আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৭ অপরাহ্ন    

Home » জাতীয়

জাতীয়

শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা : জোলি

বান্দরবান অফিসঃ- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা বলে মন্তব্য করেছেন হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এ কথা বলেন। তিনি বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেছেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বিশ্বে শেখ হাসিনার মতো নেতা খুব কমই রয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ওপর বিশাল বোঝা সৃষ্টি করেছে। আশ্রয় শিবিরগুলোতে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের দেখভাল করা খুবই কঠিন কাজ। জাতিসংঘ, ইউএনসিএইচআর ও বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের বোঝা লাঘবে একযোগ কাজ করবে।’ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, ‘বাংলাদেশ তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে সহযোগিতার চেষ্টা করার সত্ত্বেও তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

জোলি উল্লেখ করেন যে, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট অবশ্যই সমাধান করতে হবে। মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী এবং তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।’  তবে শেখ হাসিনা সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বে হতাশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আশ্রয় শিবিরগুলোতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার মতো নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তার সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক লাখের বেশি শরণার্থী সেখানে অপেক্ষাকৃত উন্নত পরিবেশে সাময়িক আশ্রয় পাবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের এক কোটির বেশি লোক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ দেন। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে তার মাসহ তিনি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দি থাকার এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ৬ বছর ধরে তার নির্বাসনে থাকার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সেই বেদনাময় কাহিনী শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভগ্নিপুত্র রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস।

 

আবারও প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হলেন আশরাফুল আলম খোকন

বান্দরবান অফিসঃ- আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপপ্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আশরাফুল আলম খোকন। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে (খোকন) ৭ জানুয়ারি ২০১৯ অথবা যোগদানের তারিখ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) গ্রেড-৪ ভুক্ত ৫০,০০০-৭১,০০০ টাকা স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ ৭১,২০০ টাকা নির্ধারিত বেতনে প্রধানমন্ত্রী উপপ্রেস সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এ নিয়োগের শর্তাবলী অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে আবারও কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আশরাফুল আলম খোকন। এ নিয়ে আজ রাতে তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে লিখেন, ‘১৭ কোটি মানুষের দেশে অনেক যোগ্য মানুষ আছেন। যাদের মেধা আছে, প্রজ্ঞা আছে, দলীয় আনুগত্যও আছে। আমি তাদের মধ্যে অনেক সৌভাগ্যবান একজন। সাথে থেকে জাতির পিতার কন্যার জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। বুকের মধ্যে ধারণ করা দলের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

সাড়ে ছয় বছর দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। আওয়ামী লীগের ২০০৯-২০১৪ মেয়াদের শেষের দিকে (১৮ আগস্ট ২০১৩) একবছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হিসেবে যোগদান করি। আমি কৃতজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাকে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন, ওনার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এক বছর পর তিনি সেটা নবায়ন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকালীন অর্থাৎ গত মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত।

আমার সর্বোচ্চ শ্রম, মেধা ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি সজ্ঞানে একমুহূর্তের জন্যও কাজে ফাঁকি দেইনি।

চলার পথে যাদের সহযোগিতা পেয়েছি সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের আরো সহযোগিতা কামনা করছি। আবারও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, আমাকে আরো কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।’

 

 

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে

নিউজ ডেস্কঃ- সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে প্রধান হওয়ার পর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করা হবে।
২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি সরকারের আগের মেয়াদের চার বছর পূর্তির দিন প্রধানমন্ত্রী সব শেষ ভাষণ দেন জাতির উদ্দেশে। ওই ভাষণে সরকারের পাঁচ বছরের সাফল্য তুলে ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। যেখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো বার্তাই দেশও জাতির মঙ্গলজনক অগ্রগতির জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানের রাজনীতিতে তরুণদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি ভীষণভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আসা রাজনীতিবিদদের বদলে মন্ত্রিসভায় নতুনদের ঠাঁই দিয়েছেন।
টানা দুই মেয়াদে ১০ বছর শাসন করার সুযোগ পেয়ে শেখ হাসিনা দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার সাফল্য দেখাতে সক্ষম হন। তিনি দেশে বিদ্যুৎ, কৃষি, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, মেগা প্রকল্প ইত্যাদি বাস্তবায়ন করে দেশকে এক অভাবনীয় উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসেন, যা দেশি এবং আন্তর্জাতিক সব মহলের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মর্যাদার আসনে তুলে ধরতে সক্ষম হন। বাংলাদেশ এত অল্প সময়ে এত অভাবনীয় পরিবর্তনের ধারায় উঠে এসেছে, যার সিংহভাগ কৃতিত্ব সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাকেই দিতে হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শের সংকট ও দুর্বলতা নিয়ে সর্বত্র হতাশা রয়েছে। আওয়ামী লীগকে এসবই কাটিয়ে উঠেছে এরই মধ্যে।
এখন দল নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করার পর থেকে আগামী পাঁচ বছর শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এটি শেখ হাসিনা ভালোভাবেই বোঝেন, গত ১০ বছরে যে অগ্রগতি ও উন্নয়ন আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সম্পন্ন হয়েছে তা খুব সহজ বিষয় ছিল না। এখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং জনগণের প্রত্যাশিত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা তার জন্য মোটেও কম চ্যালেঞ্জের বিষয় নয়।

এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যঃ-(প্রধানমন্ত্রী)

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ – বিভেদ ভুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয়বার ও মোট চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি। বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবাখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় জীবনের সর্বত্র আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করব। জাতীয় সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।

একাদশ সংসদে বিরোধীদলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম। তবে, সংখ্যা দিয়ে আমরা তাঁদের বিবেচনা করব না। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যেকোন সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব/আলোচনা/সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধীদলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গত ৩০-এ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি।

প্রধানমন্ত্রীর বলেন, যাঁরা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যাঁরা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোট এবং প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সহযোগিতায় আমরা এ বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি। আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, আমার তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেল- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান-সহ সেই রাতের সকল শহিদকে।

তিনি বলেন, এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যাঁরা অকাতরে জীবন দিয়েছেন সেই ভাষা শহিদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজউদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।

তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন আমি তাঁদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২-বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-সহ দশম সংসদের যেসব সদস্য ইন্তেকাল করেছেন, আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় ছিল খুবই প্রত্যাশিত। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপগুলিও এ রকমই ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল। লন্ডন-ভিত্তিক ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট এবং রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টারের জরিপের ফল আপনারা লক্ষ্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা করেছি। ইশতেহার ঘোষণাকালে আমি এর সারাংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা অনেকেই এই দলিলটি ইতোমধ্যে পড়েছেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের যেকোন নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ বিগত দশ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শুধু এশিয়ার দেশগুলোরই শীর্ষে নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাই বাংলাদেশকে চেনেন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে। আমাদের এই পথচলা মসৃণ ছিল না। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। যার সুফল আজ জনগণ পাচ্ছেন। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে যা ২০০৫-৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিএনপি সরকারের ২০০৫-৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। যা ৭.৬ গুণ বৃদ্ধি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার নব্বই ভাগ বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে। কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না।

গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে।

এইচ.বি.এস.সির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দশ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমান এখন অনেক উন্নত। এখন মানুষ সুন্দর করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। তাই সামনে অনেক কাজ আমাদের। আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান, সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে কর্মে নিয়োগের জন্য কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি কলেজ স্থাপন করা। ইতোমধ্যে কারিগরি কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামি পাঁচ বছরে আমরা দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগের জন্য আসছেন। সারাদেশে ২ ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবাখাতসহ অন্যান্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমরা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেষখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ ফাস্ট ট্রাক মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজে গতি আনা হবে।

‘দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। ছেলেমেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট/তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ২০২০-২০২১ সালে মুজিব বর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করব। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা দেশকে আর্থ-সামাজিক খাতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। আর এর কৌশল হিসেবে আমরা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করছি। পাশাপাশি, জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমরা ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। আমরা ইতোমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পৃক্ত করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- আমাদের এই পররাষ্ট্র নীতিই বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের মূল হাতিয়ার। এই নীতির সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কোন সময়ের চাইতে সুদৃঢ় এবং গভীর।

তিনি বলেন, আমি জানি, দুর্নীতি নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে অসস্তি রয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নিজেদের শোধরানোর আহবান জানাচ্ছি। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে। আমরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নির্মুল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। তাই, গণমাধ্যমের সহায়তায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত থাকবে।

