আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৭ অপরাহ্ন    

Home » পর্যটন

পর্যটন

পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ: স্বস্তিতে পর্যটক

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবান একটি পর্যটক বান্ধব শহর, তাই প্রতিবছর এই জেলা ভ্রমণের আসে হাজার হাজার পর্যটক। অর এসব পর্যটকদের সুনিরাপত্তা দিতে নিরলস ভাবে কাজ করছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন।পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বান্দরবানের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে পর্যটকরা স্বাগতম জানালে ও বান্দরবানের কিছু সংখ্যাক লোকজনের উস্কনিতে বান্দরবান মেঘলা এলাকায় বিরাজ করছে অশান্তি। তারা চেষ্টা করছে বান্দরবানের শান্তি ও সম্প্রীতির বিনষ্ট করতে। অন্যদিকে কিছু উস্কুনি দাতা আছে যারা চাই জেলা প্রশাসনের সাথে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে বান্দরবানের পাহাড়ী বাঙ্গালীর শান্তি বিনষ্ট করতে।সরেজমিনে পর্যবেক্ষকন করতে গেলে দেখা যায় যে বান্দরবানের মেঘলা এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার জনসাধারণকে পুজি করে কিছু সংখ্যাক লোক বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সাথে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রুপ দিকে চেষ্টা করছে।এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছক (তঞ্চঙ্গ্যা) বলেন , আমি আগে ঐ এলাকায় বসাবাস করতাম কিন্তু সেই খানে আগে গেইট না থাকার কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা না না প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিত। আর এই ঘটনা থেকে নিরসণের জন্য এক সময় আমরাই জেলা প্রশাসেন কাছে আবেদন করে এই গেইটটি পেয়েছি। কিন্তু আমাদের এখানে কিছু সংখ্যক লোক আছে যারা নিজেদের স্বার্থেও জন্য ডিসি স্যারের উপর নানা প্রকার অপবাদ দিচ্ছে।প্রসঙ্গত বান্দরবানের জেলা প্রশাসনের জায়গা দখলের চেষ্টয় লিপ্ত হয়ে পড়েছেন মেঘলা এলাকার স্থানীয়রা। তারা কিছুদিন মানববন্ধন কিছু দিন বিভিন্ন পত্রিকায় টাকার বিনিময়ে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বান্দরবানের শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।

বান্দরবানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

বান্দরবান অফিসঃ- বান্দরবানে পর্যটকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিল বোর্ডের খাম্বার সাথে লেগে দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটির সুপারভাইজার মো. রাজু (৪২) নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ২০ জন পর্যটক। বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বান্দরবান শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদেরকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরন করা হয়েছে। খুলনা থেকে কক্সবাজার হয়ে বান্দরবানে পর্যটকরা ভ্রমণে এসেছিল। তারা সকলে খুলনা বণিক সমিটির পর্যটক।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান কেরারীহাট সড়কের শহরের কসাইপাড়া এলাকায় পর্যটকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশ থেকে সরে একটি টিলার ওপর উঠে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে  গাড়ির সুপারভাইজার মারা যায়। এ ঘটনায় ২০ জন পর্যটক আহত হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামসহ দুজনের নাম জানা যায়।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় এক জন মারা গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৪ জন পর্যটককে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে।

 

পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা

বান্দরবান অফিসঃ- বান্দরবানে পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার বান্দরবান সেনা জোনের আয়োজনে বান্দরবান সেনানিবাসের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসময় বান্দরবান সদর জোন ও ২৬বীরের জোন কমান্ডার লে:কর্ণেল এসএম আবদুল্লা আল আমিন পিএসসির সভাপতিত্বে সভায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস,বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী,পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ,পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষীপদ দাস,মোজাম্মেল হক বাহাদুর,বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন হোটেল মোটেল মালিক সমিতি,পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এসময় মতবিনিময় সভায় বান্দরবানে আগত সকল পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পাহাড়ে গাড়ী চালানো সকল ড্রাইভারদের নিয়ন্ত্রিত ভাবে গাড়ি চালনা,হোটেল-মোটেলগুলোতে অগ্নি দুর্ঘটনা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার উপর জোর দেওয়া ও সকল পর্যটন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন ২৬ বীরের জোন কমান্ডার লে:কর্ণেল এসএম আবদুল্লা আল আমিন পিএসসি।সভায় পার্বত্য এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ড্রাইভারদেরকে বান্দরবান সেনা জোনের পক্ষ থেকে উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থার পাশাপাশি রুমা,থানচি,রোয়াংছড়ি উপজেলাসহ অভ্যন্তরীন সড়কগুলোতে নিরাপদ ভ্রমনের জন্য আরো স্পিড ব্রেকার স্থাপনের উদ্দ্যোগ নেওয়ার কথা জানান ২৬ বীরের জোন কমান্ডার লে:কর্ণেল এসএম আবদুল্লা আল আমিন পিএসসি।এসময় তিনি আগামীতে বান্দরবানকে একটি সুন্দর পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা ও কামনা করেন।

ইউনিক বাসে নারী যাত্রীকে রাত কাটানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ..!!!

সিএইচটি টাইমস ডেস্কঃ-এবার রাঙামাটিতে একনারী যাত্রীকে গাড়িতে রাত কাটানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইউনিক পরিবহনের চালক ও হেলপার। পরিবহন খাতের এক শ্রেণীর বদমাইশদের হাতে অব্যাহতভাবে নারী নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশে যখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে ঠিক এমনই সময়ে পার্বত্য রাঙামাটি জেলা শহরে আবারো এই ধরনের ঘটনার অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন রাঙামাটি জেলা আইনজীবি সমিতির এক নারী সদস্য।পেশায় এ্যাডভোকেট ভূক্তভোগি ঔই নারী জানান,পেশাগত কারনে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। চলতি মাসের গত ৬ই মে রাজধানী ঢাকা থেকে ইউনিক পরিবহনের বাস (নাম্বার-৯১১০) সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিটে ছেড়ে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে আসে।আমিও আমার অপর সহকর্মী সেই গাড়ির যাত্রী ছিলাম। পরের দিন হরতাল তাই দ্রুতগতিতে উক্ত গাড়িটি রাত আড়াইটার সময় রাঙামাটিতে চলে আসে।
এসময় শহরের ভেদভেদীতে আমার নারী সহকর্মীটি নেমে যায়।পরে শহরের পুরাতান বাস ষ্টেশন দোয়েল চত্তর এলাকায় আমাকে নেমে যেতে বলে গাড়ির ড্রাইভার জাহাঙ্গীর ও সুপারভাইজার বাবলু।

 

এসময় আমি তাদেরকে বললাম,ভাই আমি একজন নারী এতোরাতে আমি তবলছড়িতে কিভাবে যাবো। আর আপনারাতো তবলছড়িতে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার কথা।আমার এমন কথার জবাবে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ন ভাষার ব্যবহার করে আমার সাথে।এক পর্যায়ে তারা আমাকে গাড়িতে রাত কাটানোর আহবান জানায়।এমতাবস্থায় আমি একজন শিক্ষিত নারী হিসেবে খুবই বিব্রতবোধ করে রাত আড়াইটার সময় রাস্তায়ই নেমে যাই।পেশায় আইনজীবি ঔই নারী জানান,গত দুইদির চেষ্ঠার পর আমি সেই গাড়ির ড্রাইভার ও সুপারভাইজার এর নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করি।এরপর আমি ইউনিক কর্তৃপক্ষের জিএম জনাব হক সাহেবকে ঘটনাটি জানালে তিনি আমাকে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। পরে আমি আমার আইনজীবি সমিতির পরামর্শে একটি লিখিত অভিযোগ রাঙামাটি ইন্দ্রপূরী সিনেমা হলের সামনের কাউন্টারে জমা দিয়ে এসেছি।

 

