আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:৩৮ অপরাহ্ন    

Home » ধর্ম

ধর্ম

ইসলামে ধর্ষকের সাজা

নিউজ ডেস্কঃ- ধর্ষণ একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত হয়ে উঠেছে ধর্ষণ শব্দটি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে ধর্ষণের নানা ঘটনার খবর। গ্রামে কিংবা শহরে, বাড়িতে কিংবা রাস্তায়, অফিসে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি চলমান বাসে পর্যন্ত, একথায় বলা চলে প্রায় সর্বত্রই ঘটছে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার। এটি কারো একার পক্ষে প্রতিরোধ করা সম্ভব না প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ইসলামসহ কোন ধর্মেই ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক কাজকে উৎসাহিত করা হয়েনি।
বিবাহবহির্ভূত যেকোনো যৌন সঙ্গমই ইসলামে অপরাধ। ইসলাম ধর্ষণকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করে না। ধর্ষণকে এক প্রকার ব্যভিচার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ব্যভিচার সুস্পষ্ট হারাম এবং শিরক ও হত্যার পর বৃহত্তম অপরাধ। ইসলামি আইন শাস্ত্রে ধর্ষকের শাস্তি ব্যভিচারকারীর শাস্তির অনুরূপ। কোরআনের সুরা আল ইসরা’র ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’
হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রসুলুল্লাহ (সা.) ওই মহিলাকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে হদের (কোরআন-হাদিসে বহু অপরাধের ওপর শাস্তির কথা আছে। এগুলোর মধ্যে যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত তাকে- হদ বলে) শাস্তি দেন।’ -ইবনে মাজাহ: ২৫৯৮
ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। ব্যভিচারী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আর যদি অবিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে একশ বেত মারা হবে।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। সূরা নূর: ২।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘অবিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে একশ বেত্রাঘাত ও রজম (পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড)। সহিহ মুসলিম।
ধর্ষণের ক্ষেত্রে একপক্ষে ব্যভিচার সংগঠিত হয়। আর অন্যপক্ষ হয় নির্যাতিত। তাই নির্যাতিতার কোনো শাস্তি নেই। কেবল অত্যাচারী ধর্ষকের শাস্তি হবে।
আইনে ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর ইসলামে ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হলে সে প্রথমে ব্যভিচারের শাস্তি পাবে। পরে হত্যার শাস্তি পাবে। হত্যা যদি অস্ত্র দিয়ে হয় তাহলে কেসাস বা মৃত্যুদণ্ড। আর যদি অস্ত্র দিয়ে না হয়, এমন কিছু দিয়ে হয়- যা দিয়ে সাধারণত হত্যা করা যায় না। তাহলে অর্থদণ্ড। যার পরিমাণ একশ উটের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ (বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় কোটি টাকা)।

২১ এপ্রিল রাতে পবিত্র শবে বরাত

বান্দরবান অফিসঃ- বাংলাদেশের আকাশে শনিবার (৬ এপ্রিল) হিজরি শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত পালিত হবে। সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় এ তথ্য জানান ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

সভায় হিজরি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়।

বুধবার পালিত হবে শবে মিরাজ

নিউজ ডেস্কঃ- দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বুধবার দিবাগত রাতে পালিত শবে মিরাজ পালিত হবে।
ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী লায়লাতুল মিরাজের রাতেই ইসলামের মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) সাত আসমান অতিক্রম করে আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিনটি কাটাবেন।
৯ মার্চ থেকে রজব মাস শুরু হওয়ায় ৩ এপ্রিল সারাদেশে শবে মিরাজ পালনের কথা গত ৭ মার্চ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভার পর জানিয়েছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বুধবার বাদ আসর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মি’রাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদের অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম।
সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা যাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে পারে, সে ব্যাপারে শিক্ষকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বনানী মডেল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সমাজের সকল স্তর থেকে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে সরকারসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বদ্ধপরিকর।

শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৩ কোটি বই বিতরণ করে বিশ্ব নজির স্থাপন করেছেন। বনানী মডেল স্কুলের শিক্ষার মান উন্নত করার তাগিদ দিয়ে তিনি এ স্কুলকে পর্যায় ক্রমে কলেজে উন্নীত করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগীতাও কামনা করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজি মফিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্য শিক্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন

ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র বান্দরবানের বার্ষিক মাহফিল ২ মার্চ

