আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৫ অপরাহ্ন    

Home » খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন বাসন্তী চাকমা

বান্দরবান অফিসঃ-  একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভা শেষে নাম ঘোষণা করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের জন্য একযোগে ৪১ জনের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত আসন ৪৩টি। সেই হিসাবে এখনও দুটি আসনের মনোনয়ন বাকি রয়েছে।

শুক্রবার রাতে মনোনয়নপ্রাপ্ত যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন— কুমিল্লার আঞ্জুম সুলতানা, সুলতানা নাদিরা-বরগুনা, হোসনে আরা-জামালপুর, রুমানা আলী-গাজীপুর, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাবিবা রহমান খান (শেফালি)-নেত্রকোনা, শেখ এ্যানি রহমান-পিরোজপুর, অপরাজিতা হক-টাঙ্গাইল, শামীমা আক্তার খানম-সুনামগঞ্জ, শামসুন্নাহার ভূঁইয়া-গাজীপুর, ফজিলাতুন নেসা-মুন্সীগঞ্জ, রাবেয়া আলীম-নীলফামারী, তামান্না নুসরাত বুবলী-নরসিংদী, নার্গিস রহমান-গোপালগঞ্জ, মনিরা সুলতানা-ময়মনসিংহ, নাহিদ ইজহার খান-ঢাকা, মোসাম্মৎ খালেদা খানম-ঝিনাইদহ, সৈয়দা রুবিনা মিরা-বরিশাল, ওয়াসিকা আয়েশা খান-চট্টগ্রাম, কাজী কানিজ সুলতানা-পটুয়াখালী, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার-খুলনা, সুবর্ণা মুস্তাফা-ঢাকা, জাকিয়া তাবাসসুম-দিনাজপুর, ফরিদা খানম (সাকী) নোয়াখালী, বাসন্তী চাকমা-খাগড়াছড়ি, কানিজ ফাতেমা আহমেদ- কক্সবাজার, রুশেমা বেগম-ফরিদপুর, সৈয়দা রাশিদা বেগম-কুষ্টিয়া, সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন-মৌলভীবাজার, আদিবা আনজুম মিতা-রাজশাহী, আরমা দত্ত-কুমিল্লা, শিরিনা নাহার-খুলনা, ফেরদৌসী ইসলাম জেসী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পারভীন হক সিকদার-শরীয়তপুর, খাদেজা নুসরাত-রাজবাড়ী, শবনম জাহান শিলা-ঢাকা, খাদিজাতুল আনোয়ার-চট্টগ্রাম, জাকিয়া পারভীন খানম-নেত্রকোনা, তাহমিনা বেগম-মাদারীপুর, শিরীন আহমেদ-ঢাকা এবং জিন্নাতুল বাকিয়া-ঢাকা।
এর আগে ২০১৪ সনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন রাঙামাটির ফিরোজা বেগম চিনু। এবার পেলেন খাগড়াছড়ি বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ট্রাস্টি ও মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বাসন্তি চাকমা। ১৯৯১ সনের পর এবার প্রথমবারের মত সংরক্ষিত নারী আসনে খাগড়াছড়িবাসী এমপি পেতে যাচ্ছেন।

রামগড়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে জেএসএস (সংস্কার) নেতা নিহত

নিউজ ডেস্কঃ- খাগড়াছড়ির রামগড়ে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ কর্তৃক অর্তর্কিত গুলি করে জেএসএস (সংস্কার)র উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রামগড়ের জগন্নাথ পাড়াস্থ চিনছড়িপাড়া রাস্তার মাথায় জেএসএস(সংস্কার)র উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোহন কুমার ত্রিপুরা (৩০) গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক রতণ কুমার খীসা জানিয়েছেন তার শরীরে মোট ৩টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত মোহন মাটিরাঙ্গা উপজেলার থলিচন্দ্র মহাজন পাড়ার কৃষ্ঞ ত্রিপুরার ছেলে বলে জানা গেছে।

