আজকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০৬:৩৫ অপরাহ্ন    

Home » বান্দরবান জেলা প্রশাসন

বান্দরবান জেলা প্রশাসন

বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখ উদযাপন

নিউজ ডেস্কঃ-  পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বান্দরবানে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি আর বাঙ্গালী পরিবারগুলো মেতে ওঠেছে নববর্ষের আনন্দে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে রবিবার সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বান্দরবান রাজার মাঠ থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ও বাঙ্গালীরা তাদের ঐতিহ্যময় সাজ,ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপস্থিত থেকে বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক বিগ্রেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার মো:শাহিদুল এমরান,এএফডব্লিউসি পিএসসি,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার,পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী,পার্বত্য জেলা পরিষেদের সদস্য লক্ষীপদ দাস,মোজাম্মেল হক বাহাদুর,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ,প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম সুমন,এপেক্স ক্লাবস অব বাংলাদেশের সভাপতি এম এ কাইয়ুম চৌধুরী,জাতীয় সচিব ভুবন লাল ভারতী, এপেক্স ক্লাবস অব বান্দরবানের আইপিপি অলক দাশ গুপ্ত, এপেক্স ক্লাবস অব সাংগুর আইপিপি উমর ফারুক রাশেদসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে নববর্ষের প্রধান আকষর্ণ পান্তা ইলিশ ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সকলে। এসময় সাংস্কতিক অনুষ্টানে অংশ নেয় ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টির সাংস্কতিক ইনিসটিটিউটের শিল্পিসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পিরা।

অন্যদিকে নববর্ষ বরণ উপলক্ষে মারমা,চাকমা, ত্রিপুরা ও তংচঞ্চ্যাসহ ১১টি নৃগোষ্টির জনসাধারণের নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্টানে মেতে উঠেছে পুরো বান্দরবান জেলা।

বান্দরবানে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

বান্দরবানঃ-  যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বান্দরবানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হচ্ছে। সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এপর সকাল ৮টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনছার, স্কাউটসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ¯কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে শরীর চর্চা প্রদর্শন এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় মহান স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম , এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নোমান হোসেনসহ সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তাবৃন্ধ।

এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা কুচকাওয়াজে অংশ নেয় এবং মনোরম ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।

এ ছাড়াও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে প্রশাসন ।

উপজেলা নির্বাচনে বান্দরবানে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

বান্দরবান অফিসঃ-  দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বান্দরবানের ৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল (২৮ ফেব্রুয়ারী) বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো:আবুল কালাম। এসময় উপজেলার প্রার্থী ও প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকরা তাদের পক্ষে প্রতীক গ্রহণ করেন। প্রতীক বরাদ্দের সময় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো:শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

২য় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বান্দরবানের ৭টি উপজেলার মধ্যে ৭টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৮ই মার্চ। এবারের উপজেলা নির্বাচনে ৬টি চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন অংশ নিচ্ছে, তবে লামা উপজেলায় এখনো প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্ধ দেয় হয়নি।

বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো:শাহাদাৎ হোসেন জানান,বান্দরবানের সাতটি উপজেলা বান্দরবান সদর,লামা,আলীকদম,থানছি,রুমা,নাইক্ষংছড়ি,রোয়াংছড়িতে উপজেলা নির্বাচন আগামী ১৮ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। তবে আওয়ামীলীগের এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে লামা উপজেলায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্ধ অন্যান্য উপজেলা থেকে এক দুইদিন বেশি সময় লেগে যাবে।

তিনি আরো জানান, এবারের উপজেলা নির্বাচনে বান্দরবান সদর,আলীকদম,রোয়াংছড়ি ও থানছি উপজেলার রিটানিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো:আবুল কালাম এবং রুমা,লামা ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলার রিটানিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো:রেজাউল করিম।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো:শাহাদাৎ হোসেন আরো জানান, বান্দরবানে এবার ২লক্ষ ৪৬ হাজার ১শত ৮৪জন ভোটার উপজেলা নির্বাচনে ভোট কার্যক্রমে অংশ নেবে।

