আজকে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ | | সময়ঃ-০২:২৯ অপরাহ্ন    

Home » অন্যান্য

অন্যান্য

বসলো একাদশ স্প্যান, দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ১,৬৫০ মিটার

নিউজ ডেস্কঃ- দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। পদ্মা সেতুর ১০ম স্প্যান বসানোর ১৩ দিনের মাথায় বসানো হলো ১১তম স্প্যান। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ১,৬৫০ মিটার। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৩৩ ও ৩৪নং পিলারের উপর স্প্যানটি বসানো হয়।

নতুন স্প্যানটি বসানোর ফলে জাজিরা প্রান্তে মোট স্প্যানের সংখ্যা দাঁড়ালো নয়টিতে এবং মাওয়া প্রান্তে একটি স্থায়ী ও একটি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১১টি। পদ্মা সেতুর প্রকল্পের প্রধান পরিচালক দেওয়ান মো. কাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা হবে ৪২টি। এর মধ্যে ৪০টি নদীর ভেতর ও দুই পাড়ে দুটি। সেতুর ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৪১টি স্প্যান বসবে।

২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয়, ১০ মার্চ তৃতীয়, ১৩ এপ্রিল চতুর্থ, ২৯ জুন পঞ্চম স্প্যান বাসানো হয়। এরপর ২০১৯ সালে ২৩ জানুয়ারি ষষ্ঠ, ২০ ফেব্রুয়ারি সপ্তম, ২০মার্চ অষ্টম, ও ১৮ এপ্রিল নবম স্প্যান বসানো হয়। আর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টের ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ারে গত বছর এবং চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ১৩ ও ১৪ পিয়ারের উপর দশ নম্বর স্প্যানটি বসানো হয়।

সেতু বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের উপর স্প্যানটি বসানো হয়। এ নিয়ে জাজিরা প্রান্তে নয়টি এবং মাওয়া প্রান্তে দুটি স্প্যান বসলো। ১১ তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ আর এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

