ জ্ঞানপাপীরা ‘তাদের হয়রানি করা হচ্ছে’ বলেও ওল্টা অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদে পালন করেন কর্মবিরতি। আর এভাবে জিম্মি করে রাখেন আমাদের মত অসহায় মানুষদের। কোনো রোগী বা রোগীদেরকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা কখনও চিকিৎসকদের কাজ হতে পারে না। নিজের চরম সংকটের মুহুর্তেও আগে রোগীর সেবাপ্রদান করাই ডাক্তারের ধর্ম হওয়া উচিৎ,এমনকি তার চরম শত্রুকেও।অথচ হচ্ছে তার ওল্টো।আজকাল বেশিরভাগক্ষেত্রে দেখা যায় যে,কম সময়ের মধ্যে বেশি রোগী দেখার কারণে তাড়াহুড়া করে ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন। মন দিয়ে রোগীর কথা শুনছেন না বা রোগীর কথা শেষ হবার আগেই প্রেসক্রিপশন লেখা শেষ হয়ে যায়। একইসময়ে একসাথে তিন-চারজন রোগীকে কক্ষে ঢুকিয়ে একজনের সামনে অপরজনদের চিকিৎসা দেন যেখানে রোগীর প্রাইভেসির কোন মূল্য দেবার প্রয়োজনবোধ করেন না। একজন মানুষ তার সমস্যার সকল সিক্রেট বিষয় ডাক্তারের সাথে শেয়ার করতে চান কিন্তু বড় বড় ডাক্তাররা যদি এভাবে চিকিৎসা করান তবে মূল্যবোধ সম্পন্ন রোগী দ্বিতীয়বার সে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে চিন্তা করতে বাধ্য। তাছাড়া অপারেশন কন্ডিশনের রোগীদের পেলেতো মহাখুশী। এমনভাবে ভড়কে দেবে, বলবে যে দ্রুত অপারেশন না করালে রোগীর খুব ক্ষতি হয়ে যাবে। কোনরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করিয়েই দ্রুত অপারেশনটা করাতে পারলে কামাইটা ঝামেলাহীনভাবে করা যায় পাছে রোগী না আবার আরো ভালো চিকিৎসার জন্য অন্য চিকিৎসক বা দেশের বাহিরে চলে যায়! রোগী বাঁচলো না মরলো সেইটা মুখ্য নয়। তাছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি চালু নেই। ফলে ডাক্তাররা প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ জন রোগী দেখে থাকেন। শুধু তাই নয়, পুনরায় সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা যথেষ্ট পরিমাণ ফি আদায় করেন। পাশাপাশি রোগীদের সাথে ডাক্তারদের দুর্ব্যবহার এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, এটা তাদের একটা বদভ্যাসে পরিণত হয়েগেছে। এভাবে রোগীদের অবহেলা করে তারা শুধু চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়ই দিচ্ছেন না, এতে করে ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে প্রচন্ডভাবে আস্হার সংকট তৈরি করছেন। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এসব ডাক্তারের গ্রহণযোগ্যতা।
যুক্তরাজ্যের ১৭০ বছরের পুরনো মেডিকেল জার্নাল ‘বিএমজে’ গতবছর শেষ নাগাদ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে একজন ডাক্তার গড়ে ৪৮ সেকেন্ড রোগীর জন্য সময় দেন। যেখানে উন্নত বিশ্ব সুইডেন, নরওয়ে, আমেরিকার ডাক্তাররা গড়ে প্রায় ২০ মিনিট করে সময় দিচ্ছেন।অথচ রোগের চিকিৎসাক্ষেত্রে, ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক আস্হাটাই সবচেয়ে বেশি থাকা প্রয়োজন।আমাদের বিশ্বাস, কোনো ডাক্তারই চায়বেন না তার রোগী মারা যাক, রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবেন। তাই একজন ডাক্তার কোন ইনজেকশন পুশ করার আগে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে রোগী বা স্বজনদের অবহিত করবেন। রোগীর সাথে বুঝাপড়াটা এক্ষেত্রে খুবই জরুরি। কেনো না একই ইনজেকশনে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠতে পারে আবার মারাও যেতে পারে। কারণ এধরণের জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দায় রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বললে বলতে হবে অপারেশনের সময় রোগীর বা স্বজনের কাছে থেকে সিগনেচার নিতে হয়, এসময় রোগী মারা গেলে চিকিৎসক দায়ী থাকবেন না। আর একজন ভালো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা হওয়া উচিৎ সেরকমই। কেননা চিকিৎসা বা চিকিৎসকের ভুল ছাড়াও অনেকসময় দেখা যায়, ভেজাল ওষুধের ফলে রোগী মারা গেছেন। কারণ আমাদের দেশে ২০ ভাগ ওষুধই হচ্ছে ভেজাল। আরেকটি জরুরি বিষয়, আইনে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার জন্য কোনো পানিশমেন্ট নেই, কিন্তু অবহেলার জন্য পানিশমেন্ট আছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক বর্তমান সময়ে। যেকোনো ভুল চিকিৎসা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চোর-ডাকাত-অপরাধীরা যেভাবে শাস্তি পায়, ভুল চিকিৎসার জন্য দায়ী ডাক্তারকেও সমানভাবে শাস্তি পেতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সহীন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে। এ মৃত্যুকূপ গুলোর বিষয়ে সচেতন না হলে সেখানে শুধু ডাক্তারদের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। এধরণের ভুল-ভ্রান্তিগুলো সংশোধন করলে এদেশের মানুষদের আবারও চিকিৎসকদের প্রতি আস্হা ফিরে আসবে এবং রোগীদের দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে না। আর আমাদের রাজস্বও হারিয়ে যাবে না।রাইফা মামনি, সোনামণি আমার, তুমি মরে গিয়ে বেঁচে গেছো মা, আর আমরা বেঁচে মরে আছি।আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে তামাশা দেখছি।কেউ যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন প্রতিবাদ করতেই পারে, তাই তোমার চাচ্চুরাসহ সবাই প্রতিবাদ করাতে মৃত্যুকূপ গুলোতে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ অভিযানের প্রতিবাদে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সব বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য হাসপাতাল সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন মালিকরা। অনেক ভালো ডাক্তার যারা সত্যিকার অর্থে সেবক তারা ভিতরে ভিতরে তাদের এ অরাজকতার বিরুদ্ধে কিন্তু নিরুপায় তাই ঐ ভালো ডাক্তারগুলোও বাধ্য হয়ে তাদের দলে সামিল হয়েছেন মা। ডাক্তারদের মতো উঁচু মানের পেশার ব্যক্তিরা এত অসহনশীল আচরণ করলে মানুষ কোথায় যাবে মা! তুমি কি ওপার হতে কাঁদছো মা! তোমার মত এক রাইফাকে মেরেও ক্ষান্ত হচ্ছে না। মনে হয় পুরা দেশের মানুষকে মেরে ফেলতে পারলে ওরা বেশী খুশি হবে। আর সহ্য হয়না। হৃদয়টা ছিড়ে যাচ্ছে। ভুল মানুষেরই হয়। ডাক্তারও মানুষ কিন্তু তারা (কিছু) আজ দানবের ভুমিকা পালন করছে। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চেয়ে ওল্টা সাধারণ মানুষদের মূর্খ বলছে। চরম অবক্ষয়। পরিচিত, অপরিচিত কোনো ডাক্তারেরই মনে অনুশোচনা দেখিনি। কেউ সাহস করে বলেনি, রাইফা মা আমরাও তোমার অকাল মৃত্যুর বিচার চাই। আমরা যদি দোষী হই অবশ্যই আমাদের শাস্তি পাওয়া উচিৎ। কেউ বলেনি, কেউ বলেনি….!!!উল্টো আজ তারা সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।মানুষকে জিম্মি করে দাবী আদায়ের কোনো কর্মসূচি চিকিৎসকদের কাছ থেকে কাম্য নয়। এটা সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
খুব কষ্ট হয় তোমার মৃত্যুর পর কোন ডাক্তার বলেনি যে, আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও তো ভুল হতে পারে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যারা অপরাধী তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু তা না করে ওল্টা তোমার বাবার বন্ধুদের মাইর দেবে বলেছে।ওরা কি ভুলে গেছে, ওদের শপথ বাক্য…! চিকিৎসা পাওয়া সংবিধানের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, এটা ব্যাহত হলে আইন অনুযায়ী আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে সেইটা কি এই জ্ঞানপাপীরা ভুলে গেছে!মানুষ মাত্র ভুল করে,
মা। তোমার চিকিৎসক ঐ ডাক্তারগুলোও মানুষ তাই ওদেরও ভুল হয়েছে। পারলে তুমি তাদের ক্ষমা করে দিও মা। কিন্তু ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে এই সুন্দর পৃথিবীতে তোমাকে যারা থাকতে দিলো না তাদের কৃতকর্মের দায়ভার বা অভিসাপ অন্য ভালো চিকিৎসকদের ওপর যেন না বর্তায়। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে কোনো অসহায় যেন বলির পাঠা না হয়!তাই আমরা চাই ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু বরণকারী রাইফার মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত অপরাধীদেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।কোনো নিরপরাধ যেন এতে বলির পাঠা না হয়,তাতে শুধু রাইফারই আত্মা কষ্ট পাবে।
______________________________
কলাম লেখক: মাহবুবা সুলতানা শিউলি
সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ইমেইল : mahbubasheuly82@gmail.com

