আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:১০ অপরাহ্ন    

Home » নাইক্ষ্যংছড়ি

নাইক্ষ্যংছড়ি

নাইক্ষংছড়ি ১১ বিজিবি”র অভিযানে সারে চার লাখ পিচ ইয়াবা উদ্ধার

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ ব্যাটালিয়ান বিজিবি”র সাড়াশি অভিযানে ৪ লাখ ৪০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্যে ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা হবে বলে ধারণা করেছেন বিজিবির সদস্যরা।

১৫ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার ভোর রাতে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বিজিবির ১টি টহল দল নাইক্ষ্যংছড়ির সদর হইতে আনুমানিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে পূর্বে অবস্থিত রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজির পাড়া নামক স্থানের একটি ছোট টিলার সাথে থাকা খামার বাড়িতে অভিযান চালিয়েরুমে  এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার সময় ১১ বিজিবি”র হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিং এ লেঃ কর্নেল আসাদুজ্জামান জানান, ৪লাখ ৪০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট অভিযান চালিয়ে উদ্ধারের সময় বিজিবি”র উপস্থিতি টের পেয়ে চোরা কারবারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট মাদকদৃব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি সংবাদ ব্রিফিং এ আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিজিবির ডিজি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া শুধু মাদক নয়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অস্ত্র পাচার, অবৈধ কাঠ পাচার, ও পরিবহন সহ অন্যান্য যেকোন ধরনের অবৈধ পণ্য সামগ্রী পাচার এবং সীমান্তে এলাকায় যেকোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ ব্যাটালিয়ান বিজিবির এটি ছিল সব চেয়ে বড় ধরনের আলোচিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার অভিযান। এ অভিযানকে স্থানীয় লোকজন স্বরণকালের সেরা অভিযান উল্লেখ করেন বিজিবির অধিনায়ক ও সকল সদস্যদের সাধুবাদ জানান।

পুলিশিং সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়া হবে

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাতে পুলিশ সেবা সপ্তাহ/১৯ উপলক্ষে ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।“পুলিশকে সহায়তা করুন, পুলিশের সেবা গ্রহণ করুন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে থানা চত্বরে পুলিশী সেবা সপ্তাহের ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা কমিউিনিটি পুলিশিং ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) আবদুস সালাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, ওসি (তদন্ত) জায়েদ নূর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: ইকবাল, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফি উল্লাহ, সহ সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো: ইমরান মেম্বার, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ক্যানে ওয়ান চাক, প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্ঠা মাঈনুদ্দিন খালেদ, মহিলা নেত্রী সানজিদা আক্তার রুনা।
উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মসজিদের ঈমাম, সাংবাদিক, মন্দিরের পুরোহিত, শিক্ষক, জন প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবগর্রা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার।অনুষ্ঠানে পুলিশ সেবা সপ্তাহ এর অংশ হিসেবে মাদক নির্মূল, অপরাধ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, সকল পুলিশিং সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দরা।

বান্দরবানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য আটক

সিএইচটি টাইমস নিউজ,বান্দরবানঃ – বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির লেম্বুছড়ি সীমান্ত থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ভাল্লুক খাইয়া বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করে।

আটককৃত ওই সেনা সদস্যের নাম অং বো থিন। তার বাড়ি মিয়ানমারের ইয়াংগুনে।

জিজ্ঞাসাবাদে সে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২৮৭ ব্যাটালিয়নের সদস্য বলে জানায়। তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি লেম্বুছড়ি সীমান্তের ওপারে বেন্ডুলা ক্যাম্পে সংযুক্ত করে দায়িত্ব দেয়া হয়। গত দু’দিন আগে সে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয়।

আটক সেনা সদস্যকে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির ১১ ব্যাটালিয়নে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বায়েজিদ খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি নিজেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে। বেন্ডুলা ক্যাম্পে কাজ ভাল ভাল না লাগায় সে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ বিজিবি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বান্দরবানঃ- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন ১১বিজিবি’র ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে ।গতকাল রোববার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে কেক কেটে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিজিবি কক্সবাজার সদর দপ্তরের রিজিওয়ান কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খাঁন পাঠান।১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো.আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবি রামু সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম. বায়েজীদ খান, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান, টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল আছাদুজ্জামান চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) সাদিয়া আফরিন কচি।অনুষ্ঠানে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খান পাঠান বলেন,কঠিন মনোবল আর ধৈর্য নিয়ে সীমান্তের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১১ বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছে। চোরাচালান,মাদকদ্রব্য,অস্ত্র পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করে যাবে বিজিবি।

