আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:১০ অপরাহ্ন    

Home » জেলার-খবর

জেলার-খবর

সেই মিতু গ্রেপ্তার; এবার যে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে পুলিশ

বান্দরবান অফিসঃ- স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আকাশের পরিবার চান্দগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করবেন বলে জানা গেছে। তবে পরিবার মামলা না করলে আকাশের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে গ্রেফতারের বিষয়ে শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নগরের নন্দনকানন এলাকায় তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে তার খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।গ্রেফতারের পর তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব বিষয় যাচাই চলছে। আকাশের মৃত্যুর পেছনে যদি তাদের কারও ইন্ধন থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে মোস্তফা মোরশেদ আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার ভোর থেকে আকাশ তার ফেসবুকে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ও বিভিন্ন ছবি সম্বলিত যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি আমাদের তদন্তের বিষয়। ডিলিট হলেও সেই স্ট্যাটাস রিকোভার করা সম্ভব।’সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মির্জা সায়েম মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদার, চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার, পরিদর্শক (তদন্ত) জোবায়ের সৈয়দ উপস্থিত ছিলেন।

ভাল থেকো প্রেমিকদের নিয়ে, চট্টগ্রামে স্ত্রীকে লিখে চিকিৎসকের আত্মহত্যা

বান্দরবান অফিসঃ- চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোস্তফা মোরশেদ আকাশ নামে এক চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২০ নম্বর নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক হামিদুল্লাহ খান জানান, ভোর ৬টার দিকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. আকাশ শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

নিহতের স্বজনেরা জানান, পারিবারিক কলহে স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর সঙ্গে ঝগড়ার করে বুধবার রাতে আকাশ অভিমানে শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে তার দেহ পুলিশ উদ্ধার করে।

আত্মহত্যার এক ঘণ্টা আগে আকাশ নিজের ফেসবুকে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার পাশাপাশি অভিমান এবং ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

আত্মহত্যার আগে স্ত্রীর সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে স্ট্যাটাসে ডা. আকাশ লেখেন, ‘ভাল থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকাদের (হবে প্রেমিকদের) নিয়ে।’

ডা. আকাশের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে বেশকিছু স্ট্যাটাসে দেখা যায়, দাম্পত্য জীবনে তিনি অসুখী ছিলেন। এসব লেখায় তিনি স্ত্রীর বহুগামিতার অভিযোগ এনেছেন। তা প্রমাণে একাধিক ছেলের সঙ্গে স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিও দিয়েছেন।

ডা. আকাশ তার স্ত্রীর বখে যাওয়ার পেছনে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির ভূমিকাকেও প্রকাশ্যে এনেছেন, ‘আমার শাশুড়ি দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হতো।’

আত্মহত্যার আগে তিনি স্ট্যাটাসে নিজের মায়ের কাছেও ক্ষমা চান, ‘মা তুমি মাফ করে দিও। তোমার স্বপ্নপূরণ করতে পারলাম না। মায়ের ভালোবাসার কখনো তুলনা চলে না।’

ডা. আকাশ লেখেন, ‘আমাদের দেশেতো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম। আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম।’

ফেসবুকে এই দম্পতির বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর অসংখ্য ছবি দেয়া আছে। কাভার ফটোও বানানো যুগলের সুখময় স্মৃতিগুলো জোড়া দিয়ে, যার একটিতে ‘লাভ’ আকৃতির মধ্যে আঙুলে মিতু ভি এঁকেছেন স্বামীকে পাশে নিয়ে।

তরুণ এই চিকিৎসকের ফেসবুক পোস্টগুলো দেখলে স্পষ্ট, তিনি প্রচণ্ড অভিমান থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে স্ত্রীর চরিত্রও খোলামেলাভাবে সামনে এনেছেন। পবিত্র শবে কদরে একবার স্ত্রী ক্ষমা চাইলে, আপসের পর দু’জনে এক বছর সুখে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন ডা. আকাশ।

তরুণ এই চিকিৎসকের এমনি একটি স্ট্যাটাস এখানে হুবহু দেয়া হলো, যাতে স্ত্রী মিতুর সঙ্গে তার পরিচয়, বিয়ে থেকে দাম্পত্য কলহ ফুটে উঠেছে—

আমার সাথে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। প্রচণ্ড ভালোবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই, আমাদের ভালোবাসা কমবেশি সবাই জানে। আমাকে অনেকে বউ পাগলাও ডাকত।

২০১৬-তে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক দিন আগে জানতে পারি- কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ৮ম ব্যাচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায়; আর কত কি, লজ্জা লাগছে সব লিখতে।

ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেয়া শেষ। আমাকে যেহেতু চট্টগ্রামের সবাই চিনে, তাই বিয়ে কেনসেল (বাতিল) করতে পারিনি লজ্জাতে।

ওর মোবাইলে দেখি, ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যাচম্যাটের সাথে হোটেলে… শত শত ছবি। আমিতো বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল (স্ত্রী) শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবে না। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে এক বছর ভালভাবেই সংসার করলাম।

তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল, মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল সেপ্টেম্বরে, ২০১৮। আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল। সাথে ফেব্রুয়ারিতে ২০১৯ এ আমার ইউএসএ যাওয়ার কথা।

জানুয়ারি, ২০১৯-তে জানতে পারি ও রেগুলার ক্লাবে যাচ্ছে, মদ খাচ্ছে প্যাটেল নামে এক ছেলের সাথে…। আমি বারবার বলছি- আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও। কিন্তু চিট কর না মিথ্যা বলো না। আমার ভালোবাসা সব সময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশেতো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম। আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম।

তোমাদেরও বলছি— কাউকে আর ভালো না লাগলে সুন্দরভাবে আলাদা হয়ে যাও, চিট কর না। মিথ্যা বলো না। আমি জানি, অনেকে বিশ্বাস করবে না। এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালোবেসে ছিলাম। ভিতর-বাহির যদি এক হতো। সবাই আমার দোষ দেবে, সবকিছুর জন্য, তাই ব্যাখ্যা করলাম।

আমার শাশুড়ি এজন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হতো। মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম না। মায়ের ভালোবাসার কখনো তুলনা চলে না।

বারবার বলছি— ভালো না লাগলে আলাদা হয়ে যাও, চিট কর না, মিথ্যা বলো না, বিশ্বাস ভাঙ্গিও না। হাজার হাজার ছবি আছে, আরো খারাপ খারাপ দিলাম না, যারা বিলিভ করবে, এতেই করবে। না করলে নাই। এই ৯ বছরে বয়ফ্রেন্ড স্বামী-স্ত্রীর মতো আবার সবই করে গেল।

ও আমাকে আর কি ভালোবাসল? কিসের বিয়ে করল? আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে ওকে নিয়ে থাকতে। আমার শ্বশুর আর শাশুড়িকে বারবার বলছি— উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ। ৯টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি। ওকে প্ররোচনা দিছে মইন ও মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড। ওর মা-বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে। আমিই এই বেঈমানি মেনে নিতে পারি নাই। তারপরও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি।

আমার শাশুড়ি-শ্বশুর আর বউ নামের কলঙ্ক করতে দিল না আমাকে প্রতিনিয়ত প্রেসার দিয়ে গেছে। আমার বউ আমার মার নামে যা-তা তা বলে গেছে। আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার। আমি বোকা ছিলাম, তুমি সুখে থেক। অনেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবে না আমি জানি। তবে এটাই সঠিক। মরার আগে কেউ মিথ্যা বলে না আর বাইরে থেকে মানুষের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না।

ডা. আকাশ আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ও সুন্দরী, পড়াই ভালো, গান পারে সত্য; কিন্তু ও ভালো অভিনেত্রী, ভালো চিটার। যাদের ইচ্ছা বিলিভ করবে, যাদের ইচ্ছা নাই, করবে না। তবে কাউকে ভালোবেসে চিটারগিরি কর না।’

 

চট্টগ্রামে ৪ মন্ত্রীর সংবর্ধনা ২৯ জানুয়ারী

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ- চট্টগ্রামের ৪ মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়কালে মেয়র এ ঘোষণা দেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ২৯ জানুয়ারী চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী হওয়া ৪ জনকে লালদিঘী মাঠে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এর দু’দিন পর ৩১ জানুয়ারি প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মরণে একই স্থানে স্মরণ সভার আয়োজন করা হবে।

মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে ড. হাছান মাহমুদকে তথ্যমন্ত্রী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে ভূমিমন্ত্রী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং বান্দরবান থেকে বীর বাহাদুর উশৈসিংকে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ৪ মন্ত্রীসহ চট্টগ্রাম ১৬ আসনের এমপিদের এদিন সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

এ সময় মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রামকে নান্দনিক সাজে সাজানো হচ্ছে। বিশ্বমানের নান্দনিক শহর হবে চট্টগ্রাম । মেগাসিটির কনসেপ্ট থেকে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পিত নগর করার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

শোকসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথাও জানান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