শিশু রাইফার মৃত্যু ও আমাদের কিছু প্রশ্ন..!

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-ছোট্ট রাইফার অকাল প্রয়াণ , আর একটি ট্র্যাজেডি। কাঁদিয়ে দিলো আমাদের মতো অধমদের বিবেককে, কিন্তু কাঁদাতে পারেনি মানবতাকে। তাইতো খুনীরা বার বার পার পেয়ে যায়!

চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে গত ২৯ শে জুন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে আড়াই বছর বয়সী ফুটফুটে কন্যা শিশু রাইফা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসেন বিএমএর’র সেক্রেটারি, যে নিজেকে ডাক্তারের চেয়ে নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি। কত বড় সাহস, বিএমএ’র সেক্রেটারি ও তার সাঙ্গপাঙ্গ নেতাদের!! তারা কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এবং সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং চট্টগ্রামের সব চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

কতিপয় ডাক্তার নামধারী ভন্ডরা তাদের অপকর্ম ঢাকতে কথায় কথায় একযোগে চিকিৎসা বন্ধ করার হুমকি দিয়ে থাকেন কিন্তু সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ স্বরূপও একযোগে প্রকাশনা বন্ধ কিংবা কাজ না করার ঘোষণা দিতে পারেন না। বড় হাসপাতালের কর্পোরেট বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে এমন শঙ্কায় অনেকে নির্ভেজাল সত্য সংবাদটিও পরিবেশনের সাহস করেননা, কারণ তাতে যদি নিয়মিত বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়।

শুধু ডাক্তারদের ক্ষেত্রে নয়, বড় কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই একযোগে কোন সংবাদ পরিবেশনের নজির তেমন একটা আমাদের দেশে চোখে পড়েনা। কেননা এখন বড় সব কর্পোরেট হাউজেরই একাধিক টেলিভিশন, প্রিন্ট পত্রিকা এবং অনলাইন প্রকাশনা রয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লেখার দুঃসাহস দেখাতে যাবে কোন দুঃখে ?

সাংবাদিকরা তাদের কোন বিপদেই এক হতে পারছেন না কারণ মিডিয়া এখন কর্পোরেট দাসত্বে বন্দী। ছোটখাট মিডিয়াগুলো কিছু লেখার চেষ্টা করলেও সেগুলোকে আন্ডারগ্রাউন্ড বলে উড়িয়ে দেয়া হয়। তো, মূলধারার দাবীদার’দের কাছে একটাই প্রশ্ন, “কর্পোরেট হাউজের প্রকাশনায় কাজ করে আর কি-ইবা তুলে ধরবেন জাতির সন্মুখে”? তাই, এভাবেই একের পর এক নিজে, পরিবার, সহকর্মী, আত্নীয়স্বজনসহ যে কারো বিপদ নিরবে সহ্য করে নিন।

দেশের প্রখ্যাত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক রুবেল খানের ফুটফুটে একমাত্র কন্যা শিশুটির অকালে ঝরে যাওয়াটা যদি সাংবাদিক সমাজ সহজভাবে নেয় এবং এর সঠিক তদন্ত-বিচার যদি সঠিকভাবে করা না হয় এবং এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির জন্য একযোগ না হয় তবে আমরা সাধারণ মানুষরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো! কেউ কি তা ভেবে দেখেছেন?

কলম সৈনিকেরা একত্রিত হও। কলমই হোক সবচেয়ে বড় ও একমাত্র হাতিয়ার এসব অন্যায়, অনাচার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে। শিশু রাইফাতো আমাদেরই সন্তান। রাইফার স্হলে আমার, আপনার বা যে কারও আদরের ধন, কলিজার টুকরা সোনামনি থাকতে পারতো!

হে আল্লাহ, আর ভাবতে পারছিনা। ঈশ্বরের পর আমরা ডাক্তারের দিকেই তো তাকিয়ে থাকি। একটু সুন্দর ব্যবহার, একটু আস্হা বা একটু ভরসার স্হল তো তারাই। তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য মানুষ কোথায় যাবে? ভরসা করেই তো নামধারী এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ছুটে গিয়েছিলেন একমাত্র শিশুকন্যাকে নিয়ে সাংবাদিক রুবেল ও তার স্ত্রী। টাকা-পয়সা খরচ করে কু-চিকিৎসার জন্যতো ছুটে যায়নি। কি অপরাধ ছিল তাঁদের? সুচিকিৎসা তো পায়ইনি, পেয়েছে কুচিকিৎসা, দুর্ব্যবহার, হতে হয়েছে লাঞ্ছিত এবং গ্রহণ করতে হয়েছে একমাত্র আদরের ধনের নিস্তেজ, নিথর লাশ….!!!!!!

