আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৬ অপরাহ্ন    

Home » ছবি

ছবি

শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা : জোলি

বান্দরবান অফিসঃ- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা বলে মন্তব্য করেছেন হলিউড অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এ কথা বলেন। তিনি বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেছেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বিশ্বে শেখ হাসিনার মতো নেতা খুব কমই রয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ওপর বিশাল বোঝা সৃষ্টি করেছে। আশ্রয় শিবিরগুলোতে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের দেখভাল করা খুবই কঠিন কাজ। জাতিসংঘ, ইউএনসিএইচআর ও বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের বোঝা লাঘবে একযোগ কাজ করবে।’ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, ‘বাংলাদেশ তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে সহযোগিতার চেষ্টা করার সত্ত্বেও তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

জোলি উল্লেখ করেন যে, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট অবশ্যই সমাধান করতে হবে। মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী এবং তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।’  তবে শেখ হাসিনা সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বে হতাশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আশ্রয় শিবিরগুলোতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার মতো নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তার সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক লাখের বেশি শরণার্থী সেখানে অপেক্ষাকৃত উন্নত পরিবেশে সাময়িক আশ্রয় পাবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের এক কোটির বেশি লোক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ দেন। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে তার মাসহ তিনি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দি থাকার এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ৬ বছর ধরে তার নির্বাসনে থাকার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সেই বেদনাময় কাহিনী শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভগ্নিপুত্র রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস।

 

এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যঃ-(প্রধানমন্ত্রী)

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ – বিভেদ ভুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয়বার ও মোট চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি। বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবাখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় জীবনের সর্বত্র আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করব। জাতীয় সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।

একাদশ সংসদে বিরোধীদলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম। তবে, সংখ্যা দিয়ে আমরা তাঁদের বিবেচনা করব না। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যেকোন সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব/আলোচনা/সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধীদলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গত ৩০-এ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি।

প্রধানমন্ত্রীর বলেন, যাঁরা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যাঁরা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোট এবং প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সহযোগিতায় আমরা এ বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি। আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, আমার তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেল- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান-সহ সেই রাতের সকল শহিদকে।

তিনি বলেন, এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যাঁরা অকাতরে জীবন দিয়েছেন সেই ভাষা শহিদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজউদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।

তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন আমি তাঁদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২-বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-সহ দশম সংসদের যেসব সদস্য ইন্তেকাল করেছেন, আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় ছিল খুবই প্রত্যাশিত। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপগুলিও এ রকমই ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল। লন্ডন-ভিত্তিক ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট এবং রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টারের জরিপের ফল আপনারা লক্ষ্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা করেছি। ইশতেহার ঘোষণাকালে আমি এর সারাংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা অনেকেই এই দলিলটি ইতোমধ্যে পড়েছেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের যেকোন নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ বিগত দশ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শুধু এশিয়ার দেশগুলোরই শীর্ষে নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাই বাংলাদেশকে চেনেন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে। আমাদের এই পথচলা মসৃণ ছিল না। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। যার সুফল আজ জনগণ পাচ্ছেন। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে যা ২০০৫-৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিএনপি সরকারের ২০০৫-৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। যা ৭.৬ গুণ বৃদ্ধি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার নব্বই ভাগ বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে। কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না।

গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে।

এইচ.বি.এস.সির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দশ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমান এখন অনেক উন্নত। এখন মানুষ সুন্দর করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। তাই সামনে অনেক কাজ আমাদের। আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান, সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে কর্মে নিয়োগের জন্য কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি কলেজ স্থাপন করা। ইতোমধ্যে কারিগরি কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামি পাঁচ বছরে আমরা দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগের জন্য আসছেন। সারাদেশে ২ ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবাখাতসহ অন্যান্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমরা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেষখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ ফাস্ট ট্রাক মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজে গতি আনা হবে।