স্থানান্তরিত হচ্ছে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা

নিউজ ডেস্কঃ- ৪০০ বছর হতে চললো ঢাকার বয়স। এর মধ্যে গঠিত হয়েছে ঢাকার নতুন একটি অংশ। কিন্তু আগের মতোই রয়ে গেছে ঢাকার আদি অংশ। ঢাকার এই অংশে বসবাসকারী মানুষ আবার নতুন ঢাকায় বসত গড়তে চান না। আর চাইলেও তা নিতান্তই কম। জীবন নির্বাহের জন্য তারা গড়ে তুলেছেন বাসার পাশে কিংবা বাসার মধ্যেই বিভিন্ন পণ্যের দোকান। সাথে কেমিক্যালের কারখানা। আর এতে করে পুরান ঢাকায় তৈরি হয়েছে ঘিঞ্জি পরিবেশ। যত্রতত্র দোকান ও কারখানা স্থাপন করার কারণে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ঢাকার এই অঞ্চলে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছালেও আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাদের। চিকন গলি, রিকশার জট ও লাগোয়া বিল্ডিং থাকায় বেশ সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। এতে করে সরকার কেমিক্যালের গোডাউন সরানোর জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও স্থানীয়দের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত সরাতে পারেনি।
এর আগে সরকার পুরান ঢাকার কেমিক্যালের গোডাউন ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় সরানোর উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় তা আর সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। তবে কেরানীগঞ্জ বাদ দিয়ে নতুন করে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ৩১০ একর জমির উপর এই কেমিক্যাল পল্লী তৈরি করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৩১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৭৮ দশমিক ৯০ বর্গমিটার অফিস ভবন নির্মাণ, ৪৬ দশমিক ৫০ বর্গ মিটার পাম্প ড্রাইভার কোয়ার্টার, ২টি মেইন গেট, একটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, ৫ হাজার ৭৩০ মিটার শিল্প নগরীর সীমানা প্রাচীর, ৩২৬ বর্গফুট পুলিশ ফাঁড়ি, ৩টি নলকূপ স্থাপন, ৩১ হাজার ৩২৫ মিটার পানির লাইন, ৩১ হাজার ৯৪০ মিটার বিদ্যুৎ লাইন, ৬ হাজার মিটার গ্যাস লাইন, দুটি জেটি নির্মাণ, একটি সিইটিপি ও ডাম্পিং ইয়ার্ড ও ইনসিনেরেটর এবং ১৮৫ দশমিক ৮৬ বর্গমিটার পুকুর পাড়ে প্যালাসাইটিং নির্মাণ।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, পুরান ঢাকাকে নিরাপদ করার কাজ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে কেমিক্যাল পল্লিতে ২ হাজার ১৫৪টি প্লট তৈরি করা হবে। ফলে ঢাকা মহানগরীর বিশেষ করে পুরনো ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনগুলো একটি পরিবেশবান্ধব এবং অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এ জন্য সকল প্রকার অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি কেমিক্যাল পল্লি গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে প্রায় ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান রাখবে।
অন্যদিকে যতদিন এই কেমিক্যাল পল্লি স্থাপন না হচ্ছে ততদিন পুরান ঢাকাকে নিরাপদ করতে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থাপন করা হচ্ছে ৫৪টি কেমিক্যাল গোডাউন। পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে অধিক সচেতনতার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ- ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এসেছে।
২০০৮ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর চালের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তাদের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এর চলমান কার্যক্রমগুলো আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হলো- চালের এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় সুষম সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য পটাশ ও ফসফটিক ফার্টিলাইজারের কেজিপ্রতি বিক্রির দাম যথাক্রমে ৬০ টাকা থেকে ১৫ টাকা এবং ৭২ টাকা থেকে ২২ টাকায় নামিয়ে আনা। এ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য সব কৃষিপণ্য উৎপাদনে ইউরিয়া সারের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণ পটাশ ও ফসফটিক সারের ব্যবহারে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
এ বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ফলেই ধানের এবং অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আলুর ফলনও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যায়।
ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির সব কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা বিধানে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ কৃষককে উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদানও করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রায় এ কোটি কৃষকদের মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখিত সুযোগ সুবিধাসহ সব ধরণের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এ বছর আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অন্তত কয়েক শতাংশ বেশি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। শুধু ধান নয়, গম, ভুট্টা, আলুসহ প্রায় প্রতিটি খাদ্যশস্য উৎপাদনেই রেকর্ড করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ফল ও মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হার বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে। কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও সময়োপযোগী বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বর্তমানে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বিশ্বে পথিকৃৎ বলে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে। চাল উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আরো কয়েকবছর আগে। কৃষিতে ক্ষমতাসীন সরকারের বিজ্ঞানভিত্তিক নানা পদক্ষেপের কারণেই খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে পা রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতকে পেছনে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় ২য় স্থানে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ-  ২০১৮ সালে জাতিসংঘ থেকে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার দ্রুততম উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) আইএমএফ এই তালিকা প্রকাশ করেছে। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বলছেন, এসব অর্জনকে সুসংহত করতে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতকে চাঙ্গা করে তুলতে হবে। আর অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ- নতুন নতুন রফতানি পণ্য ও বাজার ধরে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উঠে আসা বাংলাদেশকে, গেলো বছর মার্চে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। আর এবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ- এর প্রতিবেদনে ৭.৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে দ্রুততম উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তালিকার ৩য় স্থানে আছে ভারত আর ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে রুয়ান্ডা।

মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের এসব উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার জন্য নতুন বিনিয়োগকারীদের টানতে কাজ করার আহ্বান ব্যবসায়ীদের।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি মনোযোগ দিতে হবে রফতানি বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে।

২০২১ সালে জাতিসংঘের করা মধ্যবর্তী পর্যালোচনায় টিকে গেলে, ২০২৪ সালে হবে আরও একটি মূল্যায়ন; সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওই বছরই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পাবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি।