পার্বত্য এলাকার শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে : পার্বত্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ-  পার্বত্য এলাকায় কোন শরনার্থী অবস্থান করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। তিনি আরো বলেন,পার্বত্য এলাকায় কোন শরনার্থী থাকবে না,ভিনদেশী রোহিঙ্গাদের পার্বত্য এলাকা বাদ দিয়ে ভিন্ন জায়গায় অবস্থানের কথা প্রশাসনের ভাবতে হবে।

রোববার বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন শৃংঙ্খলা ও মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দেশের নাগরিক নয় এমন কোন ব্যক্তিকে কেউ আশ্রয় প্রশ্রয় দিবেন না। কেউ শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বিপদে জড়াবেন না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে:কর্ণেল মো:সানবীর হাসান, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার (জি টু) মেজর ইফতেখার হোসেন পিএসসি,পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী,আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ,পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর,ফাতেমা পারুলসহ পুলিশ,আনছার,বিজিবি ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

সভায় বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে:কর্ণেল মো:সানবীর হাসান বলেন, বান্দরবানের রুমা সীমান্তের ৭২ নং পিলারের কাছে বেশ কয়েকজন শরনার্থী অবস্থান করছে এবং শীঘ্রই তাদের ফিরে যেতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রুমা সীমান্তের ৭২নং পিলারের কাছে বেশ কিছু মিয়ানমারের নাগরিক অবস্থান করছে তবে তারা মিয়ানমার সীমান্তে রয়েছে এবং তাদের দায়ভার সম্পুর্ণ মিয়ানমার সরকারের। এসময় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের দেশের অভ্যন্তরে আমার জেলা ও উপজেলার কোন নাগরিক যদি শীতে কষ্ট পায় অথবা অনাহারে দিন কাটায় তবে আমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেব।

সভায় বর্তমান সময়ের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বেশ জোরালো আলাপ আলোচনা হয় এবং জেলার সার্বিক আইন শৃংঙ্খলা উন্নয়নে প্রশাসনকে আরো বেশি সর্তক থাকার আহবান জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বন্ধে পাহাড়ে জিরো টলারেন্স দেখানো হবেঃ-(পার্বত্যমন্ত্রী)

নিউজ ডেস্কঃ- পাহাড়ে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।তিনি বলেন, পার্বত্য বান্দরবান জেলাকে পর্যটনের একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।আজ রোববার বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন শৃঙ্খলা ও মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, পৌর মেয়র মো. ইসলাম বেবী, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রহিম চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষি পদ দাশ প্রমুখ।সভায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পার্বত্যমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি জন্য শান্তি স্থাপন করা জরুরি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাহাড়ে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জেলায় একটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা হবে। এছাড়া কৃষিভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে আর্থসাজিক অবস্থার পরবর্তনে কাজ করা হবে।মন্ত্রী একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।

 

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান,পূর্ণ মন্ত্রী হলেন বীর বাহাদুর

নিউজ ডেস্কঃ-সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হলেন ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং।তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষেদে শপথ নিবেন বীর বাহাদুর। এর আগে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।দীর্ঘদিন পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হলো এলাকার একজনকে। ১৯৯৮ সালে মন্ত্রণালয়টি গঠনের সময়ে খাগড়াছড়ির প্রয়াত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।পরে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।রোববার সকালে গণভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ নিতে বীর বাহাদুরকে ফোন করা হয়।এর পর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বীর বাহাদুরের নিজ এলাকা বান্দরবানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সর্বত্রই এখন উৎসবের অমেজ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা এখন আনন্দের বন্যায় ভাসছেন। মিষ্টি বিতরণ হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে যারা নির্বাচনে বীর বাহাদুরের জয়লাভের জন্য বেশি খেটেছেন তাদের আনন্দের সীমা নেই।খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতেও উৎসবের বন্যা বইছে। নেতা-কর্মীরা বীর বাহাদুরকে শুভেচ্ছা জানাতে দলে দলে ছুটছেন ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায়। সেখানে জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে।এদিকে ক্ষুদ্ধ অপর পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটির নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সমতা আনতে এবার দিপংকর তালুকদারকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় হতাশ জেলার বাসিন্দারা।জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ জানান,প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এটি পাহাড়ি জনপদের লোকজনদের জন্য সৌভাগ্যের।প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে সফল ছয় ছয় বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রী করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবিও ছিল একটাই। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশা সফল হয়েছে। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।তিনি বলেন, মন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ধারা বয়ে যাবে বলে আশা আমাদের।১৯৯১ সালে বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের ফুটবল খেলোয়াড় বীর বাহাদুর উশৈসিং। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পর পর ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচানে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বীর বাহাদুর।তবে একইসঙ্গে রাঙ্গামাটিতে সিনিয়র নেতা দিপংকর তালুকদার ও খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল জয়ী হওয়ায় এবার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে দেয়া হয় তা নিয়ে পাহাড়ের নেতাদের মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ।শেষ পর্যন্ত মুকুট পরলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং।