‘আপনারা দেখেছেন আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই মাদক, জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন। বৈশ্বিক প্রভাবে কিংবা স্থানীয় প্ররোচনায় আমরা কিছু কিছু তরুণকে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে দেখেছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। আমি সমাজের সকলকে মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি ‘

‘ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের করা হয়েছে। সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণেরাই দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার। তারুণ্যের সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম এবং শক্তির উপর আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। তারুণ্য মানেই বাংলা ভাষার জন্য আত্মদান, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আসাদ-মতিউর, নূর হোসেনদের রক্তদান। তারুণ্য মানেই লাল-সবুজের পতাকা- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, তারুণ্য মানেই বাঙালি এবং বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে আরেক বিজয়ের মাসে এ দেশের ভোটারগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে।

‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি- আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য; এ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এ দেশের সাধারণ মানুষেরা যাতে ভালভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেন- তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন: ‘মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন।’ আমরা ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আমরা তরুণদের শক্তি, মেধা ও মননকে সোনার বাংলা গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করব। আজকের তরুণেরাই পারবে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে।’

তিনি বলেন, নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আমি আমার মন্ত্রীসভা গঠন করেছি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম- এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

আপনারা আমার উপর আস্থা রেখে যে রায় দিয়েছেন, কথা দিচ্ছি আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব সে আস্থার প্রতিদান দিতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে চাই:

‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হোন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ

বান্দরবান অফিসঃ-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ। বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম গুলোকে এ তথ্য তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

বিশেষ সহকারীর দায়িত্বপ্রাপ্তির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্যরিস্টার শাহ আলী ফরহাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই সম্মানজনক দায়িত্ব দেয়ার জন্য। দায়িত্বটি বড়। সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নেত্রীর এই আস্থার প্রতিদান দিতে সবার দোয়া ও সহায়তা কামনা করছি।’ জানা গেছে, এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আজ জারি করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ফেরদৌস আহমেদ খান ও ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ। ফেরদৌস আহমেদ খান সচিব এবং ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ উপসচিব পদ মর্যাদা পাবেন। এ নিয়োগের শর্তাবলী অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও জানানো হয়।উল্লেখ্য, আইনজীবী শাহ আলী ফরহাদ আইন বিষয়ক শিক্ষকতা, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে গবেষণার সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে যুক্ত। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে তিনি এলএলবি (অনার্স) করেছেন। মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষ ডিস্টিংকশনে পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে ইউনিভার্সিটি অব হংকং থেকে এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন ফরহাদ।

বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন’(সিআরআই)র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশবাসীর প্রত্যাশানুযায়ী এগুচ্ছে ‘হাসিনা’ সরকার!

নিউজ ডেস্কঃ-মানুষের দারিদ্র্যতাকে পুঁজি করে শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা যে পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকেই মাদক কারবার পরিচালনা করে এটা সবারই জানা। মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে দিনের আয়ে দিনে এনে খেটে খাওয়া মানুষগুলোও হঠাৎ ধনী হবার লোভে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে গড়ছে ফ্ল্যাট, ব্যয়বহুল বাসাবাড়িসহ নানান মূলবান সম্পদ। যুব সমাজের ঘাড়ে ভর করেই তাদের এই উত্থান। বেশি লাভের আশায় বর্তমানে তো নারীদেরও এই বিপথে ধাবিত করছে সেই কুচক্রি মহল।

সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের প্রকৃত অর্থে কোন রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট পরিচয় নেই। যখন যে সরকারই আসুক না কেনো তাদের এই অসৎ ব্যবসায়ের এতটুকুনও ক্ষতি হয়না। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই তারা ওই দলের তৃণমূল যুবকদের টার্গেট করে নতুন রাজ্য গড়ে তুলে পুনরায়। সেই সাথে পুরানোদেরও হাতের মুঠোয় রাখে। যেখানে একধরনের অসৎ নেতা-পাতিরা তাদের শেল্টার দেয়।

