আজকে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ | | সময়ঃ-১২:০৫ অপরাহ্ন    

Home » অপরাধ

অপরাধ

দুদককে ঘুষ দিতে এসে গ্রেফতার বান্দরবানের সাবেক ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক

নিউজ ডেস্কঃ- দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে ঘুষ দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন আনসার কমান্ড্যান্ট আশিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার সকালে সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এ ঘুষের এক লাখ টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাবলমুরিং থানায় মামলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, আশিকুর রহমান বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি নীলফামারীর জেলার আনসার কমান্ডেন্ট। বান্দরবানের ১৭ নম্বর আনসার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় একটি টেন্ডার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হন। এই অভিযোগে তার অনুসন্ধান করছিলেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাফর সাদেক শিবলী।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আজ দুদক অফিসে আনসার কমান্ড্যান্ট আশিকুর রহমান উপস্থিত হন। এসময় তিনি নগদ এক লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অনুসন্ধান নিষ্পত্তি করার প্রস্তাব দেন।

পরে বিষয়টি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে আশিকুরকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়

বান্দরবানে দুই ভুয়া সাংবা‌দিকসহ আটক ৩

বান্দরবান অফিসঃ- বান্দরবা‌নে চাঁদাবা‌জির অ‌ভি‌যো‌গে ২জন ভুয়া সাংবা‌দিক ও ১জন ক্যা‌মেরাম্যান‌ ৩জনকে আটক ক‌রে‌ছে পু‌লিশ।
আটককৃতরা হ‌লেন, নজরুল ইসলাম (মজিব) (৪৮), মো.ফিরোজ (৪৫) ও ক্যামেরাম্যান মো. জাবেদ। এ‌দেরম‌ধ্যে নজরুল ইসলাম (ম‌জিব) বান্দরবা‌নের লামা উপ‌জেলার ফাইতং ও বাকী দুইজন কক্সবাজা‌রের চক‌রিয়ার বা‌সিন্দা। র‌বিবার রা‌তে এ ঘটনা ঘ‌টে।স্থানীয়রা জানায়, ক‌য়েকবছর ধ‌রে নজরুল ইসলাম (মজিব) একু‌শে সংবাদ, চাটগাঁর সংবাদ, অপরাধ চিত্র ও দৈ‌নিক খব‌রসহ বেশ ক‌য়েক‌টি প‌ত্রিকার প্রতি‌নি‌ধি প‌রিচয় দি‌য়ে বান্দরবানসহ চট্টগ্রা‌মের বি‌ভিন্ন জায়গায় চাঁদাবা‌জি ক‌রে আস‌ছিল।র‌বিবার বিকা‌লে বান্দরবা‌নের কুহালং ও সুয়াল‌কের বি‌ভিন্ন ব্রিক ফি‌ল্ডে ছ‌বি তু‌লে চাঁদা দা‌বি কর‌লে সেখানকার ম্যা‌নেজা‌রের স‌ন্দেহ হ‌লে স্থানীয় সাংবা‌দিক ও পুলিশকে খবর দেয়। প‌রে তা‌দের আই‌ডি কার্ড যাচাই বাছাই কর‌লে প্র‌তি‌নি‌ধির সত্যতা না পাওয়ায় তা‌দের‌কে পু‌লিশ থানায় নি‌য়ে আ‌সে। এসময় তা‌দের কাছ থে‌কে ২টি ক্যা‌মেরা, ক‌য়েক‌টি মোবাইল ফোন, বি‌ভিন্ন প‌ত্রিকার ক‌য়েক‌টি ভুয়া আই‌ডি কার্ড, চাঁদা আদা‌য়ের টাকা জব্দ করা হয়।
এ ব্যাপা‌রে বান্দরবান অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (সদর সা‌র্কেল) মোঃ ইয়া‌ছির আরাফাত ব‌লেন, এ‌ তিনজন তা‌দের সাংবা‌দিক প‌রিচয় দি‌য়ে সদ‌রের ক‌য়েক‌টি ব্রিক‌ফি‌ল্ডে গি‌য়ে ছবি তু‌লে চাঁদা দা‌বি ক‌রে‌ছে ও কিছু কিছু ফিল্ড থে‌কে চাঁদা নি‌য়ে‌ছে। এখন আমরা তা‌দের বিরু‌দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।উ‌ল্লেখ্য, গত ৭জানুয়ারী চাইথোয়াই চিং মারমা (৩২) ও চিং‌থোয়াইনু মারমা না‌মে দুইজন ভুয়া সাংবা‌দিক‌কে গাছ ব্যবসায়ী‌দের কা‌ছে থে‌কে চাঁদাবা‌জির সময় সদ‌রের বালাঘাটা থে‌কে আটক ক‌রে পু‌লি‌শে দেয় জনতা। তারা বর্তমা‌নে চাঁদাবা‌জি মামলায় বান্দরবান কারাগা‌রে র‌য়ে‌ছে।