ঐ যাত্রী বলেন,আমি কল্পনাই করতে পারিনি রাঙামাটি শহরের মধ্যেই রাতের বেলায় ইউনিক পরিবহনের মতো একটি যাত্রীবাহি বাসের মধ্যে এই ধরনের ঘটনার শিকার হবো।এতোটা নিন্মরুচির মানুষগুলো নামকরা এসব পরিবহণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিভাবে চাকুরি পায়।ভূক্তভোগী নার এ্যাডভোকেট বলেন,নামকরা এসব গাড়িতে যদি আমাদের মতো নারীরা নিরাপদ না থাকে তাহলে নারীদের নিরাপদ থাকার আর কোনো উপায় কি আদৌ রাষ্ট্রের আছে???এদিকে ইউনিক পরিবহনের জিএম পরিচয়দানকীর জনাব হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান,ভাই আমি অভিযোগটি মুঠোফোনে পেয়েছি। রাঙামাটি আইনজীবি সমিতির নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেছি। “একজন নারী যাত্রী আমার মা” এমন কথা বলে,জিএম বলেন,আমি অলরেডি সেই চালক ও সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।
এদিকে এই ধরনের একটি ঘটনায় নিজেরা অত্যন্ত বিব্রতবোধ করছেন জানিয়ে উক্ত নারী আইনজীবি ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি একটি অন্যতম পর্যটন এলাকা।এখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা হয়েও আজ এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু উন্নত যাত্রী সেবার নিশ্চয়তা দিয়ে রাঙামাটিতে চলাচলকারি যাত্রী সেবা বাসগুলোতে অত্রাঞ্চলে আগত পর্যটকরা থেকে শুরু হরে স্থানীয় নারীরা কতটুকু নিরাপদ সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।

রুমায় পর্যটক আকর্ষণে জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবানের দূর্গম রুমা উপজেলার ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৪০০ ফুট উপরে বগালেক পর্যটন কেন্দ্রকে দৃষ্টিনন্দন করার লক্ষে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম হোসেন।গত বুধবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বান্দরবানের দূর্গম রুমা উপজেলার বগালেকে পর্যটনের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে যাত্রী ছাউনি,সিটিং চেয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজের উদ্বোধন করা হয়।পরে বিকালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং’র ৩,২৩৫ ফুট উপরে পর্যটকদের সুবিধার্থে যাত্রী ছাউনি,বসার বেঞ্চ,বিশ্রামাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধন করেন।এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম হোসেনের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো:আলীনূর খান,রুমা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শামসুল আলম,রুমা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান জিংএংময় বম,বিশিষ্ট ঠিকাদার ও ব্যাবসায়ী মো:হাবিবুর রহমান,শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো:আলেক হোসেন জুয়েলসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা।এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম হোসেন বলেন,বান্দরবানে আগত পর্যটকদের জন্য আরো সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে বান্দরবান জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে,ভবিষ্যতে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র গুলোর আরো সম্প্রসারণ করা হবে এবং ভ্রমনরত দেশী বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।জেলা প্রশাসক পর্যটকদের উন্নত ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য রুমার বগালেকে নতুন নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট প্রদানের আশ্বাস দেন।

বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয় এর শুভ উদ্বোধন করলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রি বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।বৃহস্পতিবার বিকালে বান্দরবান মেঘলায় অবস্থিত ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সভা কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয় এর শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রি বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এর ডিআইজি মোঃসোহরাব হোসেন এনডিসি এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা,বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন,পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন মজুমদার,পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃশহিদুল আলম,চট্টগ্রাম বিভাগের ট্যুরিস্ট পুলিশ এর এডিশন্যাল ডিআইজি মোঃমুসলিম উদ্দীন,চট্টগ্রাম বিভাগের ট্যুরিস্ট পুলিশ এর এএসপি ফকরুল ইসলাম,চট্টগ্রাম বিভাগের ট্যুরিস্ট পুলিশ এর ওসি আপেল মাহমুদ,টুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান কার্যালয় এর অফিসার ইনচার্জ সুহৃদ চাকমা,বান্দরবান প্রেস ক্লাব এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বান্দরবান হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি বাবু অমল কান্তি দাশ,বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বান্দরবান পর্যটন মোটেল এর ম্যানেজার আলো বিকাশ চাকমা প্রমুখ।অতিথিরা বলেন,বান্দরবান একটি পর্যটন বান্ধব জেলা,পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পরে বান্দরবান কে পর্যটনের নগরী হিসেবে সারা বিশ্বের নিকট পরিচিতি লাভ করছে।সময়ের প্রয়োজনে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রয়োজন অপরিহার্য্য।টুরিস্ট পুলিশের উপর অপিয়ত দায়িত্ব যথাযত ভাবে পালণ করলে বান্দরবানে ভবিষ্যতে পর্যটক আরো বৃদ্ধি পাবে। বান্দরবান জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোর সৌন্দর্য আমাদের সকলকে আরো বেশী করে প্রচার করার মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে,পর্যটন শিল্পের বিকাশে আমাদেরকে বান্দরবান শহরকে আরো পরিকল্পিত ভাবে সুন্দর অবকাঠামো দ্বারা গড়ে তুলতে হবে।আসুন আমরা সকলকে মিলে মিশে বান্দরবান পার্বত্য জেলা কে একটি আধুনিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলি।

প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের সবটাই উজার করে দিয়েছে বান্দরবানকে

পর্যটন ডেস্কঃ-কর্মব্যস্ত জীবনে ছুটি পেলে আমরা সবাই চাই শহুরে জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির কাছে কিছু সময় কাটাতে।এতে মন ভাল হওয়ার পাশাপাশি এক অন্যরকম প্রশান্তি পাওয়া যাবে। যা আপনাকে আবার নতুন উদ্যমে কাজ করতে সাহায্য করবে।প্রকৃতির কাছে এমনই এক জায়গা হচ্ছে নাফাকুম।বান্দরবান জুড়েই রয়েছে ঘুরে দেখার অনেক জায়গা।মনে হয় প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের সবটাই উজার করে দিয়েছে বান্দরবানকে।পাহাড়, সবুজ আর মেঘের এক অদ্ভুত মিলনমেলা এই জায়গা।প্রাকৃতিক জলপ্রপাত নাফাকুম বান্দরবান জেলার থানচী উপজেলায় অবস্থিত।ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম পছন্দের জায়গা হচ্ছে নাফাকুম।জলপ্রপাতটি রেমাক্রি হয়ে সাঙ্গু নদীতে মিলেছে।সেই মিলনস্থলে সৃষ্টি হয়েছে রেমাক্রী ফলস।অসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারী এই জায়গাটি ভ্রমণপ্রিয় মানুষের একবার হলেও যাওয়া উচিত।রেমাক্রী বাজার থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাফাকুম।রেমাক্রী মারমা অধ্যুষিত এলাকা।সেখান থেকে ট্রেকিং করে যেতে পারবেন নাফাকুম।শুরুতেই ভাল একজন গাইড সাথে নিয়ে নিতে হবে।যাওয়ার পথটা বেশ কঠিন।কিন্তু নাফাকুম পৌঁছে এর সৌন্দর্য দেখে সব কষ্ট ভুলে যাবেন।অদ্ভুত এই ঝর্ণা বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি আছে কিনা সন্দেহ।তবে এখানে আপনি মোবাইল নেটওয়ার্ক পাবেন না।বর্ষাকালে এইখানে যাওয়া বিপদজনক।এসময় সাঙ্গু নদীর পানির স্রোতও অনেক বেশি থাকে।তাই বর্ষাকাল শেষে কিংবা শীতে যাওয়াটা ভাল।থানচী থেকে ট্রলারে করে রেমাক্রী যাওয়ার ভ্রমণটাও অনেক উপভোগ্য।আশেপাশের সবুজ প্রকৃতি আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য ভুবনে।এই সৌন্দর্যের কোন তুলনা চলেনা।সাঙ্গু খরস্রোতা নদী। তাই সাঙ্গু দিয়ে ট্রলারে যাওয়ার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা ভাল।তবে গ্রুপ করে যাওয়াটাই বেশি ভাল।অনেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ক্যাম্পিং-এ যান নাফাকুম।পাথর চিরে ঝরছে স্বচ্ছ পানি।দেখে মনে হতে পারে শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি। এখানের মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি আপনাকে দিবে প্রশান্তি।শহুরে জীবন থেকে দূরে এখানে দূর হয়ে যাবে সব ক্লান্তি।পথে দেখবেন রাজা পাথর এলাকা। যেখানে রয়েছে বিশাল বিশাল পাথর।প্রতি বছর অনেক পর্যটক নাফাকুমে ঘুরতে যান।নাফাকুম যেতে হলে প্রথমেই যেতে হবে বান্দরবান।ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে যাওয়া যাবে।অনলাইন টিকেট কাটতে পারে সহজ থেকে।বান্দরবান থেকে লোকাল বাস কিংবা চান্দের গাড়ি করে যেতে হবে থানচী। সেখান থেকে রিসার্ভ ট্রলার করে রেমাক্রী বাজার। সেখান থেকে প্রায় ৩ ঘন্টা পায়ে হাঁটা পথ।তারপরই দেখা মিলবে অসাধারণ সুন্দর এই জলপ্রপাতটির। আর থাকার জন্য থানচী বাজারে কিছু গেস্ট হাউজ রয়েছে।তাছাড়া রেমাক্রীতে আদিবাসীদের বাড়িতেও থাকার ব্যবস্থা করা যায়।অনেকে অবশ্য ক্যাম্প করেও থাকেন।

