বান্দরবানে শান্তির বার্তা নিয়ে আসছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি ও ঐক্য পরিষদ’!


বান্দরবান অফিস প্রকাশের সময় :২৬ জুলাই, ২০১৯ ১২:২৫ : অপরাহ্ণ

আওয়ামীলীগ,বিএনপি,নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ সংগঠকদের সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।প্রাথমিক পর্যায়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করলেও পরবর্তীতে অন্য দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও এই সংগঠনের কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন এই সংগঠনের উদ্যোক্তারা।সংগঠনটিতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ,বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সাবেক সচিব,অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।আর এরই ধারাবাহিকতায় কমিটি গঠন নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছে এই সংগঠনের উদ্যোক্তারা।গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে বান্দরবানের গেষ্ট হাউজ হল রুমে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ.ওহাব এর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন বান্দরবানের সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ,সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আইয়ুব চৌধুরী,দৈনিক মৈত্রীর সম্পাদক অধ্যাপক মোঃওসমান গণী,সাবেক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন চৌধুরী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা সভাপতি মাওলানা মোঃআবুল কালাম আজাদ।বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃমজিবর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্নেল (অবঃ) এস.এম.আইয়ুব।

আলোচনা সভার স্বাগত বক্তা কর্নেল (অবঃ) এস.এম.আইয়ুব বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে বাঙালিরা চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিকের মত জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।বাংলাদেশের এক ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রাম।রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ৫০৯৩ বর্গমাইল বিস্তৃত সুজলা, সুফলা,শস্য শ্যামলা,বিল-ঝিল-হ্রদ-পাহাড় বেষ্টিত দেশের এক দশমাংশ ভূমি।চেঙ্গী,মাইনী,কর্ণফুলী, কাছালং বিধৌত এই পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ কেমন আছে?পাহাড়ে শান্তি,স্থিতি ও নিরাপত্তা কতটুকু আছে?একই অঞ্চলের অধিবাসী বাঙালি ছাত্ররা মেধার দিক থেকে এগিয়ে থাকার পরও কোটা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে।কাঙ্খিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছেনা।অথচ উপজাতীয় ছাত্ররা বিভিন্ন কোটার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে,একের পর এক স্কলারশিপ সহ লোভনীয় শিক্ষা বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করছে।খুনি আর ঘাতকের মুখে আজ প্রাপ্তির হাঁসি দেখে আমাদের আগামী প্রজন্ম কোন নীতিতে উজ্জীবিত হবে?পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠী যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শান্তিচুক্তি করেছে।চুক্তির ২২ বছর পার হয়ে গেলেও পাহাড় এখনও অশান্ত।পাহাড়ে চলছে হত্যা,গুম,খুন ও চাঁদাবাজি।শান্তিচুক্তির পরও কতিপয় সন্ত্রাসীরা অধিকারের নামে পাহাড়কে অশান্ত করে রেখেছে।শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর একটি গোষ্ঠী চুক্তির অপব্যাখ্যা দিয়ে পার্বত্য এলাকাকে পুনরায় অশান্ত করে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে।শিক্ষা,চিকিৎসা বাসস্থানের কথা চিন্তা করলে পাহাড়ের বাঙালি জনগোষ্ঠী এক কথায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে।দলীয়ভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদগুলোতে নিয়োগ দেয়ায় সাধারণ বাঙালি জনগোষ্ঠী এখানেও বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে।আমরা বৈষম্যের স্বীকার সকল জনগোষ্ঠী কে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করে বিশাল এই পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী সুপরিকল্পিত ভাবে নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য ও বিভক্তি সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে।বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন নেতারা বাংলাদেশের সংবিধানকে তোয়াক্কা করছেনা।শিক্ষা,চাকুরী,সামাজিক সর্বক্ষেত্রে বাঙালী ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর অনেক সম্প্রদায় নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।আমরা অন্য সকল জাতিগোষ্ঠীর ন্যায় আমাদের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।আমরা আমাদের যুক্তিযুক্ত দাবী গুলো সরকারের সর্ব মহলে উপস্থাপন করবো এবং অনুরোধ করবো পাহাড়ে যাতে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার যেনো বৈষম্যহীন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,শান্তিচুক্তির দু-দশক পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পাহাড়ে কাঙ্খিত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।শান্তির পরিবর্তে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে হত্যা আর গুমের মতো অপরাজনীতি।চাঁদাবাজদের দৌরাত্বে পাহাড়ের জনসাধারণের নাভিস্বাস চরম পর্যায়ে পৌছে গেছে।আমরা এমন বিদঘুটে পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে চাই,জাতি বৈষম্য থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই।রাজনৈতিকভাবে আমরা ভিন্ন-ভিন্ন দলের ভিন্ন-ভিন্ন মতাদর্শী হলেও পাহাড়ের বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সকলকে এক টেবিলে বসা ছাড়া আর কোনও উপায় আছে বলে আমাদের মনে হয়না।এসময় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত অনাঃ ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তারু মিয়া,বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃনাছির,পৌর কাউন্সিলর সামসুল হক সামু প্রমুখ।এসময় বান্দরবান পৌরসভা ও সদর উপজেলা অন্তর্গত বিভিন্ন ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে আলোচনা সভা আয়োজন এর নেপথ্য কারিগর বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃ মজিবুর রহমান বলেন-‘সম্প্রতি বান্দরবান সহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি জেলায় একের পর এক বিভিন্ন শ্রেনীপেশার সাধারণ মানুষ হত্যা আর গুমের স্বীকার হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনও প্রতিবাদ এর দেখা মেলেনি।চাকরী বৈষম্য থেকে শুরু করে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,ভূমি বৈষম্য সহ সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার গুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভাবে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী কে চরমভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।এই ধরনের কিছু বিষয়ের উপর করনীয় নির্ধারণ করে সকল মতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরীর লক্ষ্যে চা চক্রে মিলিত হয়েছি’।ভবিষ্যতে বড় কোনও আয়োজন করা হলে অবশ্যই মিডিয়াকে জানানো হবে।

এদিকে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাবেক ও বর্তমান সিনিয়র নেতা,মুক্তিযোদ্ধা,জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে বান্দরবানে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমন আয়োজনের কথা জানানো হলেও আকস্মিক এই বৈঠক নিয়ে কিছুটা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।তবে বৈঠক ঘিরে যত রহস্যেরই সৃষ্টি হউক না কেনও,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ হেভিওয়েট নেতাদের এক টেবিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসাকে জেলার সাধারণ জনগোষ্ঠী স্বাগত জানিয়েছে।বিশেষ করে পার্বত্য এই জনপদে যাঁরা বিভিন্নভাবে বঞ্চনার স্বীকার হয়েছে তাঁরা এমন বৈঠককে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সময়ের প্রয়োজনে এই ধরনের যেকোনও উদ্যোগ কে স্বাগত জানাতে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছে।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
আলোচিত খবর
error: কি ব্যাপার মামা !!