এদেশের বড় বড় হাসপাতাল গুলোতে সামান্য গলা ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা যদি হয় মৃত্যু, তবে কেন মানুষ পয়সা খরচ করে বিদেশে যাবে না!! সামান্য একটু অসুস্থতা, জ্বর বা যেকোন চিকিৎসায় রোগীকে এমনভাবে ভরকে দিবে যে রোগী যেন মৃত্যু পথযাত্রী। ১০০-৫০০/- টাকার অষুধের প্রেসক্রিপশনের জন্য টেস্ট দিবে ২০/২৫ হাজার টাকার যা একজন মানুষের একমাসের বেতনও তো হতে পারে! তাহলে মানুষ কি করবে, কোথায় যাবে বা কোথায় দৌঁড়াবে!!!

একযোগে ঢালাওভাবে সবাই নয় তবে ধান্দাবাজ সব পেশায় আছে। ডাক্তার, পুলিশ, শিক্ষক, সাংবাদিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, আমলা, কম-বেশী সবাই ধান্দাবাজ। এসব কিছু ধান্দাবাজ এর কারণে পুরো দেশ ও জাতি আজ উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায়।

সৎ সাহসের প্রয়োজন এখনই। এসব অপকর্মকারী কিছু ডাক্তাররা হলো বর্তমান যুগের টাকার মেশিন। তাই তাদের বিরুদ্ধে লিখতে গেলেই অনেকের কলমের কালি শুকিয়ে যায়। দেশের সব টিভি চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টাল গুলোতে এসব নেতা ও হসপিটাল গুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট করা উচিত।

“শক্তের ভক্ত নরমের যম” একথাটি ভুলে গেলে চলবে না। ঘাতকদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ।

জেগে ওঠো মানুষ….! জাগিয়ে তুলো মানবতাকে!!!

আমরা ছোট্ট সোনামনি রাইফার ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যেন আর কোন রাইফা বাবা-মায়ের বুক খালি করে অকালে ঝরে না যায়।
__________________________________
লেখক: মাহবুবা সুলতানা শিউলি
সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ইমেইল : mahbubasheuly82@gmail.com

ঈদ উৎসব অনন্য ইবাদাত

আশরাফ হুমাইদঃ-ঈদুল ফিতর মুসলিম সম্প্রদায়ের দুই ঈদ’র দুই উৎসব’র অন্যতম একটি।মূলত এ উৎসব কোন নিছক আনন্দ উল্লাসের জন্য নয়।নতূন কাপড় পরিধানের জন্য নয়।উন্নতমানের আহার গ্রহনের জন্য নয়।কোন আনুষ্ঠানিকতা নয়।ঈদ ভেদাভেদহীন সমাজের কথা বলে।ভালবাসার বন্ধন দৃড় করে। পারষ্পরিক সহযোগীতা,সহমর্মিতা ও কল্যাণ কামনার শিক্ষা দেয়।ঈদ ধনী-গরীব সব মানুষে আনন্দের জোয়ার আনে। কবি বলেন “খুশির হাওয়া নিয়ে আজি এলো ঈদের দিন,ধনী-গরীব নেই ভেদাভেদ,নেইকো দুখের চিন।” সর্বপরি ঈদ উৎসব মুসলমান’র জন্য আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত এক অতুলনীয় উপহার।

ঈদ উৎসব দুনিয়ায় কিছু পাওয়াকে কেন্দ্র করে নয়।কোন কিছু প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় উচ্ছ্বসিত হয়ে এ উৎসব উদযাপিত হয়না।কারো শুভাগমনে এ উৎসব’র আয়োজন হয়না।এ উৎসব সিয়াম’র মাধ্যমে রবের নৈকট্য লাভের উৎসব। পাপ মোচন শেষে আত্মতৃপ্তির উৎসব। ক্ষমা লাভের উৎসব।দোযখ থেকে মুক্ত হয়ে জান্নাত প্রাপ্তির উৎসব।দোযখ থেকে মুক্তিলাভের উৎসব।এ উৎসবের বহিঃপ্রকাশ মার্জিত রুচিপূর্ণ,হৃদয়গ্রাহী।এ উৎসবে খুশীর আমেজ আছে তবে কোন বিশৃিঙ্খলা নেই।হৃদয়ের আনন্দের শত রঙে পালিত হয় এ খুশী।এখানে অযথা রঙ ছোড়াছুঁড়ি নেই। যৌন উশৃঙ্খলতা নেই।ঢোল ডাগর বাজিয়ে শব্দ দূষণের অবকাশ নেই।এ এক মহোৎসব যা মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকেই নিয়ন্ত্রিত।সীমালঙ্ঘনের সুযোগ এখানে একেবারেই রুদ্ধ। এ উৎসব এক ইবাদত।অতিরঞ্জন এখানে কাঙ্ক্ষিত নয়।