‘দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। ছেলেমেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট/তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ২০২০-২০২১ সালে মুজিব বর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করব। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা দেশকে আর্থ-সামাজিক খাতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। আর এর কৌশল হিসেবে আমরা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করছি। পাশাপাশি, জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমরা ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। আমরা ইতোমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পৃক্ত করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- আমাদের এই পররাষ্ট্র নীতিই বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের মূল হাতিয়ার। এই নীতির সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কোন সময়ের চাইতে সুদৃঢ় এবং গভীর।

তিনি বলেন, আমি জানি, দুর্নীতি নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে অসস্তি রয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নিজেদের শোধরানোর আহবান জানাচ্ছি। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে। আমরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নির্মুল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। তাই, গণমাধ্যমের সহায়তায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত থাকবে।

‘আপনারা দেখেছেন আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই মাদক, জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন। বৈশ্বিক প্রভাবে কিংবা স্থানীয় প্ররোচনায় আমরা কিছু কিছু তরুণকে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে দেখেছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। আমি সমাজের সকলকে মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি ‘

‘ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের করা হয়েছে। সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণেরাই দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার। তারুণ্যের সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম এবং শক্তির উপর আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। তারুণ্য মানেই বাংলা ভাষার জন্য আত্মদান, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আসাদ-মতিউর, নূর হোসেনদের রক্তদান। তারুণ্য মানেই লাল-সবুজের পতাকা- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, তারুণ্য মানেই বাঙালি এবং বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে আরেক বিজয়ের মাসে এ দেশের ভোটারগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে।

‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি- আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য; এ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এ দেশের সাধারণ মানুষেরা যাতে ভালভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেন- তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন: ‘মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন।’ আমরা ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আমরা তরুণদের শক্তি, মেধা ও মননকে সোনার বাংলা গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করব। আজকের তরুণেরাই পারবে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে।’

তিনি বলেন, নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আমি আমার মন্ত্রীসভা গঠন করেছি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম- এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

আপনারা আমার উপর আস্থা রেখে যে রায় দিয়েছেন, কথা দিচ্ছি আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব সে আস্থার প্রতিদান দিতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে চাই:

‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হোন।

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিয়ে সকলের উন্নয়নে সরকার কাজ করবে : প্রধানমন্ত্রী

