আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৩ অপরাহ্ন    

Home » আইন আদালত

আইন আদালত

ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়ে হাইকোর্টের আদেশ, লাপাত্তা বিএনপি নেতারা

নিউজ ডেস্কঃ-  গত ২০ বছরের ব্যাংকিং খাতের ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিকে হাইকোর্ট ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা চাওয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কারণ বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসার নাম করে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে ফেরত দেননি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোসাদ্দেক আলী ফালু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো নেতারা। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ পাচারের অভিযোগ। হাইকোর্টের আদেশে হঠাৎ করে লাপাত্তা হয়ে গেছেন উক্ত নেতারা। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তথ্য চাওয়ার পর থেকেই দলের ভেতর অসন্তোষ ও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ব্যবসায়ী নেতারা হাইকোর্টের আদেশের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ারও চেষ্টা করছেন। যদিও অনেক নেতা বলছেন, আদালতের আদেশে ভয়ের কিছু নেই।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফালু, আমির খসরুর মতো সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরুপ, বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খন্দকার মোশাররফ, মিন্টু ও ফালুর বিরুদ্ধে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে অর্থ পাচারের জন্য দুদক মামলা করেছে। এর মধ্যে ফালুর যাবতীয় সম্পদ ক্রোক করে নেয়ারও আদেশ দিয়েছেন আদালত। মোশাররফ ও মিন্টু দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় জামিনে রয়েছে। আমির খসরুর বিরুদ্ধেও মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, নতুন করে ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চাওয়ায় ঘাপটি মেরে বসেছেন বিএনপির অভিযুক্ত নেতারা। অনেক চেষ্টা করেও মিন্টু, খসরু ও ফালুকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন মামলা থেকে বাঁচতে তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

বিএনপি নেতাদের এমন লুকাচুরির বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আদালত নতুন করে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়েছেন শুনেছি। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বিএনপির নেতারা অনেকেই ব্যবসা করেন। বিভিন্ন কারণে দেশে-বিদেশে টাকা পাঠাতে হয়। এগুলোকে তো অর্থ পাচার বলা যায় না। হ্যাঁ, এটি সত্য যে কজন নেতা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে অল্প কিছু টাকা বেনামে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এগুলোর বিচার চলছে। নতুন করে নাম চাওয়াটা আমাদের জন্য খানিকটা বিব্রতকর। ক্ষমতায় থাকলে ছোট-খাটো ভুলত্রুটি হতেই পারে। এটার জন্যে তো ঢোল পিটিয়ে বদনাম করার কিছু নেই। আমরা রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে আছি। এখন বিচারিকভাবে চাপে রাখলে তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। যদিও আমি দেশছাড়ার পক্ষে নই। আমি ঘোষণা দিতে চাই, বিএনপির যে সব নেতারা নতুন করে ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত হবেন তাদের মামলাগুলো পরিচালনা করার দায়িত্ব নিব আমি। ভয়ের কিছু নেই।

বান্দরবানে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

সিএইচটি টাইমস নিউজ,বান্দরবানঃ- বান্দরবান শহরের সরকারি পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিশু ধর্ষণের আসামি অংথুই প্রু মারমা (৩০) নামে এক যুবককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।সোমবার (২৮ জানুয়ারি) বান্দরবানের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হ্লা মং আসামির উপস্থিতিতে এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অংথুই প্রু মারমা শহরের মধ্যম পাড়ার মৃত চিংশৈউ মারমার ছেলে এবং ঘটনার সময় ওই স্কুলের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।মামলার ঘটনায় জানা যায়, স্কুল দপ্তরি অংথুই মারমা ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ দিত। সে সুযোগে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির (৮) ও চতুর্থ শ্রেণির (১০) দুই ছাত্রীকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকরা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আসামি অংথুই মারমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এ ব্যাপারে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা ন্যায় বিচার পেয়ে খুশি ও আনন্দিত। ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের অপরাধ করতে না পারে সে জন্য অপরাধীর উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমাদের কাম্য ছিল।লিগ্যাল এইড প্যানেল আইনজীবী কৌশিক দত্ত ও মেমাচিং চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বান্দরবানের অত্যন্ত দুর্গম রোয়াংছড়ির জামছড়ি থেকে তারা আমাদের কাছে এসে আইনি সহযোগিতা চেয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারকে আমরা আইনি সহযোগিতা দিতে পেরে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।

শিশু হত্যার দায়ে বান্দরবানে সৎ মায়ের যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানে ৯ বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে শিশুর সৎমা সাবেকা আক্তারকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

সোমবার বিকালে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ হ্লামংয়ের আদালত এই আদেশ দেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি জেলা সদরের কালাঘাটায় নিজ বাড়িতে ক্যান্টনম্যান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু সানজিদা খানম (৯) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সৎ মা সাবেকা আক্তার। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করে।

