আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৬ অপরাহ্ন    

Home » পার্বত্য চট্রগ্রাম

পার্বত্য চট্রগ্রাম

উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বান্দরবানের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

নিউজ ডেস্কঃ-  পার্বত্য তিন জেলার ২ হাজার ২ শ ২২জন জন গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বান্দরবানে ৭৩২, রাঙামাটি ৭৫০ ও খাগড়ছড়ি জেলার ৭৪০ জন শিক্ষার্থীকে এই শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানে অরুন সারকী টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এ শিক্ষা বৃত্তির অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় অনুষ্ঠানে কলেজ পর্যায়ে ৭ হাজার টাকা, মেডিকেল ও বিশ^বিদ্যালয়ের পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দশ হাজার করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো:শাহিনুল ইসলাম,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা) ড.প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো:আব্দুল আজিজ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার,বান্দরবান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ বড়–য়া,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো:ইয়াছির আরাফাতসহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হচ্ছে, শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে শিক্ষা বৃত্তি পরিমান আরও বাড়ানো হবে এবং সকলকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে।

নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মৈত্রি পানি বর্ষণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত

নিউজ ডেস্কঃ-  বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মৈত্রি পানি বর্ষণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়েছে।গত রোববার (২১ এপ্রিল) বিকালে বান্দরবান সদরের চড়–ই পাড়ায় সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে চড়–ই পাড়াস্থ মাঠে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এসময় অনুষ্ঠানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মৈত্রি পানি বর্ষন, তৈলাক্ত বাশঁ আরোহন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করে সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটি।মারমাদের এই বর্ষবরনের উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নেচে গেয়ে আনন্দ উদযাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সহধর্মিনী মেহ্লা প্রু।এসময় অনুষ্ঠানে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ¤্রাসা খেয়াং, কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা, সদর উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান য়ইসা প্রু মারমা সহ মারমা তরুণ তরুনী ও এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্টানে মারমা তরুণ তরুনীরা এই আনন্দ উৎসবে যোগ দেয় এবং মৈত্রী পানি বর্ষনে অংশ নিয়ে পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে যোগ দেয়।

উজি-ভিতর পাড়ায় সার্বজনিন জলোৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বান্দরবান অফিসঃ- পাহাড়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব।বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষবরণ উৎসব।এখন পাড়ায় পাড়ায় চলছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব।আজ সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর তিনটায় সার্বজনিন জলোৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বান্দরবান সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন অন্তর্গত উজি ভিতর পাড়ায়।স্থানীয় মারমা তরুণ-তরুণীদের উদ্যোগে উজি ভিতর পাড়া উৎসব উদযাপন কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করে।উঃ গংবু মার্মা’র সভাপতিত্বে আয়োজিত উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কু্দ্দুছ।এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন চৌধুরী,৪নং সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ এর প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন,বান্দরবান সদর ইউনিয়ন এর ৪.৫.৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পাইম্রাউ মার্মা প্রমুখ সহ পাড়ার শতশত নারী পুরুষ।উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধান অতিথি বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।মাহা সাংগ্রাই ২০১৯ এখানে উপস্থিত থাকা সকলের জীবনে মঙ্গল বয়ে আনুক এই প্রার্থনা করি।উজি ভিতর পাড়া বাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ কারণ এই পাড়াবাসী আমাকে ব্যালটের মাধ্যমে সমগ্র বান্দরবান জেলাজুড়ে যে সম্মান এর আসনে বসিয়েছেন তা কোনও ভাবে টাকা পয়সা দিয়ে কেনা যাবেনা।এই পাড়ার প্রতিটি সদস্যকে আমি আমার পরিবারের সদস্য মনে করে থাকি।এই পাড়ার প্রতিটি সদস্যের জন্য আমার ঘরের দরজা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে।অতীতের ন্যায় যেকোনও সময় যেকোনও বিপদে আপদে আমাকে আপনাদের পরিবারের সদস্য মনে করে স্বরণ করবেন,আমি সাড়া দিবো।এসময় তিনি আরও বলেন,আমি যতদিন বেঁচে থাকি উজি ভিতর পাড়ার এই দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য যেকোনও সময়-যেকোনও প্রয়োজনে সাহায্য সহযোগিতা করে যাবো কথা দিচ্ছি।এসময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সদর উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন,মাহা সংগ্রাই এর মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানাই আমার প্রানের উজি ভিতর পাড়া বাসী কে।ধন্যবাদ জানাই স্থানীয় তরুণ তরুণীর উদ্যোগে আয়োজিত এমন একটি মহৎ অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোয়।নতুন বছরে আজকের এই দিনে একটি কথাই বলবো,পুরনো সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এমন একটি সমাজ গঠন করতে চাই যে সমাজে কোনও হিংসা বিদ্বেষ থাকবেনা।

বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই শুরু

ডেস্ক রিপোর্টঃ-পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বান্দরবানে চারদিনব্যাপী মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই শুরু হয়েছে।আজ শনিবার সকালে উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় রাজার মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর।
মারমা-চাকমা-ত্রিপুরা-মুরং সহ ১১টি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের হাজারো নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয় । শোভাযাত্রায় অনেকে নিজস্ব ঐতিহ্যর পোষাক পরিধান করে হাতে মোরগ,মুখোশ,বাঁশি,ঘুড়ি,হাতি প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।শোভাযাত্রা আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার।শোভাযাত্রা শেষে ইহকাল ও পরকালে সুখ-শান্তি লাভের জন্য বয়স্কদের উদ্দেশ্যে বয়স্ক পূজা করেন সকলে। আগামীকাল বিকেলে বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠান এবং ১৫ ও ১৬ তারিখ বিকেলে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নিজেদেরকে শুদ্ধ করে নিবেন মারমা জনগোষ্ঠীর যুবক-যুবতীরা ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভ্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি

বান্দরবান অফিসঃ-বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।রাজধানী ঢাকা ও দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় (পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল) অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে নিজেদের নাগিরকদের এসব এলাকা ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশে ভ্রমণরতদের বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ সতর্কতা জারি করে।মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, বাংলাদেশে অপরাধ ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিছু জায়গায় ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।”রিকন্সিডার ট্রাভেল টু: ঢাকা” শীর্ষক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।পররাষ্ট্র দফতর আরো জানায়, খাগড়াছড়ি,রাঙ্গামাটি,বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকাও বিপজ্জনক।সেখানে অপহরণসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনা ঘটছে। সে কারণে চট্টগ্রাম হিলট্র্যাকসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সন্ত্রাস, অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ঢাকার বিষয়ে সতর্কতায় বলা হয়েছে,রাজধানীর অপরাধের হারও অনেক বেশি।রাতে অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।শহরের অপরাধগুলোর মধ্যে বিভিন্ন চক্র জড়িত।চুরি,ডাকাতি,গাড়ি ছিনতাই,হামলা,ধর্ষণ অন্যতম।ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়, রাজনৈতিক আন্দোলন,অবরোধ ও সহিংস সংঘাত ঘটেছে এবং ঘটতেই থাকবে।পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণে যেতে হলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে যাওয়ার কথাও এতে বলা হয়েছে।

ত্রিপুরা পাড়ায় বৈসু উৎসব শুরু

নিউজ ডেস্কঃ-নববর্ষ উদযাপন কমিটির সহযোগিতায় ও বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের অন্তহা ত্রিপুরা পাড়ায় বৈসু উৎসব শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আজ শুক্রবার (১২এপ্রিল) সকালে অন্তহা ত্রিপুরা পাড়ায় মাঠের অনুষ্ঠানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক সিংঅং ম্রো এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মংনুচিং মারমা,বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সত্যহা পানজি,জেলা পরিষদের সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা,সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পাইহ্লাঅং মারমা,রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা,সদর উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান রাজুমং মারমা,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান য়ইসাপ্রু মারমা,নোয়াপতং ইউপি চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা। বান্দরবান সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মংনুচিং মারমা প্রমুখ।এছাড়া এলাকার স্থানীয় মেম্বার,হেডম্যান,কারবারি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন।

ফুল ভাসিয়ে শুরু হলো চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব বিজু

নিউজ ডেস্কঃ-পাহাড়িদের বর্ষবরণ বৈসাবি উৎসবে মুখরিত এখন বান্দরবান। চারিদিকে চলছে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার নানা আয়োজন। পাড়ায় পাড়ায় চলছে নাচ গান পিঠা পুলি তৈরী আর পূজা অর্চনা। শুক্রবার সকালে সাংঙ্গু নদীতে ফুল বাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব বিজু ও বিসু। নানা রঙ্রে ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরে তঞ্চঙ্গ্যা তরুন তরুনীরা নদীতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করে।