বান্দরবান অফিসঃ –  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের প্রদত্ত আস্থা ও বিশ্বাসের মুল্য দিয়ে তাঁর সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের উন্নয়নেই কাজ করে যাবে।তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি এই টুকুই তাঁদের বলতে চাই- আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কায় ভোট পেয়ে জয় পেয়েছে এটা সত্য। কিন্তু যখন রাস্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে এসেছে, যখন দায়িত্ব পেয়েছি তখন দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে যাব।’ তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্যই আমাদের সরকার কাজ করে যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল বিজয় সমাবেশে সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।তাঁর সরকার প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলে,‘প্রতেক্যের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবন মান নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেন,‘সেখানে কোন দল বা মত দেখা হবে না। প্রতিটি জনগণ, প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সেবা করার দায়িত্ব জনগণ আমাদের দিয়েছে। কাজেই যারা ভোট দিয়েছেন বা ভোট দেন নাই সকলের প্রতিই ধন্যবাদ জানিয়ে আমি এটুকু বলবো- আমরা সকলের তরে, সকলের জন্য আমরা কাজ করবো।’ সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি এবং তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি বক্তৃতা করেন।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ্যে সমাবেশে অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন।এছাড়া দলের কেন্দ্রিয় নেতা, মীর্জা আজম এমপি, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আকম মোজাম্মেল হক, মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি এবং শাহে আলম মুরাদ বক্তৃতা করেন।দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সমাবেশটি পরিচালনা করেন।আওয়ামী লীগের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,‘সেই ভোটের সম্মান যেন থাকে আমরা সবসময়ই সেই বিষয়টা মাথায় রেখে সার্বিকভাবে দেশের সুষম উন্নয়ন করে যাব, দেশের জনগণের স্বার্থে।’
তিনি নৌকার বিপুল বিজয়কে সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ,মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণরায় বলে উল্লেখ করে সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করেন।তিনি বলেন, ‘যে রায় জনগণ দিয়েছে এ রায় হচ্ছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায়।’ তিনি জনগতের এই প্রতিফলনের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে নির্বাচিত জন প্রতিনিধি যারা,দেশের মানুষের যে আকাঙ্খা,সে আকাঙ্খা আমাদের পূরণ করা কর্তব্য।’ ‘বিজয় অর্জনের চাইতে বিজয় ধরে রেখে জনসেবা করা আরো কঠিন কাজ ’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, এই কঠিন কাজ আমরা পেয়েছি। সর্বশক্তি দিয়ে সেই কঠিন দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। সেটাই আমি সকলকে মনে করিয়ে দিতে চাই।’ ‘দেশের জনগণ শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য নৌকাকে ভোট দিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ শান্তি এবং উন্নতি চায় । সেইসাথে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিযে যাক সেটাই তাঁরা চায়।বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে গড়ে তোলা তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণের ৩০ ডিসেম্বরের রায় বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে গড়ে তোলার পক্ষের রায়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার রায় দিয়েছে জনগণ তাঁদের ভোটের মধ্যদিয়ে।বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সমৃদ্ধি সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাঁর লক্ষ্য উল্লেখ করে জনগণের এই রায়কে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পক্ষের রায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।৩০ ডিসেম্বরের রায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি রায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধারপরাধীদের কোন স্থান হবে না। দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদ, মাদকাশক্তদের কোন স্থান হবে না এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে।’ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এটাই প্রথম জনসভা ছিল আওয়ামী লীগের। কাজেই জনতার উপচেপড়া ভিড় কাকরাইল মোড় হয়ে মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। পল্টন থেকে হাইকোর্ট কদম ফোয়ারা হয়ে দোয়েল চত্বর দিয়ে টিএসসির মোড় এবং সমগ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নেতাকর্মীদের পদাচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতকর্মীরা বেলা ১১টার পর থেকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নেচে-গেয়ে, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উদ্যানমুখী খ- খ- মিছিল নিয়ে আসতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা স্লোগানে’ পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। অনেকে লাল-সবুজের পতাকা মাথায় দিয়েছেন, টি-শার্ট, ক্যাপও পরেছেন অনেকে।দুপুর আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিজয় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হলেও দুপুর ১২টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন মমতাজ, ফাহমিদা নবী, সালমা ও জলের গান ব্যান্ড দল। তবে, সকাল থেকেই মাইকে দেশাত্মবোধক, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া গান বাজানো হয়। মাঝে মধ্যে কবিতাও আবৃতি করা হয়।