এদিকে মোহন সংস্কারপন্থী হওয়ায় তাকে কে ইউপিডিএফ কর্মীরাই গুলি করে পালিয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেছে নিহতের ছোট ভাই সুমন ত্রিপুরা। নিহত মোহন ২কণ্যা সন্তানের জনক এবং সে রামগড় সদরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতো বলে জানা গেছে।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তদন্তপপূর্বত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান,পূর্ণ মন্ত্রী হলেন বীর বাহাদুর

নিউজ ডেস্কঃ- সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হলেন ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং।তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষেদে শপথ নিবেন বীর বাহাদুর। এর আগে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।দীর্ঘদিন পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হলো এলাকার একজনকে। ১৯৯৮ সালে মন্ত্রণালয়টি গঠনের সময়ে খাগড়াছড়ির প্রয়াত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।পরে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।রোববার সকালে গণভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ নিতে বীর বাহাদুরকে ফোন করা হয়।এর পর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বীর বাহাদুরের নিজ এলাকা বান্দরবানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সর্বত্রই এখন উৎসবের অমেজ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা এখন আনন্দের বন্যায় ভাসছেন। মিষ্টি বিতরণ হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে যারা নির্বাচনে বীর বাহাদুরের জয়লাভের জন্য বেশি খেটেছেন তাদের আনন্দের সীমা নেই।খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতেও উৎসবের বন্যা বইছে। নেতা-কর্মীরা বীর বাহাদুরকে শুভেচ্ছা জানাতে দলে দলে ছুটছেন ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায়। সেখানে জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে।এদিকে ক্ষুদ্ধ অপর পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটির নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সমতা আনতে এবার দিপংকর তালুকদারকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় হতাশ জেলার বাসিন্দারা।জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ জানান,প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এটি পাহাড়ি জনপদের লোকজনদের জন্য সৌভাগ্যের।প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে সফল ছয় ছয় বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রী করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবিও ছিল একটাই। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশা সফল হয়েছে। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।তিনি বলেন, মন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ধারা বয়ে যাবে বলে আশা আমাদের।১৯৯১ সালে বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের ফুটবল খেলোয়াড় বীর বাহাদুর উশৈসিং। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পর পর ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচানে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বীর বাহাদুর।তবে একইসঙ্গে রাঙ্গামাটিতে সিনিয়র নেতা দিপংকর তালুকদার ও খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল জয়ী হওয়ায় এবার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে দেয়া হয় তা নিয়ে পাহাড়ের নেতাদের মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ।শেষ পর্যন্ত মুকুট পরলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং।

তিন পার্বত্য জেলায় ভারতীয় অনুদানে স্কুল ভবন

নিউজ ডেস্কঃ- দেশের তিন পার্বত্য জেলার প্রান্তিক এলাকায় উচ্চ ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ভবন তৈরি করে দেবে ভারত। পাঁচ কোটি ৮৫ লাখ ব্যয়ে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে এ ভবনগুলো তৈরি করা হবে।ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাঙামাটির জেলার ঠেগা খুব্বাং উচ্চ বিদ্যালয় (এটি হবে এই এলাকায় প্রথম চার তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন), বান্দরবানের মাতামুহুরি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং খাগড়াছড়ির গাছবান নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ঠেগা খুব্বাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র চাকমা, মাতামুহুরি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উ উই চারা ভিক্ষু, গাছবান নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূপতি চাকমা।

পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের চাঁদা প্রদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ৫ ঠিকাদার ৩৭লাখ টাকাসহ আটক

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-পাহাড়ের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ’র) দাবীকৃত চাঁদা প্রদানকালে হাতেনাতে বহুল বিতর্কিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাকির এন্টারপ্রাইজ এর পাঁচ সহযোগি ঠিকাদারকে ৩৭ লাখ টাকাসহ আটক করেছে পুলিশ।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে মাইসছড়ি বিজিতলা এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে তল্লাসী চালিয়ে টাকাসহ তাদের আটক করে।আটককৃতদের মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকালে আদালতে প্রেরন করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আটকৃকতরা হলেন-কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো:মাইন উদ্দিন (২৮), একই উপজেলার মহিউদ্দিনের ছেলে মো:শফিকুল ইসলাম (৩৫),চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানার মো: সাইফুল ইসলামের ছেলে মো:আলমগীর হোসেন (২৩),খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ফাতেমানগরের মো:সাহাব মিয়ার ছেলে মো:জসিম উদ্দিন (৩০) ও মাটিরাঙা উপজেলার মো: নুরুল আমিনের ছেলে মো:আল আমিন (১৬)।পুলিশ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানায়,খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জাকির এন্টার প্রাইজের অধিনে খাগড়াছড়ি জেলায় ৩২টি পাকা ব্রীজের কাজ চলমান রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে জাকির এন্টারপ্রাজের সত্ত্বাধিকারী জাকির হোসেনকে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীতগ্রুপ) ১ কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল।এর আগেও সংগঠনটিকে দাবীকৃত চাঁদার কিছু টাকা পরিশোধ করেছে বলে নাম প্রকাশ না শর্তে সহযোগী এক ঠিকাদার জানান।সম্প্রতি চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ চাপ প্রয়োগ করার কারনে সোমবার রাতে ৫ সহযোগী ঠিকাদারকে দিয়ে ৩৭ লক্ষ টাকা পাঠায়। গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিজিতলা আর্মিক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পাহারা চৌকি বসিয়ে তাদের আটক করে।এ বিষয়ে জাকির এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী জাকির হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘‘ইউপিডিএফসহ পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবী করে আসছিল।কিছুদিন কাজও বন্ধ করে রাখা হয়।কিন্তু কোন আমি তাদের কোনো চাঁদা দিইনি,আমি তাদের দেব দিচ্ছি বলে আশ্বাস দিয়ে আসছিলাম’’।জব্দকৃত টাকাগুলো শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাওয়াকালে পুলিশ জব্দ করেছে দাবী করেন এই ঠিকাদার।থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাৎ হোসেন টিটু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আটকৃকতরা স্বীকার করেছে জব্দকৃত টাকাগুলো পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ’র (প্রসীত গ্রুপ) দাবীকৃত চাঁদা দেয়ার জন্য নেয়া হচ্ছিল।আসামীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা রুজু হয়েছে।এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বাঘাইছড়িতেও ব্রীজের কাজ চলছে বলে জানাগেছে।উক্ত ব্রীজ নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিলো বেশ কয়েকবার।

খাগড়াছড়ি রিজিয়ন এর উদ্যোগে ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইফতার পূর্ববর্তী সময়ে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি সামাজিক দিক থেকে এমন অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা খাগড়াছড়িতে জনসাধারণের নিরাপত্তা প্রদানসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, গুইমারা রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, বিজিবি সেক্টরের অধিনায়ক কর্ণেল গাজী মুহাম্মদ সাজ্জাদ, এপিবিএন ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মো: আওরঙজেব মাহবুব, জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আলী আহমদ খানসহ সামরিক বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবারবর্গ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান,অর্থ ও বিপুল সরঞ্জামসহ আটক-১

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ও বিপুল সরঞ্জামসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।শুক্রবার (২৫ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা সদরের গিরিফুল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়,ইউপিডিএফ’র প্রসীতের সশস্ত্র গ্রুপের একটি বৈঠক চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী গিরিফুল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।পরে আস্তানাটি তল্লাশী চালিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা, অস্ত্র বহনের ৭টি বড় ব্যাগ,বেশ কিছু মোবাইল ফোন ও অন্যান সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

পাহাড়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল,নেপথ্যে আধিপত্য আর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিতে বাংলাদেশ সরকার অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। দেশের ভূ-খন্ড রক্ষার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল ঘোষণা দিয়ে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর উগ্রপন্থী শান্তিবাহিনীর সাথে চুক্তি করে সরকার। যেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই দশক অতিবাহিত হলেও সমাধান হয়নি পাহাড়ের সমস্যা। দিনদিন দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। গত ৬ মাসে ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) ও জনসংহতি সমিতি এমএন লারমার ২১ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন তিন পার্বত্য জেলায়।

