এই মাত্র পাওয়া :

প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা যেন ঈদ আনন্দ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় :২০ মে, ২০২০ ৮:৫৪ : অপরাহ্ণ

এগিয়ে আসছে ঈদ; কিন্তু চারপাশে নেই আনন্দের বান, নেই উৎসবের রেশ। করোনা ভাইরাসের প্রাণঘাতী বিস্তাররোধে একদিকে চলছে দেশজুড়ে কার্যত লকডাউন; অন্যদিকে এর পরও এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা, আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এমন শঙ্কা, ভয় আর উদ্বেগে মুছে গেছে ঈদের আনন্দ। এর মধ্যেও কিছু অসহায় ও দুস্থ মানুষের মনে বয়ে যাচ্ছে আনন্দাভা। কারণ সরকারের তরফে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে অপ্রত্যাশিতভাবেই তাদের দেওয়া হয়েছে আর্থিক উপহারÑ ঈদ উপহার।

করোনায় দেশজুড়ে কার্যত লকডাউন চলায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে নিম্নআয়ের মানুষরা খাদ্য ও অর্থসংকটে পড়েছেন ভীষণ বিপাকে। এসব অসহায় এবং হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং গত বৃহস্পতিবার প্রতিজেলার পাঁচজন সুবিধাভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অর্থসহায়তা পাঠিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, প্রায় ৭ হাজার কওমি মাদ্রাসা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের পুরোহিতরাও শিগগিরই সরকারের এ নগদ সহায়তা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও

দলের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত এক কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এমপি-মন্ত্রীরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে দেশের উৎপাদন খাতগুলো বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস ও কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেন খাদ্য সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাব না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

advertisement
৫০ লাখ পরিবারে ঈদ উপহার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে ৫০ লাখ লোককে নগদ সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, শিক্ষক ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছে। নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কর্মসূচি সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভাসমান মানুষ, নির্মাণ শ্রমিক, গণপরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, রেলওয়ে কুলি মজুর, ঘাটশ্রমিক, নরসুন্দর, দিনমজুর, রিকশা/ ভ্যানগাড়িচালক এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের লোকসহ মানবিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য পরিবারবর্গ এবং যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করে এ রকম জনগোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নগদ সহায়তা পাবে। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। সুবিধাভোগীদের মোবাইলে নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি টাকা চলে যাবে। আর যাদের মোবাইল নম্বর নেই, তাদের নামে ব্যাংকে হিসাব খুলে সেখানে টাকা পাঠানো হবে। কোনো মাধ্যমে টাকা যাবে না। ফলে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। সুবিধাভোগীরা সরাসরি এই টাকা পাবেন।

এ বিষয়ে নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক গণমাধ্যমকে বলেন, এটা তো আসলে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার, সে কারণে ঈদের আগেই সবাই যেন টাকা পায় সে ব্যবস্থা করতে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সাত দিনের মধ্যে সব টাকা পৌঁছে দেব। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলে আমরা সুবিধাভোগীদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছি।

৫০ লাখের মধ্যে ১৫ লাখ পরিবারের টাকা পৌঁছে দেবে বিকাশ। আর্থিক সেবাদাতা এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, আমাদের বিশ^াস, কোনো রকম ঝামেলা ও বাড়তি ব্যয় ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা বাড়ির কাছের বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে খুব সহজে ক্যাশআউট সেবা নিতে পারবেন। অপর দুই মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রকেটের মাধ্যমে ১০ লাখ এবং শিওরক্যাশের মাধ্যমে ৮ লাখ পরিবারের কাছে চলে যাবে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) সরকার ঘোষিত নগদ এ সহায়তাকে এ চরম সংকটময় মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে গণমুখী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থাকা মানুষকে এই ক্রান্তিকালে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তালিকা প্রণয়নে স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম ও বিতরণে অদক্ষতা এবং সমন্বয়হীনতা পুরো কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে যাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

কওমি মাদ্রাসায় অনুদান

দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদ্রাসাকে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৭ মে জেলা প্রশাসকদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্রসংখ্যা ১০০ অথবা এর কম হলে ১০ হাজার টাকা, ছাত্রসংখ্যা ১০১ থেকে ২০০ মধ্যে হলে ১৫ হাজার এবং ২০১-এর বেশি হলে ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণে আরও ৫০০ কোটি

করোনার কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। কেউ কেউ দেশে ফিরছেন। দেশে ফিরে তারা যেন অসহায় হয়ে না পড়ে সে জন্য তাদের কল্যাণে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে এই তহবিলে ৪০০ কোটি ছিল।

কৃষিতে ভর্তুকি ও বিশেষ প্রণোদনা

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশের উৎপাদনমুখী প্রায় সব খাতেই প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কৃষিতে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে যাতে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট না হয়, সে জন্য আমাদের একখ- জমিও ফেলে রাখা চলবে না। উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার জন্য কৃষি ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার ৫ ০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা দুর্যোগে মানুষের জীবনরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার মধ্যে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। ৬ কোটির বেশি মানুষ আজ সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায়। পাশাপাশি আরও ১ কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ



আর্কাইভ
July 2020
M T W T F S S
« Jun    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!