মুহুর্মুহু করতালি আর গগন বিদারী শ্লোগানের মধ্যদিয়ে দুপুর ৩টার কিছু সময় পরে একটি হালকা অফ হোয়াইট রংয়ের জামদানী শাড়ি পরে মঞ্চে আসেন শেখ হাসিনা। এ সময় আবারো সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী মমতাজ।প্রধানমন্ত্রী ৩০ ডিসেম্বরের বিজয় সম্পর্কে বলেন, এই বিজয় শুধু আওয়ামী লীগের বিজয় নয়, এই বিজয় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির। এ বিজয় এদেশের আপামোর জনগণের। কারণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ স্বতস্ফ’র্তভাবে ভোট দিয়েছে।তিনি জনণনকে ভোট প্রদানের জন্য এবং ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আইন শৃঙ¦লা বাহিনীর সদস্য, সদ¯্র বাহিনী, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,‘আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের মা-বোনদের প্রতি যারা ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করেছেন। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই তরুণ প্রজন্মের প্রতি যারা প্রথমবারের মত ভোটার হয়ে স্বতস্ফ’র্তভাবে ভোট দিয়েছেন।’ তিনি এদেশের কৃষক, শ্রমিক,তাঁতী, কামার-কুমার জেলে সহ সর্বস্তরের এবং ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, কৃষিবিদ সহ সকল শ্রেনী পেশার জনগণের প্রতি ভোট দিয়ে নৌকা মার্কা এবং আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি এ সময় আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁরা ঔক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এ কথাটা নিশ্চয়ই তাঁরা উপলদ্ধি করতে পেরেছে যে, ঐক্যবদ্ধ শক্তিই সবসময় বিজয় অর্জন করে। কারণ এই নির্বাচনে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।তিনি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,‘সকল রাজনৈতিক দলের সকলকেই আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ তাঁরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে অর্থবহ করেছে।’ এদেশকে আধুনিক সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা হিসেবে তাঁর সরকার গড়ে তুলবে, সেটাই তাঁদের অঙ্গীকার বলেও অভিহিত করেন তিনি।নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে আওয়ামী লীগ সরকারের অতীতের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো এবং আজকের সমাবেশে সে কথাই আমি বলে যেতে চাই।’
এ সময় তিনি বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার ও প্রত্যয় ব্যক্ত করে ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া তাঁর নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বজন হারাবার বেদনা বুকে নিয়েও আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি, এই দেশকে গড়ে তুলবো বলে।’
যেদেশে একজন ক্ষুধার্ত থাকবে না, কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, সকলের জীবন-মান উন্নত হবে, সকলের আবাসস্থল নিশ্চিত হবে, তরুণ প্রজন্ম কাজ পাবে, বাংলদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়াকে গুরু দায়িত্ব আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁর দল আওয়ামী লীগকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে কাজেই জাতির পিতা যে স্বল্পোন্œত দেশ রেখে যান সেখান থেকে আজকে তাঁরা যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন, সেখান থেকেই দেশকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলাদেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা আর এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশ থেকে দুনীতি দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়ে তুলে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন,‘রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এটাই আমি মনে করি যে, মানুষকে কতটুকুু দিতে পারলাম,তাঁদের জন্য কতটুকু করতে পারলাম- সেটাই সবচেয়ে বড় কথা । কি পেলাম, কি পেলাম না সেটা কোন বড় কথা নয়।’ জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই তাঁর সরকার দেশ সেবা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সকলের সহযোগিতা কামণা করেন।শেখ হাসিনা বলেন,‘আসুন সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলি। আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করি ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য।’ তিনি বলেন, ‘যেন তাঁরা একটা সুন্দর এবং উন্নত জীবন পায়। বাংলাদেশ বিশ্বে যেমন এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে তেমনি বিশ্ব দরবারে প্রতিটি বাঙালি যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে,’।এর জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা এই আওয়ামী লীগ সরকার করবে, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।শিক্ষার আলো প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে দিয়ে প্রতিটি গ্রামকে শহরের স্ুিবধা দিয়ে গড়ে তোলা তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল,কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্টায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।তিনি এ সময় সারাদেশে একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বেকারদের জন্য কমৃসংস্থান সৃষ্টিতেও আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগ তুলে ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২০৪১ সাল নাগাদ ক্ষুধা এবং দারিদ্র মুক্ত দেশ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় পুণর্ব্যক্ত করেন।এ সময় কবি সুকান্তের ভাষায় প্রাণপনে জঞ্জাল সরিয়ে এ বিশ্বকে নবজাতকের বাসযোগ্য করে রেখে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ৫৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান

বান্দরবান অফিসঃ- পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে স্থানীয় জনগণের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়াও দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ তথা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প অব্যাহত আছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নানামুখী নতুন প্রকল্প নেওয়া ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মলেন কক্ষে ‘পার্বত্য জেলাসমূহের দারিদ্র্য বিমোচনে কৌশল নির্ধারণ’ বিষয়ক কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল আমিন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সুদত্ত চাকমা।

বীর বাহাদুর উশৈসিং আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাতকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন। এর ফলে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট এই চুক্তিকে কালো চুক্তি আখ্যায়িত করে আবারও পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। কিন্তু, শান্তিপ্রিয় পার্বত্যবাসী তা হতে দেয়নি।’

কর্মশালায় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে ক্য শৈ হ্লা, বৃষকেতু চাকমা ও কংজরী চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য, তিন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষম উন্নয়ন করা আমার দায়িত্বঃ-(পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং)

নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে গণসংবর্ধনায় মঞ্চে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন,আমাকে নির্বাচিত করার জন্য আমি আমার বান্দরবানবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ ও চির ঋনি। এই ঋন আমি বিগত দিনের মতো কাজের মাধ্যমেই শোধ কারার চেষ্টা করবো। আজ আমি আপনাদেরই সন্তান আর কাল থেকেই শুধু আমি আপনাদের সন্তান নই, কাল থেকে আমি হবো সমগ্র পার্বত্য এলাকার মানুষের প্রতিনিধি, সকল মানুষকে সকল এলাকার মানুষদের সকল ধমের্র, সকল বর্ণের এই পার্বত্য বাসীর কল্যাণের জন্য শান্তির জন্য সম্প্রীতির ও সমৃদ্ধি জন্য ও উন্নয়নের জন্য আমাকে কাজ করতে হবে। সুতরাং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি তিন জেলারই প্রতিনিধি আমি, তাই সবাই কে সমান চোখে, সবাইকে সমতালে, সমভাবে উন্নয়ন করা, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা আমার দায়িত্ব।শুক্রবার বিকেলে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে এক নাগরিক সংবর্ধনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি একথা বলেন।এসময় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর আরো বলেন, বান্দরবানবাসীর প্রতি ভালোবাসার বহি:প্রকাশ বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে টানা ৬বার মনোনয়ন দিয়েছে বলে আমি কৃতজ্ঞ। বান্দরবানবাসীর নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা আছে বলেই আমাকে বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পূর্নমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে বলে আমি কৃতজ্ঞ।বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর শুক্রবার নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে আসেন। এসময় চট্টগ্রামের কেরানীহাট থেকে বান্দরবানে আসার পথে পথে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন পাহাড়ের এই জনপ্রিয় নেতাকে। এসময় মন্ত্রীকে অনেকে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের রাজার মাঠে বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি সংর্বধনার মঞ্চে উপস্থিত হন। এসময় রাজার মাঠে লালগালিচার পাশাপাশি ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেন নেতাকর্মীরা।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিকে বরণ করে নিতে শহরের রাজার মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।শুক্রবার বিকাল ৩টায় বান্দরবান শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দুরের কেরাণীহাট থেকেই পার্বত্য মন্ত্রীকে গাড়িবহরে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে বান্দরবানে নিয়ে আসা হয়। এসময় তিনি বান্দরবানে প্রবেশের সাথে সাথে বিভিন্ন মহলের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন। এরপরই তিনি যোগ দেন রাজার মাঠের নাগরিক সংবর্ধনায়।মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দলীয় নেতাকর্মীরা সহ পুরো বান্দরবান বাসী। মন্ত্রীর আগমনে পুরো বান্দরবান শহরে এখন সাজ সাজ রব। রাজার মাঠের মুক্ত মঞ্চকে প্রস্তুত করা হয়েছে আকর্ষণীয় সাজে। ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে মঞ্চসহ আশপাশ। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশে এবার ৭টির বেশি তোরণ নির্মাণ করেনি আয়োজকরা।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ নেতারাও বক্তব্যে রাখেন বান্দরবানবাসীর উদ্যেশে।জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লার সভাপতিত্বে উক্ত সংবর্ধনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মোঃ শফিকুর রহমান, আবদুর রহিম চৌধুরী, একেএম জাহাঙ্গীর, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাশ, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ক্যশৈঅং মার্মা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংক্যচিং চৌধুরী, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্যসা প্রু, সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, সদস্য ¤্রাসা খেয়াং, সদস্য মোঃ মোস্তফা জামাল, সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা, সদস্য ক্যানে ওয়ান চাক, সদস্য থোয়াই হ্লামং মারমা, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত কান্তি দাশ, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক সামশুল ইসলাম, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ মুছা কোম্পানী, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাদেক হোসেন চৌধুরী,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ কাউছার সোহাগ সহ জেলা আওয়ামীলীগ, জেলার ৭টি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।উল্লেখ্য,বান্দরবান ৩০০ নং আসন থেকে টানা ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিংএমপি। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।এর আগে ১৯৯৮ সালে রাঙামাটির কল্পরঞ্জন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। এরপরে বিভিন্ন মেয়াদে রাঙামাটির দীপংকর তালুকদার ও বান্দরবানের বীর বাহাদুর এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০নং আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো বান্দরবান জেলা পরিষদ