এ ঘটনায় পুলিশ হত্যাকারী সৎ মাকে গ্রেফতার করে। পরে শিশুর মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে বান্দরবান সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় মঙ্গলবার বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ হ্লামং এর আদালত স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনে হত্যাকারী সৎ’মা সাবেকা আক্তার (২৮) এর যাবজ্জীবন কারাদÐ এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেদারুল আলম জানান, ২০১৫ সালের ৯ বছরের শিশুকে হত্যা মামলায় আদালত সৎ মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। রায়ের পর গ্রেফতার হত্যাকারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লামা মডার্ণ হাইস্কুল উদ্বোধন করলেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ

নিউজ ডেস্কঃ-  আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার অঙ্গিকার নিয়ে বান্দরবানের লামায় যাত্রা শুরু করল “লামা মডার্ণ হাইস্কুল”।লামা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র নুনারবিল এলাকায় শনিবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে বিদ্যালয়টির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ।সকাল হতে শুরু হওয়া দুই পর্বের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে স্কুলের শুভ উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি জ উ প্রু এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি, লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনিছুর রহমান, লামা সার্কেলের এএসপি আবু সালাম চৌধুরী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা জামাল, ফাতেমা পারুল, লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম, লামা থানা অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা, ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা, মিন্টু কুমার সেন, ছাচিংপ্রু মার্মা সহ প্রমূখ। এসময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্থানীয় জনসাধারণ, বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে লামা মডার্ণ হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটি। এখন সব অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভাল স্কুলে লেখাপড়া করাতে চায়। তবে ভাল স্কুলে না পড়লে ভাল মানুষ হওয়া যাবেনা এমন ধারনা ভুল। অনেকে গ্রামের পশ্চাৎপদ স্কুলে পড়েও এখন সমাজে অনেকে প্রতিষ্ঠিত। আমি তার উদাহরণ। ইচ্ছা থাকলে সফলতা সম্ভব। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। লামাবাসিকে আমি ভালবাসি বলে বারবার এখানে ছুঁটে আসি। আমার বিশ্বাস বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সকল প্রশাসন এই বিদ্যালয়টিকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিবে। আমার সমর্থের মধ্য সবচেয়ে ভালটা এই স্কুলের জন্য আমি করব। ১ম পর্ব আলোচনা সভা শেষে ২য় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীরা সেখানে নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন।

বাংলাদেশি ইসলামপন্থীদের ওয়াশিংটনের আসন্ন সফরে নতুন তথ্য উঠে এসেছে

নিউজ ডেস্কঃ-একটি হিংস্র দক্ষিণ এশিয় ইসলামী দল বাংলাদেশ সরকারের পতন ঘটাতে একটি গোপন চক্রান্তের আশ্রয় নিয়েছে। দলটির উদ্দেশ্য সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক প্রধান বিচারপতির হাতে দেশ নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করে দেওয়া।

জামায়াত-ই-ইসলামী বাংলাদেশ (জেআইবি) এর সাথে “গোপন মৌখিক চুক্তি” করেছে সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে নিজের প্রচারণা চালানোর জন্যই জামায়াতের সাথে এমন চুক্তি করেন তিনি। চুক্তিতে জামায়াত তাকে আর্থিক সহযোগিতা ও সুরক্ষা দিবে বলে আশ্বাস দেয়। সপ্তাহিক ব্লিটস রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম প্রথম হিন্দু বিচারিক পদে অধিষ্ঠিত এস কে সিনহা মানি লন্ডারিং এবং দুর্নীতির অভিযোগের পর দেশ ছেড়ে চলে যান এবং পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র দেন।

এই প্রতিবেদনটি আবারও উঠে এসেছে জেআইবির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাকের আগামী মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে আসাকে কেন্দ্র করে। ব্লাইটসের মতে, রাজ্জাক সিনহা’র সম্প্রতি প্রকাশিত আত্মজীবনীটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে “গণ বিদ্রোহ” শুরু করতে পারে যা শেষ পর্যন্ত সিংহের প্রত্যাবর্তনের দরজা খুলে দিতে পারে।

“জেআইবির নীতিনির্ধারকরা বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে তাদের ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসাবে বিবেচনা করছেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান নীতিতে আমেরিকান নীতিনির্ধারক এবং শীর্ষ বিচারিকদের মূল্যায়ন করার জন্য তাকে ব্যবহার করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে জেআইবির সদস্যরা বিচার বিভাগের সাক্ষাৎকারের জন্য বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে এয়ারটাইম কিনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মইনুল হোসেনের ৬ মাসের জামিন,মামলা স্থগিত