বান্দরবান অফিসঃ-শাইখুল আরব ওয়াল আজম, কিংবদন্তী আলিম আল্লামা ইউনুস (হাজী সাহেব হুজুর) রহ. এর স্মৃতিবিজড়িত দ্বীনিবিদ্যাপীট পার্বত্যভূমি বান্দরবানের প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র বান্দরবানের ৩০ তম বার্ষিক মাহফিল আগামী (২রা মার্চ’১৯) শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আল জামিয়া আল ইসলামিয়া (জমিরিয়া কাসেমুল উলুম) পটিয়ার শায়খুল হাদিস ও মহা-পরিচালক আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বোখারী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এতে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র বান্দরবানের পরিচালক মাওলানা হুসাইন মুহাম্মদ ইউনুস।

তাছাড়া মাহফিলে আল জামিয়াতুল আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরির পরিচালক ও শায়খুল হাদীস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরেন পরিচালক মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব মাওলানা এহসানুল হক মঈনসহ দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও বুযুর্গানে দ্বীন উপস্থিত থাকবেন।

সিএইচটি টাইমস ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষাকেন্দ্রের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা এরশাদুল হক, তিনি মাহফিল সফল করার লক্ষে ধর্মপ্রান মুসলমানের উপস্থিতি কামনা করেন।

 

প্রতিশ্রুতি পূরণে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে সরকার

নিউজ ডেস্কঃ-সরকারের ইসলাম প্রসারী মনোভাব বজায় রাখতে বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক সুবিধা-সংবলিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদ বা ইসলামী স্থাপনা তৈরি করতে এবং মসজিদভিত্তিক সমাজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। উক্ত কমপ্লেক্সে লাইব্রেরি, গবেষণাকক্ষ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশুশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজ কক্ষ, মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা, বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইত্যাদি থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছ।
এ প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা। যার পুরোটাই বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে এপ্রিল ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, ইসলামিক জ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধের পরিচর্যা ও প্রসার ঘটানো। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি জেলায় চারতলা এবং উপজেলায় তিনতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হবে।
মূল মসজিদটি হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। উপকূলীয় এলাকায় নিচতলা উন্মুক্ত রেখে ভবনটি নির্মিত হবে। নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের জন্য আলাদা ক্যাম্প থাকবে। মসজিদের অবকাঠামোর মধ্যে থাকবে মুসলমান নারী ও পুরুষদের নামাজ আদায়ের সুবিধা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিস, লাইব্রেরি, গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন পাঠের স্থান ও তাহফিজ, কনফারেন্স হল, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, শিশুশিক্ষা, নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজুর ব্যবস্থা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রী ও ইমাম প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা।
প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ নারীর নামাজ পড়ার সুযোগ হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ৩৪ হাজার পাঠকের জন্য লাইব্রেরি সুবিধা নিশ্চিত হবে। প্রতিদিন ৬ হাজার ৮০০ গবেষকের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিদিন ৫৬ হাজার মুসল্লির দ্বীনই দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ হবে। প্রতিবছর ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর কোরআন হিফজ করার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ১৬ হাজার ৮০০ শিশুর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা তৈরি হবে। প্রতিদিন ২ হাজার ২৪০ দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসনের সুবিধা পাওয়া যাবে।
এছাড়া মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা এবং হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে বিগত ৫ এপ্রিল ২০১৮ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৯টি স্থানে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। উক্ত উদ্বোধনকৃত ৯টি স্থানে এরই মধ্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন সংস্থার মালিকাধীন ১৭৭টি জমির স্বত্ব/দখল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুকূলে হস্তান্তরের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এ পর্যায়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ উপজেলা পরিষদের ১৬২টি জমির সমঝোতা স্মারক স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর (৩টি), বাংলাদেশ রেলওয়ে (৪টি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (৫টি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (১টি), পানি উন্নয়ন বোর্ড (১টি) এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (১টি)-এর মালিকাধীন জমি/স্থান এ মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বর্ণিত সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ- এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের কাছে ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে।

বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর শিক্ষা সামগ্রী,সনদপত্র বিতরণ

বান্দরবানঃ – ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর আয়োজনে প্যাগোডা ভিক্তিক প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পেরে আওতায় বান্দরবানে ৭টি উপজেলার ৫০টি বিহারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রাণয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির বান্দরবানস্থ বাসভবনে এই শিক্ষা উপকরণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয় । এসময় বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর বান্দরবান জেলা ট্রাস্টি মংক্যচিং চৌধুরী, উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধক্ষ্য উ চাইন্দাওয়ারা মহাথেরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্যাগোডা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এসময় বিহার ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধানুসারে স্থান পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করেন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, পরিবারে সবার আগে মাকে শিক্ষিত হতে হবে ,আর মা শিক্ষিত হলে অবশ্যই সন্তান সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হবে ।

 

হজের বিমান ভাড়া কমলো ১০ হাজার টাকা

নিউজ ডেস্কঃ-কমানো হয়েছে হজের বিমান ভাড়া। গত বছর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রী প্রতি বিমানভাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা নির্ধারিত ছিল। এই বছর ১০ হাজার টাকা কমে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৯১ টাকা ধার্য করার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।
বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হজ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে গণমাধ্যমের সামনে প্রতিমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