পদ্মা সেতুতে বসল দশম স্প্যান,দৃশ্যমান দেড় কিলোমিটার

নিউজ ডেস্কঃ-দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ। চলতি বছর উদ্বোধনের কথা মাথায় রেখে এগিয়ে নেয়া হয়েছে নির্মাণ কাজ। আগে যেখানে মাসে একটা করে স্প্যান বসতো, সেখানে বসছে দুইটি করে। আর একে একে দৃশ্যমান হতে শুরু করে এই পদ্মা সেতু। আজ বুধবার দুপুর সা‌ড়ে ১২টায় মাঝনদীর ১৩ এবং ১৪ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান‌টি বসা‌নো হয়। আর এতে করেই সেতুর দেড় কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় স্প্যান ওঠানোর কাজ। কিন্তু ক্রেন থেকে ফেলা নোঙ্গর বার বার মাটি থেকে ছুটে আসায় পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়েন প্রকৌশলীরা। অবশেষে আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় স্প্যানটি পিলারের ওপর পুরোপুরি বসানো সম্ভব হয়। এছাড়াও আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে বসবে সেতুর ১১তম স্প্যান।
সেতু বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সেতু উদ্বোধনের ফলে দেশের এক প্রান্তের মানুষ বহু উপকৃত হবে। যা তারা আগে স্বপ্নেও ভেবে দেখেনি। বর্তমানে দেশের দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ যশোর ও তার আশেপাশের এলাকায় যেতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। দূরত্ব কম হলেও বিশাল পদ্মা নদীর কারণে ঘুরে যেতে হয় অনেকটা পথ। আর সেতু হয়ে গেলে ঢাকা থেকে যশোর যেতে সময় নেবে মাত্র ৪ ঘণ্টা। আর এতে করে ওই এলাকার স্থানীয়দের ঘুচে যাবে গ্লানি।
এদিকে সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমবিইসি) সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মা সেতু গড়তে তাদের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করতে হয়েছে পদ্মার তলদেশে।
তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্র্যের কারণে ১১টি পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। শুরুর দিকে মাওয়া অংশে কাজ বাদ দিয়ে জাজিরা চলে যেতে হয়েছে তাদের। তারপর বছরখানেক পর ফের পিলার ডিজাইন হাতে পাওয়ার পর মাওয়া অংশে কাজ শুরু হয়। সেতু বিশেষজ্ঞরা জানান, ১০ টি স্প্যান বসানোর পাশাপাশি সেতুর ২৪৭টি পাইল বসানোর কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ৪৭টি পাইলের মধ্যে ১৫টি পাইলেরও অর্ধেকাংশ বসানো হয়ে গেছে।
পদ্মা সেতুতে থকছে মোট ৪২টি পিলার বা খুঁটি। এর মধ্যে ২২টির নির্মাণ এখন পুরোপুরি শেষ। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি আরও ১০টি পিলারের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আরও দ্রুত গতিতে স্প্যান বসানো যাবে। প্রতি মাসে দুটি করে স্প্যান বসানো তখন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি মডেল দেশ : তাজুল ইসলাম

নিউজ ডেস্কঃ- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ করছে,যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এছাড়া প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও আইটি সেন্টার স্থাপনের জন্য কাজ করছে সরকার।

বুধবার (৩ এপ্রিল) শেরপুর শহীদ দারোগা আলী পৌরপার্ক মাঠে শেরপুর পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করেছিল। ঠিক ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় এসে দেশকে আজ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ একটি মডেল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সাবলম্বী হতে পারবে না। শুধু সরকারের অনুদানের উপরে নির্ভর করে কোন প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।

তিনি বলেন,‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো ৪৩০০ মেগাওয়াট, আর এখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২২ হাজার মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ছিলো ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ্ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কোন বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না।’