চাকরিচ্যুত সেনাকর্মককর্তার বাসা থেকে অস্ত্রসহ জাল টাকা উদ্ধার

নিউজ ডেস্কঃ-  রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় সেনাবাহিনীর এক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার বাসা থেকে ডেটোনেটর, অস্ত্র, গুলি ও জাল টাকা উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ (সিটিটিসি)।

বৃহস্পতিবার সকালে চালানো এই অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। চাকরিচ্যুত ওই সেনা কর্মকর্তা তাঁর পরিবার নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৫০টি ডেটোনেটর, ম্যাগাজিনসহ ২টি বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ম্যাগাজিনসহ ২টি শটগান এবং ২ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ। এ ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে ৭টি জিহাদি বই, ৩ লাখ টাকা এবং ৩ লাখ বাংলাদেশি জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় শুক্রবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় সন্ত্রাস দমন আইন, জাল টাকা ও অস্ত্র আইনে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।

সিটিটিসি সূত্র বলছে, বারিধারা ডিওএইচএস এর দুই নম্বর সড়কের একটি বাড়ির তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটটি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) শহীদ খানের। ১৫বছর আগে সর্বশেষ তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন। সে সময় মানি লন্ডারিং এর ঘটনায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না। তাঁর ফ্ল্যাটও তালাবদ্ধ ছিল। আদালতের অনুমিত নিয়ে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়।

সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গি অর্থায়নের একটি সূত্র ধরে শহীদ খানের বাড়িটি শনাক্ত করা হয়। বাসাটিতে আল কায়েদাকে অনুসরণকারীদের বইও পাওয়া গেছে আবার আইএসকে অনুসরণকারীদের বইও পাওয়া গেছে। শহীদ খান তাই কোন ধারার ছিলেন তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।
আসাদুজ্জামান বলেন, তিন কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে শহীদ খান বেশ কিছুদিন আগেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি এখন পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

বান্দরবানে এলজিইডি’র কাজে নিম্নমানের বালু ও ইট ব্যবহারের অভিযোগ

নিউজ ডেস্কঃ- বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, মাটি ও নিম্নমানের ইটের কংকর। রোয়াংছড়ির ঘেরাও ভিতর পাড়ার এক কিলোমিটার রাস্তার নতুন কার্পেটিং করছে মেসার্স আবছার কন্সট্রাকশনের মো. আবছার নামের ঠিকাদার। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকারও বেশি।সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঘেরাও ভিতর পাড়ায় নতুন কার্পেটিং সড়কের কাজ চলছে।আর এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড় কেটে সংগৃহীত নিম্নমানের মাটি মিশ্রিত বালি ও পুরাতন ইটের নিম্নমানের কংকর।এ বিষয়ে রোয়াংছড়ির সাথুই অং মারমা বলেন, যে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে তাতে বালু এবং ইটের কংকর দুটোই ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের। আর এতে এ সড়কটি স্থায়িত্বের আশঙ্কা করছেন তিনি।সড়ক নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, পাহাড়ের মাটি মিশ্রিত বালি ও পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করায় এ সড়কটি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও ঠিকাদারের দেওয়া সরঞ্জাম ও নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ না করার উপায় নেই।এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কাজের মাঝি ইলিয়াছ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।রোয়াংছড়ি এলজিইডি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিনিয়র প্রকৌশলী নাজমুস সাহাদাত জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক নির্মাণের যে কাজটির ব্যয় ১ কোটি টাকার কিছু বেশি। তবে পাহাড়ের বালু মাটি ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ রাস্তায় আগে যে পুরাতন ইট ছিল তা ব্যবহার করার জন্যও নির্দেশনা রয়েছে।এ প্রসঙ্গে জানতে ঠিকাদার আবছারকে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ছাত্রীর আত্মহত্যা,পালালেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ

নিউজ ডেস্কঃ-নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) মৃত্যুর সংবাদ শুনে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস। সেখানে তিনি অরিত্রির স্বজনদের রোষানলের মুখে পড়েন। এ সময় তারা প্রিন্সিপালের গাড়ি ঘিরে রাখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।স্কুলের প্রিন্সিপাল নাজনীন সুলতানা বলেন, অরিত্রি তার মোবাইল ফোনে বইয়ের বেশ কিছু পাতার ছবি তুলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। বিষয়টি নজরে আসে শাখা প্রধানের। পরে শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ডেকে এনে তাদের পুরো ঘটনা খুলে বলা হয়। এরপর অরিত্রিকে বহিষ্কারের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে মাত্র। বাবাকে অপমানের জন্য নয়, নকলে ধরা পড়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার লজ্জা থেকেই অরিত্রি আত্মহত্যা করতে পারে বলেও জানান তিনি।এই দায় কার? জানতে চাইলে স্কুলের গভর্নিং কমিটির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুদার বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি, তবে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।’ পরীক্ষায় নকলের অপরাধে শিক্ষক অপমান করায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে ভিকারুন্নিসা নুন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি। সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা, তবে প্রতিবাদের সরব সহপাঠীরা। প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের নৈতিকতা ও গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়ে। ঘটনার নায্যবিচার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে অরিত্রির সহপাঠীরা। সহপাঠীরা বলে, অরিত্রির বাবা-মাকে অনেক খারাপ কিছু বলা হয়েছে যা অরিত্রি সহ্য করতে পারিনি।স্কুল কর্তৃপক্ষের এ ধরণের আচরণ নৈতিকতা পরিপন্থি কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। প্রশ্ন উঠেছে গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়েও। অপমানের গ্লানি মাথায় নিয়ে অরিত্রি চলে গেছে। প্রিয় সন্তানকে হারানোর এই শোক কিভাবে সামাল দেবে তার পরিবার?সোমবার দুপুরে শান্তিনগরের ৭ তলার বাসায় অরিত্রি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।অরিত্রি অধিকারী ভিকারুন্নেসা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অরিত্রির ছোট বোন ঐন্দ্রিলা অধিকারীও একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী একজন কাস্টসম (সিঅ্যান্ডএফ) ব্যবসায়ী। মা বিউটি অধিকারী গৃহিণী। পরিবারের সাথে রাজধানীর শান্তিনগরে থাকতো সে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়।অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রির বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার স্কুলে পরীক্ষার সময় তার মেয়ে মোবাইল নিয়ে গিয়েছিল। মোবাইলে নকল আছে এমন অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষক সোমবার তাদের স্কুলে আসতে বলেন। সোমবার পরীক্ষার সময় অরিত্রির সঙ্গে তারা স্কুলে যান। পরে তাদের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তারা মেয়ের নকল করার ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান।কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের প্রিন্সিপালের রুমে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাতে সদয় হননি। এসময় স্কুল পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যও ছিল। পরে তার মেয়ে প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রি হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি।অরিত্রির বাবার অভিযোগ, প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করায় তার মেয়ে দ্রুত বাসায় চলে যায়। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। বাহির থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায়, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, সুরতহাল করে অরিত্রির লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যু কারণ জানা যাবে।ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়েছে। তার গলায় দাগ ছিল। তার ‘নেক টিস্যু’ সংগ্রহ করা হয়েছে, তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