চলতি বছর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজ অধিকতর সুচারুভাবে পালনের লক্ষে তার মন্ত্রণালয় থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে জানিয়ে মো. মাহবুব আলী বলেন, হাজিরা আল্লাহর ঘরের মেহমান। তাদের যেন কোনো প্রকার কষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় খেয়াল ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। হাজিদের কথা ভেবেই হজ ভাড়া কমানো হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ, ধর্ম সচিব মো.আনিছুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি আবদুস সোবহান, মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তছলিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, আটাব ও সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন।

গত বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করে। সম্প্রতি সৌদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের হজ চুক্তি হয়। গত বছরের মতো এবারও এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করবেন। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আরও ৩০ হাজার মানুষের হজের কোটা বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন।

রুমায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আজ থেকে

নিউজ ডেস্কঃ –বাংলাদেশে বসবাসকারী বম সম্প্রদায়ের খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ ১৮ জানুয়ারি থেকে বান্দরবান পার্বত্য জেলার রুমা উপজেলা সদরে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এই উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় পাঁচ হাজার অতিথির যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

রুমা উপজেলা সদরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা ঘটবে আজ সন্ধ্যা ৬টায় বিসিসি হলে উৎসর্গ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। তবে মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় স্কুল মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। কাল দুপুর ১টায় পাঁচ হাজার অতিথির জন্য আয়োজন করা হয়েছে সম্মিলিত সুহূদভোজ। সন্ধ্যায় বিশেষ অতিথিদের বক্তৃতার পাশাপাশি আয়োজন থাকবে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার। ২০ জানুয়ারি অনুরূপ অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটবে।
১৯১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং এলাকায় ছয়-সাতটি পরিবার বিশিষ্ট ভাইরেলহ গ্রামে যিশু খ্রিস্টের সুসমাচার পৌঁছে দেন রেভারেন্ড এড্উইন রোলেল্ডস। বর্তমানে ভাইরেলহ গ্রামের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও যিশু খ্রিস্টের এই বাণী পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে গড়ে ওঠা বম জনগোষ্ঠীর গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দীর্ঘকালের প্রকৃতি পূজারি বম সম্প্রদায়ের প্রায় সবাই খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে যায়।

খ্রিস্টের সুসমাচার প্রচারের শতবর্ষপূর্তিতে বম জনজাতি অধ্যুষিত প্রায় সব কটি গ্রামে প্রথম ধর্ম প্রচারক রেভারেন্ড এড্উইন রোলেল্ডসের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে তোরণ ও স্মৃতিফলক।

আয়োজন কমিটির সভাপতি পেকলিয়ান বম জানান, বম জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতেই খ্রিস্টীয় সুসমাচার প্রচারের শতবর্ষ পূর্তির এ আয়োজন। ১০০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত, দলীয় নাচ-গান পরিবেশন ও পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করা হবে। তিনি জানান, কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ১৬টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

রুমা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, উত্সব উদযাপনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নানা আয়োজনে সনাতন ধর্মালম্বীদের উত্তরায়ন সংক্রান্তি উদযাপন

নিউজ ডেস্কঃ- নানা আয়োজন বান্দরবানের সনাতন ধর্মালম্বীরা উদযাপন করছে উত্তরায়ন সংক্রান্তি। দিনটি সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। পৌষ সংক্রান্তিকে উত্তরায়ন সংক্রান্তি বলা হয়। পৌষ মাসের শেষ দিনকে সনাতন ধর্মালম্বীরা পূন্যতিথি বিবেচনা করে প্রতিবছরই উত্তরায়ন সংক্রান্তি উদযাপন করে।

সকালে উত্তরায়ন সংক্রান্তি উপলক্ষে বান্দরবান গীতা আশ্রমের আয়োজনে সদরের নোয়াপাড়া মন্দির প্রাঙ্গনে নানা ধর্মীয় অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। উত্তরায়ন সংক্রান্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী চলছে উষাকীর্ত্তন,মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন, পার্থ সারথি পুজা,মঙ্গল আরতি,গীতা পাঠ,ধর্মীয় আলোচনা ও মহাপ্রসাদ বিতরনসহ নানা আয়োজন। দেব প্রভাতের সুচনালগ্নে জগতের মঙ্গল কামনায় প্রতিবছর এ উত্তরায়ন অনুষ্টিত হয়।

দিনব্যাপী এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে জেলার সনাতন ধর্মালম্বী নারী ও পুরুষেরা অংশ নিয়ে জগতের সুখ শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনায় মিলিত হয়।