নিউজ ডেস্কঃ-একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় ৩০০নং বান্দরবান আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ।আজ মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারী) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারি কার্যালয়ে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি কে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা এর নেতৃত্বে বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্যরা এই ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য লক্ষীপদ দাশ,মোজাম্মেল হক বাহাদুর,মোস্তফা কামাল প্রমুখ।প্রসঙ্গত, তিন পার্বত্য জেলা (বান্দরবান,রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি)’র মধ্যে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খাগড়াছড়ির সাংসদ কল্পরঞ্জন চাকমাকে মন্ত্রী করা হয়েছিল।এরপর থেকে পার্বত্য জেলার সবাই ছিলেন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে।দীর্ঘ ১৮ বছর পর গত ৭ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে বীর বাহাদুর উশৈসিংকে এমপিকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেছেন রেকর্ড চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা,৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন

নিউজ ডেস্কঃ-বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মত আজ ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীগণ শপথ গ্রহন করেন।

আজ বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নতুন মন্ত্রীসভার ২৪জন মন্ত্রী, ১৯জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী শপথ গ্রহন করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদেরকে দায়িত্ব গ্রহনের শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান। শপথ গ্রহনের পর তারা দায়িত্ব গ্রহন ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন।

আজ বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে শুরু হওয়া এই শপথ গ্রহন সঞ্চালনা পরিচালনা করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিশাল বিজয় লাভ করে। নতুন মন্ত্রীসভায় ২০জন নতুন মুখ রয়েছেন।

২৪ জন মন্ত্রী হচ্ছেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন- শিল্প মন্ত্রণালয়ে কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ইমরান আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে স্বপন ভট্টাচার্য, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মো. মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
৩ জন উপমন্ত্রী হচ্ছেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বেগম হাবিবুন নাহার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী।

বঙ্গভবনের জনাকীর্ণ দরবার হলে প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানাসহ তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, জাতীয় সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিনবাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে হালকা আকাশি রংয়ের শাড়ি পরিহিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আস্থাশীল ও উজ্জীবিত মনে হচ্ছিল।

বিকেল তিনটা তিন মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরবার হলে প্রবেশ করার সময় সবাই দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এর কিছু সময় পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দরবার হলে প্রবেশ করেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে পদের জন্য শপথ গ্রহন করেন এবং এবং পরে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নেন। এরপরই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নেন।নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবন থেকে ফেরার সময় রাস্তার দু’পাশে সমবেত জনতা তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাজধানীর রাজউক এভিনিউ ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল।

বান্দরবান সেনাবাহিনী কতৃক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান,উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও শীতার্থদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ

নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবান সেনা জোন এর আওতায় বান্দরবানের গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান,নিস্ব:ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও শীতার্থদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।সোমবার সকালে বান্দরবান সেনা জোন এর আয়োজনে জোন কমান্ডারের কার্যালয় প্রাঙ্গনে এই শিক্ষা-চিকিৎসা সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান, উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকার শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে বান্দরবান সেনা জোন (২৬ বীরের) জোন কমান্ডার লে:কর্ণেল এস এম আব্দুল্লাহ আল-আমিন (পিএসসি), জোন উপ-অধিনায়ক মেজর জাহিদুল ইসলাম, জোনাল স্টাফ অফিসার মেজর,মো:আল-জাবির আসিফ, এস এম মো:কামিরুল ইসলাম, সার্জেন্ট আল আমিনসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদ মর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।এসময় জোন কমান্ডার লে:কর্ণেল এস এম আব্দুল্লাহ আল-আমিন (পিএসসি) উপস্থিত গরীব ও অসহায়দের শিক্ষা-চিকিৎসা সহায়তা এবং শীতার্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং বলেন, সেনাবাহিনী দুর্গম পাহাড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতে এই উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান থাকবে।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান,পূর্ণ মন্ত্রী হলেন বীর বাহাদুর

নিউজ ডেস্কঃ-সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হলেন ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং।তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষেদে শপথ নিবেন বীর বাহাদুর। এর আগে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।দীর্ঘদিন পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হলো এলাকার একজনকে। ১৯৯৮ সালে মন্ত্রণালয়টি গঠনের সময়ে খাগড়াছড়ির প্রয়াত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।পরে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।রোববার সকালে গণভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ নিতে বীর বাহাদুরকে ফোন করা হয়।এর পর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বীর বাহাদুরের নিজ এলাকা বান্দরবানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সর্বত্রই এখন উৎসবের অমেজ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা এখন আনন্দের বন্যায় ভাসছেন। মিষ্টি বিতরণ হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে যারা নির্বাচনে বীর বাহাদুরের জয়লাভের জন্য বেশি খেটেছেন তাদের আনন্দের সীমা নেই।খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতেও উৎসবের বন্যা বইছে। নেতা-কর্মীরা বীর বাহাদুরকে শুভেচ্ছা জানাতে দলে দলে ছুটছেন ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায়। সেখানে জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে।এদিকে ক্ষুদ্ধ অপর পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটির নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সমতা আনতে এবার দিপংকর তালুকদারকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় হতাশ জেলার বাসিন্দারা।জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ জানান,প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এটি পাহাড়ি জনপদের লোকজনদের জন্য সৌভাগ্যের।প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে সফল ছয় ছয় বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রী করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবিও ছিল একটাই। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশা সফল হয়েছে। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।তিনি বলেন, মন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ধারা বয়ে যাবে বলে আশা আমাদের।১৯৯১ সালে বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের ফুটবল খেলোয়াড় বীর বাহাদুর উশৈসিং। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পর পর ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচানে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বীর বাহাদুর।তবে একইসঙ্গে রাঙ্গামাটিতে সিনিয়র নেতা দিপংকর তালুকদার ও খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল জয়ী হওয়ায় এবার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে দেয়া হয় তা নিয়ে পাহাড়ের নেতাদের মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ।শেষ পর্যন্ত মুকুট পরলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং।

বাংলাদেশের ঘূর্ণি তোপে হোয়াইটওয়াশ উইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্কঃ-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিনজালে আটকে অ্যান্টিগা-জ্যামাইকার ‘দুঃখ’ ভুলিয়ে দিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের পর মিরপুরেও ঘূর্ণিফাঁদ পেতে ক্যারিবীয়দের নাকাল করেছে টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট জয়টি এসেছে ইনিংস ও ১৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের পর কোনো দলকে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। সঙ্গে লাল-সবুজরা এই প্রথম ইনিংস ব্যবধানে কোনো টেস্ট জিতল।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষকে প্রথমবার ফলো-অনে ফেলার পর ঝটপট উইকেট তুলে তৃতীয় দিনের চা-বিরতির আগেই ম্যাচ শেষ করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এ অফস্পিনার প্রথম ইনিংসে ৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৫ উইকেট।

দুই ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০ উইকেট পড়ল স্পিনে। চট্টগ্রামের পর মিরপুর টেস্টেও ক্যারিবীয়দের ২০ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের স্পিন-চতুষ্টয়। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও নাঈম হাসান।

মিরপুরে এ পর্যন্ত ৫ টেস্ট জয়ে প্রতিপক্ষের ৯২ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। দুটি রান আউট আর দুই ব্যাটসম্যান চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামেননি। পেসাররা নেন মাত্র ৪ উইকেট। এ ম্যাচে টাইগারদের একাদশে বিশেষজ্ঞ কোনো পেসার রাখার প্রয়োজন পড়েনি সে কারণেই!

ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দেয় রোববার তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টায় উইন্ডিজের শেষ ৫ উইকেট তুলে নিলে। আগের দিন ৫ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান তোলা ক্যারিবীয়রা যোগ করতে পারে আর মাত্র ৩৬ রান। ১১১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ফলো-অনে পড়ে আবারও ব্যাটিংয়ে নামে তারা। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থাকা দলটি অলআউট হয় দুইশ পার করার পর।

বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে নেতৃত্ব দেন মিরাজ। মিরপুর টেস্টে মোট ১২ উইকেট নিয়ে নাম লেখান সাকিব আল হাসানের পাশে। ম্যাচে দুইবার ১০ উইকেট শিকার করা একমাত্র বাংলাদেশি বোলার ছিলেন এ বাঁহাতি স্পিনার। অধিনায়কের কীর্তিতে ভাগ বসালেন খুলনার তরুণ।

২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরাজ শিকার করেন ১২ উইকেট। সেই মিরপুরে এবার উইন্ডিজের বিপক্ষে নিলেন ১২ উইকেট। কম রান দেয়ায় এটিই থাকছে এগিয়ে। ম্যাচে একবার করে ১০ উইকেট শিকার করা অন্য দুই বোলার এনামুল হক ‍জুনিয়র ও তাইজুল ইসলাম।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯ রানে হারিয়েছিল প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। দ্বিতীয় ইনিংসে একই রানে তারা হারায় ৪ উইকেট। চরম ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে এবারও হাল ধরেন শিমরন হেটমায়ার। শাই হোপের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়োল্লাসের অপেক্ষা বাড়ান।

হার নিশ্চিত জেনেই আক্রমণে যান হেটমায়ার। টি-টুয়েন্টি স্টাইলে খেলে ৯২ বলে করেন ৯৩ রান। মাত্র একটি চার মারলেও ছক্কা হাঁকান ৯টা। মিরাজের বলেই ধরা পড়েন এ বাঁহাতি। অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে লংঅনে মিঠুনের হাতে ক্যাচ তুলে দিতেই লেজ বেরিয়ে পড়ে ক্যারিবীয়দের।

চার মাস আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে নাভিশ্বাস উঠেছিল বাংলাদেশের। ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ২-০তে সিরিজ হারের বেদনা জাগ্রত রেখেই খেলতে নামে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ঘরের মাঠে পেয়ে সেই যন্ত্রণা ফিরিয়ে দিল। ক্যারিবীয়রা পেস তোপে নাকাল হয়েছিল টাইগাররা। এবার তাদের স্পিনবিষে নীল করলেন মিরাজ-সাকিব-তাইজুল-নাঈমরা।

বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন উইন্ডিজের পাঁচ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন বোল্ড হয়ে। যেখানে মিরাজের শিকার ৩ উইকেট। তৃতীয় দিনের সকালে প্রতিরোধ গড়া শিমরন হেটমায়ারকে সোজা ব্যাটের শটে দারুণ ক্যাচ নিয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন এ বাঁহাতিকে। করে যানন ৩৯ রান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৫৭ রান। ২৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর এই জুটিটাই ছিল সফরকারীদের শেষ ভরসা।

দেবেন্দ্র বিশু নেমেই মিরাজের শর্ট বলে কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে সিলিতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলামের হাতে। বিশু জোরের উপর খেললেও বলের উপর থেকে চোখ সরাননি সাদমান। লুফে নেন দারুণ ক্যাচ। ঝটপট দুই শিকার করে ষষ্ঠবার ৫ উইকেট কীর্তিতে নাম লেখান মিরাজ। কেমার রোচ এসেও সময় নেননি সাজঘরে ফিরতে। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজের বলেই।

মিরাজকে সপ্তম উইকেট দিয়ে ডওরিচ ফেরেন দলের রান একশ পার করে। ৩৭ রান করা এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হন এলবিডব্লিউ। রানের খাতা খোলার আগেই ক্যারিবীয়দের শেষ ব্যাটসম্যান লুইস সাকিবের ঘূর্ণিতে হন এলবিডব্লিউ। পরের ইনিংসে মিরাজের সপ্তবার টেস্ট ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়ার পাকে পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হারল সফরকারীরা।