আজকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০৬:৩০ অপরাহ্ন    

Home » বান্দরবান

বান্দরবান

এলজিইডির ব্রীজ নির্মাণ কাজে ধীরগতিতে পার্বত্যমন্ত্রীর ক্ষোভ

নিউজ ডেস্কঃ-  বান্দরবানের রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ’র বাস্তবায়নাধীন সাংগু নদীর উপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ ধীরগতি চলছে ,এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নির্মাণীধীন ব্রিজের কাজ পরিদর্শনে যান পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।এসময় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি সাংগু নদীর উপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ ধীরগতি দেখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও ঠিকাদারদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এসময় সকলের সামনে এলজিইডির কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ব্রিজের চলমান কাজে ধীরগতির কারণ জানতে চায় এবং সঠিক সময়ে কাজ না হওয়ায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো:আবু তালেবকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্ষোভের কথা জানান মন্ত্রী, তিনি বলেন হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজের আশায় রয়েছে। অথচ ঠিকাদার লাভ-লোকসান নিয়ে বসে আছে। ঠিকাদার মানুষের লাভের কথা চিন্তা না করলেও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কথা আমাকে চিন্তা করতে হয়। আমি ভোট পাই না পাই বড় কথা নয় ,সরকারের অর্থ নিয়ে নয়ছয় করার সুযোগ কারো নেই। সরকারি অর্থ দিয়ে জনগণের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকে ,আর কিছু লোক সব সময় অনিয়ম করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে। এসময় মন্ত্রী বীর বাহাদুর বান্দরবানে সকল প্রতিষ্টানে যে সকল ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ করছে না তাদের তালিকা তৈরি ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ প্রদান করেন।পরিদর্শন কালে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো:আবুল কালাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলী হোসেন,আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো:আবু তালেব,সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী এস এম জিল্লুর রহমান,সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো:জামাল উদ্দিন,সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:শহীদুল ইসলাম চৌধুরীসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত,সাধারণ জনগণের দাবির মুখে ২০১৬ সালের১২ ই মে ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ব্রিজের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এই ব্রিজ নির্মিত হলে দু’পারের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসহ এলাকার আমূল পরিবর্তণ ঘটবে, কমবে কয়েকটি গ্রামের দূরত্ব। ব্রিজ কেন্দ্রিক বাড়বে ব্যবসা বাণিজ্য উন্নয়ন হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার।২০১৬ সালের ৭ মার্চ বান্দরবানের রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা রাস্তায় সাঙ্গু নদীর উপর ২শ’ ২০মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজের কার্যাদেশ পায় শেখ হেমায়ত আলী এন্ড ইউ টি মং (জেভি) প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন গার্ডার ব্রিজটির বরাদ্ধ ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ৬১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। কার্যদেশ অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যেই ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেলেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের উদাসীনতায় ব্রিজের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়নি। এদিকে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আরও ছয় মাস সময় চেয়েছে।(((তথ্য সুত্রঃ-সিএইচটি টুডে.কম)))

সংবাদ পরিবেশনের ১ ঘন্টার মধ্যে গাঁজা ক্ষেত ধ্বংস করল পুলিশ

নিউজ ডেস্কঃ- “বান্দরবানের লামায় হচ্ছে গাজা চাষ” বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইনে শনিবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত সংবাদের ১ ঘন্টার মধ্যে অভিযানে নামে বান্দরবানের লামা থানা পুলিশ। বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে লামা থানাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন।পুলিশ সুপার এর নির্দেশে লামা থানায় সদ্য যোগদানকৃত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল হক সঙ্গীয় ১৫/২০ জন পুলিশের অফিসার,সদস্য ও মহিলা পুলিশ নিয়ে অভিযানে নামেন।অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন, লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাশ, আসাদুজ্জামান, আয়াত, এএসআই সুজন ভৌমিক, রাম প্রসাদ দাশ, সহ প্রমূখ।শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টা হতে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লামা পৌর শহরের কাছাকাছি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রোয়াজা ঝিরি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।২০ শতক জমিতে করা প্রায় ৮ শতাধিক পূর্ণ বয়স্ক গাঁজা গাছ ও ১ হাজারের মত গাঁজা গাছের চারা উপড়ে ফেলে হয়।এসময় গাঁজা ক্ষেতের মালিক মো.ইয়াহিয়া মিন্টুর স্ত্রী খুরশিদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।আটক খুরশিদা বেগম ও গাঁজা গাছ গুলো পুলিশ লামা থানায় নিয়ে আসে।ক্ষেতের মালিক মো. ইয়াহিয়া মিন্টু কয়েকদিন যাবৎ লামায় না থাকায় তাকে আটক করা যায়নি।লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল হক বলেন,খবর শুনার সাথে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।প্রায় ২০ শতক জমিতে চাষ করা ৮ শতাধিক পূর্ণ বয়স্ক গাঁজা গাছ ও ১ হাজারের অধিক নার্সারীর গাঁজা চারা ধ্বংস করতে সক্ষম হই।এসময় গাঁজা ক্ষেতের মালিক মো.ইয়াহিয়া মিন্টুর স্ত্রী খুরশিদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।প্রসঙ্গত,লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রোয়াজা ঝিরি এলাকার লোকমানের বাড়ির পূর্ব পাশে পাহাড়ের কোল ঘেষে ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি চাষাবাদ করে মো.ইয়াহিয়া মিন্টু।তার স্ত্রী খুরশিদা বেগম (৩২) ক্ষেতের কাজে সহায়তা করে।উক্ত জমিটি লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুস ছালাম লেদুর কাছ থেকে ১ বছরের জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বর্গা নেয় মিন্টু। সেখানে ভুট্টা, সীম, পেঁপে, বেগুন, মরিচ সহ নানা রকম সবজির চাষাবাদ করা হয়েছে।পাশের চলাচলের রাস্তা হতে ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে দেখলে এইসব ক্ষেত দেখা যায়। এইসব ফসলের ভিতরে লুকিয়ে প্রায় ২০ শতক জমিতে নেশাদ্রব্য গাজার চাষ করছে সে।

বান্দরবানে নদী রক্ষায় দুই দিনব্যাপী পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন শুরু

বান্দরবানঃ- পার্বত্য এলাকার নদী রক্ষায় বান্দরবানে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন।আজ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের যৌথ আয়োজনে বান্দরবানের হিলভিউ কনভেনশান হলে এই পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন শুরু হয়।অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো:আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মনিরুজ্জামান,জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান,৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের মেজর মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন,বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো:দাউদুল ইসলাম,রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ,খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো:শহীদুল ইসলাম,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নোমান হোসেন,বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলী হোসেন, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মো:মনিরুল ইসলাম,বান্দরবান জেলার সভাপতি অলক দাশ,সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা ও নদী গবেষকএবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমিন সোনিয়া মুরশিদ বলেন,দিন দিন আমাদের দেশের বিভিন্ন নদী দখল হয়ে যাচ্ছে।অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন নদী।নদী দখলের ফলে নদীর পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আর তার নদী তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে।এসময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মো:মনিরুল ইসলাম বলেন,পার্বত্য এলাকার নদী রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।বান্দরবানের অন্যতম নদী সাংগু নদীর রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।এসময় তিনি আরো বলেন,বান্দরবানে নদী শুকিয়ে যাবার অন্যতম কারণ নদী থেকে পাথর উত্তোলন।নদী থেকে পাথর উত্তোলন করার ফলে নদীগুলো আজ পানি শুন্য। এসময় বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মো:মনিরুল ইসলাম আরো বলেন,বর্তমানে বান্দরবানের ৪০০ ঝিড়ি ঝর্ণা নষ্ট হয়ে গেছে শুধু মাত্র পাথর উত্তোলনের ফলে।এসময় তিনি আরো বলেন,নদী জীবিত থাকলেই আমাদের নিশ্বাস থাকবে,আর নদী মরে গেলে আমাদের মরণ অনিবার্য।২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এই পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন আর এই সম্মিলনে পার্বত্য অঞ্চলের নদী রক্ষা,নদ-নদীজলাশয়ের সমস্যা,সমাধান,উন্নয়ন ও সংরক্ষণসহ নদ- নদী সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

রোয়াংছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহা-সাংগ্রাই ও বৈসাবি উৎসব

নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহা-সাংগ্রাই ও বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে অত্র এলাকার সকল সম্প্রদায়ের মানুষ।এ সম্প্রীতি উৎসবকে ঘিরে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জলকেলি বা মৈত্রি পানি বর্ষণের মধ্যে দিয়ে ৩দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে আজ।মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে জলকেলি অনুষ্ঠানে মহাসাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটি সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অংশৈমং মারমা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদে অন্যতম সদস্য কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা,উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান চহ্লাইমং মারমা,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেহেদী হাসান,রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা,বান্দরবানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক অংচলু,রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: শরিফুল ইসলাম,উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার মো: তানজির আজাদ প্রমুখ। এছাড়া এলাকার স্থানীয় মেম্বার,হেডম্যান,কারবারি ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের তরুনতরুণীরা পানি বর্ষণে মেতে উঠে। উৎসবে শত শত তরুন-তরুনী নাচে গানে মেতে উঠে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে।

 

তথ্য সুত্রঃ-পাহাড় বার্তা.ডটকম

বান্দরবানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এই গণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।আর সেই গণশুনানিতে নিজের দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন।২০১৬-১৭ অর্থ বছরে চট্রগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবানে দুটি জলাশয় নির্মাণ করে দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করায় সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিনকে দুটি প্রকল্পের মোট ৭ লক্ষ ৩৭ হাজর টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনার।ঠিকাদার উচনু মারমার স্ত্রী লিলি প্রু মারমা দুর্নীতি দমন কমিশনে সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে গণশুনানিতে অভিযোগটি উত্থাপন করা হয়।সেখানে মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন তার অভিযোগ স্বীকার করে নিলে দুর্নীতি দমনের কমিশনার আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানান মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন বুধবার টাকা জমা দিবেন।ওই টাকা অভিযোগকারীদের সাথে নিয়ে তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেয়ার পর বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।এছাড়া গণশুনানিতে বান্দরবানের বিদ্যুৎ বিভাগ,ভূমি অফিস,পাসপোর্ট অফিস,বিআরটিএ সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।শুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অন্যদের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা প্রমুখ।শুনানিতে বান্দরবানের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

জলকেলি উৎসবে মেতেছে বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়

নিউজ ডেস্কঃ-বর্ষবরণ সাংগ্রাই এর জলকেলি উৎসবে মেতেছে বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়। এটি এখন শুধু মারমাদেরই না এই উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পুরো শহরজুড়ে চলছে পানি খেলা। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্করাও একে অপরের গায়ে পানি ঢেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে। উৎসবে যোগ দিয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটক। আনন্দ উদ্দীপনা আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্রে বর্ণিল হয়ে উঠেছে পুরো বান্দরবান শহর।

মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে সোমবার বিকেলে বান্দরবান শহরের রাজবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তরুণ-তরুণীদের জলকেলি উৎসব। এসময় পাশাপাশি মঞ্চে চলে সাংগ্রাই এর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর দল বেঁধে পানি খেলা প্রতিযোগিতায় নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে নানা রং এর পোশাক পরে সাংগ্রাই পালন করে মারমা সম্প্রদায়।

অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো:আবুল কামাল,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের জনসাধারণ।

এদিকে জলকেলি,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। রশি টানা, তৈলাক্ত বাশেঁর ওপর আরোহন, কাবাডিসহ নানা ইভেন্টে অংশ নেয় সকলে।

১৬এপ্রিল বৌদ্ধ বিহারে সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেশও জাতির মঙ্গল কামনায় মধ্য দিয়ে শেষ হবে পার্বত্য জেলায় সপ্তাহব্যাপী নববর্ষবরণ উৎসব।

উজি-ভিতর পাড়ায় সার্বজনিন জলোৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বান্দরবান অফিসঃ-পাহাড়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব।বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষবরণ উৎসব।এখন পাড়ায় পাড়ায় চলছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব।আজ সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর তিনটায় সার্বজনিন জলোৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বান্দরবান সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন অন্তর্গত উজি ভিতর পাড়ায়।স্থানীয় মারমা তরুণ-তরুণীদের উদ্যোগে উজি ভিতর পাড়া উৎসব উদযাপন কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করে।উঃ গংবু মার্মা’র সভাপতিত্বে আয়োজিত উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কু্দ্দুছ।এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন চৌধুরী,৪নং সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ এর প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন,বান্দরবান সদর ইউনিয়ন এর ৪.৫.৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পাইম্রাউ মার্মা প্রমুখ সহ পাড়ার শতশত নারী পুরুষ।উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধান অতিথি বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।মাহা সাংগ্রাই ২০১৯ এখানে উপস্থিত থাকা সকলের জীবনে মঙ্গল বয়ে আনুক এই প্রার্থনা করি।উজি ভিতর পাড়া বাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ কারণ এই পাড়াবাসী আমাকে ব্যালটের মাধ্যমে সমগ্র বান্দরবান জেলাজুড়ে যে সম্মান এর আসনে বসিয়েছেন তা কোনও ভাবে টাকা পয়সা দিয়ে কেনা যাবেনা।এই পাড়ার প্রতিটি সদস্যকে আমি আমার পরিবারের সদস্য মনে করে থাকি।এই পাড়ার প্রতিটি সদস্যের জন্য আমার ঘরের দরজা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে।অতীতের ন্যায় যেকোনও সময় যেকোনও বিপদে আপদে আমাকে আপনাদের পরিবারের সদস্য মনে করে স্বরণ করবেন,আমি সাড়া দিবো।এসময় তিনি আরও বলেন,আমি যতদিন বেঁচে থাকি উজি ভিতর পাড়ার এই দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য যেকোনও সময়-যেকোনও প্রয়োজনে সাহায্য সহযোগিতা করে যাবো কথা দিচ্ছি।এসময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সদর উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন,মাহা সংগ্রাই এর মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানাই আমার প্রানের উজি ভিতর পাড়া বাসী কে।ধন্যবাদ জানাই স্থানীয় তরুণ তরুণীর উদ্যোগে আয়োজিত এমন একটি মহৎ অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোয়।নতুন বছরে আজকের এই দিনে একটি কথাই বলবো,পুরনো সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এমন একটি সমাজ গঠন করতে চাই যে সমাজে কোনও হিংসা বিদ্বেষ থাকবেনা।

বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে বুদ্ধ মুর্তি স্নান অনুষ্ঠান

নিউজ ডেস্কঃ- পুরনো বছরের সব গ্লানি আর জরা ঝীর্ণতাকে ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ধর্মীয় ভাবগার্ম্বীযের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ মুর্তি স্নান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়।

বুদ্ধ মুর্তি স্নান অনুষ্ঠান উপলক্ষে রোববার বিকেলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী পুরুষের অংশগ্রহনে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মন্দির থেকে একটি ধর্মীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে সাঙ্গু নদীর তীরে গিয়ে শেষ হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এসময় অন্যান্যাদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ,পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষীপদ দাসসহ বৌদ্ধ ধর্মালম্বী গুরু ভান্তে, বিহার অধ্যক্ষ, বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী পুরুষেরা এই বুদ্ধ মুর্তি স্নান অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এসময় সাঙ্গু নদীর তীরে আয়োজন করা হয় এক ধর্মীয় দেশনা সভা। এতে বৌদ্ধ ধর্মানুরাসীদের দেশনা দেন ধর্মীয় গুরু উ পঞঞা জোতথের (উচহ্লা ভান্তে)। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় সকলে সমবেত প্রার্থনা করে এবং পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে আহবান করে।

ধর্মীয় দেশনা শেষে বুদ্ধ মুর্তিকে পবিত্র চন্দন জল দিয়ে স্নান করিয়ে জাগতিক ও পরকালের শান্তি কামনা করেন পূর্নার্থীরা।

বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখ উদযাপন

নিউজ ডেস্কঃ- পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বান্দরবানে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি আর বাঙ্গালী পরিবারগুলো মেতে ওঠেছে নববর্ষের আনন্দে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে রবিবার সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বান্দরবান রাজার মাঠ থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ও বাঙ্গালীরা তাদের ঐতিহ্যময় সাজ,ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপস্থিত থেকে বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক বিগ্রেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার মো:শাহিদুল এমরান,এএফডব্লিউসি পিএসসি,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার,পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী,পার্বত্য জেলা পরিষেদের সদস্য লক্ষীপদ দাস,মোজাম্মেল হক বাহাদুর,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ,প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম সুমন,এপেক্স ক্লাবস অব বাংলাদেশের সভাপতি এম এ কাইয়ুম চৌধুরী,জাতীয় সচিব ভুবন লাল ভারতী, এপেক্স ক্লাবস অব বান্দরবানের আইপিপি অলক দাশ গুপ্ত, এপেক্স ক্লাবস অব সাংগুর আইপিপি উমর ফারুক রাশেদসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে নববর্ষের প্রধান আকষর্ণ পান্তা ইলিশ ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সকলে। এসময় সাংস্কতিক অনুষ্টানে অংশ নেয় ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টির সাংস্কতিক ইনিসটিটিউটের শিল্পিসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পিরা।

অন্যদিকে নববর্ষ বরণ উপলক্ষে মারমা,চাকমা, ত্রিপুরা ও তংচঞ্চ্যাসহ ১১টি নৃগোষ্টির জনসাধারণের নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্টানে মেতে উঠেছে পুরো বান্দরবান জেলা।

বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই শুরু

ডেস্ক রিপোর্টঃ-পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বান্দরবানে চারদিনব্যাপী মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই শুরু হয়েছে।আজ শনিবার সকালে উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় রাজার মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর।
মারমা-চাকমা-ত্রিপুরা-মুরং সহ ১১টি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের হাজারো নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয় । শোভাযাত্রায় অনেকে নিজস্ব ঐতিহ্যর পোষাক পরিধান করে হাতে মোরগ,মুখোশ,বাঁশি,ঘুড়ি,হাতি প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।শোভাযাত্রা আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার।শোভাযাত্রা শেষে ইহকাল ও পরকালে সুখ-শান্তি লাভের জন্য বয়স্কদের উদ্দেশ্যে বয়স্ক পূজা করেন সকলে। আগামীকাল বিকেলে বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠান এবং ১৫ ও ১৬ তারিখ বিকেলে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নিজেদেরকে শুদ্ধ করে নিবেন মারমা জনগোষ্ঠীর যুবক-যুবতীরা ।