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে বন্দুক যুদ্ধে ডাকাত নিহত

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবানের বাইশারীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত মো. আনোয়ার হোসেন প্রকাশ আনোয়ার বলি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের থুইলাঅং পাড়ার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

লাশের পাশ থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র, ৬ রাউন্ড গুলি ও মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। এরা হলেন- কনস্টেবল জ্যোতির্ময় চাকমা ও মো. সুলতান। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার জানান, নিহত আনোয়ার বলি বাইশারীর ডাকাত সর্দার আনাইয়্যা বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। শনিবার ভোর রাতে পুলিশের একটি টহল দলের উপর ডাকাত বাহিনী গুলি ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে।

সেখানে গুলিতে ডাকাত আনোয়ার বলি নিহত হন। সকালে লোকজন ডাকাত আনোয়ার বলির লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে। বাইশারী, রামু, ইদগড় এলাকার ত্রাস ছিল এই ডাকাত আনোয়ার বলি।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর শেখ জানান, লাশের পাশে পড়ে থাকা একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল একটি একনলা বন্দুক, ৬ রাউন্ড গুলি ও একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

বাইশারীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, এলাকার আতংক ছিল ডাকাত আনোয়ার বলি। সে ডাকাত বাহিনী আনোয়ার গ্রুপের প্রকাশ আনাইয়্যা বাহিনীর অন্যতম সর্দার ছিল। কক্সবাজারের চকরিয়ার ইদগড়, রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর এলাকায় ত্রাস ছিল এই আনোয়ার বলি। অপহরণ করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় হত্যা, গুমসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল আনোয়ার বলি।

নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থলবন্দর নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হবে: নৌমন্ত্রী

বান্দরবান অফিসঃ-নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গত ১০ বছরে ১০টি স্থলবন্দর নির্মাণ করেছে। কিন্তু বিএনপি একটি বন্দরও করতে পারেনি। তাই চাকঢালায় স্থলবন্দর করতে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বীর বাহাদুর মুখে যা বলেন তাই করেন। তিনি সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। আমার পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তে স্থলবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘স্থলবন্দর নির্মাণে মিয়ানমারেরও আগ্রহ থাকতে হবে। সেখানে এলসি স্টেশন প্রয়োজন। তাই কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পরই দেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। খাদ্য রফতানি ও উৎপাদন বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তারা ভোট চাওয়ার অধিকার হারিয়েছে। আগামী নির্বাচনে তাদের প্রতিহত করুন।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রী ঘুমধুমের উদ্দেশে নাইক্ষ্যংছড়ি ছাড়েন।

নাইক্ষ্যংছড়িতে এক নলা বন্দুক উদ্ধার করলো বিজিবি

বান্দরবান অফিসঃ-বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লেম্বুছড়ির কুলাচি এলাকা থেকে একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নলা বন্দুক উদ্ধার করেছে ১১ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ আগষ্ট) গোপন সংবাদ পেয়ে লেম্বুছড়ি বিওপি থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার উত্তর দিকে কুলাচি নামক এলাকার বিভিন্ন সন্দেহভাজন স্থানে অভিযান চালায় সুবেদার মোঃ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল। অভিযানের এক পর্যায়ে উঁচু পাহাড়ের ঢাল থেকে একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একনলা বন্দুক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ধারনা করা হচ্ছে অভিযান দলের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা অস্ত্র রেখে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি যথাযথভাবে জমা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র পাচার, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদকদ্রব্য চোরাচালান, অবৈধ কাঠ পাচার ও পরিবহন, অন্যান্য যে কোন ধরণের অবৈধ পণ্য সামগ্রী পাচার এবং এই এলাকায় যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে বিজিবি’র এ ধরণের কার্যক্রম ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

উন্নয়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট চাইলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি

বান্দরবান অফিসঃ-উন্নয়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট চাইলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি।আজ রোববার জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সফরে তিনি আরো বলেন- পার্বত্যঞ্চলের মানুষের ভাগ্যন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আওয়ামীগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুতায়নে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকে বিপুল ভোটে নৌকাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী রোববার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পৌছে মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাছের পোনা বিতরণ ও উপজেলা পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।পরে সদর ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে প্রতিজনকে ২০কেজি করে মোট ৩০৬৩জনের মাঝে চাল, ঢেউটিন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুত বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি।

পরে উপজেলা পরিষদের সামনে উম্মুক্ত মঞ্চে শোক দিবস উপলক্ষে কাঙ্গালীভোজ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর বাহাদুর এমপি।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ১১বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য শফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষী পদ দাশ, মোজাম্মের হক বাহাদুর, সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফি উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) জায়েদ নূর, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আলমগীর, আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি আবু তাহের কোম্পানি, সাধারন সম্পাদক মোঃ ইমরান মেম্বার, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গির আলম বাহাদুর, সোনাইছড়ি আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যানিং মারমা, দোছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাবিব উল্লাহ প্রমুখ।

নাইক্ষ্যংছড়িকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।মঙ্গলবার (৫ জুন) বিকেল নাইক্ষ্যংছড়ি সদর সহ চিহ্নিত এলাকায় এই অভিযান চলে।জানা গেছে,মাদকের ব্যবহার শূন্যের কোটায় আনতে ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।শুরুতে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, বিছামারা, ব্যবসায়ী পাড়া,মসজিদ ঘোনা,চাকঢালা ও আশারতলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
মাদক বিরোধী অভিযানের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) জায়েদ নুর জানান,সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান সফল করতে সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।মাদক দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।সকল ধরনের মাদক দ্রব্যের ব্যবহার
শূন্যের কোটায় আনা হবে।এলাকা মাদক
মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে
বলে জানান তিনি।বিশেষ অভিযানে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জায়েদ নুরের
নেতৃত্বে অভিযানে অংশগ্রহন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানা সেকেন্ড অফিসার মোঃজাফর ইকবাল, এস,আই মোঃমোশারফ হোসাইন ভুইয়া,এ এস আই, আব্দুল্লাহ আল মামুন,এ এস আই মোঃজাহেদ, এ এস আই রাজিব সিং ও মহিলা পুলিশসহ অসংখ্য পুলিশ সদস্য।

ইনিই সেই বিশাল ইয়াবা গোডাউনের মালিক!!!

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-বাবা আশরাফ মিয়া, কাঠুরিয়া। অভাবের সংসার। বড় ছেলে মনসুর গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুরগী কিনে তা বাজারে বিক্রি করেন। তাকে সঙ্গ দেন মোস্তাক আহম্মদ। সংসারের চাপ কমাতে তাকে আনসারের চাকরি জোগাড় করে দেন মনসুর। সেই আনসার সদস্য মোস্তাক আজ শতকোটি টাকার মালিক। হয়েছেন জনপ্রতিনিধিও। চলাফেরা করেন বড় বড় নেতাদের সঙ্গে। আলাদ্দীনের চেরাগ বা কোনো যাদুর কাঠি পাননি তিনি।তাহলে রহস্য কি? কীভাবে হঠাৎ এত সম্পদের মালিক বনে গেলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তাক আহম্মদ?

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মোস্তাকের আঙুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার পেছনে রয়েছে ইয়াবা কারবারি। এজন্য রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালিয়াপালং এলাকার এই ব্যক্তিকে সবাই ইয়াবা মোস্তাক নামেই চেনে।সূত্র জানায়, অল্প টাকার বেতনের আনসারের চাকরিতে মোস্তাক বেশিদিন থাকেননি। চাকরি ছেড়ে উখিয়ার মরিচ্যা এলাকায় শুরু করেন মিয়ানমারের চোরাই পণ্যের ব্যবসা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা পাচারে।বছরখানেক আগেও খেয়ে না খেয়ে জীবন গেছে মোস্তাকদের। কিন্তু, ইয়াবা ভাগ্যে এখন তিনি এলাকার অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি। কোটি কোটি টাকার সঙ্গে আছে অঢেল সম্পত্তিও।