জ্ঞান-বিজ্ঞান উৎকর্ষের এই সময়ে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানুষে মানুষে সৌভ্রাতৃত্ববোধ।ভালবাসার পুনর্জাগরণ,মহামিলন।বস্তুত ঈদুল ফিতর সেই ভ্রাতৃত্ব বোধেরই উদাত্ত আহ্বান জানায়।হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারে মহান শিক্ষা দান করে।মহামিলনের জয়ভেরী বাজায়।তাইতো মনিব সম্রাট ও চাকর একে অপরকে বুকে জড়িয়ে কোলাকুলি করে।ভেদাভেদহীন ভ্রাতৃত্ববোধের পবিত্র নির্ঝরিণীতে অবগাহন করে ধন্য হয়।ঈদুল ফিতর ঠেলা চালক আর ধনকুবের মিলন মেলায় রুপ নেয়। আতুর,নুলা,কাঙাল,এতিম,অভিজাত,সম্রান্ত,ধনাঢ্য সবাই কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে নামায আদায় করে।মহামিলনের এই স্বর্গীয় রুপ স্বপ্নীল খুশীকে বাস্তব খুশিতে রুপান্তর করে। বিরল স্বাতন্ত্র্যধর্মী এক মহা উৎসবে সারাটি নিখিল মেতে ওঠে।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালন ছিল ফরজ।রোজা না রাখা ছিল হারাম।আর এ ঈদের দিন রোজা রাখাই হারাম।সিয়াম’র দিন গুলোতে আল্লাহ চান তাঁর বান্দা পানাহার না করেই তাঁর দাসত্ব প্রকাশ করুক।আর ঈদের দিন পানাহার’র মাধ্যমেই তাঁর দাসত্ব দেখাক।আসলে পানাহার গ্রহন বা বর্জন বড় কথা নয়।বড় কথা হল কে রবের দাসত্ব প্রকাশ করছে সেটাই পরখ করা।কারণ এ দাসত্ব স্বীকারই যে ইবাদাত।এ কারণে ঈদ মুসলমান’র জন্য শুধু উৎসব’ই নয় বরং মহান এক ইবাদাত।

এ উৎসব শুরু হয় তাকবির ধ্বনির মাধ্যমে।ফজর নামাজ শেষেই উচ্ছ্বসিত কন্ঠে সমবেত হাজার মুুসল্লি মাহাত্ম্য ঘোষণা করে বলে উঠে- আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ।(আল্লাহ মহান,আল্লাহ মহান।আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান।আল্লার জন্যই সকল প্রশংসা।) ঈদগাহের রাস্তায়ও যেতে যেতে এই তকবীর পাঠের প্রচলন রয়েছে।খুশির সাথে রবের এই মহত্ত্বের স্লোগানের সমন্বয় কতই না অপূর্ব। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার পাশাপাশি আনন্দ উল্লাস কতই না অতুলনীয়।

‘আনন্দ ভোগে না ত্যাগে’-এ নিয়ে যথেষ্ট তর্ক-বিতর্কের সুযোগ থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে কিন্তু ত্যাগেই ভোগের চেয়ে আনন্দ বেশী।এ জন্য ইসলাম সীমার মধ্যে থেকে ভোগকে নিষেধ না করলেও ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এমন কি কোথাও কোথাও ত্যাগকে অনিবার্য করেছে।অনিবার্য ত্যাগের জ্বলন্ত উদাহরণ হল সাদাকাতুল ফিতর। যার অর্থ হল রোজা ভংগের দান।অন্যান্য দানের মত এ দান রবের রবের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হয়। তাঁর নির্দেশেই এ দান আদায় করা হয়।এ দান ইবাদত। এ দান অহেতুক নয়।এ দান প্রত্যেক সামর্থ্যবান দিতে বাধ্য। এ দানকে উপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই।ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই এই অনিবার্য দান পরিশোধিয়।এ দান কাঙাল,অনাথ, আতুর,দরিদ্র, ফকির, মিসকিনের অত্যাবশ্যকীয় পাওনা।এই পাওনা অনুগ্রহের নয়, এ তাদের অধিকার।এ পাওনা পরিশোধ না করলে সিয়াম কবুল না হওয়ার হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে হাদীস গন্থে।

এ মহোৎসব খুশী ও আল্লাহর অনুগত্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। আল্লার শ্রেষ্টত্ব ও মহিমা প্রকাশের অতুলনীয় কর্ম তৎপরতা।এ দিনের দু’টি মূল কাজের একটি হচ্ছে সাদাকাতুল ফিতর, যে সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।অপরটি হচ্ছে ঈদগাহে নামায আদায় করা।এ নামায ওয়াজিব। অবশ্যই পালনীয়। বার বার নিজের রবের শ্রেষ্টত্ব ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুধু এই খুশী পালিত হয় না,তাঁর ইবাদত চূড়ান্ত রূপ,তাঁকে বন্দনার সর্বশেষ অবস্থা নামায আদায়ের মাধ্যমেই বান্দা নিজেকে সোপর্দ করে রবের কাছে।খুশির মাঝেও বান্দা তার রবকে ভুলে না।বরং তারই বন্দনার মাধ্যমেই ঘোষণা দেয়,হে রব!আমার এ খুশিত তোমারই দান তোমারই অনুগ্রহ,তোমারই অনুকম্পা।তোমাকে আরোধনা করাই এ খুশীর সার্থকতা।