চলমান চার উন্নয়ন প্রকল্পে চট্টগ্রাম হবে আরো সমৃ্দ্ধ

নিউজ ডেস্কঃ- চলমান চার উন্নয়ন প্রকল্পে চট্টগ্রাম হবে আরো সমৃ্দ্ধ, বন্দর নগরী, বে-টার্মিনাল, মিরসরাই বন্দর নগরী হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম। বলা যায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। দেশের রাজস্ব আয়ের ৮০ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম থেকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭০ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। সুতরাং বলা চলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হলেই উন্নতি হবে বাংলাদেশের। তাই সরকারও চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রতি বিশেষ যত্নশীল।

বিগত দশ বছরে সরকার চট্টগ্রামে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছে। ফলে স্থানীয় জনসাধারণও ভীষণ সন্তুষ্ট। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় বর্তমানে চট্টগ্রামে সরকারের বড় চারটি উন্নয়ন প্রকল্প দৃশ্যমান। প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে জোর গতিতে।।

এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সমৃদ্ধি আসবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। জাতীয় অর্থনীতি পাবে নতুন মাত্রা।
এতে কর্মসংস্থান বেড়ে বেকারত্ব হ্রাস পাবে ও সাধারণ নাগরিকেরা এর সরাসরি সুফল ভোগ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বৃহত্তম ইকোনোমিক জোন হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। চীনের অর্থায়নে আনোয়ারায় নির্মিত হচ্ছে চীনা ইকোনোমিক জোন।

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে বে-টার্মিনাল। চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে হচ্ছে দেশের প্রথম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক রাজধানীর মানুষ নতুন এক চট্টগ্রাম পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কাজের সন্ধানে চট্রগ্রামের মানুষের আর বিদেশে বা অন্য জেলায় যেতে হবেনা। বরং বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকেদের এখানে কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। এসব প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন হলে পুরো চট্টগ্রামের চেহারাই পাল্টে যাবে। তাছাড়া বড় প্রকল্পগুলোর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
খাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সময় হিসেবে এখন দেশের অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক। বাংলাদেশ ভালো একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক স্থিরতার এই সময়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনও সহজ। তাই এখন বড় প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে বে-টার্মিনালের কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত।’ জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কসমোপলিটন চট্টগ্রাম-এর জেনারেল সেক্রেটারি প্রকৌশলী ইশতিয়াক উর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে মিরসরাই ও আনোয়ারা ইকোনোমিক জোন, কর্ণফুলী টানেল এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমরা নতুন এক চট্টগ্রাম পাব।

কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে খুন বিএনপি কর্মী

নিউজ ডেস্কঃ- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় বিএনপির অন্ত:কোন্দল ও ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে দু’জন বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে কুমিল্লা-১০ আসনে (নাঙ্গলকোট) বাচ্চু মিয়া নামে এক বিএনপি কর্মীকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলার বরতলী ইউনিয়নের মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে হেলমেট পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত তাকে বাধা দেয়। এ সময় বাধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রে যেতে চাইলে বাচ্চুকে রাস্তায় হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে নাঙ্গলকোট হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা বিএনপির নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। দলের অন্ত:কোন্দলের কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় এলাকাবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে মজিবুর রহমান (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেলাশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেলাশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে যান মজিবুর রহমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে সেখানে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাকা গুলি ছুড়লে মজিবুর নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন রাহাত ও ফারুক নামে আরও দুজন।

এএসপির গাড়িতে বোমা ছুড়ে পালাতে গিয়ে ছাত্রলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ

নিউজ ডেস্কঃ- চুয়াডাঙ্গায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলা করে পালাতে গিয়ে খালিদুজ্জামান টিটু (২০) নামের এক ছাত্রলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে হামলা চালিয়ে পালানোর সময় এএসপির দেহরক্ষীর গুলিতে আহত হন তিনি। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশ।

খালিদুজ্জামান টিটু চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজ ছাত্রলীগকর্মী। টিটু দর্শনা ইসলাম বাজারের মৃত মোজাহিদ আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার উথলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলসহ চার কনস্টেবল।

সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল জানান, রাত ৯টার দিকে জীবননগর -চুয়াডাঙ্গা সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়ে মারে। বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে গাড়ির ডান দিকের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গুলি ছুঁড়লে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে টিটু নামে এক যুবক আটক হয়।