স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র বাবার টাকায় অল্প পড়াশোনা করেন মোস্তাক। সেই সুবাদে আনসারের চাকরি নেন। কিন্তু, ছোটবেলা থেকে লোভী প্রকৃতির মোস্তাক মাত্র তিন বছর পরই স্বল্প বেতনের এই চাকরি ছেড়ে দেন।এরপর বড় ভাই মনসুরের হাত ধরে মিয়ানমারের পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজার এলাকায় চোরাই পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।শুরুতে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে চোরাই পথে কাপড়, আচার, বিয়ার, মদসহ নানা পণ্য আনতেন। টানা এক বছর চোরাই পণ্যের কারবার করে সীমান্তের সকল অবৈধ পথ রপ্ত করেন মোস্তাক। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা পাচারে।
শুরুতে স্বল্পসংখ্যক ইয়াবা পাচার করতেন মোস্তাক। চট্টগ্রামে গিয়ে নিজেই সেগুলো বিক্রি করতেন। সেখানেই খুচরা বিক্রেতা থেকে আস্তে আস্তে হয়ে উঠেন পাইকারী বিক্রেতা।

জানা গেছে, মোস্তাক ইয়াবা জগতে পা দেন হ্নীলার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের হাত ধরে। পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নুর মোহাম্মদ নিহত হওয়ার পর ওই সিন্ডিকেট ছেড়ে নিজেই ইয়াবা পাচারের শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
সিন্ডিকেটে মোস্তাকের অন্যতম সদস্য হিসেবে রয়েছেন তার বড় ভাই মনসুর, ঈদগড় ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধির ভাই, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের আরেকজন ইউপি সদস্যসহ বেশ কয়েকজন।
মোস্তাকের ইয়াবা পাচারের এখন নতুন রুট কক্সবাজার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন, উখিয়ার পাতাবাড়ি, ভালুকিয়া ও রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন হয়ে বাইশারি-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক।এই রুটে চেকপোস্ট না থাকায় নিরাপদে পাচার হচ্ছে লাখ লাখ পিস ইয়াবা। সম্প্রতি মোস্তাকের সিন্ডিকেটের এক পাচারকারী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে বাইশারি ফাঁড়ির পুলিশের হাতে আটক হন।সংশ্লিষ্টরা জানান, মোস্তাক সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি ইয়াবা পাচার করে সাগর পথে। ইয়াবা বহনের জন্য মোস্তাকের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার রয়েছে। ওই ট্রলারগুলো দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বহন করে ইনানীর রেজু খালের মোহনায় আনা হয়। পরে সেখানে খালাস হয় ইয়াবার চালান।

এক সময়ের খুচরা বিক্রেতা মোস্তাক বর্তমানে বিশাল ইয়াবা গোডাউন গড়ে তুলেছেন। সেখান থেকে লাখ লাখ পিস ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে সারাদেশে।ইয়াবার টাকায় মোস্তাক গোয়ালিয়া পালং এলাকায় ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ কোটি টাকার জমি কিনেছেন। টাকার জোরে জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন।নিজের কুড়েঘর আলিশান বিল্ডিংয়ে পরিণত করেছেন মোস্তাক। তিনটি স’মিলের মালিক তিনি। রয়েছে ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার ব্যবসা।মোস্তাকের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারের ৫টি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছেন। সর্বশেষ পুলিশের রামু-উখিয়া সার্কেল এএসপি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ ১০ হাজার ইয়াবাসহ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

ওই সময় তার অনুগত সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা করে। ওই ঘটনায় রামু থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে কয়েক মাস কারাভোগও করেন মোস্তাক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি তালিকাতেও তার নাম শীর্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে।অবশ্য ধুরন্ধর মোস্তাক জনগণের মন জয় করার নানা কৌশল ইতোমধ্যে রপ্ত করেছেন। গ্রামের প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের যুবক-যুবতীর বিয়ের দায়িত্ব নেন তিনি, দেন সমস্ত খরচ। এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুরিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, মোস্তাক মেম্বারকে গ্রেফতারে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এখনো তাকে পাওয়া যায়নি। আশা করছি, শিগগিরই তাকে ধরা সম্ভব হবে। সূত্রঃ-(পরিবর্তন ডটকম)