তাইতো এ ঈদ ইবাদাত।এ ঈদ খুশীর।এ ঈদ আনন্দের,এ ঈদ স্রষ্টার অনুগত্যের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।যেখানে খুশীর সাথে রয়েছে অনিবার্য দান ও অত্যাবশ্যকীয় নামাযের পরিকল্পিত আয়োজন। স্রষ্টার গুনগানের সুন্দর ব্যবস্থা।খুশীর মাঝেও ইবাদাতের এই সমন্বয় এই ঈদকে করেছে সুন্দর,প্রাণবন্ত,সার্থক।সুন্দর।

লেখকঃ-সহযোগী সম্পাদক
শীলনবাংলা ডট কম।
ইমেইল:ashraf_rbsl@yahoo.com

বিনিয়োগ বিহীন ব্যবসায়: মুখোশধারী ভন্ডামী

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-চলার পথে কিছু কিছু মানুষ দেখে কষ্ট লাগে।,আবার অবাক ও হই। মনে মনে হাসিও পায়। বুঝতে পারি না আমার চোখে দেখা কোনটা ভুল, কোনটা সত্য। প্রতারনার এই পৃথিবীতে সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে অদ্ভুত লাগে। কনফিউজ হয়ে যাই কোনটা সত্য, কোনটা প্রতারনা। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে মিথ্যের সম্মুখিন হয়ে থাকি। ধীরে ধীরে সত্যটা সমাজ থেকে বিলিন হয়ে যায়। আমরা কেউই বলতে পারবো না আমরা প্রতারনার স্বীকার হচ্ছি না।

যদি আমরা মনে করি মিথ্যা আমাকে কোন প্রকার গ্রাস করে নাই,,তবে সেটা হবে আমার জন্য চরম মিথ্যা,।আমি যদি কোন প্রকার মানুষের সাথে প্রতারনা করি,,ঠিক আমিও তেমনি কারও না কারও কাছে প্রতারিত হচ্ছি। কাজেই আমাদের সবাইকে প্রতারক বললে ভুল হবে না। আমরা নিজের স্বার্থ আদায় করতে সোল আনা হাসিল করি। আর তাতে সেটা হাসিল করতে মিথ্যার আশ্রয় নিতে পিছ পা হই না।
মিথ্যা দিয়া বাস্তব সত্যকে ও চাপা দিতে হলে আমরা সেটা করি। নিজেদের ভুলটাকে কখনো শুধরানো চেষ্টা করি না। ভুলটাকে আরও ভুল পথে নিয়ে যাই। আমরা কেউই স্বাদু না। মুখোশধারী ভন্ড। আমরা মুখে যতই বড় বড় কথা বলি কিন্তু কাজে সময় ধার ধরিও না।

মুখের কথা গুলো শুধু লোক দেখানো মাএ। যেমন আমাদের দেশে কিছু রাঘব বোয়াল আছে। যারা শুধু পোস্ট পজিশন পাবার জন্য জনগনের কাছে অভিনয় করে। অসম্ভব কে অনন্ত জলিলের মত সম্ভব করে দেখানো প্রতিশ্রুতি দেয়। যখন সেই মানুষটি কাজ হয়ে যায় তখন চোখে কাঠের চশমা লাগায়,,আপনাকে সে দেখেছে কোন দিন বলে মনেও করবে না। সুতারাং এখানেও প্রতারনা। আবার আমরা সবাই মুখে বলি ঘুষ নিবো না, কাউকে ঘুষ দিবো না। কথাটা শুধু মুখেই বলি,,কিন্তুু ভিতর বলে পাগলা কুকুরে কামড় দিছে যে ঘুষ নিবো না। কিন্তু আমরা ঘুষ ঠিকই নিচ্ছি বা দিচ্ছি।

একবার ভাবুন তো এদেশে এখন টাকা ছাড়া কয়টা চাকরি হয়? দেখুন এখানেও আমরা সবাই বিবেকের সাথে প্রতারনা করছি। বাজারে কোন ফল, মাছ, তরিতরকারি ফরমালিন মুক্ত পাই? অথচ দেখুন দোকানদার ঠিকই ফরমালিন মুক্ত বলেই সমান তালে বিক্রয় করে। কিন্তু পরীক্ষা করলে দেখা যাবে ফরমালিন যুক্ত। এখন দেখুন দোকানি জেনে শুনে বিষ খাওয়াচ্ছে। এটা কি প্রতারনা না?