মীরসরাইয়ে কিশোরী ধর্ষণ,ধর্ষক গ্রেফতার

নিউজ ডেস্কঃ-চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে এক উপজাতী কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।পরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ওই কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ একই সম্প্রদায়ের যুবক শিমুল ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের উজালিয়া পাড়ায় তরুণী ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও

আজ শুক্রবার (০৯ নভেম্বর) বিকালে ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ আজ সন্ধ্যায় মামলার প্রধান আসামীকে গহীন পাহাড় থেকে গ্রেপ্তার করে।

ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা জানায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার উজালিয়া পাড়ার পাশের একটি পাহাড়ে দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যায় ওই তরুণী। এসময় বাগান পরিস্কার কাজ দেখাশুনা করছিল শিমুল ত্রিপুরা। ওইদিন বেলা ১টার সময় পাশের পাহাড়ে নিয়ে প্রথমে নিজে ধর্ষণ করে পরে বাগান পরিস্কার কাজের ঠিকাদার মান্নানকে দিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করায় শিমুল।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ধর্ষক শিমুল ত্রিপুরা অভিযোগ স্বীকার করে বলে, ‘আমি ধর্ষন করে মান্নান নামের এক ব্যক্তির হাতে ওই তরুণীকে তুলে দিয়েছিলাম।

মীরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে। খৈয়াছড়া উজালিয়া পাড়ার ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী একই পাড়ার শিমুল ত্রিপুরা প্রেমের ছলে ধর্ষণ করে। পরে ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে জড়িত মান্নান নামের একজনের কাছে তাকে (কিশোরী) তুলে দেয়া হয়।

আজ শুক্রবার ধর্ষিতা তরুণীর বাবা থানায় এসে পুলিশকে ঘটনাটি জানানোর পর আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রজু করি। পরে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে মামলার প্রধান আসামী শিমুলকে গহীন পাহাড় থেকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। অপর আসামী মান্নানকেও আমরা খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ নারী মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার

বান্দরবান অফিসঃ-দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা তোমাচিং মার্মা এবার ধরা পরলেন বান্দরবান জেলা পুলিশের গোয়েন্দাদের জালে।রাঙামাটির ইয়াবা ব্যবসায়ী তিনি,বান্দরবানে এসে ইয়াবা বিক্রি করতেন তরুণদের কাছে।বান্দরবানের বালাঘাটা যাত্রী ছাউনীর সামনে থেকে আজ বুধবার ভোরে এই ইয়াবা ব্যবসায়ি তরুণীকে আটক করে পুলিশ।সে রাঙামাটি জেলার,কাউখালি উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের মৃত রেপতি মারমার মেয়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,অবৈধ ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে জেলা শহরের বালাঘাটা যাত্রী ছাউনিতে অবস্থান করছে এই তরুণী,এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে ইয়াবাসহ আটক করে।এসময় তার কাছ থেকে ৬হাজার ৬৯১ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।যার মূল্য অনুমানি মূল্য দুই লক্ষ সাত হাজার তিনশত টাকা।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তরুণী জানান,সে দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে বান্দরবানসহ আশপাশ এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেট সরবরাহ করে আসছিল।বান্দরবানের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন,উক্ত ঘটনায় আটকর্কৃত তরুণীর বিরুদ্ধে সদর থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী/ ২০০৪) এর ১৯(১) টেবিলের ৯(খ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