পাহাড়িকন্যা খ্যাত বান্দরবানে রয়েছে ঘুরে দেখার অনেক জায়গা

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বান্দরবান।
বাংলাদেশের পাহাড়িকন্যা খ্যাত বান্দরবানে রয়েছে ঘুরে দেখার অনেক জায়গা।

নীলগিরিঃ-নীলগিরির জন্য বান্দরবানকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়।জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের চূড়ায় নীলগিরি অবস্থিত।এযেন সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের এক অদ্ভুত মিতালি।এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র।বর্ষাকালে এই জায়গা ঘোরার জন্য উপযুক্ত।তবে অন্যান্য সময়েও পর্যটকরা এখানে ভ্রমণ করে থাকেন।শুষ্ক মৌসুমে এখান থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় দেখা যায়।এটি বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র এবং এটি সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।বান্দরবন থেকে জিপ ভাড়া করে যেতে পারেন নীলগিরি।সাম্প্রতিক সময়ে নীলগিরিতে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো ভাল মানের কটেজ।যেখানে চাইলে আপনি রাতে থাকতে পারবেন।

স্বর্ণমন্দিরঃ-স্বর্ণমন্দির বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা প্যাগোডা।এটি মহাসুখ মন্দির বা বৌদ্ধ ধাতু জাদী নামেও পরিচিত।যদিও এর নাম স্বর্ণমন্দির এখানে স্বর্ণ নির্মিত কোন দেব-দেবী নেই।দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এটি দেখতে এবং প্রার্থনা করতে আসেন।সুউচ্চ পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই প্যাগোডার এখানে একটা ছোট পুকুর আছে।যেটি দেবতা পুকুর নামেও পরিচিত।এই প্যাগোডা থেকে আশেপাশের সৌন্দর্য দেখা যায়।

নীলাচলঃ-প্রায় দুই হাজার ফুট পাহাড়ের উঁচুতে অবস্থান নীলাচলের।শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নীলাচল।বর্তমানে নীলাচলে বেশ কয়েকটি সুন্দর বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে,যেগুলো পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।ভ্যালেন্টাইন পয়েন্ট,নীহারিকা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ।এখানে রিসোর্টও রয়েছে।রিসোর্টে থাকা অতিথিরা ছাড়া অন্যরা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকতে পারেন।এই পাহাড় থেকে এক নজরে দেখা যায় পুরো বান্দরবান শহর।এখান থেকেও সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ্য।