হাটার পথে অনেক ভিক্ষুক দেখা যায়। হাতে গোনা কিছু সত্যিকারের ভিক্ষুক, বাকিরা সময়ের ভিক্ষুক মাএ।চোখের সামনেই চাক্ষুস প্রমান,,এক ভিক্ষারীর করুন আর্তনাদ দেখে পকেট থেকে ২০টাকা বের করে দিলাম।পরে শুনতে পেলাম তার বাড়িতে নাকি অনেক বড় দালানের ঘর। তার অনেক জায়গা জমি আছে। আমি শুনে তখন টাসকি খাইয়া গেলাম । রাস্তা ঘাটে হাটলে অনেক ভিক্ষারী দেখলে এখন কনফিউজ হয়ে যাই।আমি ভিক্ষা কাকে দিবো? দেখুন যেখানে সাধারণ ভিক্ষুক থেকে প্রতারিত হই বাকি সব গুলো তো পরের কথা। কোন পৃথিবীতে বস করছি বুঝতে পারছি না।ধীরে ধীরে আমরা সবাই মিথ্যার পৃথিবী তৈরি করছি।সবাই প্রতারিত,প্রতারক ।

সুতারাং আমরা এখনও সবাই বাস্তবের দিকে ধাবিত হই,,সত্যটাকে আকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি।
সত্যর পথে জীবনকে আলোকিত করি।

লিখেছেনঃ-উথোয়াই মার্মা (জয়)

জাতীয় গণমাধ্যমগুলোর অন্ধত্ব এবং সত্য প্রকাশে অনীহা

রতন কৃষ্ণ বড়ুয়াঃ-পার্বত্য চট্টগ্রামের খবরগুলো আমি সবসময় একটু মনযোগ দিয়েই পড়ি দুটো কারণে- এক, আমি নিজে ওই এলাকার বাসিন্দা আর দুই, পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকাগুলোর অবস্থান এবং তাদের প্রকাশিত সংবাদ আমাকে বিনোদিত করে। ক্ষেত্র বিশেষে পত্রিকাগুলো বেশ চমকও উপহার দেয়। বর্তমান যুগে বিনোদন আর চমক পাওয়া বড়ই দুস্কর। আমাদের দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলো সম্ভবত মানুষকে বিনোদন আর চমক দেবার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে।

তাই তো প্রতিদিন সকালে আমি বিনোদন আর চমক পাওয়ার লোভে প্রেসক্লাবে বসে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জাতীয় পত্রিকাগুলোর সংবাদ পড়তে ভালবাসি। আমি সংবাদ পড়ি আর হাসি। আবার কিছু কিছু পত্রিকা হাতে নিয়ে আমি “বৈদ্যূতিক শক” খাওয়ার মত চমক পাই। চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে থাকি। পাতাগুলো বারবার উল্টিয়েও আমার চমক কাটে না। সে এক বড়ই আচানক অনুভূতি।

আজকের জাতীয় পত্রিকাগুলো পড়তে বসে আমি এতটাই “বৈদ্যূতিক শক” এর মত চমক পেয়েছি যে আপনাদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। আমার কথাগুলো কি বেখাপ্পা লাগছে? তাহলে আসুন আপনাদের সাথে আজকের তাজা চমকটা একটু শেয়ার করি—

গতকাল খাগড়াছড়ি থেকে আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর চট্টগ্রামে আসার কথা ছিলো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল। সে আসছে না দেখে আমি তাকে মোবাইলে ফোন দিলাম যে পথে আবার কোন বিপদ হলো কিনা!! ফোন ধরার পর ওপাশ থেকে বন্ধুর উত্তেজিত কণ্ঠ শুনতে পেলাম-

হ্যালো বন্ধু, তুমি কোথায়? কতদূর এলে?
রতন, আজ আর আসতে পারবো না রে।
কেন কি হয়েছে?
এখানে বেশ গোলাগুলি হয়েছে। পুরা খাগড়াছড়ি শহর যেন রণক্ষেত্র। দোকান পাট সব বন্ধ। মানুষ ভয়ে আতংকিত। কেউ বের হচ্ছে না ভয়ে।
কিসের গোলাগুলি? কে করলো?
পাহাড়ি দুই দল।
কেন?
আধিপত্য বিস্তার আর চাঁদাবাজি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে মনে হচ্ছে।