রাতেই চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম তাৎক্ষণিক এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের অঘটন ঘটনানোর পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীদের। তবে অল্পের জন্য পুলিশের সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, গুলিতে আহত যুবকের ডান পা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এ ছাড়া তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দর্শনা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তপু জানান, টিটু ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ভালো ছেলে। বোমা হামলার ঘটনাটি শুনেছি-বিশ্বাস করতে পারছি না। বিষয়টি আমার কাছে ধোঁয়াশা। এ হামলার ঘটনা সত্য হলে তদন্তপূর্বক প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক। নিরপরাধ হলে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা জানান ওই ছাত্রলীগ নেতা।

দ্বিতীয় ফোনালাপে ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করলেন রনি

নিউজ ডেস্কঃ-  পটুয়াখালীর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী কামরুন্নাহার রুনুর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটার পর, প্রথমে আওয়ামী নেতাদের দায়ী করে তার (রনির) সাঙ্গ-পাঙ্গ দিয়ে গলাচিপা থানা ঘেরাও করার ফোনালাপের ফাঁসের পরও সিইসিকে উক্ত ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে চিঠি পাঠান রনি।

চিঠিতে রনি লিখেন, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত ১২ই ডিসেম্বর আমি নির্বাচন উপলক্ষে সপরিবারে নির্বাচনী এলাকায় এসে এক ভীতিকর ও প্রাণ সংহারী পরিবেশের মধ্যে পড়েছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থানা-পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় আমাকে সপরিবারে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা ভোটারদেরকে মারধর করছে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং স্থানীয় নির্বাচনী অফিস গুলোতে অগ্নিসংযোগ করছে প্রকাশ্য। তারপর উল্টো মামলা করে পুলিশ দিয়ে লোকজনকে গ্রেফতার করে চলেছে এবং অনেককে এলাকা ছাড়া করেছে।’

আমি শত চেষ্টা-তদ্বির করেও স্থানীয় প্রশাসন এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কোনো সাহায্য তো দূরের কথা-ন্যূনতম সাড়া-শব্দ পাচ্ছি না। অবস্থা দৃশ্যে মনে হচ্ছে- আপনার নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন গলাচিপা-দশমিনার আওয়ামী লীগ প্রার্থী যিনি কি না আপনার ভাগিনা, তার যোগসাজশে এই জনপদে আমি ও আমার পরিবারের জন্য অসংখ্য মৃত্যুফাঁদ পেতে রেখেছে।’

আপনার ভাগিনা এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা এলাকাতে ইতিহাসের ভয়াবহতম নির্বাচনী সন্ত্রাস এবং মর্মান্তিক অমানবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তারা গত ১৫ ডিসেম্বর আমার স্ত্রীর গাড়িতে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করেছে এবং গাড়ির মধ্যে থাকা ১০ থেকে ১২ জন নারীকে লাঞ্ছিত করেছে। পুলিশ কোনো সাহায্য তো করেইনি বরং উল্টা হুমকি-ধামকি দিয়ে আমার স্ত্রীসহ অন্যান্য মহিলাকে থানা থেকে বের করে দিয়াছে।’

আপনার কথা বিশ্বাস করে আমার স্ত্রীর লন্ডন প্রবাসী বোন-ভগ্নিপতি, কিশোরী কন্যা ও বালক পুত্রকে নিয়ে নির্বাচন করতে এসেছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন পালা করে আমার বাড়ির সামনে এসে তাণ্ডব চালায়-অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে এবং হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকে, যার কারণে আমার পরিবারের সবাই অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি এবং মৃত্যুভয়ে কাতরাচ্ছি।’

আপনি যদি চান যে, আপনার ভাগিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন তবে আমাকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করুন। আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে ইচ্ছুক। আমার ও আমার পরিবারের যদি কিছু হয় তবে ব্যক্তিগতভাবে আপনি ও আপনার ভাগিনা দায়ী থাকবেন।’

ইতি
মোঃ গোলাম মাওলা রনি
তাং ১৭-১২-১৮

ঐক্যফ্রন্টের কোন্দলে রবের নির্বাচনী অফিসে তালা

নিউজ ডেস্কঃ-  দলীয় কোন্দলের জের ধরে লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আ স ম আবদুর রবের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর করে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সাংসদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের দলীয় নেতা-কর্মীরা এ হামলা করেছেন। সূত্রে জানা যায়, ঐক্যফ্রন্টের কোন্দলে-ই রবের নির্বাচনী অফিসে তালা দেয়া হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র বলছে, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জে এস ডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে মনোনয়নের পর থেকেই মেনে নিতে পারছেন না বিএনপি প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। সাবেক এই এমপির সমর্থকরা মনোনয়নের সময় থেকেই আ স ম আবদুর রবের কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

এ হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তানিয়া রব বলেন, আ স ম আবদুর রব মনোনয়ন পেয়েছেন এটা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা এর আগেও একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলেন। এবার অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে অফিস ভাঙচুর করে তালা দিয়েছে বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজানের সমর্থকরা। তারা জেএসডি নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়তে হুমকি দিচ্ছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে মহড়া দিচ্ছে তারা। বিষয়টি তিনি থানা পুলিশকে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে জানতে বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, হামলা-ভাঙচুর নয়, অফিসে তালা দিয়েছে বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজানের সমর্থকরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এ আসনের সাবেক সাংসদ বিএনপি নেতা এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মনোনয়ন না পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে আ স ম আবদুর রবকে নিজ এলাকায় দাঁড়াতে দিবেন না বলেও হুমকি দিয়েছিলেন। ধারনা করা হচ্ছে তার-ই অংশ হিসেবে আ স ম আবদুর রবের অফিসে এই হামলা পরিচালনা করেছেন আশরাফ উদ্দিন নিজান।

নোয়াখালীর সেনবাগে বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আহত ৬

নিউজ ডেস্কঃ- নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানের সমর্থকরা। এ ঘটনায় সেনবাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল পৌনে নয়টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আজাদসহ হামলায় আহত বাকি ছয়জনের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শিহাব উদ্দিন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ।

গুরুতর আহত আবুল কালাম আজাদ ও শিহাব উদ্দিন নোয়াখালী শহরের প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারীর ভাষ্য, উপজেলা প্রশাসন থেকে সকাল সাড়ে নয়টায় বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়ার সময়সূচি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে আটটার পর দলীয় কার্যালয়ে যান। সকাল পৌনে নয়টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একদল অতর্কিত কার্যালয়ে হামলা করে। যারা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী মফিজের সমর্থক।

মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, হামলাকারীরা জয়নাল আবেদীন ফারুকের পক্ষের নেতাকর্মীদের দিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পর কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে নেতাদের পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের ভেতর থেকে আসবাবপত্র ও নির্বাচনী পোস্টার রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী নেতা কাজী মফিজের কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের স্থানীয় একাধিক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা তাদের দ্রুত বিচার দাবি করছি।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপি নেতা কাজী মফিজ জানান তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না। তবে জয়নুল আবদীন ফারুক এমন নাটক সাজিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নোয়াখালী-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোরশেদ আলম বলেন, বিএনপির অন্তর্কোন্দলেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আসল ঘটনা হচ্ছে- কাজী মফিজ বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবদীন ফারুককে মেনে নিতে পারছেন না। তাই এই হামলার ঘটনা একান্ত বিএনপির দলীয় কোন্দল বলেই আমরা নিশ্চিত।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিএনপি’র জয়নাল আবদীন ফারুক ও কাজী মফিজ গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির বিদ্রোহী নেতা কাজী মফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলায় কর্নেল অলির ছেলের আঙুল কর্তন

নিউজ ডেস্কঃ-চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কর্নেল (অব:) অলি আহমেদের ছেলে ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুসারীরা।হামলাকারীরা এ সময় ওমর ফারুকের বাম হাতের আঙুল কেটে ফেলে।এ হামলায় কেওচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ, তার বড়ভাই আব্দুস সালাম ও ছেলে আব্দুল গফুরও আহত হয়েছেন।শনিবার বিকেলের দিকে সাতকানিয়া থানার তেমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির।তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগও করেনি। তবে কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।কর্নেল অলির নির্বাচনী মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মো.জসিম উদ্দিন জানান, শনিবার বিকেলের দিকে অলি আহমেদের পক্ষে তার ছেলে ওমর ফারুক গণসংযোগে বের হন। কেরানীহাটস্থ তেমুহনী এলাকায় প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষের দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়।দুর্বৃত্তরা এ সময় ওমর ফারুকের বাম হাতের আঙুল কেটে ফেলে।তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কেওচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ, তার বড়ভাই আব্দুস সালাম ও ছেলে আব্দুল গফুরও আহত হন। রক্তাক্তবস্থায় তাদের সবাইকে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।পরে গুরুতর আবস্থায় ওমর ফারুককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলাব্রত বড়–য়া বলেন, ওমর ফারুককে রক্তাক্ত অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়।শীলাব্রত বড়–য়া বলেন, ওমর ফারুকের বাম হাতের একটি আঙুল কাটা ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তথ্য সুত্রঃ-(দৈনিক মানবজমিন)