নিউজ ডেস্কঃ-রংপুর ও জামালপুরে দায়ের করা মানহানির মামলায় ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। একইসঙ্গে দুই মামলার কার্যক্রম ছয় মাস স্থগিত করে সেগুলোর নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রেজাউল করিম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। আদালতে মইনুল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা। টেলিভিশন টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তি করার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ই অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য করেছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা- সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি। একই অভিযোগ এনে জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আরেকটি মামলা হয়। যদিও মামলা দু’টিতে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন ব্যারিস্টার মইনুল। ওই দুই মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ভোলা ও কুড়িগ্রামেও মামলা হয়। এরমধ্যে একাধিক মামলায় পরোয়ানা জারি করেন বিচারিক আদালত।

গত ২২শে অক্টোবর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিউজ ডেস্কঃ-ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন (ফাইল ছবি) টেলিভিশন টক-শোতে নারী সাংবাদিক নিয়ে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার কারাবন্দি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তাকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে রংপুরের পুলিশ কমিশনার, কারারক্ষী ও জেল সুপারকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজির মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে একটি বোর্ড গঠন করে মইনুল হোসেনের চিকিৎসার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ারও দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৯ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত দু’টি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এরআগে, গত ৬ নভেম্বর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের নিরাপত্তার ও চিকিৎসা বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে তার স্ত্রী সাজু হোসেন দু’টি রিট দায়ের করেন। এরপর রিট দু’টি সোমবার কার্যতালিকায় এলে শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোয় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির উদ্দেশে ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাসুদা ভাট্টিসহ নারী সাংবাদিকরা মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। ঘটনার চার দিনেও ব্যারিস্টার মইনুল প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি।

মইনুলের মন্তব্যকে নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর দাবি করে একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জামালপুরের আদালতেও মামলা করেন একজন নারী। যদিও ওই দু’টি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। তবে একই ঘটনায় কুড়িগ্রাম ও রংপুরের আদালতেও আলাদা মামলা হয়। এর মধ্যে রংপুরের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পরে গত ২৩ অক্টোবর মইনুলকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলাম। ওইদিন বিকেলেই ঢাকার কেরানীগঞ্জস্থ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে। এরপর গত ৩ নভেম্বর ব্যারিস্টার মইনুল রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ৫ নভেম্বর তাকে রংপুরের আদালতে হাজিরের সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় ঘটে। পরে মইনুলের নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী সাজু হোসেন।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নিউজ ডেস্কঃ-সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে চার বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই কোটি টাকা জরিমানা বহাল রেখেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত তাকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে ওই আপিল করেছিলেন নাজমুল হুদা। আপিল খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আজ রোববার ৬৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়।
গত বছর ৮ নভেম্বর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ হুদা দম্পতির আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। এরপর আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলো।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতি একটি অভিশাপ। সমাজের সবক্ষেত্রে দুর্নীতি দেখা যায়। দুর্নীতির সমাজের নৈতিক অবস্থা নষ্ট করে এবং সরকারি কর্মচারীর দুর্নীতি কেবল নৈতিক অবস্থাই নষ্ট করে না বরং এটি জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি করা হলে তা জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
একই মামলায় নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদার তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে সিগমা হুদার কারাগারে থাকাকালীন সময়কে সাজা বলে গণ্য করে তিন বছরের কারাদণ্ড থেকে বাকিটা মওকুফ করা হয়েছে।
এ রায়ের ফলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে কারাগারে যেতে হবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার মালিকানাধীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য জনৈক মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন তারা।
২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামলাটিতে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২০ মার্চ নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট। পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এক ঘটনায় এত মামলায় হাইকোর্টের বিস্ময়

নিউজ ডেস্কঃ-সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী রোববারের (১১ নভেম্বর) মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রংপুর কারা ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে (সিভিল সার্জন) এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন আদালত।
একইসঙ্গে এই সময়ে রংপুর থেকে অন্য কোনো জেলায় স্থানান্তরের সময় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) পৃথক দুই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আগামী রোববার এই রিট আবেদন দুটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এ দিন শুনানিতে আদালত এক ঘটনায় এত মামলা হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, ক্ষুব্ধ ব্যক্তিবাদে অন্য কেউ এত মামলা কেন করে।
আদালতে ব্যারিস্টার মইনুলের পক্ষে পক্ষে করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
বিশেষায়িত হাসপাতালে ব্যারিস্টার মইনুলের চিকিৎসা ও রংপুর আদালতে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মইনুলের স্ত্রী সাজু হোসেন এ রিট দায়ের করেন।
রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের (মহাপরিদর্শক) আইজিপি, আইজি প্রিজন কারা কর্তৃপক্ষ ঢাকা, আইজি প্রিজন কারা কর্তৃপক্ষ রংপুর, সিভিল সার্জন ঢাকা, সিভিল সার্জন রংপুর, জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর ব্যারিস্টার মইনুল রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়। রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় গত ২২ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রংপুরের বাসিন্দা মিলি মায়া বেগম ২২ অক্টোবর আদালতে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। ওই দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ড. শাহদীন মালিকের প্রতারণা ও মিথ্যাচারের জীবন