কথোপকথন শেষে আমি মোবাইল রেখে কিছুটা হতাশ হয়ে বসে থাকলাম। কারণ, যে বন্ধুর আসার কথা ছিলো আমি তার কাছে বেশ কিছু টাকা পাই। টাকাগুলো আজ পরিশোধ করার কথা ছিলো। একবার ভাবলাম যে, টাকা না দেবার অযুহাতেই কি এই গোলাগুলির গল্প সাজালো নাতো? ঘটনার সত্যতা জানতে খাগড়াছড়িতে বেশ ক’জন পরিচিতজনদের কাছে মোবাইলে ফোন করলাম। সবাই ঘটনার সত্যতা জানালো। এর মাঝে বেশ কিছু অনলাইন পত্রিকা এবং টিভিতেও দেখলাম যে ঘটনা আসলেই সত্যি।

আমি কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা হতে ঘটনার যে বিবরণ জানলাম তা হুবহু তুলে ধরছিঃ

“খাগড়াছড়ি সদরের স্বণির্ভর বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জেরে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপের মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে বাজারের উত্তর পাশের রাবার কারখানা এলাকা ও চেঙ্গী নদীর পশ্চিম পাড় এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হঠাৎ করে রাবার কারখানা এলাকার ওই দিকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। তার কিছুক্ষণ পরে নদীর পশ্চিম পাড় থেকেও গুলির শব্দ আসে। বাজারের ক্রেতা বিক্রেতার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বিজিবির সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে বাজারের সবক’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ি-পানছড়ি আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পরিবহনে তল্লাশি করছে পুলিশ ও বিজিবি। ঘটনার পর খবংপুড়িয়া ও স্বর্ণিভর এলাকায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্বণির্ভর বাজারে ইউপিডিএফ-তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যে অর্ধশত রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।”

দিনে দুপুরে একটা জেলা শহরের মাঝে গোলাগুলির মত এত্ত বড় একটা ঘটনা ঘটলো তাই তো সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতেই আজকের জাতীয় পত্রিকাগুলো খুলে বসেছিলাম। কিন্তু কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া বেশীরভাগ পত্রিকাতেই সংবাদটি পেলাম না। জেলা শহরের মধ্যে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে এত বড় ঘটনা ঘটলো সেটা পত্রিকায় না আসার কারণ কারণ কি হতে পারে? আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে এর পিছনের কয়েকটি কারণ আছে বলে মনে করছি-

(এক) পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত বেশীরভাগ জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিগণ হলেন উপজাতি সম্প্রদায়ের। পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব জাতিগত স্বার্থরক্ষা করে চলে। সে জন্যই গতকাল পাহাড়ের দুই উপজাতি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপের মাঝে গোলাগুলির মত এত বড় ঘটনা স্থানীয় প্রতিনিধিগণ এড়িয়ে গিয়েছেন। কারণ, তারা তাদের উপজাতি সন্ত্রাসীদের কুৎসিত রূপ দেশের মানুষের আছে উন্মোচন করতে চায় না।

(দুই) কিছু পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিগণ অউপজাতি হলেও তারা উপজাতি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্ত্রের মুখে জিম্মি।

(তিন) অনেক জাতীয় গণমাধ্যম আছে যারা সন্তু লারমা, দেবাশীষ রায়সহ কতিপয় পাহাড়ি নেতাদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে নিয়মিতভাবে অতি উৎসাহ নিয়ে সরকার এবং নিরাপত্তাবাহিনীকে দোষারোপ করে সংবাদ প্রকাশ করে।

ঐসব গণমাধ্যমগুলো কেন এবং কোন স্বার্থে এসব রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মদদ দিচ্ছে- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাহলে কি ধরে নিবো যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলো যে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে তার একটা বড় অংশ ঐসব গণমাধ্যমগুলোর অফিসের কর্তাব্যক্তিদের পকেটে যায়?

(চার) পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের বেশিরভাগই কোটা ও বাস্তবতার কারণে উপজাতীয় আঞ্চলিক জনপ্রতিনিধিদের দেখলে। কাজেই ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য স্থানীয় প্রতিনিধিগণ উপজাতীয় স্বার্থের বাইরে রিপোর্ট করতে পারে না।

একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণমাধ্যম অফিসগুলোকে বলছি-

আপনারা সত্য প্রকাশের বিজ্ঞাপন দিলেও প্রকৃতপক্ষে সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করছেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ। আপনারাই তো বলেন যে, “আমাদের চোখ বাঁধা নেই, আমাদের হাত খোলা, আমরা বলতে পারি”। কিন্তু খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের দুই উপজাতি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপের মাঝে গোলাগুলির মত ঘটনাকে প্রকাশ না করে আপনারা প্রমাণ করলেন যে, চোখ থাকতেও আপনারা অন্ধ, আপনাদের হাত অলৌকিক কোন মায়াজালে বাঁধা, কণ্ঠ থাকলেও আপনারা বলতে পারেন না। ধিৎকার জানাই এই হলুদ সাংবাদিকতাকে।

– লেখক: জামালখান রোড, চট্টগ্রাম থেকে