দেশের সকল পৌরসভাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,শুধু প্রকল্প নিলেই চলবে না এর বাস্তবায়ন করতে হলে সকল পৌর এলাকার নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে ন্যায্য মূল্য পায়। দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ১০০টি ইকনোমিক জোন করা হচ্ছে। এজন্য যুবকদের আইটি শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন,‘১৯৭৪ সালে মুজিব ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন করে ভারতের সাথে ছিটমহল সমস্যা সমাধান করে ১০ হাজার একর জমি আমরা পেয়েছি। মায়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা আমরা বেশী পেয়েছি।’

শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক।

অন্যান্যের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। এদেশের টিকাদান কর্মসূচি, ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি সারা বিশ্বে প্রশংসিত। দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকতর আধুনিক ও সুলভ করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিল্লার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।

যেকোনো দুর্যোগ পরবর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায়ও দেশের স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ পোলিও ও ধনুষ্টংকার মুক্ত, যক্ষ্মা, কলেরা, ডায়রিয়াও নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সরকার। কিন্তু অসংক্রামক রোগের বিস্তার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

জাহিদ মালেক বলেন, অসংক্রামক রোগের বিস্তারের কারণে দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিটি জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নেও সরকার উদ্যোগ নেয়া হবে। এজন্য সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতের সুযোগ সুবিধাকে অসংক্রামক রোগ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করছে। এ বছরই দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন ১৫০টি শয্যা যোগ করা হবে। আগামীতে যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ক্যান্সার রোগের বিস্তার বাংলাদেশেও ব্যাপক। ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল বলে সরকারিভাবে প্রতিটি বিভাগে এর চিকিৎসা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার জনগণের মধ্যে জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে।

এসময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার প্রতি আল্লাহর বিশেষ নজর আছে : মেয়র আতিকুল

নিউজ ডেস্কঃ- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আল্লাহর নজর না থাকলে ঢাকা শহরে বসবাস করা যেতো না। এই দেশের প্রতি, ঢাকার প্রতি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নজর আছে।

সোমবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) অডিটোরিয়ামে এনএসইউ ল’ ফেস্ট সিজন-২ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, ঢাকার মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৯ হাজার মানুষ বাস করে। অন্যদিকে গুলশান-বনানীর মতো অন্যান্য অভিজাত এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে ২৪ হাজার মানুষ। ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এই দেশের প্রতি, ঢাকার প্রতি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নজর আছে। না থাকলে বসবাস করা সম্ভব হতো না।

সুইডেনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুইডেনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র ১০ জন মানুষ বাস করে।

ঢাকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য মেয়রের সমান নজর উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনি বিএমডব্লিউ গাড়িতে চড়েন তারও একটি ভোট আবার একজন দিনমজুর বা বস্তিবাসী তারও একটি ভোট আমি পেয়েছি। তাই ঢাকার প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে সমান। সবার প্রতি আমার সমান নজর রয়েছে।বরং আসুন সবাই মিলে চিন্তা করি বস্তিবাসীদের কীভাবে ভালোভাবে থাকার ব্যবস্থা করা যায়।

এসময় অন্যদের মধ্যে এনএসইউ’র উপাচার্য (ভিসি) আতিক ইসলাম, উপ-উপাচার্য গিয়াস ইউ আহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নারী শক্তিকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়: কামরুন নাহার

নিউজ ডেস্কঃ- দেশের কর্মক্ষম মানুষের অর্ধেক নারী। এই নারী শক্তিকে বাদ দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী যদি আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে থাকে তাহলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার।

শনিবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর নীলক্ষেতে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তাদের ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

সচিব বলেন, আমাদের সমাজে নারীর প্রধান শত্রু অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অপরের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত। এসব থেকে বের হয়ে নারীকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দৃঢ়তার সাথে পুরুষের পাশাপাশি পথ চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য সেবা কর্মকর্তারা এক একজন সমাজের ‘চেঞ্জ এজেন্ট’ দায়িত্ব পালন করবে।

কামরুন নাহার প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করবেন। গ্রামের নারীদের কর্মসংস্থান, উৎপাদিত পণ্য ই-কমার্সের মাধ্যমে বাজারজাত করণে ভূমিকা রাখবেন।আপনাদের দক্ষতা ও কর্মের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের সমমুখী প্রবণতা রোধ হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নারীর ক্ষমতায়ন তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে শতভাগ বাস্তবায়িত হবে।