শৈল প্রপাতঃ-শৈল প্রপাত বান্দরবান-রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।প্রাকৃতিক এই ঝর্ণা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।এই ঝর্ণার শীতল পানি সবসময়ই বহমান। এই ঝর্ণার পানি অনেক স্বচ্ছ।বছরের প্রায় সবসময় দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ভ্রমণ করেন এই জায়গা। বান্দরবন শহর থেকে জিপ কিংবা প্রাইভেট কার ভাড়া করে শৈল প্রপাত যাওয়া যায়।

এসব জায়গা ঘুরতে হলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে বান্দরবান।ঢাকা থেকে সরাসরি বাস আছে বান্দরবানের। তাছাড়া চাইলে প্রথমে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বান্দরবন যাওয়া যায়।সেক্ষেত্রে বাস কিংবা ট্রেনে করে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে।অনলাইন টিকেট কাটতে পাড়ে সহজ,বাস বিডি ইত্যাদি থেকে।উৎসঃ-(গরম চা)

বান্দরবানে অস্তাচল ভিউ পয়েন্টের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

বান্দরবান অফিসঃ-পর্যটকদের ভ্রমনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আর পর্যটন শিল্পের বিকাশে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলে অস্তাচল নামে একটি নতুন ভিউ পয়েন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে নীলাচলে এই নতুন ভিউ পয়েন্ট এর শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার, রেভেনিউ ডেপুটি কালেক্টর নুরে জান্নাত রুমী,নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো:আলী নুর খানসহ অনেকে।উদ্বোধনী অনুষ্টানে জেলা প্রশাসক বলেন,পার্বত্য জেলা বান্দরবান দিন দিন পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় জেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করছে।জেলা প্রশাসন প্রতিদিনই পর্যটকদের ভ্রমনের নিরাপত্তা,আবাসন ও খাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে,পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমনে আরো বেশি উৎসাহিত করতে দিন দিন বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ ও ভিউ পয়েন্টের উদ্বোধন করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত,বান্দরবানের জেলা প্রশাসন পরিচালিত পর্যটন কেন্দ্র মেঘলা,নীলাচল, শৈলপ্রপাত,প্রান্তিক লেক,নবদিগন্ত,চিম্বুক দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসে।

নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্রের সেবা ও উন্নয়নে প্রবেশ ফি নির্ধারণ

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্রের সেবা ও উন্নয়নের জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।গত ৪ নভেম্বর শনিবার প্রবেশ ফি নির্ধারণ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক টিকিট কাউন্টার থেকে ১০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনে নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।পরে একে একে টিকিট কেটে প্রবেশ করেন থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মার্মা,থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম,জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এন.ডি.সি) আলীনূর খান সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা।এবিষয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,বান্দরবান জেলায় বর্তমানে পর্যটন খাতটি সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক স্যার এর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জেলা প্রশাসন অধীনস্ত প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্রটিও একদিন নীলাচল মেঘলার মতোই দর্শনার্থীদের জন্য উপভোগ্য একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে তাতে কোনও সন্দেহ নাই।এমতাবস্থায় মাননীয় জেলা প্রশাসক নীল দিগন্তের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে ১০ টাকা দামের টিকিট এর মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্রটির একটি আয়ের ব্যাবস্থা নিশ্চিত করেছেন।আশাকরি দর্শনার্থীরা উন্নতমানের সেবা পেলে ১০ টাকা কেনও ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেও নীল দিগন্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রবেশ করবে।প্রাথমিকভাবে আমরা ১০ টাকা দামের টিকিট দিয়ে শুরু করলাম,পরবর্তীতে দর্শনার্থীদের মতামত এবং পরামর্শ নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র নীল দিগন্তের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করবো।