মং মং থোয়াই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ,আঃলীগ নেতাদের হুশিয়ারী


বান্দরবান অফিস প্রকাশের সময় :২২ জুলাই, ২০১৯ ১০:১৩ : অপরাহ্ণ

বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা অন্তর্গত তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মং মং থোয়াই মার্মাকে দিন দুপুরে নৃশংসভাবে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ।আজ সোমবার (২২ জুলাই) রাত ৮ টায় বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে বান্দরবান বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়।পরে মং মং থোয়াই হত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ।বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা কাজল কান্তি দাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ সহসভাপতি এ.কে.এম.জাহাঙ্গীর,জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃইসলাম বেবী,জেলা আওয়ামীলীগ সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাশ,জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাহাদুর,জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত কান্তি দাশ।বিক্ষোভ সমাবেশে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃইসলাম বেবী বলেন,বান্দরবান জেলায় একের পর এক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হচ্ছে আর এর জন্য একমাত্র দায়ী পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান তথা জনসংহতি সমিতি সভাপতি শন্তু লারমা।সন্তু লারমার লালিত-পালিত বান্দরবান জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বান্দরবান জেলার শান্তি-সম্প্রীতি ধ্বংস করার জন্যই এমন আত্মহননকারী রক্তের হুলি খেলায় মেতে উঠেছে।অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার করে নরপিশাচ রুপে আবির্ভূত হয়েছে এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।এসময় তিনি বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে প্রশাসন কে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন,সময় থাকতে জনসংহতি সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরুন,অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করুন।বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।পার্বত্য বীর বাবু বীর বাহাদুর উশৈসিং এম,পি’র শান্তি সম্প্রীতি উন্নয়ন এর বান্দরবানে আওয়ামী পরিবারের আর কোনও সদস্যকে আমরা অকালে হারাতে চাইনা।আর কোনও নিরস্ত্র আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হলে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ এর দাত ভাঙ্গা জবাব দিতে প্রস্তুত আছে।এসময় তিনি শোকসন্তপ্ত আওয়ামীলীগ নেতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন,অচিরেই সন্ত্রাসীদের এই দৌরাত্ব বন্ধ করতে হবে।এইভাবে একের পর এক আওয়ামীলীগ এর নিবেদিত কর্মীদের হারিয়ে আমরা শোকের সাগরে ভাসছি।সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাস যদি আপনারা বন্ধ করতে না পারেন তবে তাহলে শোককে শক্তিতে পরিণত করে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বান্দরবানেনর রাজপথে দখন নিতে বাধ্য হবে।বিক্ষোভ সমাবেশে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ এর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাশ উপস্থিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য স্লোগান ধরেন, “সন্ত্রাসীদের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও-আমার ভাইয়ের রক্ত-বৃথা যেতে দিবোনা”।এসময় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,আজকে সম্প্রীতির বান্দরবানে আবারও রক্ত ঝরেছে।আওয়ামী পরিবারের আরও এক সদস্যের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে সম্প্রীতির বান্দরবানের রাজপথ।আজকে একজন নিরস্ত্র,নিরপরাধ আওয়ামীলীগ নেতাকে আমরা হারিয়েছি।সম্প্রীতির বান্দরবান আজকে আতঙ্কের শহরে পরিনত হয়েছে।কিন্তু এটা কেনও,আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।এটা কেনও আজকে পার্বত্য জনপদের মানুষ জানতে চায়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত,জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা-আস্থা আর বিশ্বাস রেখে ওই সন্ত্রাসী শন্তু লারমা’র বন্দুকের নল উপেক্ষা করে বান্দরবানের পাহাড়ী-বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছয়-ছয় বার নৌকাকে বিজয়ী করে প্রমাণ করেছে বান্দরবান এর মাটি-আওয়ামীলীগ এর ঘাঁটি,বান্দরবান এর মাটি-বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ঘাঁটি।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন, জনগণের দোয়া ও ভালোবাসায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে তবে তাহলে দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি সুনিশ্চিত করা হবে,হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হবে,পাহাড়ী বাঙালী সবার কল্যাণ হবে,আপনি আপনার কথা রেখেছেন।আপনি এই অবহেলিত জনপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম কে পর্যটন নগরীতে রুপ দান করেছেন।শান্তি চুক্তি হয়েছে,অস্ত্র সমর্পণ হয়েছে,শান্তি বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে,আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে,সেইখানে শান্তি বাহিনীর সাবেক নেতা শন্তু লারমাকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে,জনসংহতি সমিতির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হয়েছে।কিন্তু আমরা জানতে চাই এই পাহাড়ে কারা সন্ত্রাস করছে,কারা অপহরণ করছে,কারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে?এদেরকে অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে খুঁজে বের করতে হবে, বান্দরবান তো সারা বাংলাদেশের গর্বের ধন।এই বান্দরবান তো বীর বাহাদুরের সম্প্রীতির বান্দরবান।কারা এই সম্প্রীতি নষ্ট করছে, বান্দরবানের মানুষ এটা জানতে চায়।আমরা তো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছি,কিন্তু এই সন্ত্রাসীরা কারা যাঁরা বারবার বেঈমানের মতো পিছন থেকে ছুরি মারতে চেষ্টা করছে।এই বেঈমানরাই আজকে রোয়াংছড়ি থেকে আসার পথে অন্ধকারে লুকিয়ে থেকে আমার নেতা মং মং থোয়াই মার্মাকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেছে।এটা মেনে নেওয়া যায়না,এটা মানতে পারিনা।এসময় তিনি বলেন,মং মং থোয়াই মার্মার হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।যতক্ষণ পর্যন্ত এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হবেনা,আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এই রাজপথে ছিলো,এই রাজপথে আছে,এই রাজপথে থাকবে।বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের উপদপ্তর সম্পাদক আবুল কালামের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শহর আওয়ামীলীগ সভাপতি অমল কান্তি দাশ,সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম,সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি পাই হ্লা অং মার্মা,সাবেক ছাত্রনেতা মোঃমহিউদ্দিন,জেলা কৃষকলীগ সভাপতি প্রজ্ঞাসার বড়ুয়া পাপন,পৌর শ্রমিকলীগ সভাপতি মিলন পাল সহ প্রমুখ।এসময় বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ,শহর আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ,যুবলীগ,সেচ্ছাসেবক লীগ,কৃষক লীগ,শ্রমিক লীগের শতশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।এসময় স্লোগানে স্লোগানে মং মং থোয়াই হত্যার প্রতিবাদ জানায় উপস্থিত জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা।এদিকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারী কর্মসূচী শেষ করে নিহত আওয়ামীলীগ নেতাকে দেখতে যান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এম,পি।এসময় তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ এর শীর্ষ নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।অন্য দিকে আগামীকাল মঙ্গলবার রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ রোয়াংছড়ি উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে।পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে যৌথ অভিযানে নেমেছে।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
আলোচিত খবর
error: কি ব্যাপার মামা !!