নগদ ৪৪ লাখ, ফেনসিডিল ও ৩ কোটি টাকার চেকসহ চট্টগ্রামের জেলার গ্রেফতার

বান্দরবান অফিসঃ-বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা,১২ বোতল ফেনসিডিল ও ৩ কোটি টাকার চেক সহ রেল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার (কারা তত্বাবধায়ক) মোঃ সোহেল রানা বিশ্বাস।

গতকাল শুক্রবার বিকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেল স্টেশনে বিজয় ট্রেন থেকে জিআরপি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

ভৈরব জিআরপি (রেল পুলিশ) ওসি আব্দুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক (যা ২৮ অক্টোবরের তারিখ লেখা) ও তার স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর সংক্রান্ত নথি ও ১২টি ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, অবৈধভাবে আয় করা এসব অর্থ নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম থেকে নিজের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন।

বান্দরবানে ডিবি পুলিশের জালে ইয়াবা বিক্রেতা

বান্দরবান অফিসঃ-মাদকের করাল গ্রাস তরুন সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য বান্দরবান জেলা গোয়েন্দা শাখার মাদক বিরোধী অভিযানে এবার আটক হলেন জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ইয়াবা ব্যবসায়ি সরোয়ার আলম।ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল গতকাল ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় বান্দরবান সদর থানা এলাকার পৌরসভাধীন ০৬নং ওয়ার্ডস্থ ষ্টেডিয়ামের জামে মসজিদের দক্ষিন পার্শ্বের ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে,এমন খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ইয়াবা ব্যবসায়ি সরোয়ার আলমকে আটক করে।এসময় তার কাছ থেকে ১শ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়,যার বাজার মূল্য ত্রিশ হাজার টাকা। আটকের পর ইয়াবা ব্যবসায়ি সরোয়ার আলম জানান, সে দীর্ঘদিন যাবত টেকনাফ সীমান্ত এলাকা হতে ইয়াবা নিয়ে বান্দরবানসহ আশপাশের এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেট সরবরাহ করে আসছিল।এদিকে উক্ত ঘটনায় আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বান্দরবান সদর থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী/ ২০০৪) এর ১৯ (১) টেবিলের ৯ (খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরকান আর্মির জন্য পাঠানো ১২৭ বস্তা চাল জব্দ করেছে বিজিবি

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যভিত্তিক বিচ্ছিন্নতবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সন্দেহে বান্দরবানের থানচি থেকে ১২০ বস্তা চাল জব্দ করেছে বিজিবি। রোববার বিকেলে চালগুলো ইঞ্জিনচালিত বোটে করে দুর্গম রেমাক্রী এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তা জব্দ করে। কোনো দাবিদার না থাকায় সোমবার চালগুলো জব্দ দেখানো হয়।

থানচি বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ারের দোকানে বর্তমানে জব্দ করা চালগুলো রয়েছে। বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়ননের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাবিবুল হাসান জানান, একটি ট্রাকে করে রোববার ১৯০ বস্তা চাল বান্দরবান হতে থানচিতে আসে। বিকেলেই বোটে করে চালগুলো রেমাক্রীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে বিজিবি চালগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ১২০ বস্তা চাল জব্দ করে। এখনো পর্যন্ত চালগুলোর কোনো দাবিদার খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং সেগুলো জব্দ করে রাখা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, চালগুলো মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরকান আর্মির (এএ) জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে বিজিবি সন্দেহ করছে।

এদিকে, থানচি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা চালগুলো কিনে থানচিতে পাঠায়। এর সাথে রেমাক্রীর চেয়ারম্যান মুশথুই মারমাও সম্পৃক্ত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিজিবির অধিনায়ক জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, চাল আটকের ঘটনায় রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে বেশ কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের থানচি, রুমা ও আলীকদম এলাকার গভীর অরণ্যে দীর্ঘদিন থেকে আরাকান আর্মি তৎপর রয়েছে। এর আগেও বিজিবি অভিযান চালিয়ে এই আরাকান আর্মির অনেক মালামাল আটক করে। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন কৌশলে তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য মালামাল পৌঁছে দেয় বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।