চুক্তি পরবর্তী সময়ে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা পিসিজেএসএস নামে আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করে। অপরদিকে, চুক্তির বিভিন্ন ধারার বিরোধীতা করে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে আত্মপ্রকাশ ঘটে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ’র। মতার্দশের অমিলে ২০০৭ সালে ভাঙ্গন ধরে পিসিজেএসএস এ। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রথম নির্বাচিত সাংসদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার আর্দশপন্থী আত্মসমর্পণকারী পিসিজেএসএস নেতারা বিভক্ত হয়ে পিসিজেএসএস-এমএন লারমা নামে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। সবশেষ ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভাঙ্গন ধরে ইউপিডিএফ’র মাঝে। এনিয়ে চুক্তির পক্ষ বিপক্ষের চারটি সংগঠন দাঁড়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, বিগত ৬ মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে ২১ জন খুন হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ থাকলেও গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তা আবার শুরু হয়। এতে করে উদ্বেগ বাড়ে পাহাড়ে।গত ৩ ও ৪ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও এমএন লারমার কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শক্তিমান চাকমা এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৬ জন খুন হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২১ মে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় উজ্জল কান্তি চাকমা নামে ইউপিডিএফর এক সাবেক সদস্য খুন হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।

নাম না ছাপানোর শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনের মূল কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তার। ইউপিডিএফর সামরিক শাখার কমান্ডার তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা নতুন দল(গণতান্ত্রিক) ঘটনার পর থেকে ইউপিডিএফর ১০ নেতাকর্মী খুন হওয়া, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন এলাকার আধিপত্য কমতে থাকে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন ছিনিয়ে নিতে অনেক আগে থেকে মরিয়া ইউপিডিএফ। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক শত্রু পিসিজেএসএসর সাথে সখ্যতা বৃদ্ধি করে ইউপিডিএফ। কিন্তু বিগত ছয়মাসে ইউপিডিএফর আধিপত্যের ধস মোকাবেলায় করতে গিয়ে পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠছে।

এমএন লারমার রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক বিভূরঞ্জন চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ পাহাড়ের শান্তি চায় না। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে পাহাড়ে শান্তি ফেরার কথা। কিন্তু তাদের বিরোধীতার কারণে শান্তির পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বলয় থেকে যে বের হয়ে প্রতিবাদ কিংবা রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের তারা হত্যা কিংবা গুম করছে। যার প্রমাণ মিলে তপন জ্যোতি চাকমাসহ অন্যান্যদের খুন হওয়ার ঘটনায়। পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পাহাড়ী জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে জেএসএসর সাথে সমঝোতার বিষয়টি আংশিক সত্য জানিয়ে ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা বলেন, ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিরোধীতা করেনি। চুক্তির কিছু ধারার বিরোধীতা করে আসছে। বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করে চুক্তির বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউপিডিএফর জনপ্রিয়তা বাড়ছে দাবি করে তিনি বলেন, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থি জয়ী হলেও সংসদে যেতে দেয়া হয়নি। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ইউপিডিএফ যেকোন সমঝোতা করতে পারে।

সম্প্রতি সময়ের হত্যাকান্ডের বিষয়ে বলেন, তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা একসময় ইউপিডিএফর সাথে থাকলেও সাংগঠনিক বিরোধী কর্মকান্ডের অপরাধে তাকে বহিস্কার করা হয়েছি। এমএন লারমা সমর্থিতদের ছত্রছায়া সে ও ইউপিডিএফ থেকে বিভিন্ন সময় বহিস্কৃতরা মিলে নতুন সংগঠন করে। কিন্তু পাহাড়ী জনগণ সেটিকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নয় নব্য মুখোশ বাহিনী হিসেবে তাদের চিনে। বর্মাসহ অন্যান্য হত্যাকান্ডের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী না করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানান তিনি।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান বলেন, সম্প্রতি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। কয়েকজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশসহ যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

এ শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব…!!!

মাহের ইসলামঃ-দিনে দুপুরে একটা জেলা শহরে দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে যদি শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয় – তাহলে ঘটনাকে কিভাবে দেখা হবে? বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে, আমাদের মানবিক বা সামাজিক গুণাবলী এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, আমরা এটাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে উপেক্ষা করতে পারি।

এরকম একটা ঘটনা যদি ঘটার পরে, কোন জাতীয় দৈনিক সেটা প্রকাশে ব্যর্থ হয়- তাহলে ঐ পত্রিকার পেশাদারিত্বের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার দায় আমার মত সাধারণ পাঠকের কতটুকু বর্তাবে তা অবশ্য আমার জানা নেই। আমার এই অজ্ঞানতা স্বীকার করতে আমার দ্বিধা নেই।

প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কোন কারণে এমন একটি সংবাদ চেপে গিয়ে থাকেন বা প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণে বিরত থাকে– তাহলে মানবিক গুণাবলীর মানদণ্ডে তার নৈতিকতা আর পেশাদারিত্বের নিক্তিতে তার সততা ও আন্তরিকতার পাল্লা হালকা বলে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ কতটুকু আছে।

এক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার যথার্থতা কিংবা পেশাদারিত্বের মানের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা করা কিংবা আলোচনা/সমালোচনা করা হলে তাও আবার খোলা মনে মেনে নেয়ার মানসিকতা কোন পর্যায়ে কতটুকু আছে – সে বিষয়ে বিস্তর সন্দেহের অবকাশ আছে।উপরের কথাগুলো, দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গতকাল খাগড়াছড়ি শহরে সংঘটিত গুলি বিনিময়ের ঘটনাকে উপলক্ষ করে লেখা। স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে যা জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে অন্তত ৩০/৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যে প্রায় শতাধিক রাঊন্ড গুলি ছুঁড়ে। ভয়ে বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং বাড়ী-ঘর ছেড়ে পালিয়েও যায় অনেকে। সাথে সাথেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকায় তল্লাসী শুরু করে।

যদিও সংবাদে উল্লেখ করা ছিল, এই ঘটনায় কারা জড়িত থাকতে পারে– কিন্তু ইচ্ছে করেই তা উল্লেখ করা হলো না। (তবে অনুসন্ধানী পাঠক চাইলে (https://bit.ly/2KJ1lHl) লিংক থেকে বিস্তারিত দেখে নিতে পারেন।) কারণ, ঐ সন্ত্রাসিরা এ লেখার প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। এ পাঠকদের দৃস্টি আকর্ষণের চেষ্টা অন্যদিকে।

যেকোনো মানুষের দৃষ্টিতে যারা এটা ঘটিয়েছে, তারা সন্ত্রাসী – সে যে দলেরই হোক না কেন। তাদের পরিচয় সাধারণ মানুষের জানা দরকার। কিন্তু, তার চেয়েও বেশি দরকার এটা জানা যে,বাংলাদেশের অনেক বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র এই ঘটনাটি বেমালুম চেপে গেছে। যারা দিনে দুপুরে জেলা শহরের একটা বাজারে শতাধিক রাউন্ড গোলাগুলি করল, তারা অবশ্যই অপরাধী।

তাদেরকে কি বলা যায়, যারা জানা সত্ত্বেও এবং দায়িত্বের মধ্যে পড়া সত্ত্বেও এটা অন্যদের কাছ থেকে গোপন করল- তারা কি তাদের পেশাদারী দায়িত্ব বা নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন?

আমাদের দেশের বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা সম্ভবত জনগণকে তেমন একটা নাড়া দেয় না আজকাল। ব্যাপারটা অনেকটাই ট্র্যাফিক জ্যাম বা বর্ষাকালের রাস্তায় জলাবদ্ধতার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর্যায়ে হয়ত চলে যেতে পারে একটা সময়।

আর এখন যদি দেখি যে, দুই দল সন্ত্রাসীর গোলাগুলির ঘটনা, তাও আবার আড়ালে বা লুকিয়ে নয়, রীতিমত জেলা শহরে এবং প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটছে। অথচ সংবাদপত্রে স্থান পাচ্ছে না।

ধরুন এই ঘটনাটি সমতলের কোনো জেলায় ঘটেছে- তাহলে কী হতো? সাথে সাথে টিভি চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও জাতীয় পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ব্রেকিং চলে আসতো। টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত লাইভ বা পরবর্তী নিউজ বুলেটিনেই খাগড়াছড়ি থেকে স্থানীয় প্রতিনিধিদের লাইভ বক্তব্য ও ফুটেজ প্রচার করা হতো। রাতের টকশোগুলোতে দেশের বিদগ্ধ আলোচকরা কথা বলতেন এ নিয়ে। তাদের সাথে লাইভ যুক্ত করা হতো স্থানীয় প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। কিন্তু খাগড়াছড়ির এ ঘটনায় কিছুই ঘটেনি। শুধু খাগড়াছড়ি বলে নয়, পাহাড়ে এরকম বা এর চেয়েও আলোচিত শত শত ঘটনার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত একই প্রতিক্রিয়া দেখানো হয় গণমাধ্যমে।

কাজেই এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠতে পারে যে, যে গণমাধ্যম সমতলে এতো ভাইব্রান্ট, সে গণমাধ্যম পাহাড়ের ক্ষেত্রে এতোটা উদাসীন কেন? কিম্বা যেসব গণমাধ্যমের প্রতিনিধি সমতলে ব্যাপক সক্রিয় তাদেরই পাহাড়ের প্রতিনিধিরা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এতোটা নিস্ক্রিয় থাকে কী করে?

তখন অবশ্যম্ভাবীভাবে একটা কথাই শুধু বলা যেতে পারে–এ শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব !

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ: এলাকায় আতঙ্ক

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-খাগড়াছড়ি সদরের স্বণির্ভর বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকা দখলে নিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।এতে কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে। মঙ্গলবার দুপুরে বাজারের উত্তর পাশের রাবার কারখানা এলাকা ও চেঙ্গী নদীর পশ্চিম পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ ও নবসৃষ্ট্ ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের মধ্যে গোলাগুলির অভিযোগ করলেও তা অস্বীকার করেছে প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ।

গত কয়েকদিন ধরে মূখোশ বাহিনী (ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে আত্ম প্রকাশ কারী) দলের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রর্দশন, চাঁদাদাবী, হুমকির বিষয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ করেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে উল্টো অভিযোগ আনেন ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ইউপিডিএফ সংগঠক অংগ্য মারমা। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদেও আটকের দাবী জানান।
এ সময় তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ধরণের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হঠাৎ করে রাবার কারখানা এলাকার ঐদিকে গুলির শব্দ শোনা যায়। তার কিছুক্ষণ পরে নদীর পশ্চিম পাড় থেকেও গুলির শব্দ আসে। বাজারের ক্রেতা বিক্রেতার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বিজিবিরা এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে বাজারের সবক’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি-পানছড়ি আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পরিবহনে তল্লাশি করছে পুলিশ ও বিজিবি। ঘটনার পর খবংপুড়িয়া ও স্বর্ণিভর এলাকায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী।খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্বণির্ভর বাজারে অর্ধশত রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। এবিষয়ে ইউপিডিএফ ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের মুখপাত্রদের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে- ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক অনি চাকমা এক বিবৃতিতে দীঘিনালা উপজেলাধীন মেরুং ইউনিয়নে উজ্জ্বল কান্তি চাকমা ওরফে মার্শাল নামে সাবেক এক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি করেছেন।

হত্যার ঘটনায় জেএসএস সংস্কারবাদীদের দায়ি করে বলেন, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ৫৫ বছর বয়ষ্ক মার্শালকে গুলছড়ি রাখাল মহাজন পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের পিতার নাম মৃত গৌতম বুজ্জে চাকমা। ইউপিডিএফ এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ নিরন চাকমা প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।