প্রতীক পেলেন বান্দরবানের ৩ প্রার্থী

নিউজ ডেস্কঃ-আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের ৩০০ নং আসনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন রিটার্নিং অফিসার। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং নৌকা প্রতীক, বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে ধানের শীষ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শওকতুল ইসলামকে হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং অফিসার।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম,সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনসহ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সভায় রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর বান্দরবানের সাত উপজেলায় প্রার্থীরা তাদের পুরোদমে প্রচারনায় নেমে পড়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী পোস্টার ব্যানার টাঙ্গানো হচ্ছে। বান্দরবানে এবার ১৭৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫৪।

বান্দরবানে প্রতিবন্ধী দিবস পালিত

বান্দরবান অফিসঃ-“ সাম্য ও অভিন্ন যাত্রায় প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে বান্দরবানে ২৭তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২০তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়েছে।এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে একটি র‌্যালী বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবার আয়োজনে র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ দাউদুল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল কালাম এর সভাপতিত্বে এসময় সিভিল সার্জন ডা: অংসুই প্রু, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মিল্টন মুহুরীসহ বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধী শিক্ষাথীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, তারা নিজেরাই এখন স্বাবলম্বী হচ্ছে। তাদের প্রতি একটু আন্তরিক হলে ও তাদের সহযোগিতা করলেই তারা আরো ভাল কাজ করতে পারবে। এসময় তিনি সকল প্রতিবন্ধীদের সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

বীর বাহাদুর উশৈসিং ও সাচিং প্রু জেরীর মনোনয়ন বৈধ,ম্য মা চিং এর মনোনয়ন বাতিল

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবা‌নে নির্বাচ‌নের ম‌নোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হ‌য়ে‌ছে।এসময় বি‌ভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও ঠিকমতো কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কার‌ণে ৯ জ‌নের ম‌ধ্যে ৬ জ‌নের ম‌নোনয়ন বা‌তিল করা হয়।আজ (২ ডি‌সেম্বর) সকা‌লে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মিলনায়ত‌নে ম‌নোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতিথি হি‌সে‌বে উপ‌স্থিত ছি‌লেন বান্দরবান এর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো.দাউদ‌ুল ইসলাম।এসময় জেলা নির্বাচন অফিসার মো.রেজাউল ক‌রিম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল কালামসহ ‌বিদ্যুৎ,ব্যাংকসহ বি‌ভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা ও ম‌নোনয়ন প্রার্থীরা উপ‌স্থিত ছি‌লেন।রবিবার সকালেই আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে বান্দরবান জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা।অন্য দিকে বান্দরবান এর আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী মিসেস ম্য মা চিং এর প্রার্থীতা সাক্ষর জটিলতার কারনে বাতিল করা হয়েছে।আজ দুপুরে ম্য মা চিং এর প্রার্থীতা নিয়ে শুনানি হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানাতে সময় নেন।পরে বিকেল ৫টায় যাচাই বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ম্য মা চিং এর প্রার্থীতা বাতিল করে দেন।এখন এই প্রার্থী আপিল করবেন বলে জানা গেছে।রবিবার সকালে বা‌তিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন-ম‌হিলা দ‌লের সে‌ক্রেটারি উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা,স্বতন্ত্র প্রার্থী ডনাইপ্রু নেলী, নাথান বম ও জেলা আওয়ামী লী‌গের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাশ,বাবুল হোসেন।এ বিষ‌য়ে জেলা প্রশাসক ব‌লেন, ‘এখা‌নে যারা ম‌নোনয়নপত্র জমা দি‌য়ে‌ছেন তা‌দের কেউ বিদ্যুৎ, গ্যাস,ঋণ বা কোন পাওনা খেলা‌পি থাক‌তে পারবে না।এছাড়া কেউ মিথ্যা তথ্য দি‌তে পার‌বে না। আজ সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ক‌রেই বৈধ এবং বা‌তিল ঘোষণা করা হ‌য়ে‌ছে।তি‌নি আরও ব‌লেন, যারা বা‌তিল হ‌য়ে‌ছে তারা ১২০ টাকার কোর্ট ফি সংগ্রহ ক‌রে তিন‌দি‌নের ভেতরে ‌নির্বাচন ক‌মিশ‌নে আপিল কর‌তে পার‌বেন।’