মনো বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে দেশের যুবসমাজের বড় একটা অংশ মাদকে আসক্ত হলেও মাদক মুক্ত জীবনেও রয়েছে উল্ল্যেখযোগ্য তরুণ ও যুবক। সাধারণত তরুণ ও যুবকরা তাদের ওই বয়সটাতে পরিবারের দায়িত্ব নেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে খুব দ্রুতই ভেঙে পড়ে। আর এ সকল হতাশাগ্রস্তদেরই অতি দ্রুত মাদকের জগতে অভ্যস্থ করে তোলা যায়। যেখানে একজন নিশ্চিত আয় করার মতো কাস্টমার পায় মাদক ব্যাবসায়ীরা।

মনো বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, একজন ইয়াবা সেবনকারী ব্যক্তি নিজেও জানতে ও বুঝতে পারছে না সে তার জীবনটাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাবা, মা, অভিভাবকদের খালি হাতে রাস্তায় নামাতে বাধ্য করছে পুত্র, কন্যা, নাতী, নাতনী এসব উপলদ্ধি করার মতো বিবেক হারিয়ে ফেলে নেশা পানে অভ্যস্থ কিশোর-কিশোরী, যুবক যুবতী, নর-নারীরা। এই শ্রেণী যতক্ষণ পর্যন্ত ইয়াবা ক্রয় করার সুযোগ পাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রয় করবে, নেশা গ্রহণ করবে। এই শ্রেণী ভুক্তদের ভাতের প্রয়োজন হতে মাদকের প্রয়োজন বেশী।

গবেষকরা মনে বলছেন, ‘মাদক তরুণদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে’ এমন শিরোনামে সংবাদমাধ্যমে হাজারো সংবাদ পরিবেশন হলেও যেন এর থেকে নিস্তার হওয়া যাচ্ছিলো না। অতীতের সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সময় যাও টুকটাক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নিলেও এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তেমন একটা দেখা যায়নি।

তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গত টানা দুই মেয়াদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি দেখে কিছুটা অবাকই হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে, মাদক অপরাধ দমনে শেখ হাসিনা সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারীতে রাখার নির্দেশ দেন। করতে বলেন তালিকাও, যাতে করে সুনির্দিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদেরকেই শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়।

সূত্রে জানায়, এসকল মাদক বৈধ পথে দেশে আসতে না পারায় পাহাড়, জঙ্গল, ঝোপঝাড়, গভীর সমুদ্র কিংবা আকাশ পথে গোপনে দেশের আনাচে কানাচে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে থাকে তৃণমূলের একটি অংশ। যদিও পুলিশের হাতে তারা ধরা পরে, কিন্তু মাদকের মূল হোতারা ভদ্র মানুষের মুখোশে সমাজে বিচরণ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, দেশবাসীকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দেশ, বাংলার যুব-যুবতী, নর-নারী, কিশোর-কিশোরী ইয়াবা সেবনকারীদের মুক্তির জন্য দেশ থেকে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করতে ত্রিমূখী অভিযান শুরু করতে আইন রক্ষাকারী সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভুক্তভোগী জনগণের আবেদন রক্ষা করেছেন। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহায়তাও দিয়েছেন। যার ফলস্রুতিতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গত বছর পর্দার আড়ালে থাকা অনেক মাদক ব্যবসায়ী হয় আইনের আওতায় বন্দি হয়েছে, নয়তো বন্দুক যদ্ধে নিহত হয়েছে।

দেশের যুবসমাজের এমন সঠিক সময়ে শান্তির দূত হিসেবে মানবতার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক নিয়ন্ত্রনে অভিযান শুরু করার কঠোর নির্দেশ দেন। আর এতেই দেশবাসীর মধ্যে যেনো উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বন্ধ হয়েছে অহেতুক সমালোচনাও।

উন্নত দেশ তৈরিতে দুর্নীতি রোধের বিকল্প নেই, জিরো টলারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ –উন্নত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিটি শাখা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন টানা তিন মেয়াদে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের মতোই দুর্নীতির বিরুদ্ধেও নিজের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির দৃঢ়তার কথা জানান।

২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ‘ভিশন ২০২১’ এ বলেছিলেন, এই অনুন্নত দেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করবে। দশ বছর আগে দেয়া সেই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে আরও ৩ বছর বাকি। কিন্তু এরইমধ্যে বাংলাদেশ গতবছরই উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে। গত টানা দশ বছরে সরকার হিসেবে শেখ হাসিনার মহাজোটের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দিন যত গড়িয়েছে, লক্ষ্য ততই বড় হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের তালিকায় পৌঁছে দিতে ‘ভিশন ২০৪১’এর নতুন লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেছে জনগণের কাছে। যেখানে গ্রামগুলোকেও শহরে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনার রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ওই নির্বাচনেও ৮০ শতাংশ জনগণের রায়ে টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ ও একই সংখ্যকবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন দলটির প্রধান শেখ হাসিনা।

মেয়াদের বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের মাধ্যেমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তন করার পাশাপাশি ওই শাখাগুলো দুর্নীতি বন্ধেও যথেষ্ট সক্রিয় ছিল সরকার। কিন্তু দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে দুর্নীতি রোধে ওই পরিমাণ সক্রিয়তা যথেষ্ট নয় তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। তাই আগামী সময়গুলোতে দেশের প্রতিটি খাতের দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার জন্য নিজেসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দুর্নতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধনামন্ত্রী।

দুর্নীতি থেকে সরকারি পর্যায়গুলো মুক্ত করার জন্য গত দশ বছরে সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োজন অনুসারে বেতন-ভাতাসহ নানান সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা এত বেশি বাড়িয়েছি যে, সেক্ষেত্রে আমি তো মনে করি, আমাদের এ দুর্নীতির কোনো প্রয়োজনই নেই। যা প্রয়োজন তার সব তো আমরা মেটাচ্ছি তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? যে হারে আমরা বেতন বাড়িয়েছি। এ উদাহরণ মনে হয় পথিবীর কোনো দেশেই নাই। কাজেই এখানে মানুষের মন মানসিকতাটাকে পরিবর্তন করতে হবে।’

উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি তা আমরা পূরণ করতে পারবো। তার জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।’

বেতন বাড়িয়েছি,দুর্নীতির প্রয়োজনই নেই: প্রধানমন্ত্রী

বান্দরবান অফিসঃ-কর্মকর্তাদের কেউ দুর্নীতি করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি তা পূরণ করার জন্য সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা দরকার। আমরা বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এতো বেশি বৃদ্ধি করে দিয়েছি, সেক্ষেত্রে আমি তো মনে করি আমাদের দুর্নীতির কোনও প্রয়োজনই নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন। যা প্রয়োজন তার সব আমরা মেটাচ্ছি, তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কাজেই এখানে মানুষের মন-মানসিকতাকে পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো, একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, দেশটা আমাদের। আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। আজকে সারাবিশ্বে একটা সম্মানজনক জায়গায় আসতে পেরেছি। এখন সেই পাকিস্তানও বলে আমাদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।

সরকার প্রধান আরও বলেন আজকে কিন্তু আর তলাবিহীন ঝুড়ি বলার সাহসও তাদের নেই। বলতেও তারা পারবে না। এই এগিয়ে যাওয়া, এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।

পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ৫৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান

বান্দরবান অফিসঃ-পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে স্থানীয় জনগণের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়াও দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ তথা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প অব্যাহত আছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নানামুখী নতুন প্রকল্প নেওয়া ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মলেন কক্ষে ‘পার্বত্য জেলাসমূহের দারিদ্র্য বিমোচনে কৌশল নির্ধারণ’ বিষয়ক কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল আমিন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সুদত্ত চাকমা।

বীর বাহাদুর উশৈসিং আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাতকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন। এর ফলে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট এই চুক্তিকে কালো চুক্তি আখ্যায়িত করে আবারও পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। কিন্তু, শান্তিপ্রিয় পার্বত্যবাসী তা হতে দেয়নি।’

কর্মশালায় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে ক্য শৈ হ্লা, বৃষকেতু চাকমা ও কংজরী চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য, তিন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।

আবারও প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হলেন জয়

বান্দরবান অফিসঃ-সজীব ওয়াজেদ জয়কে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালনে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। তবে জয়ের এই নিয়োগ খণ্ডকালীন ও অবৈতনিক।

এর আগে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদের সরকারে ২০১৪ সালেও প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান শেখ হাসিনার ছেলে বঙ্গবন্ধুর এই দৌহিত্র।

এছাড়া গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচজন উপদেষ্টাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তারা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে। এরপর ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ জনের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। যাদের সবাই আওয়ামী লীগের।