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এ এম নছিহুল কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সচিব জাহানারা পারভীন,‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মীনা পারভীন।

তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন’ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৪৯০টি উপজেলায় একজন তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দু’জন সহকারীসহ মোট ১৪৭০ জন তথ্য সেবা কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। এ সব কর্মকর্তা উপজেলা কেন্দ্র ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১ কোটি নারীকে ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য সেবা, ই-কমার্স ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

জঙ্গি পুনরুত্থানে লিপ্ত পলাতক গুপ্তঘাতক আসামি শহিদ উদ্দিন খান!

নিউজ ডেস্কঃ- আজ থেকে ১৫ বছর পূর্বে মাদক চোরাচালানসহ একাধিক নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের কারণে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসে (বর্তমানে বিজিবি) প্রেষণে দায়িত্ব পালনকারী লে. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খানকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়ন, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন শহিদ উদ্দিন খান।

বাংলাদেশের শান্তি-সমৃদ্ধি বিনষ্ট করতে এই অপরাধী এখন ব্রিটেনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। তার সঙ্গে ব্রিটেনে অবস্থান করছেন তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম, মেয়ে শেহতাজ মুরাসি খান ও পারিসা পিনাজ খান। অভিযোগ রয়েছে, শহিদ উদ্দিনের পরিবার বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করে আরব আমিরাত ও ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, উভয় দেশই শহিদ উদ্দিনের পরিবারের বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে কোনদিনই কোন রকম প্রশ্ন তোলেনি। যদিও এই পরিবারটি একটা সময়ে ঢাকার অভিজাত এলাকা বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ৭ নাম্বার রোডের ৪২৮ নং বাসায় আয়েশি জীবনযাপন করতেন। তৎকালীন সময়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে শহিদ উদ্দিন অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ২০০৫ সালের ৪ জুন শহিদ উদ্দিনকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

জানা গেছে, শহিদ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে একটি ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরের। যার সিআর নাম্বার হলো ৪৪৬৬/২০০৯। যেটি বাংলাদেশ অপরাধ বিধির ৪১৬, ৪৬৭, ৪৭১ এবং ১০৯ ধারার অন্তর্গত। এ রকম অন্তত ১২টি মামলার কার্যক্রম শহিদ উদ্দিন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান রয়েছে।

এরইমধ্যে শহিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বাংলাদেশের আদালত। শহিদ উদ্দিন মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীর তালিকাভুক্তও রয়েছেন।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ব্রিটেনে শহিদ উদ্দিনের জুলিয়া নামের এক প্রেমিকা রয়েছে, যাকে তিনি পালক কন্যা হিসেবে দাবি করেন। তথ্যানুযায়ী, জুলিয়া তার পূর্বের স্বামীর সূত্র ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো কট্টরপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠনের আদর্শে বিশ্বাসী। এছাড়া আরেকটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক অস্ত্র পাচারকারী সংগঠনের মূল হোতা দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে অস্ত্র ব্যবসায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন শহিদ উদ্দিন খান। শহিদ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে আঁতাত করে ভারতে জাল টাকার বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত।

এছাড়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ভারত ও বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটানোর চক্রান্তে জড়িত রয়েছেন বলেও জানা গেছে। শহিদ ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন বলে জানা গেছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পেছনে অর্থলগ্নি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমন সব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম- এর (সিটিটিসি) একটি বিশেষ দল রাজধানীর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধ অস্ত্র, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বিভিন্ন দেশের অবৈধ মুদ্রা এবং জিহাদি সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। একইদিনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় শহিদ উদ্দিন খানের নামে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া জানা গেছে, শহিদ উদ্দিন খান বিদেশের মাটিতে বসেও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তবে শহিদ উদ্দিনের সম্ভাব্য সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।