নিউজ ডেস্কঃ- ড. শাহদীন মালিক, সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল’- এর পরিচালক। দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন রাখঢাকহীনভাবে। আইনের মানুষ হলেও মাঝে মাঝে তিনি আইনের বিপক্ষে মতামত দেন কেবলমাত্র স্বার্থের কারণে।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরামহীন প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। অথচ এই এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে যে ক’জন ব্যক্তি গোপনে কাজ করছেন তাদের মধ্যে ড. শাহদীন মালিক অন্যতম। মুখে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের কথা বললেও তার কার্যক্রম আইনের পরিপন্থী। ড. শাহদীন মালিক মনে-প্রাণে উন্নয়ন বিরোধী পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী বলে খ্যাত। বিগত বিশ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তিনি মনে-প্রাণে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক বলেও আইনজীবী মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে জানা যায়, ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে শাহদীন মালিক একটি এনজিও’র নামে তথাকথিত একটি সার্ভে পরিচালনা করেন। সেই সার্ভের রিপোর্টে শাহদীন মালিক দেখিয়েছিলেন যে, বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে সারা দেশের দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেতে সমর্থ হবে। সেই রিপোর্টটি তিনি সারা দেশে প্রচার করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. শাহদীন মালিক এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। যুক্তরাজ্যে পিএইচডি করার নামে অননুমোদিত উপায়ে বহুবছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে দেশে ফিরে ড. কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠিত এনজিও ‘ব্লাস্ট’- এ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। মুখে সত্যের ফুলঝুরি ছড়ালেও ড. শাহদীন মালিক একজন প্রতারকও। ১৯৯৬ সালে শাহদীন মালিক চাকরিচ্যুতের বিষয়টি গোপন রেখে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে চাকরির জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের কারণে ড. শাহদীন মালিকের নিয়োগ সুপারিশ বাতিল করে।

জানা যায়, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ড. শাহদীন মালিক তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নানাবিধ অনৈতিক সুবিধা আদায় করে নেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাবের কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১/১১ সরকারের সময় হঠাৎ করে সংবিধান বিশেষজ্ঞের অবতারে আবির্ভূত হন। অথচ তিনি কখনই সংবিধান নিয়ে কাজ করেননি। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে শাহদীন মালিক ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আইনজীবী ভাগাভাগি করে দেশের সবকটি কমিশনের আইনজীবী নিযুক্ত করেন। সেই সময়ে শাহদীন মালিককে নির্বাচন কমিশন ও দুদকের আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়। আবার তারই সুপারিশে দু’জন ঘনিষ্ঠ আইনজীবীকে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের একজন হলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামির আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। ২০০৯-২০১২ সালে শাহদীন মালিক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যে কয়টি মামলা করেছিলেন সেগুলোর পিটিশনার ছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

সূত্রের খবরে জানা যায়, ড. কামাল হোসেন ও শাহদীন মালিক বিগত ৮-৯ বছর যাবৎ বিলিয়া (বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ল’ এন্ড ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স) দখল করে আছেন। সেখানে সরকারের দু’টি মন্ত্রণালয়ের ( আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) অর্থায়নে পরিচালিত বিলিয়ায় সরকারবিরোধী অনেক পরিকল্পনামূলক গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড. কামাল হোসেন এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর প্রেসিডেন্ট ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান শেলী। বিলিয়ার চেয়ারম্যান পদটি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন পদ। বিচারপতি হাবিবুর রহমান শেলীর মৃত্যুর পর ড. কামাল হোসেন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলেও প্রায় সাড়ে তিন বছর চেয়ারম্যানের পদটি আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। মনোনীত চেয়ারম্যান যাতে দায়িত্ব নিতে না পারেন সেই জন্য প্রায় সাড়ে তিন বছর বিলিয়ার সভা ডাকা হয়নি। এছাড়া শাহদীন মালিকের কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিলিয়ায় আয়-ব্যয়ের কোন অডিট হচ্ছে না। এই প্রতিষ্ঠানে অনেক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এই অনিয়মে ওতপ্রোতভাবে জড়িত শাহদীন মালিক নিজেই।