নদীতে ফুল ভাসানোর পর নতুন বছরের সুভ কামনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে তারা। এদিকে তঞ্চঙ্গ্যাদের পাড়ায় পাড়ায় আয়োজন করা হয়েছে ঘিলা খেলা প্রতিযোগিতার। পাহাড়ি এক প্রকার ফুলের শক্ত বিজ এই “ঘিলা” কে পবিত্র মনে করে তঞ্চঙ্গ্যারা। তাই এই ফলের বিজ দিয়ে খেলার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে চাকমারা সকালে ভগবান বুদ্বের উদ্যোশে পূজা দিয়ে ঘর বাড়ি মুছে পবিত্র করে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে। এছাড়া বয়স্কদের কাছে আর্শিবাদ নিয়েছে।

কাল শনিবার চাকমাদের মূল বিজু। এদিকে শনিবার থেকে বান্দরবানে শুরু হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ সাংগ্রাই উৎসব। তরুন তরুনীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নিবে নতুন বছরকে। পবিত্র পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের সব দুঃখ গ্লানি। পাড়ায় পাড়ায় চলবে মৈত্রী পানি বর্ষণের আয়োজন। এদিকে ¤্রাে সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ চাংক্রান ও ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসবও চলছে বান্দরবানের পাহাড়ি পল্লিগুলোতে। এদিকে বান্দরবানের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্রপূর্ন বর্ষবর কে ঘিরে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছে বান্দরবানে।

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন দেওয়ার জোর সুপারিশ

ডেস্ক রিপোর্টঃ-বান্দরবান,রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি তিন জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে কমিটি পার্বত্য এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে।আজ সোমবার অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।আইন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা পাঁচ বছর পর পর। কিন্তু এই পরিষদ গঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র একবার নির্বাচন হয়েছে ১৯৮৯ সালে। নির্বাচন না হওয়ায় পরিষদ চলছে সরকারের মনোনীত দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে।বৈঠকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তার আওতায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২৪০ কোটি টাকার ৮৮২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, ফুট ব্রিজ, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিভিন্ন অবকাঠামো, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিভিন্ন ভবন নির্মাণসহ পূর্ত কাজ, কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জলবায়ু, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন,ছাত্রাবাস নির্মাণ,আবাসিক বিদ্যালয় পরিচালনা, মৎস্য চাষের ব্যবস্থা, সেচ ড্রেন, ফলজ বাগান সম্প্রসারণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে কমিটির সদস্য পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, দীপংকর তালুকদার, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও বাসন্তী চাকমা বৈঠকে অংশ নেন।

অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্যাঞ্চল,খুনোখুনিতে ব্যবহার হচ্ছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র

বান্দরবান অফিসঃ-পার্বত্যাঞ্চলে খুনোখুনিতে ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এসএমজি, একে-৪৭ রাইফেল, এম-১৬ ও এম-৪ এর মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, বিবদমান প্রতিটি সশস্ত্র গ্রুপের কাছেই রয়েছে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র। গত ১৮ মার্চ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, সেখানেও ভারী অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।ফলে অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্যাঞ্চল।একটি সূত্র বলেছে,১৮ মার্চের আক্রমণস্থল থেকে এসএমজি ও একে-৪৭ রাইফেলের গুলির খোসা উদ্ধার হয়েছে।সেখান থেকে বিপুল ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। সন্ত্রাসীরা ওই অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেখানে।১৮ মার্চ সন্ধ্যায় ভোট গণনা শেষে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক বাঘাইহাট থেকে দীঘিনালা ফেরার পথে ৯ কিলোমিটার এলাকায় ব্রাশফায়ারে নিহত হন একজন প্রিজাইডিং অফিসারসহ মোট সাতজন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা যান।ঘটনায় আরো ১৬ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়,বাঘাইছড়ি সাজেকের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গননা শেষে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরতরা ভোট বাক্স নিয়ে উপজেলা পরিষদে ফিরছিলেন।এ সময় নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরতদের বহনকারী চারটি গাড়ি ছিল।প্রথম গাড়িতে বিজিবি সদস্যরা ছিলেন ওই গাড়িগুলোকে নিরাপদে নেয়ার জন্য।দুর্বৃত্তরা পেছনের গাড়িটিতে হামলা চালায়।এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেছেন,এই ঘটনায় ভারী অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।তদন্ত কমিটির প্রধান দীপক চক্রবর্তী গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন,ঘটনাটি ছিল একেবারেই পরিকল্পিত।যতদূর ধারণা,আগে থেকেই ভারী অস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে প্রস্তুত ছিল হামলাকারীরা।একটি সূত্র বলেছে,ঘটনাস্থল থেকে এসএমজি ও একে-৪৭ রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।তবে রাঙ্গামাটির এসপি নয়া দিগন্তকে বলেন,ব্যালাস্টিক পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না ওগুলো কোন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি।তিনি বলেন,তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।আলামত উদ্ধারের সময় তিনিও ছিলেন।তবে পরীক্ষা ছাড়া বলা ঠিক হবে না ওগুলো কিসের গুলি।তিনি বলেন,পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।গত বছর পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে হানাহানিতে অন্তত অর্ধশত নিহত হয়েছে।এর মধ্যে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে।গত বছরের ১৯ আগস্ট খাগড়াছড়ি জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ পিসিপির সভাপতিসহ নিহত হয় সাতজন।নিহতরা হলেনÑ পিসিপির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা,সহসাধারণ সম্পাদক এলটন চাকমা, পলাশ চাকমা,রূপক চাকমা,বরুণ চাকমা,জীতায়ন চাকমা। এর আগে ১৩ জুলাই খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন।একই দিনে খাগড়াছড়ির আলুটিলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ কর্মী জ্ঞানেন্দু চাকমা লাশ নিতে এসে তারই ছোট ভাই কালায়ন চাকমাকে (২২) অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।আগের দিন জ্ঞানেন্দু চাকমা নিহত হন। এই ঘটনায় জেএসএস সংস্কারকে দায়ী করে ইউপিডিএফ।গত ৩ মে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তি চাকমাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।ওই ঘটনার পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন বড় ধরনের সহিংস ঘটনার।অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ২০১০ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) নামে গঠিত নতুন দলে যোগ দেন।সংস্কারপন্থী এই নেতা ছিলেন ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।ওই আশঙ্কা ঠিকই এক দিন পর প্রমাণিত হয়।পরদিন ৪ মে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় অংশ নিতে গিয়ে পথে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা,একই দলের নেতা সুজন চাকমা,সেতুলাল চাকমা ও টনক চাকমা। তাদের বাঙালি গাড়িচালক সজীবও নিহত হন।ওই ঘটনার মাস তিনেক আগে নিহত হয়েছে ইউপিডিএফের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি মিঠুন চাকমা। মিঠুন হত্যার কয়েকদিন আগে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল।মিঠুন ওই দলে যোগ দিয়েছিলেন।গত ৩ জানুয়ারি কোর্টে হাজিরা শেষে বাড়িতে গেলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,এর প্রতিটি ঘটনায়ই ভারী অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।গোপনে এই আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো।নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জেএসএস সন্তু গ্রুপকে সন্দেহ করা হয়েছে।তাদেরকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের বিরুদ্ধে।সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেএসএস সন্তু গ্রুপের নেতা বড় ঋষি চাকমাকে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছে এসএমজি,একে-৪৭ রাইফেল,এম-১৬ এবং এম-৪ এর মতো আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।প্রতি বছর যৌথ বাহিনী এসব সন্ত্রাসী ও তাদের আস্তানা থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করলেও তাদের অস্ত্র ভাণ্ডার কমছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়,২০১৭ সালে পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কাছ থেকে ১২০ টি, ২০১৮ সালে ১৩০টি এবং চলতি বছরের প্রথম দু’মাসে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।এক দিকে অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে অপর দিকে অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা।

তথ্য সুত্রঃ-আবু সালেহ আকন,দৈনিক নয়াদিগন্ত।

রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী হামলা : আহতদের পাশে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

নিউজ ডেস্কঃ-রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের দেখতে গেলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা সিএমএইচে যান এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।
এসময় বীর বাহাদুর বিদ্যমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আহতদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান। এসময় পার্বত্য সচিব মেজবাহুল ইসলাম, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তের ব্রাশ ফায়ারে নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় ১১জন আহত হলে তাদের দ্রুত চমেক হাসপাতাল ও হেলিকপ্টার যোগে সিএমএইচে পাঠানো হয়।