বান্দরবান জেলা আইন শৃঙ্খলা ও সমসাময়িক বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবান জেলা আইন-শৃংখলা ও সমসাময়িক বিষয়ে মতবিনিময় রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ দাউদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃজাকির হোসেন মজুমদার,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃআবু হাসান ছিদ্দিক,বান্দরবান এনএসআই উপ-পরিচালক মোঃশাহজাহান,বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ,সেনাবাহিনী ও বিজিবি প্রতিনিধিগণ,সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জামাল উদ্দীন চৌধুরী,আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম,লামার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইনু চৌধুরী,রুমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংথোয়াই চিং মার্মা,থানছি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মার্মা,বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী,বান্দরবান প্রেস ক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধি সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধি সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুল হক,মোঃ খোরশেদ,বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা ব্রজগোপাল রাজ বংশী,জাতীয় পার্টি জেপি বান্দরবান জেলা সভাপতি কাজী মোঃ নাসিরুল আলম,হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন মাস্টার,মুদি দোকান ব্যবসায়ী সমবায় কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাজ্বী মোঃ আলী, মুদি দোকান ব্যবসায়ী সমবায় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনি,বান্দরবান সিএনজি মাহিন্দ্র মালিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের,মোঃ নুরুল আলম সাওদাগর,বান্দরবান পৌর মাছ ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ এর নব নির্বাচিত সভাপতি মোঃ আবু তাহের,সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিক,সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বান্দরবানের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিটি জুমার খুৎবার পূর্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয়,ইসলামে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই,জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী আলোচনা,পবিত্র রমাজনের তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিটি মসজিদের খতিবদের নিদের্শ প্রদান করা হয়। যানবাহন শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা ট্রাফিক বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়। সভায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদুৎ বিতরণ করতে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন গোষ্ঠী বা কেউ যদি আইনসৃঙ্খলা পরিস্থির অবনতি ঘটনা চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন বান্দরবান একটি পর্যটন নগরী হিসেবে দেশে ও দেশের বাইরে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে পর্যটকরা বান্দরবানে বেড়াতে আসে, পর্যটক আসার ফলে আপনাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বেড়ে যায়,আপানারা পর্যটকদের কাছ থেকে বেশী লাভ না করে কম লাভে তাদের সেবা প্রদান করুন,আপনারা সুন্দর ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করুন,আপনার কোন পর্যটের সাথে খারাপ আচরন করেন,বা তাদের কাছ থেকে খাবারের মূল্য অতিরিক্ত বা বেশী রাখেন,বা মিয়াদ উর্ত্তিণ খাবার বাজার জাত করেন,বা দোকানে অপরিস্কার রাখেন আপনাদের কাছে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট গিয়ে জরিমানা করে আসবে। তখন আপনারা আমাদেরকে কোন দোষারুপ করতে পারবেন না। বান্দরবান একটি সম্প্রীতির জেলা হিসাবে দেশ বিদেশে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে। সম্প্রীতির বন্ধন বিনষ্ট করার যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সকলকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানান।