আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৮ অপরাহ্ন    

Home » জাতীয়

জাতীয়

কর্মক্ষম তরুণরাই দেশের মূল শক্তি: স্পিকার

নিউজ ডেস্কঃ-  দক্ষ জনগোষ্ঠীর মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, জনবহুল বাংলাদেশের বৃহৎ একটা অংশ তরুণ প্রজন্ম। আর কর্মক্ষম তরুণরাই দেশের মূল শক্তি। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) এর দমদমাস্থ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) প্রশিক্ষণ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই স্পিকার সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। উত্তরাঞ্চলে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে রংপুর টিটিসি সক্ষমতার প্রমাণ রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণরা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই তৈরি করতে পারবে।

যে কোন প্রশিক্ষণ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুফল তৃণমূল জনগণের নিকট পৌঁছে যাচ্ছে। এসময় স্পিকার তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরোত্বারোপ করেন।

এসময়ে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪০জন প্রশিক্ষণার্থীকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করেন এবং ‘নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন।

রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রংপুর টিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এর পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর যুগ্ম-সচিব (পিআরএল) নারায়ণ চন্দ্র বর্মা।

অনষ্ঠানের শেষ সময়ে স্পিকার পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরুমে শিলা বৃষ্টিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার ও সহায়ক উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর: কি পাচ্ছে বাংলাদেশ?

নিউজ ডেস্কঃ- ভুটান ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করার প্রত্যয় নিয়ে গত শুক্রবার তিন দিনের সরকারি সফরে গত ১২ এপ্রিল শুক্রবার বাংলাদেশে এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে উক্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই বাংলাদেশ সফরে বেশ কয়েকটি চুক্তি সম্পন্নসহ দুই দেশের বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দুটি চুক্তি সই হয়েছে। এর একটি হলো বাণিজ্য নবায়ন চুক্তি। অপরটি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত চুক্তি। এছাড়া দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুত, ট্রানজিট, বাণিজ্য, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে প্রথমদিনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ভুটান বাংলাদেশের বাজারে দেশটির ১৬টি পণ্যের শুল্ক এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে আর বাংলাদেশ চেয়েছে তাদের বাজারে ১০টি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটা মুক্ত প্রবেশাধিকার।
এছাড়া বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্য চুক্তি আরও ৫ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। এবার চুক্তি নবায়নে নতুন কয়েকটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুগ্মসচিব পর্যায়ে বৈঠকের জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, বাণিজ্যবিষয়ক তথ্যবিনিময়, উভয় দেশে বাণিজ্যমেলার আয়োজন, বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও বাণিজ্য গবেষণা চুক্তির বিধান সংশোধনের সুযোগ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের পাঁচ বছর মেয়াদী বাণিজ্য চুক্তি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ভুটান সফরে গেলে ওই চুক্তি সর্বশেষ নবায়ন হয়, যার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের নবেম্বর মাসে। চুক্তির আওতায় ভুটান থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তাজা ফল, নির্মাণসামগ্রী, সিমেন্টের কাঁচামাল, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন। আর বাংলাদেশ থেকে ভুটানের ব্যবসায়ীরা তৈরি পোশাক, মেলামাইন সামগ্রী, ফলের রস, ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে পারবেন।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও ভুটান আন্তঃবাণিজ্যে ৯০টি পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক। এর আগে বাংলাদেশ ও ভুটান ৭৪টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পেয়ে আসছিল। চুক্তি নবায়নের মধ্যে দিয়ে এই পণ্যের সংখ্যা ৯০টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ কেনার বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে ভুটান। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় বড় পাথর বা বোল্ডার রফতানির বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে তাদের। রবিবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। তিন দিনের সফর শেষে আগামীকাল সোমবার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কেও ছাড় পাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ-  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ-ই বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পিবিআই তদন্ত করছে, দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে। ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া সোনাগাজীর ওসিসহ যারাই জড়িত ও দোষী তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষী কেউ-ই বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় যারা অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দৌলার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করছেন, হয়তো তারা না জেনে করছেন। তদন্তসাপেক্ষে বিস্তর জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত নারী শিক্ষা: স্পিকার

নিউজ ডেস্কঃ-  স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের সাথে নারী শিক্ষার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, নারীর ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত নারী শিক্ষা। নিজেকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে নারীরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হলিক্রস কলেজে সিস্টার অগাস্টিন ম্যারি হলে গুণিজন সংবর্ধনা-২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

স্পিকার বলেন, বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সমাজের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির মাধ্যমে সহায়তা করছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই নারীরা শিক্ষার প্রসারে উল্লেখ যোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় মরক্কোর কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয়, যা ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফাতিমা নামের একজন মহীয়সী নারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ও বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন, যা নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ মসৃণ করেছে।

স্পিকার বলেন, হলিক্রস কলেজকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এই বিদ্যাপীঠের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি সব সময় গর্ববোধ করেন। শৃঙ্খলাবোধ ও সদিচ্ছার প্রতি দৃঢ়ভাবে নিবেদিত থেকে সাধারণের মধ্যে অসাধারণ হয়ে ভবিষ্যৎ দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

হলিক্রস কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিওর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে হলিক্রস কলেজের কৃতি ৪ সাবেক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীবৃন্দ হলেন টানা তৃতীয়বারের নির্বাচিত স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন ও সুবর্ণা মোস্তফা। এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানকে গুণিজন সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধিত অতিথিগণ এসময় স্মৃতিচারণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার শিখা গোমেজ। অনুষ্ঠানে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে হলিক্রস কলেজের ছাত্রীবৃন্দ।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন

নিউজ ডেস্কঃ-রাজধানীতে গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছেই। কার আগে কে যাত্রী তুলবে এই রেষারেষি রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনের নিত্যদিনের দৃশ্য। প্রতিদিনই যাত্রীরা এ রকম বেপরোয়া চালনার শিকার হচ্ছেন।
এভাবেই গতকাল রাজধানীর নদ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাস চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বাস চাপায় নিহত আবরারের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হচ্ছে নিরাপদ সড়ক। নিরাপদ সড়ক প্রত্যেকটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হয়।
গত বছর রাজধানীর রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্টের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্যক উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনাগুলো হচ্ছে,
১. ঢাকা শহরে গণপরিবহন চলাকালে সবসময় দরজা বন্ধ রাখা এবং বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।
২. গণপরিবহনে (বিশেষত বাসে) দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও হেলপারের ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর প্রদর্শন নিশ্চিত করা।
৩. সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দু’জন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধান এবং সিগন্যালসহ ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করা।
৪. সব সড়কে বিশেষত মহাসড়কে চলমান সব পরিবহনে (বিশেষত দূরপাল্লার বাসে) চালক এবং যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া এবং পরিবহন মালিকদের সিটবেল্ট সংযোজনের নির্দেশনা দেয়া এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
৫. ঢাকা শহরের যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে সেসব স্থানের উভয় পাশে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৬. ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাসসমূহে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্ডারপাসসমূহে প্রয়োজনীয় লাইট, সিসিটিভি স্থাপনসহ ব্যবহার করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। ৩০ আগস্টের মধ্যে এ নির্দেশনা নিশ্চিত করতে বলা হয়।
৭. ঢাকা শহরের সব সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করা, সব সড়কের নামফলক দৃশ্যমান স্থানে সংযোজন।
৯. স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
১০. ঢাকা শহরে রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যালিং পদ্ধতি চালু করা।
১১. ঢাকা শহরের সব সড়কের রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি করা বা স্থানের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
১২. মহাখালী ফ্লাইওভারের পর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত (আপ এবং ডাউন) ন্যূনতম দুটি স্থানে স্থায়ী মোবাইল কোর্ট বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত দৈব চয়নের ভিত্তিতে যানবাহনের ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করা। শহরের অন্য সব স্থানেও প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ীভাবে অনুরূপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১৩. ঢাকা শহরের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ছুটি বা আরম্ভ হওয়ার সময় জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের উদ্যোগ নেওয়া।
১৪. অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ফিটনেস দেয়ার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই পরিবহন দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৫. রুট পারমিট/ফিটনেসবিহীন যানবাহন দ্রুত ধ্বংস করার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে।
১৬. লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘লারনার’ দেয়ার প্রাক্কালে ড্রাইভিং টেস্ট নেয়া যেতে পারে এবং উত্তীর্ণদের দ্রুততম সময়ে লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ।
১৭. কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নেয়া।
যে কোন মূল্যে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিবহন সেক্টরকে মাফিয়া/গডফাদার মুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। পরিবহন সেক্টরকে চাঁদাবাজি মুক্ত করতে পারলে অনেক অনিয়ম আপনা-আপনি কমে যাবে। ছাত্র–ছাত্রীদেরকেও আন্দোলনে সহিংসতা পরিহার করতে হবে। আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণভাবে সুশৃংখল এবং সুনির্দিষ্ট দাবির জন্য।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উল্লেখিত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।

ঢাকার আশেপাশেই নির্মাণ হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

নিউজ ডেস্কঃ-কয়েক বছর ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন করার বিষয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। প্রথমদিকে মাদারীপুর কিংবা শরীয়তপুরে এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও খাসজমির সংকট ও স্থানীয় অধিবাসীদের উচ্ছেদকে বাধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার আশেপাশেই নির্মিত হতে যাচ্ছে বিমানবন্দরটি। আর ঢাকার আশেপাশে বিমানবন্দর করার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই জমি খোঁজা শুরু করে দিয়েছে জাপানী পরামর্শক কোম্পানি নিপ্পন কোয়েই লিমিটেড।
বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নতুন জমি নির্বাচন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গত মাসে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবার ঢাকার আশপাশে এ প্রকল্পের জন্য জমি নির্বাচন করবে। ঢাকার পাশে আগে যেসব স্থান খোঁজা হয়েছে সেগুলো নিয়ে এবং নতুন স্থান নির্বাচন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘ঢাকার আশপাশে এখন জমি খোঁজা হচ্ছে। আগে থেকেই বলা হয়েছিল তা খুঁজতে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি বৈঠকে বসতে চাইছি। এর আগে যেসব স্থানে জমি দেখা হয়েছে সেগুলোর একটিতেও বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব হবে না।’
জানা গেছে, জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়েই লিমিটেড ২০১৫ সালের জুলাই থেকে জাজিরা ও শিবচরে প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করে। আগামী জুনের মধ্যে ১৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সব কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই সম্প্রতি জাপানি এই প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন জমা দেয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২০ কোটি টাকা।
এদিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিপ্পন কোয়েইকে নতুন জায়গা বের করতে বলেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পদ্মা নদীর পারে করার চেষ্টা করে আসছে। ২০১০ সাল থেকে জমি খোঁজা শুরু হয়। আট বছরেও জমি নির্বাচন চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়নি। এর আগে ঢাকা থেকে ৯৮ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি নির্বাচন করা হয়েছিল। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ ও দোহারে অবস্থিত আড়িয়াল বিলে এবং শরীয়তপুরের জাজিরায় জমি খোঁজা হয়েছিল। ১০৬ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরেও এ অবকাঠামোর জন্য উপযুক্ত জমি আছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। জার্মানির এভি অ্যালায়েন্স প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। অর্থায়ন, নকশা তৈরি, উন্নয়ন ও পরিচালনায় যুক্ত হতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি এ আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। প্রস্তাবিত বিমানবন্দরে থাকবে তিনটি রানওয়ে। প্রতিটির আয়তন হবে চার হাজার ৪২০ মিটার।

জাইকা’র গবেষণায় বই প্রকাশ, ‘অভাবনীয় উন্নয়নে’ প্রশংসিত বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ- বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈষম্য এবং তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে একটি গবেষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে বই প্রকাশ করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘মিরাকল’ তথা অলৌকিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণাবিষয়ক ওই বইয়ে বলা হয়েছে, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’। বইটির শিরোনাম করা হয়েছে- ‘ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ মিরাকল অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে (বিআইডিএস) বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ‘এম্পেরিকাল স্টাডিজ অন রিস্ক অ্যান্ড প্রোভার্টি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে তিন বছরের একটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করে জাইকা। তারই সারাংশ তুলে ধরা হয়েছে ‘ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ মিরাকল অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ বইটিতে।

বইটির বিষয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মহাপরিচালক ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ইয়াসুয়ুকি সাওয়াডা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো ড. মিনহাজ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বইটিতে বলার চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে মিরাকল ঘটেছে। কারণ, বিভিন্ন রকম প্রতিকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈষম্য, দ্রুত নগরায়ণের ঝুঁকি এবং তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছে।’

বইটি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশের এখন এই বিষয়গুলোকে একটু ভিন্নভাবে দেখা প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিক অবস্থায় এক সময় চীন ও ভিয়েতনামও ছিল। তারা এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। ভিয়েতনাম ও চীনের এগিয়ে যাওয়ার সেই দিকগুলো বাংলাদেশের দেখা প্রয়োজন।’

পাট নিয়ে আশাবাদের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ-বিশ্বব্যাপী পাটের বহুবিধ ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পাটের কদর এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্যসহ সকল সমৃদ্ধ দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিলেতে রাণীর ভবনেও পাটের তৈরি পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাটের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে পাটের ব্যবহার আরও বাড়বে।
দেশে পাটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে- এ খাতে গবেষণা বাড়ানো, নতুন পাটনীতি প্রণয়ন, সংস্কারের আওতায় আসছে জুটমিল কর্পোরেশন এবং পলিথিনের ওপর ইকো ট্যাক্স আরোপ। এসব উদ্যোগের দুটি উদ্দেশ্য। একদিকে দেশে পাট পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং অন্যদিকে রফতানি বাড়ানো। সব মিলে এ খাতের বিশাল বাজার সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার।
এদিকে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে নতুন করে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, পাট নিয়ে যারা হতাশ, সেই হতাশা পার্টির সঙ্গে তিনি নেই। পাট নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী তিনি। যে পণ্যটির কোনো অংশ ফেলনা নয়, সে পণ্যে লোকসান হয় কেমন করে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাকে কীভাবে লাভজনক করা যায় সে পথ খুঁজে বের করতে হবে। পাট কৃষিপণ্য হিসেবে প্রণোদনা পেতে পারে। আবার পাটজাত পণ্য রফতানি যোগ্য বলে সেখানেও প্রণোদনা পেতে পারে।
জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে আজ (৬মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দুই দিনব্যাপী পাট পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মানুষ এখন পরিবেশ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। এটা আমাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ। এই সুযোগে পরিবেশবান্ধব পাট পণ্য আমরা সারাবিশ্বে রফতানি করতে পারব। পাট চাষী, পাট ব্যবসায়ী ও পাট শিল্পের যারা হতাশ ছিলেন তারা এখন সুদিন ফিরে পেয়েছেন। কারণ সোনালী আঁশের সোনালী দিন এখন ফিরে আসছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পাটশিল্প বিকাশের স্বার্থে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের চাহিদা সৃষ্টিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে পাট চাষীদের পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও পাটখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি লাভ করবে।
তিনি বলেন, পাটের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ওতপ্রত ভাবে জড়িত। এ দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে মানানসই পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় পাটকলের আধুনিকায়নসহ পাটখাতের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা-২০১৩’ কার্যকর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণের জন্য পাট পাতা থেকে পানীয়, পাটের আঁশ থেকে ভিসকস ও পচনশীল পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগ, জিও জুট টেক্সটাইল, পাটকাঠি থেকে চারকোলসহ ২৫০ প্রকারের পাটজাত পণ্য উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পাটের বহুমুখী ব্যবহারে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্কঃ- পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘পাটের জীবনরহস্য উদঘাটনসহ পাটের বহুমুখী ব্যবহারে সরকারের এ সকল উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাটশিল্প বিকাশের স্বার্থে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের চাহিদা সৃষ্টিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এতে পাট চাষিদের পাটের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও পাটখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি লাভ করবে।’

বুধবার জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

আবদুল হামিদ বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো ‘জাতীয় পাট দিবস-২০১৯’ উদযাপিত হচ্ছে। পাটের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সাথে মানানসই পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় পাটকলসমূহের আধুনিকায়নসহ পাটখাতের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০” এবং “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩” কার্যকর করা হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণের জন্য পাট পাতা থেকে পানীয়, পাটের আঁশ থেকে ভিসকস ও পচনশীল পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগ, জিও জুট টেক্সটাইল, পাটকাঠি থেকে চারকোলসহ ২৫০ প্রকারের পাটজাত পণ্য উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

আমাদের চাষীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ- দেশব্যাপী তৃতীয়বারের মতো ‘জাতীয় পাট দিবস’ পালিত হতে যাচ্ছে জেনে আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন বাংলার পাটচাষীসহ পাটের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের শ্রম ও অর্জনের অভূতপূর্ব স্বীকৃতি। সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পাটের সোনালি সময় পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আমাদের দেশের মাটি পাট চাষের উপযোগী। তাছাড়া চাষীরাও অত্যন্ত পরিশ্রমী বলে উল্লেখ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুতরাং আমাদের শ্রম, মেধা, গবেষণালব্ধ ফলাফল, পাটের বহুমুখী পণ্যের সম্ভার ও তার বাজার সম্প্রসারণ, সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পাটের সোনালি সময় পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠিত করা। আমার বিশ্বাস, দেশের এই সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। আর এ কর্মযজ্ঞ যথাযথভাবে সম্পাদনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় হবে দক্ষ কারিগর।’

তিনি বলেন, ‘পাট দেশের ৩য় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারীখাত।এখাতে বর্তমান সরকারের চলমান পৃষ্ঠপোষকতা এর হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার এবং অধিক সমৃদ্ধশালী করবে বলে আস্থা রাখি। আমরা পাটকে ২০১৬ সালে কৃষিজাত পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ এবং এ সংক্রান্ত বিধিমালা ইতোমধ্যে দেশের পরিবেশ রক্ষায় ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ১৯টি পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা পাট আইন, ২০১৭ প্রণয়ন করেছি। ফলে দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পাটখাতের সকল স্টেক হোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়েছে। কৃত্রিম পলিথিনের পরিবর্তে আজ দেশে পাট থেকে পলিথিন সদৃশ পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব সুন্দর ‘সোনালি ব্যাগ’ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’